সর্বশেষ খবর

   হাথুরুসিংহের পরিকল্পনা ভুলে গেছে বাংলাদেশ: মাশরাফি    নতুন সম্পর্কে জোলি!    মাটির লেয়ারের ভিন্নতায় পদ্মা সেতুর ১৪ পাইলের ডিজাইনে বিলম্ব    ব্যাংকিং খাতে জবাবদিহিতার জন্য পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে : অর্থমন্ত্রী    অবকাঠামো উন্নয়নে ৬০ মিলিয়ন ডলার দেবে ওএফআইডি    বাংলাদেশ যথেষ্ট সক্ষমতা অর্জন করেছে : বিশ্বব্যাংক    ৩৭ হজ এজেন্সিকে নোটিশ    বাজেটে এমপিও অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে সরকার সিদ্ধান্ত নিবে: প্রধানমন্ত্রী    ভোলাগঞ্জ ও কালাইরাগে ৩৬টি ‘বোমা মেশিন’ ধ্বংস    ফেঞ্চুগঞ্জে ছাত্রলীগের ৫ নেতা বহিষ্কার    আম্মার মতো আমিও হারিয়ে যাব : রাইমা    ‘সূর্যসেন’ নতুন মঞ্চনাটক    আমি মৃত্যুকে ভয় করি না: আইভী    আমি একাই যথেষ্ট: শামীম ওসমান    সিরিয়ার কুর্দিদের বিরুদ্ধে অভিযান চালাবেন এরদোয়ান    বড় ধরনের বিপদ থেকে বাচঁলেন শোয়েব!    কোহলির জরিমানা    নির্বাচন স্থগিত হওয়া ইসির চরম ব্যর্থতা: ফখরুল    ঢাকা উত্তরের মেয়র পদে উপনির্বাচন স্থগিত    রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু ২ বছরের মধ্যে


খবর - কৃষি

ফরিদপুরে বানিজ্যিক ভাবে ড্রাগন ফল চাষ শুরু

ফরিদপুর জেলার মাটি ও আবহাওয়া ড্রাগন ফল চাষের জন্য উপযোগী হওয়ায় বানিজ্যিক ভাবে শুরু হয়েছে ড্রাগন ফল চাষ। বাজারে ফলের ভাল দাম ও চাহিদা থাকায় দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে এই ড্রাগন ফলের আবাদ। সব ধরনের উঁচু জমিতেই ড্রাগন ফলের চাষ করা যায। উচ্চ ফলনশীল ও প্রচুর পুষ্টিগুণ সম্পন্ন ড্রাগন ফলের চাষ হচ্ছে এখন জেলার নগরকান্দা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায়। মিষ্টি ও টক-মিষ্টি স্বাদের ড্রাগন ফলে প্রচুর স্বাস্থ্য উপকারিতা ও প্রসাধনী গুণ থাকায় বাজারে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।

ভিয়েতনামের জাতীয় ফল ড্রাগন হলেও সম্প্রতি সময়ে বাংলাদেশে ব্যাপক ভাবে এই ফলের আবাদ শুরু হয়েছে।  ক্যাকটাস প্রজাতির বিদেশি এ ফলের আবাদ ফরিদপুর জেলার নগরকান্দা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ভাবে শুরু হয়েছে। বিস্তারিত

৬৩ হাজার বৃক্ষরোপন করার উদ্যোগ

রোববার রংপুর বিভাগের ৯ হাজার ২৭১টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৬২ হাজার ৩৪০টি বিভিন্ন প্রজাতির গাছ রোপনের ঘোষণা দিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অফিস। কোন বিদ্যালয় বৃক্ষরোপনে অংশ না নিলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ারও ঘোষণা দেয়া হয়।
 
শনিবার দুপুরে রংপুর প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানানো  হয়।
সংবাদ সম্মেলনে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মাহবুবে এলাহী জানান, রংপুর বিভাগে ৯ হাজার ২৭১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে।
 
একযোগে রোববার বেলা ১২ টা থেকে ১ টার মধ্যে প্রতিটি স্কুলে বিভিন্ন প্রজাতির মোট ৬২ হাজার ৩৪০ টি গাছ রোপন করা হবে। এই বৃক্ষরোপন কার্যক্রমে অংশ নিবে স্ব স্ব স্কুলের শিক্ষক- শিক্ষার্থী ও কর্মচারীরা।
 
তিনি জানান, কোন প্রতিষ্ঠান যদি বৃক্ষরোপ কার্যক্রমে যথাসময়ে অংশ না নেয় তাহলে সেই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। সবুজ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার অংশ হিসেবে এই কর্মসূচি নেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। এ সময় বিভাগীয় সহকারী পরিচালক সিরাজুল ইসলাম, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম, বিভাগীয় কার্যালয়ের শিক্ষা অফিসার নজরুল ইসলাম প্রমুখ।
বিস্তারিত

হরিপদ কাপালি আর নেই

বিশেষ জাতের উচ্চ ফলনশীল ‘হরিধানের’ জনক হরিপদ কাপালি আর নেই। তার বয়স হয়েছিল ৯৫ বছর।

বুধবার দিনগত রাত ১টা ১০ মিনিটে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার সাধুহাটি ইউনিয়নের আসাননগর গ্রামের নিজ বাড়িতে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

কৃষিতে অন্যন্য অবদান রাখার জন্য বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে তাকে পুরস্কৃত করা হয়। এছাড়া সরকার তাকে একটি বাড়ি তৈরি করে দেয়। সেই বাড়িতেই স্ত্রী সুনিতা রানী (৭৫) ও পলিত পুত্র রুপকুমারকে নিয়ে থাকতেন তিনি।

এই গুণী ব্যক্তি ১৯২২ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর ঝিনাইদহ সদর উপজেলার সাধুহাটি ইউনিয়নের আসাননগর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৯৬ সালে তিনি উচ্চ ফলনশীল ধান অবিস্কার করেন । তার নামানুসারে ওই ধানের নাম রাখা হয় ‘হরিধান’।

বিস্তারিত

বন্যায় ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে চাষাবাদ বাড়ানোর তাগিদ কৃষিবিদদের

সিলেটের হাওরাঞ্চলে সাম্প্রতিক বন্যার ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে আরো বেশী আউশ ও আমন উৎপাদন বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন কৃষি বিশেষজ্ঞরা। তাদের অভিমত, সিলেট অঞ্চল কৃষির অপার সম্ভাবনাময় এলাকা। বিশেষ করে পতিত জমি চাষাবাদের আওতায় আনা গেলে কৃষকগণ এতে বেশী উপকৃত হবেন।

রোববার সিলেট জেলা পরিষদ মিলনায়তনে হাওরে সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতির প্রভাব এবং আউশ ও আমনের উৎপাদন বৃদ্ধিতে করণীয় শীর্ষক আঞ্চলিক কর্মশালায় বক্তারা এ তথ্য তুলে ধরেন। সিলেট অঞ্চলে শস্যের নিবিড়তা বৃদ্ধি করণ প্রকল্প খামার বাড়ি ঢাকা এ কর্মশালার আয়োজন করে।

কর্মশালায় আরো জানানো হয়, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার কৃষকদের স্বার্থে ইতোমধ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। সার, বীজ কীটনাশক সহ যাবতীয় কৃষি উপকরণ কৃষকদের হাতের নাগালে রাখা হয়েছে। এছাড়া, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা, কর্মচারীরা কৃষকদের যে কোন সমস্যায় সহযোগিতা করছেন।

কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সিলেট অঞ্চরের অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ মোঃ আলতাবুর রহমান বলেন, কৃষি এবং কৃষক একই সূত্রে গাঁথা। কৃষির উন্নয়ন হলেই দেশের উন্নয়ন হবে। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিকতা ও নিষ্টার সাথে কাজ করার আহ্বান জানান।

এতে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সরেজমিন উইং এর অতিরিক্ত পচিালক কৃষিবিদ ড. আলহাজ উদ্দিন আহাম্মেদ বলেন, দেশের প্রতিটি সেক্টর এগিয়ে যাচ্ছে। কৃষিতেও আধুনিকতা ও তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে। সেই সাথে কর্মকর্তা কর্মচারীদের সেবার মানসিকতা নিয়ে কাজ করতে হবে।

সিলেট অঞ্চলে শস্যের নিবিড়তা বৃদ্ধিকরণ প্রকল্প পরিচালক কৃষিবিদ মোঃ ওহিদুজ্জামানের সভাপতিত্বে কর্মশালায় আরো বক্তব্য রাখেন সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো: নূর হোসেন মিঞা, সিলেটের জেলা প্রশিক্ষণ অফিসার মোঃ সালাহ উদ্দিন, সুনামগঞ্জের উপ পরিচালক জাহেদুল হক, হবিগঞ্জের প্রশিক্ষণ অফিসার বশির উদ্দিন ও মৌলভীবাজারের উপ পরিচালক মো: শাহজাহান।

শুরুতে কোরআন তেলাওয়াত করেন, এবিএম জালাল উদ্দিন এবং গীতা পাঠ করেন, বিজয়কৃষ্ণ হালদার। কর্মশালায় কৃষি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সিলেট অঞ্চলের কৃষি সংশ্লিষ্ট সংস্থা সমূহের কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

বিস্তারিত

তাপদাহে কৃষির ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা

রাজধানীসহ সারা দেশে তীব্র তাপদাহ বইছে। শুক্রবার বিকেলে সামান্য বৃষ্টির পর বিভিন্ন স্থানে খরতপ্ত আবহাওয়ার কিছুটা উন্নতি হয়েছে। এই তাপদাহ বিদায় নেওয়ার পর এর বিরূপ প্রভাব রেখে যাবে। এতে কৃষির ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন কৃষি-আবহাওয়াবিদরা।

তারা বলছেন, এর প্রভাবে বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টিপাত কম হবে। এ ছাড়া এবার বর্ষা ঋতু কাটবে গরম আবহে। তাপদাহের প্রভাবে এবার পানি স্বল্পতার সৃষ্টি হতে পারে। ফলে কৃষি ও মৎস্যখাতে ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে। প্রভাব পড়তে পারে আমন ও আউস চাষে।

বাংলাদেশের ওপর দিয়ে যাওয়া কর্কটক্রান্তি রেখা বরাবর সূর্য রশ্মি পড়ায় গরমে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে রাজধানীবাসী। শুধু রাজধানীবাসীই নয়, সূর্যের এই তীব্র তাপদাহে পুড়ছে গোটা দেশ। তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় ১-৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি পড়ছে। সূর্য কিছুটা সরে গেলে তাপমাত্রা কমবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

জানা গেছে, কিছু জেলায় কৃষক সেচ দেওয়ার চেষ্টা করলেও মাঠে ফসল পুড়ছে। কিছু জেলায় এরই মধ্যে খরা দেখা দিয়েছে। তবে ওসব অঞ্চলে খরা ধানের জন্য উপকারী। কিন্তু এই দীর্ঘ খরা অব্যাহত থাকলে তিল, মুগ, পাট, ভুট্টা, আম ও লিচুর ক্ষতি হবে বলে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন। এ ছাড়া তাপদাহে অতিষ্ঠ সারা দেশের জনজীবন, সেইসঙ্গে বেড়েছে রোগ-ব্যাধিও। অতিরিক্ত গরমে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন অনেকেই। এর মধ্যে শিশুদের সংখ্যাই বেশি।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র বলছে, এরই মধ্যে দেশের কয়েকটি অঞ্চলে তাপদাহের কারণে অনেকটা খরা দেখা দিয়েছে। ‍এর মধ্যে রাজশাহী অন্যতম। রাজশাহী বিভাগের অধিকাংশ জেলায় প্রচণ্ড তাপদাহে ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা করছে কৃষক ও কৃষি কর্মকর্তারা। কৃষকরা সেচ দিলেও  মাঠে ফসল পুড়ছে। এই ধরনের দীর্ঘ খরা কখনই হয়নি বলে দাবি করছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

উত্তরাঞ্চলের কিছু কিছু জেলায় ধান কাটা শুরু হয়েছে। তবে অনেক এলাকায় এখনো মাঠে ধান রয়েছে। ওসব এলাকায় তাপদাহের কারণে মাটিতে পর্যাপ্ত রস না থাকলে ফসলের ফলন কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

জলবায়ুবিদ ও বুয়েট অধ্যাপক ড. মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, আগস্ট-সেপ্টেম্বরের দিকেও এমন একটি বৈরি আবহাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আর স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি তাপমাত্রা হলে তার অবশ্যই কিছু প্রভাব থাকবে। যেমন, এই অঞ্চলে এবার বর্ষা কম হবে এবং বর্ষা মৌসুমে গরম ভাব থাকবে।

তিনি বলেন, আমাদের পানির উৎসগুলো ঠিক রাখা জরুরি। যেমন, পুকুর, জলাশয় ও নদী স্বাভাবিক নিয়মে থাকলে প্রকৃতি খুব বেশি বিরুদ্ধ আচরণ করে না।

জানা গেছে, দু’মাস আগেই অসময়ে টানা ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে দেশের হাওর অঞ্চলের বোরো-ইরি আধাপাকা ধানসহ বিভিন্ন ফসল বানে ভেসে গেছে। এবার যোগ হয়েছে তাপদাহ। এর প্রভাবেও ফসলের মারাত্মক ক্ষতি হবে। কারণ, মাটিতে যে পরিমাণ রস থাকার কথা, তা ফসল পাচ্ছে না এই তাপদাহে। এমনকি আগামী কয়েকদিন বা মাসেও তা পূরণ হবে না। এর প্রভাব ফসলের ওপর পড়বে।

কৃষি আবহাওয়াবিদরা বলছেন, এবার বিভিন্ন অঞ্চলে ধানের আবাদের পাশাপাশি অন্যান্য শস্যের ফলনও কমতে পারে। এমনকি পুকুর, বিল, জলাশয়ে পানির পরিমাণ কম থাকলে তা মৎস্যখাতের ওপরেও প্রভাব ফেলবে। তাপদাহের প্রভাবে মাছের উৎপাদন কমতে পারে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, এবার চৈত্র-বৈশাখে ঝড়-বৃষ্টি বেশি থাকায় গরম বেশি পড়ছে। তীব্র গরমে পানিবাহিত রোগসহ বিভিন্ন রোগবালাই বেড়েছে। বিশেষ করে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, সর্দি-জ্বরসহ নানা রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে।

তবে গরমের এই প্রভাব বেশি পড়ছে শিশুদের ওপর। গত কয়েকদিন ধরে স্কুলে উপস্থিতি কমেছে। শিশু হাসপাতালের রেজিস্ট্রার অনুযায়ী, গত দেড় সপ্তাহ ধরে প্রতিদিন এই হাসপাতালে অসুস্থ ৮০০ থেকে ৮৫০ শিশুকে আনা হয়েছে। এর অধিকাংশই গরম সংক্রান্ত রোগে আক্রান্ত।

এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা বলেন, ভৌগোলিকভাবে বাংলাদেশে মার্চ-জুন মাসে সূর্য খাড়াভাবে আলো দেয়। আকাশে সূর্যের আলোর আধিক্যের কারণ ছাড়াও মেঘমুক্ত আকাশে তাপমাত্রা বেশি থাকে। তবে আজ শনিবার থেকে তাপ কিছুটা কমবে এবং কমার দিকে থাকবে। আগামী দু’তিন দিনের মধ্যে রাজধানীতে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।

বিস্তারিত

টুঙ্গিপাড়ায় বাংলাদেশে প্রথম ব্রি-৫ জাতের ধানের চাষ

সৈয়দ আকবর হোসেনঃ
বাংলাদেশে প্রথম ব্রি-৫ জাতের ধানের চাষ করা হয়েছে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায়। কৃষকেরা একই সাথে এই উচ্চ ফলনশীল হাইব্রিড ধান চাষ করার পাশাপাশি এ ধানের বীজও উৎপাদন করে লাভবান হতে পাববেন।কৃষি বিজ্ঞানীরা মনে করেন দেশে যেসব হাইব্রিড ধানের চাষ করা হয়ে থাকে তার মধ্যে সবচেয়ে বেশী উৎপাদন ক্ষমতা রয়েছে ব্রি-৫ জাতের ধানের। টুঙ্গিপাড়ার দুই কৃষক পরীক্ষামূলক ভাবে এ ধানের সফল চাষ করায় অন্যান্য কৃষকেরাও আগামীতে এ জাতের ধান চাষের আগ্রহ দেখিয়েছেন।

বাংলাদেশ রাইস রিসার্স ইনষ্টিটিউট(ব্রি)উদ্ভাবিত উচ্চ ফলনশীল হাইব্রিড ধান ব্রি-৫ জাতের ধান চাষ করে গোপালগঞ্জের কৃষকরা লাভবান হয়েছেন।২০১৬ সালে ধানটি জাতীয় বীজ বোর্ড থেকে অনুমোদন পেলেও এই বোরো মৌসুমেই প্রথম গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় এ জাতের ধানের আবাদ করা হয়।
ব্রি-এর বিভিন্ন পর্যায়ের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তাগনের মতে প্রতি বছর দেশে কোটি কোটি টাকার হাইব্রিড ধানের বীজ আমদানী হয়ে থাকে দেশে।দেশেই যদি কৃষকরা তাদের প্রয়োজনমত হাইব্রিড ধানের বীজ উৎপাদন করতে পারেন তা’হলে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা দেশ থেকে বিদেশে যাবে না।

এ জাতের ধান হেক্টর প্রতি উৎপাদন ৯ টন বা একরে ৯০ মন। শতকরা ৯ ভাগ প্রোটিন সমৃদ্ধ এ ধান ১শ’৪৫ দিনের মধ্যে কৃষকেরা তাদের ঘরে তুলতে পারেন। দেশী ও বিদেশী যেকোন হাইব্রীড ধানের থেকে এর উৎপাদন বেশী এবং কৃষক নিজেই এ ধানের বীজ উৎপাদন করতে পারায় কৃষকরা এ জাতের ধান চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।

টুঙ্গিপাড়ার কৃষক বাকা শেখ ও জালাল শেখ জানান, ব্রি-৫ জাতের ধানের চাষ করে আমরা লাভবান হয়েছি।ফলন হয়েছে ভাল। আমাদের দেখাদেখি এলাকার অন্যান্য কৃষকেরা আগামী বোরো মৌসুমে এ জাতের ধানের চাস করবেন এমনটি বলেছেন।
 
বাংলাদেশ ধান গবেষনা ইনষ্টিটিউট, গাজিপুরের পরিচালক (প্রশাসন ও সাধারন পরিচর্যা), ড. মোঃ জাহাঙ্গীর কবীর জানান, দেশীয় আবহাওয়ায় উদ্ভাবিত বিধায় এর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশী এবং এ জাতের স্থানীয়ভাবে বীজ উৎপাদন বানিজ্যিকভাবে লাভজনক। এ জাতের ধানের চাল চিকন ও ভাত ঝরঝরে। এটির আবাদ যদি সারা দেশে ছড়িয়ে দেয়া যায় তা’হলে বৈদেশিক মুদ্রা খরচ করে বিভিন্ন কোম্পানীর বিদেশী হাইব্রিড ধানের বীজ আমদানী হ্রাস পাবে বলে বাংলাদেশ ধান গবেষনা ইনষ্টিটিউটের বৈজ্ঞানিকরা জানিয়েছেন।

টুঙ্গিপাড়ায় ব্রি-৫ ধানের চাষ ও বীজ উৎপাদন করতে কৃষক প্রশিক্ষন এবং মাঠদিবস অনুষ্ঠিত হয়। এ ধান কাটা উপলক্ষে মঙ্গলবার দুপুরে টুঙ্গিপাড়া উপজেলার শেখ রাসেল শিশুপার্ক সংলগ্ন মাঠে এই অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। টুঙ্গিপাড়ার কৃষকদের ব্রি-৫ জাতের ধান চাষের পদ্ধতি ও এ জাতের ধানের বীজ উৎপাদনের কলাকৌশল ও গুনাগুন সম্পর্কে বিশেষ ধারনা দেয়া হয়।

অনষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন গাজীপুর ধান গবেষনা ইন্সটিটিউটের পরিচালক(প্রশাসন ও সাধারন পরিচর্যা) ড. মোঃ শাহজাহান কবীর। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কৃষকদের প্রশিক্ষন দেন ভাঙ্গা ধান গবেষনা ইন্সটিটিউটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মোহাম্মাদ আমির হোসেন, বরিশাল ধান গবেষনা ইন্সটিটিউটের মূখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মোঃ আলমগীর হোসেন, গাজীপুর ধান গবেষনা ইন্সটিটিউটের উর্ধতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড.মোঃ খায়রুল আলম ভুইয়া ও পিরোজপুর,গোপালগঞ্জ বাগেরহাট সমন্বিত প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ড. প্রিয়লাল বিশ্বাস।

প্রশিক্ষণ শেষে অনুষ্ঠান স্থলের পার্শ¦বর্তী ধানক্ষেতে চাষকরা ব্রি-৫ ধান কেটে মাড়াই করে ফলন পরিমাপ করা হয়। আগামীতে দেশীয় এ ব্রি হাইব্রিড ধান-৫ জাতের চাষের আবাদ বাড়িয়ে কৃষকেরা অধিক লাভবান হবেন এমনটি প্রত্যাশা কৃষি সংশ্লিষ্টদের।

বিস্তারিত

পেঁয়াজ বীজের সাদাফুলে ভরা মাঠ

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় চলতি মৌসুমে ব্যাপক পেঁয়াজ বীজের আবাদ করা হয়েছে। উপজেলার প্রায় প্রতিটি মাঠে এখন পেঁয়াজ বীজের সাদা ফুলের সমারোহ। অন্য ফসলের চেয়ে অধিক লাভজনক হওয়ায় এ অঞ্চলের চাষীরা দিন দিন পেঁয়াজ বীজের আবাদে ঝুঁকছে। চাষীরা এখন সারাদিন ব্যস্ত সময় পার করছেন  বীজ ক্ষেতের পরিচর্যায়।

চাষীরা জানায়, পেঁয়াজ বীজ একটি ঝুঁকিপূর্ণ ফসল। পেঁয়াজ বীজের করে যেমন লাভ বেশি হয়, তেমনি ঝুঁকিপূর্ণ। আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে লাভ ভালো হয়। নিড়ানী, সার, কীটনাশকসহ, পেঁয়াজ বীজের পরিচর্যায় এখন ব্যস্ত ভাঙ্গা উপজেলার কৃষকরা। চলতি বছর কৃষকরা পেঁয়াজ বীজের ভালো ফলন আশা করছেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানায়, চলতি বছর ভাঙ্গা উপজেলার রেকর্ড পরিমাণ পেঁয়াজ বীজের আবাদ করা হয়েছে। এ বছর পেঁয়াজ বীজ আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৮০০ হেক্টর এবং আবাদ করা হয়েছে ৮২৫ হেক্টর। আবাদের লক্ষ্যমাত্রা রেকর্ড পরিমাণ ছাড়িয়ে গেছে।

পেঁয়াজ চাষীরা জানান, গত বছর পেঁয়াজের বীজ মণ প্রতি বিক্রি হয়েছে ৮০ হাজার থেকে ১ লক্ষ টাকা পর্যন্ত। কালো সোনা খ্যাত এ বীজ চাষ করে এলাকায় গ্রামীণ কৃষি অর্থনৈতিক চিত্রই পাল্টে গেছে। প্রতি বিঘা জমিতে প্রায় ৩/৪ মণ পেঁয়াজ বীজ উৎপন্ন হয়।

পেঁয়াজ বীজ বিক্রি করে এলাকার কৃষকরা প্রচুর মুনাফা অর্জনের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হয়ে উঠেছেন।

উপজেলার হিরালদী গ্রামের পেঁয়াজ বীজ আবাদকারী শাহাজাহান বলেন, তিনি ৫ মিঘা জমিতে পেঁয়াজের বীজ আবাদ করছেন। উপজেলার সাউতিকান্দা গ্রামের বিল্লাল মুন্সী বলেন গত বছর আমি ৩ বিঘা জমিতে পেঁয়াজের বীজ আবাদ করে সফলতা পেয়ে ছিলাম, চলতি বছর ৪ বিঘা জমিতে পিয়াজের বীজ আবাদ করে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখছি। উপজেলার পৌরসদরের ভারইডাঙ্গা গ্রামের আদর্শ চাষী ইসহাক মোল্যা বলেন, তিনি দীর্ঘদিন যাবৎ পেঁয়াজ বীজ আবাদ করছেন।  গত বছর ১০ বিঘা জমিতে পেঁয়াজ বীজ আবাদ করে সফলতা লাভ করায় চলতি বছরও প্রায় ৩৫ বিঘা জমিতে পেঁয়াজ বীজের আবাদ করছেন।

এ ব্যাপারে ভাঙ্গা উপজেলা কৃষি অফিসার মো. ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, এ বছর ভাঙ্গা উপজেলায় ৮২৫ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ বীজের আবাদ করা হয়েছে। আমাদের এ বছর পেঁয়াজ বীজ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৮০০ হেক্টর জমি। আমরা কৃষকদের পেঁয়াজ বীজ আবাদের জন্য সেই ভাবে প্রশিক্ষণ দিয়ে গড়ে তুলেছি।

এ বার মূলত আবহাওয়া অনুকূলে থাকায়, সুষম মাত্রায় সার প্রয়োগ এবং কীটনাশক ও সারের সহজলভ্যতা থাকায় পেঁয়াজের বীজ উৎপাদন ভালো হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিস্তারিত

সুনামগঞ্জ হাওর রক্ষা বাঁধ : মেয়াদ শেষেও অর্ধেক কাজ শেষ হয়নি

মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও এখনো সুনামগঞ্জের বিভিন্ন হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মান কাজ অর্ধেকও শেষ হয়নি। অনেক হাওরে বাঁধ নির্মান কাজ শুরুই হয়নি এখনো।

এতে পাহাড়ি ঢল ও অকালবন্যায় নিজেদের একমাত্র ফসল বোরো হারানোর শঙ্কায় ভূগছেন হাওরপাড়ের লক্ষাধিক কৃষক। এবার আগেভাগেই বৃষ্টি শুরু হওয়ায় তাদের এ শঙ্কা আরো বেড়ে গেছে। মার্চের শুরুতেই পাহাড়ি ঢলে তলিয়ে গেছে জেলার ধর্মপাশা উপজেলার ৭টি হাওরের ফসল। বাঁধ নির্মানে গাফিলতির কারণে গত বছরও অকালবন্যায় তলিয়ে যায় বেশকয়েকটি হাওরের ফসল।

সুনামগঞ্জের হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধের নির্মান কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিলো ২৮ ফেব্রুয়ারি। তবে গত সোমবার সুনামগঞ্জে সংবাদ সম্মেলন করে ‘হাওর অ্যাডভোকেসি প্ল্যাটফর্ম’ (হ্যাপ) নামের একটি সংগঠন জানিয়েছে, কোনো হাওরেই এখন পর্যন্ত ৪০ ভাগ বাঁধ নির্মান কাজ শেষ হয়নি। জেলার ১২টি হাওরে এখনো ফসল রক্ষা বাঁধের কাজ এখনো শুরু করা হয়নি।
জানা যায়, গত বছরের ১৫ ডিসেম্ভর ফসলরক্ষা বাঁধ নিমার্ণের কাজ শুরু হওয়ার কথা। কিন্তু বেশিরভাগ বাঁধেরই কাজ ফেব্রুয়ারি-মার্চ মাস থেকে শুরু হয়েছে।

তবে সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো)’র হিসেব মতে, পিআইসির কাজ ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ এবং ঠিকাদারদের কাজ ৫০ শতাংশ শেষ হয়েছে।

পাউবো’র কর্মকর্তারা বলছেন, সুনামগঞ্জ জেলার ১১টি উপজেলার ৪২টি হাওরে এ বছর ২৩০ কিলোমিটার ফসলরক্ষা বাঁধের কাজ হচ্ছে। প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) মাধ্যমে কাজ হচ্ছে ১০ কোটি ৭২ লাখ টাকার। ঠিকাদারদের মাধ্যমে কাজ হচ্ছে ৪৬ কোটি টাকার। পিআইসি হাওরে বাঁধের ঝুঁকিপূর্ণ ভাঙা অংশ মেরামত করছে। আর ঠিকাদারেরা করবেন নতুন বাঁধ তৈরি ও বাঁধ উঁচু করার কাজ।

সুনামগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অফিস সূত্রে জানা যায়, জেলায় এ বছর ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। গত নভেম্বর থেকে বোরো চাষের মৌসুম শুরু হয়। ফসল উঠবে এপ্রিল মাসে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেলার জামালগঞ্জ, তাহিরপুর, বিশ্বম্ভরপুর, দিরাই, শাল্লা, জগন্নাথপুর, ধরমপাশা উপজেলার হাওরগুলোতে এখনো বাঁধ নির্মাণের কাজ শেষ হয়নি।
বাঁধ নির্মান কার্যক্রম পর্যবেক্ষন করে এসে হ্যাপ’র যুগ্ম আহবায়ক ও নাগরিক সংহতির সাধারণ সম্পাদক মোঃ শরিফুজ্জামান শরিফ বলেন, হাওরের অন্যতম প্রধান সমস্যা হলো সঠিক সময়ে টেকসই ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণ এবং মেরামত না করা।  ২০০১ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত এই হাওরাঞ্চলে সাতবার  কৃষকরা তাদের সোনালী ফসল ঘরে তুলতে পারেননি। একমাত্র বোরো ফসলের উপর এ অঞ্চলের কৃষকরা নির্ভরশীল। এ অঞ্চলের কৃষি ও কৃষকের কথা বিবেচনা করে হাওর রক্ষা বাঁধের জন্য সরকার বছর বছর বরাদ্দ বাড়ালেও বাস্তবে কৃষকরা এর সুফল পান না।

জামালগঞ্জ উপজেলার হালির হাওরে প্রায় ১০ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হচ্ছে। এই হাওর ঘুরে দেখা গেছে, হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধের কাজ কোনোটির অর্ধেক আবার কোনোটির তার চেয়ে কম হয়েছে।

গত বছর পাহাড়ি ঢলের পানিতে হাওরের কালীবাড়ি এলাকার বাঁধ ভেঙে হালির হাওরের ফসল তলিয়ে যায়। এবার ওই স্থানে বাঁধ নির্মাণের কাজ করছে চারটি পিআইসি। এর জন্য বরাদ্দ আছে ৪৬ লাখ টাকা। চারটি পিআইসির সভাপতি হিসেবে আছেন স্থানীয় চারজন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্য। কিন্তু সব কাজ করছেন দুজন ইউপি সদস্য। তাঁরা হলেন মনু মিয়া ও সুফিয়ান আহমদ। এখনো বাঁধের কাজ অর্ধেক হয়নি। বাঁধের দুই দিকে কিছু মাটি ফেলা হয়েছে। কোনো কোনো স্থানে মাটির বদলে বালু ফেলা হচ্ছে।

মনু মিয়া বলেন, পাউবো থেকে সবকিছু বুঝিয়ে দেওয়ার পর ১৩ ফেব্রুয়ারি থেকে কাজ শুরু করেছি। কয়েক দিন বৃষ্টি থাকায় কাজে সমস্যা হয়েছে। এখন আবার পুরোদমে কাজ চলছে। তাঁর অভিযোগ, পাউবো ঝুঁকিপূর্ণ কাজগুলো করাচ্ছে পিআইসি দিয়ে আর যেগুলো বড় কাজ ও ঝুঁকি কম, সেগুলো করাচ্ছে ঠিকাদারদের দিয়ে।

সুফিয়ান মিয়া বলেন, ৪৬ লাখ টাকার মধ্যে মাত্র ১৪ লাখ টাকা পেয়েছি। টাকার অভাবে কাজ করতে দেরি হচ্ছে। উচ্চ সুদে টাকা এনে কাজ করাতে হচ্ছে।

সাচনাবাজার ইউপি চেয়ারম্যান রেজাউল করিম শামীম বলেন, বাঁধের কাজে ঠিকাদারেরা বেশি গাফিলতি করছেন। প্রতিবছর বাঁধ নির্মাণে বরাদ্দ বাড়ে, কিন্তু হাওরের ফসল রক্ষা করা যায় না।

তাহিরপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান বলেন, গত বছর এ উপজেলার ২২টি হাওরের ১৭টিতে ফসলহানি হয়েছিল। এবারও সময়মতো বাঁধ না হওয়ায় কৃষকেরা ফসল নিয়ে আতঙ্কে আছেন।

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আফসার উদ্দিন বলেন, কাজ দ্রুত শেষ করতে তাগাদা দেওয়া হচ্ছে। আশা করছি, এ মাসের মধ্যেই সব কাজ শেষ হবে।

বাঁধ নির্মানে কারো গাফিলতি বা অনিয়ম-দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। এছাড়া পুরো কাজ শেষ না করলে কাউকে বিল দেওয়া হবে না বলেও জানান পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী।
বিস্তারিত

ইঁদুর নিধন: উত্তরাঞ্চলে দেড় লাখ মেট্রিক টন ধান রক্ষা

উত্তরাঞ্চলে দেড় লাখ মেট্রিক টন ধান রক্ষা

নিজস্ব প্রতিবেদক,  রংপুর : এ বছর সরকারিভাবে ইঁদুর নিধন করে  উত্তরাঞ্চলে প্রায় এক লাখ ৬০ হাজার মেট্রিক টন আমন ধান রক্ষা করা হয়েছে।

গত এক মাসে দুই কোটি ৩০ লাখ  ইঁদুর নিধন করে এই ধান রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছে কৃষি অফিস।
এ ছাড়া প্রতিবছর উত্তরের ১৬ জেলায় প্রায় সাড়ে তিন লাখ মেট্রিক টন আমন ধান ইঁদুরের কারণে কৃষক গোলায় তুলতে পারছে না। যা আমনের মোট উৎপাদনের ৬ শতাংশ। প্রতি মৌসুমে গমের মোট উৎপাদনের ১০ শতাংশ, আলুর ৬ শতাংশ, শাক সবজির ৫ শতাংশ, নারকেলের ১০ শতাংশ ও আনারসের ১০ শতাংশ ফলন ইঁদুর খেয়ে ফেলে।

রংপুর ও রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, উত্তরাঞ্চলে চলতি আমন মৌসুমে প্রায় ২১ লাখ হেক্টরে আমন ধানের আবাদ হয়েছে। এই পরিমাণ জমি থেকে প্রায় ৫৫ লাখ মেট্রিক টন ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই উৎপাদনের ৬ শতাংশে ভাগ বসায় ইঁদুর।

আমন ধান কাটা ও মাড়াইয়ের আগে আগে হাজার হাজার ইঁদুর খেতে আক্রমণ করে ধান সাবার করে ফেলে। ইঁদুরের অত্যাচারে কৃষক কাঙ্ক্ষিত ফলন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তবে সরকারিভাবে ইঁদুর নিধন করে এ বছর উত্তরাঞ্চলে প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার মেট্রিক টন আমন ধান রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে। চলতি বছরের ৩  অক্টোবর থেকে  ৩ নভেম্বর পর্যন্ত চলে এই ইঁদুর নিধন অভিযান।

কৃষি অফিস জানায়, চলতি আমন মৌসুমে রংপুর বিভাগে প্রায় দুই কোটি  এবং রাজশাহী বিভাগে  প্রায় ৩০ লাখের বেশি ইঁদুর নিধন করা হয়েছে।

তথ্য মতে,  চলতি মৌসুমে রংপুর বিভাগে ইঁদুর নিধন করে ১ লাখ ২৪ হাজার মেট্রিক  টন ও রাজশাহী বিভাগে  প্রায় ৪০ হাজার  মেট্রিক টন ধান রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে।

এ ছাড়াও সেচ নালাগুলোতে ইঁদুর নির্বিচারে চলাচল করে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ পানি নষ্ট করে সেচ কাজে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটিয়েছে। স্থানীয় জনগণের অসচেতনতার কারণে প্রতিবছরই এই অঞ্চলে ইঁদুরের সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। ফলে ফসলের ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনা সম্ভব হচ্ছে না।
জানা গেছে, ইঁদুরের অত্যাচার থেকে ফসল বাঁচাতে ’৭০ দশকের মাঝামাঝি সময়ে ইঁদুর নিধন শুরু হয়। তবে সরকারিভাবে ১৯৮৩ সাল থেকে আনুষ্ঠানিক দেশে এই ইঁদুর নিধন অভিযান শুরু হয়। কিন্তু কার্যকরভাবে ইঁদুর নিধন করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে মোট উৎপাদনের একটি উল্লেখ্যোগ্য অংশ ইঁদুরের পেটে চলে যায়।
রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক শাহ আলম  জানান, দেশে ১১ প্রজাতির ইঁদুর রয়েছে। এরা যা খায় তার চেয়ে অনেক বেশি খাদ্য শস্য নষ্ট করে। ইঁদুর নিধনে কৃষক আগের চেয়ে অনেক বেশি সচেতনতা সৃষ্টি হয়েছে উল্লেখিত পরিমাণ আমন ধান রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে বলে তিনি জানান।
রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের  উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা এম. বাশার জানান, জনগণের সচেতনতায় আগের চেয়ে ইঁদুর নিধন অনেকাংশে বেড়েছে। তাই ফসলের ক্ষতির পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কমে এসেছে।
বিস্তারিত

কৃষিতে নারীর অবদানের মূল্যায়ন ও স্বীকৃতি প্রদানের দাবি

কৃষিতে নারীর অবদানের মূল্যায়ন ও স্বীকৃতি প্রদান, ভূমিতে নারীর সমঅধিকার এবং বাজার ব্যবস্থাপনায় নারীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে নারীদের নিয়ে কাজ করা কয়েকটি সংগঠন।

বৃহস্পতিবার (২৭অক্টোবর) ‘কৃষিতে নারীর অবদানের মূল্যায়ন ও স্বীকৃতি প্রদান, ভূমিতে নারীর সমঅধিকার এবং বাজার ব্যবস্থাপনায় নারীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা হোক’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘ ও নারী মৈত্রী যৌথ উদ্যোগে এ সংবাদ সম্মেলন মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়। এতে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন নারীমৈত্রীর নির্বাহী পরিচালক শাহিন আকতার।

নারীনেত্রী ও বিএনপিএস-এর নির্বাহী পরিচালক রোকেয়া কবীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন বিআইডিএস-এর সম্মানিত ফেলো ড.এম আসাদুজ্জামান,বিআইডিএস-এর সাবেক সিনিয়র রিসার্চ ফেলো ড. প্রতিমা পাল-মজুমদার, অক্সফামের সিনিয়র পলিসি অফিসার মেহবুবা ইয়াসমিন।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন- গত এক দশকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণের নিমিত্তে প্রায় এক কোটি ত্রিশ লক্ষ বাড়তি শ্রমশক্তি যুক্ত হয়েছে, যার প্রায় পঞ্চাশ লক্ষই নারী শ্রমিক। ২০০৫-২০০৬ এর শ্রমশক্তি জরিপ অনুযায়ী দেশের এক কোটি বিশ লক্ষ নারী শ্রমিকের প্রায় ৭৭ শতাংশই গ্রামীণ নারী, যারা মূলত কৃষিকাজ, পশুপালন, হাঁসমুরগি পালন, মাছ চাষ ইত্যাদি কৃষিসংক্রান্ত কাজে নিয়োজিত।

"১৯৯৯-২০০০ থেকে ২০০৯-২০১০ মেয়াদে কৃষি-বন-মৎস্য খাতে অংশগ্রহণকারী নারীর সংখ্যা ৩৭ লক্ষ থেকে বেড়ে প্রায় ৮০ লক্ষ হয়েছে (১১৬% বেড়েছে)। কিন্তু শ্রমশক্তিতে নারীদের এই বর্ধিত অংশগ্রহণের পরও দুঃখজনকভাবে পুরুষের তুলনায় নারীর কম বেতন পাওয়া অব্যাহত রয়েছে। বর্তমানে নারী কৃষি শ্রমিকের মজুরি পুরুষের তুলনায় ৪১ শতাংশ কম। ক্ষুধার বিরুদ্ধে সংগ্রামে নারীর এই অবদান স্বীকৃতি ও উচ্চারণের বাইরেই থেকে যাচ্ছে। কৃষিতে নারীদের এই অবদানকে অবৈতনিক পারিবারিক শ্রম হিসেবে গণ্য করা হয়, যদিও নারীরা খামার ও পরিবারের উৎপাদনের জন্য দ্বিমুখী চাপ সহ্য করে। কৃষিতে নারীর এই অবদান, ব্যক্তিগত ও জনজীবনের অন্যান্য ক্ষেত্রে অবদানের মতোই চূড়ান্তভাবে অবমূল্যায়িত হয়।"

বিআইডিএস-এর ফেলো ড.এম আসাদুজ্জামান বলেন- বিভিন্ন পরিসংখ্যান বলছে, গ্রামীণ অর্থনীতিতে নারীর অবদান ৫৩ শতাংশ, আর এর বিপরীতে পুরুষের অবদান ৪৭ শতাংশ। কিন্তু তবু, রাষ্ট্রীয়ভাবে তাদের স্বীকৃতি ও মূল্যায়ন নেই। সরকারের নীতি কৌশলের সঙ্গে নারীর কৃষিশ্রমের যোগসূত্র এখনো স্থাপিত হয় নি। ফলে রাষ্ট্রীয় প্রণোদনার অংশ হিসেবে ২০১৫ সালে প্রদত্ত এক কোটি ৩৯ লাখ কৃষক কার্ড বিতরণ করা হলেও নারী কৃষকদের ভাগ্যে তা জোটে নি। তা ছাড়া, নারী কৃষি শ্রমিকের প্রতি মজুরি বৈষম্য এখনো অব্যাহত আছে, যেখানে নারী শ্রমশক্তির ৬৮ শতাংশই কৃষি উৎপাদন থেকে বিপণন পর্যন্ত বিভিন্ন কাজের সাথে জড়িত। এদিকে ভূমিতেও নারীর সমঅধিকার নেই। বাজারে প্রবেশাধিকারের ক্ষেত্রেও তাদের রয়েছে নানা প্রতিবন্ধকতা।

বিএনপিএস-এর নির্বাহী পরিচালক রোকেয়া কবীর তাঁর বক্তব্যে বলেন- বিদ্যমান সমাজকাঠামো, প্রচলিত পুরুষতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং কৃষিতে নারীর অবদানকে অবহেলা করার যে সাধারণ প্রবণতা, সে কারণেই কৃষিতে নারীর অবদান স্বীকৃত হচ্ছে না। অনেকেই বলে থাকেন, জিডিপিতে কৃষির অবদান কমে আসছে। কিন্তু এর অর্থ কোনোভাবেই এই নয় যে তাতে নারীর অবদান কমছে। বরং পরিসংখ্যান বলছে, কৃষিতে নারীর অংশগ্রহণ আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে বেড়েছে। কৃষিতে নারীর অবদানকে অস্বীকার করার একটি কারণ হচ্ছে নারীর অবদানকে মূল্যহীন মনে করা এবং একে নারীর আর দশটা পারিবারিক কাজের মতো করেই বিবেচনা করা। কিন্তু একটি টেকসই জীবিকায়ন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে নারীর অবদানকে রাষ্ট্রীয় ও সামাজিকভাবে স্বীকৃতি দেয়ার কোনো বিকল্প নেই।

অক্সফাম-এর সিনিয়র পলিসি অফিসার বলেন- নারী-পুরুষের সমান অধিকারের সাংবিধানিক স্বীকৃতি সত্ত্বেও পুরুষরা ৯৬ শতাংশ জমির মালিক, যেখানে নারীর মালিকানা অবশিষ্ট মাত্র ৪ শতাংশ জমির। শুধু মালিকানা নয়, নারীরা সাধারণত জমির নিয়ন্ত্রণও পুরুষদের চেয়ে কম করে। কাজেই সময় এসেছে, কৃষিতে গ্রামীণ নারীর অবদানের স্বীকৃতি দেয়া ও উপযুক্ত সম্মান জানানোর। গ্রামীণ নারীর ক্ষমতায়ন ছাড়া ক্ষুধা ও দারিদ্র্য ঘোচানোর প্রচেষ্টা অসম্পূর্ণই থেকে যাবে।

এছাড়া সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা কৃষক হিসাবে নারী কৃষকদের স্বীকৃতিসহ নারী কৃষককে চিহ্নিত করে রাষ্ট্রীয় প্রণোদনা ব্যবস্থার আওতায় আনা এবং পারিবারিক কৃষি কার্ড প্রবর্তন করা,সর্বজনীন উত্তরাধিকার আইন প্রণয়ন করা, প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদন সক্ষমতা তৈরি করাসহ কৃষি সম্প্রসারণ সেবা নারীর কাছে অধিক হারে পৌঁছে দেয়া, বাজারে নারীর প্রবেশগম্যতা বাড়াতে বাজারের নির্দিষ্ট স্থান আলাদাভাবে নারী কৃষকদের জন্য সংরক্ষিত রাখা, জিডিপিতে নারীর পুনরুৎপাদনমূলক (un-paid care work) এবং উৎপাদনমূলক (অবৈতনিক) কাজের স্বীকৃতির দাবি জানান।
বিস্তারিত

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের বীজ বিতরণ

সম্প্রতি বন্যায় ক্ষয়-ক্ষতির কারণে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের সহায়তার লক্ষে কৃষি প্রণোদনার কর্মসূচির আওতায় বিনা মূল্যে কৃষক-কৃষাণীর মাঝে সরিষা বীজ ও সার বিতরণ করেছে ফরিদপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।
 
ফরিদপুর সদর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে মঙ্গলবার দুপুরে সদর উপজেলার হল রুমে ৪২০জন কৃষক-কৃষাণীর মাঝে সরিষা বীজ ও সার বিতরণ করা হয়।

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বীজ ও সার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ফরিদপুর অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ কিংকর চন্দ্র দাস।

এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ফরিদপুরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ জি. এম. আবদুর রউফ, কোতয়ালী থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. আব্দুর রাজ্জাক মোল্যা, এ. কে. এম. নাসির উদ্দিন চৌধুরী, সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আবুল বাসার মিয়া, মো, আনোয়ার হোসেন, মাজেদুর রহমান।

পরে প্রধান অতিথি ৪২০জন কৃষক-কৃষাণীকেম সরিষা বীজ, ২০ কেজি ডিএপি সার  ও ১ কেজি এমওপি সার প্রদান করা হয়।


বিস্তারিত

হবিগঞ্জে প্রাকৃতিক জলাশয়ে মাছ চাষে আগ্রহ বাড়ছে

হাওর ও পাহাড়ের জেলা হবিগঞ্জ। এখানকার প্রায় অর্ধেক এলাকাজুড়েই বিস্তৃত প্রাকৃতিক জলাশয়। সংগত কারণে দেশীয় নানা প্রজাতির মৎস্য সম্পদে সমৃদ্ধ হবিগঞ্জ। ফলে জীবিকা নির্বাহে অনেকেই বেছে নিচ্ছেন মাছ শিকারকে। জীবিকা নির্বাহে প্রাকৃতিক জলাশয়কে বেছে নেওয়ায় কমে যাচ্ছে নানা প্রজাতির দেশীয় মাছ।

অন্যদিকে, খাদ্যতালিকায় মাছের চাহিদা মেটাতে অনেকে আবার হয়ে উঠেছেন শৌখিন শিকারি। আর এসব কারণে প্রাকৃতিক জলাশয়ের এসব মাছ বড় হওয়ার আগেই ধরা পড়ছে মৎস্য শিকারিদের হাতে। এতে হুমকির মুখে পড়েছে মৎস্য সম্পদ। মৎস্য সম্পদ রক্ষায় চিন্তাভাবনা চলছে অভয়াশ্রম তৈরির। ইতিমধ্যে কাজও শুরু হয়েছে।

সম্প্রতি হবিগঞ্জের হাওর, বিল আর পুকুরসহ প্রাকৃতিক জলাশয়ে মাছের অভয়াশ্রম তৈরি করতে তৃণমূলের ৬০ জন প্রশিক্ষণার্থীকে নিয়ে ‘রাজস্ব খাতের আওতায় মৎস্য সংরক্ষণ আইন বাস্তবায়ন-বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালা’ সম্পন্ন করেছে। জেলা মৎস্য অধিদপ্তর এ কর্মশালার আয়োজন করে।

মৎস্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, খাল-বিল, হাওর আর পাহাড়-টিলা সমৃদ্ধ হবিগঞ্জের জলাশয়ে মাছের উৎপাদন বাড়াতে কাজ করছে মৎস্য অধিদপ্তর। আর এজন্যই তৃণমূলের ৬০ জন নারী-পুরুষকে নিয়ে প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছিল। এখানে প্রশিক্ষণ নিয়ে তারা জেলার হাওর, বিল, নদী-নালা, পুকুরসহ প্রাকৃতিক জলাশয়ে মাছের অভয়াশ্রম তৈরিতে সার্বিকভাবে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, প্রশিক্ষণের পর হবিগঞ্জ সদর, বানিয়াচং, মাধবপুর, চুনারুঘাট, নবীগঞ্জ, আজমিরীগঞ্জ, লাখাই ও বাহুবল উপজেলার ৭৮টি ইউনিয়নে ৭১ জন মাঠকর্মী নিয়োগ দিয়েছে মৎস্য অধিদপ্তর। তারা সরেজমিন গিয়ে প্রযুক্তিগত মাছ চাষে লোকজনকে আগ্রহী করে তুলছেন। এর সুফলও মিলছে। অনেকেই নতুন করে মাছ চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।

হবিগঞ্জ জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আশরাফ উদ্দিন আহম্মদ জানান, তৃণমূলের ৬০ জনকে আমন্ত্রণ জানিয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। যদি তারা দায়িত্ব নিয়ে কাজ করে, তবে জেলার হাওর, বিল, পুকুরসহ প্রাকৃতিক জলাশয়ে মাছের অভয়াশ্রম গড়ে উঠবে। সরকারিভাবে জেলার গভীর জলাশয়ে বেশ কয়েকটি মাছের অভয়াশ্রম রয়েছে। আমরা চাই পুরো জেলার স্থানে স্থানে মাছের অভয়াশ্রম তৈরি হোক।

তিনি বলেন, প্রাকৃতিক জলাশয়ে মাছ চাষে যেমন খরচ কম তেমনি মাছ বড়ও হয় দ্রুত। আর এসব মাছ খেতে সুস্বাদু হওয়ায় এর চাহিদাও বেশি।

তিনি আরো বলেন, প্রাকৃতিক জলাশয়ে মাছ চাষের কারণে যেমন অনেক যুবকের কর্মসংস্থান হয়েছে; তেমনি তারা আর্থিকভাবেও স্বাবলম্বী হয়েছেন। আর এ জন্য মৎস অধিদপ্তর তাদের সার্বিকভাবে সহযোগিতা করে যাচ্ছে।

প্রাকৃতিক জলাশয়ে মাছচাষি ইমন খান জানান, কর্মশালায় অংশ নিয়ে মাছ চাষকে এগিয়ে নেওয়ার নতুন নতুন তথ্য জেনে ভালো লেগেছে। তা ছাড়া আগে বর্ষা মৌসুমে যে জায়গাগুলো কোনো কাজে লাগত না, সেখানে মাছের অভয়াশ্রম করে আমরা অনেক লাভবান হচ্ছি। আমরা প্রতিবছরই এখন এভাবে মাষ চাষ করব।

আরেক মাছচাষি বিপ্লব দাস জানান, আমরা তিনজন মিলে প্রাকৃতিক জলাশয়ে একটি মাছের অভয়াশ্রম তৈরি করেছি। এখানে আমরা বিভিন্ন ধরনের মাছ চাষ করছি। আর মাছগুলো খুব দ্রুত বেড়ে উঠছে।

তিনি বলেন, আগে আমরা তিনজন বেকার ছিলাম, এখন মাছ চাষ করে অনেক লাভবান হচ্ছি।

প্রসঙ্গত, হবিগঞ্জ জেলায় জলাশয়ের পরিমাণ প্রায় ৯৭ হাজার ১৩৫. ১৫ হেক্টর। এর মধ্যে ৫৪টি হাওর এলাকায় সরকারি বিলের সংখ্যা ৬৭৫ এবং বেসরকারি ৫৩৭। সেই সঙ্গে রয়েছে বরাক, খোয়াই, শুঁটকি, রত্না, সুতাং, ভেড়ামোহনা, বিজনা, কুশিয়ারা, সোনাই, করাঙ্গীসহ অন্যান্য নদ-নদী। এ ছাড়া ৭৪টি খালের পাশাপাশি রয়েছে বিপুল সংখ্যক পুকুর, ডোবাসহ নানা জলাশয়।

এসব জলাশয়ে প্রাকৃতিক ও বাণিজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে দেশীয় নানা প্রজাতির মাছ। জেলায় বছরে মাছের উৎপাদন হয় ২৮ হাজার ৪৭৪ টন। এখানে মাছের চাহিদা ২২ হাজার ৯০৯ টন। উদ্বৃত্ত থাকছে ৫ হাজার ৫৬৫ টন মাছ। মিঠাপানিতে উৎপাদিত মাছ স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশেও রপ্তানি হচ্ছে।

বিস্তারিত

ঝালকাঠিতে বন্যার ক্ষতি পোষাতে ভাসমান বীজতলা

ঝালকাঠি জেলায় বন্যা ও অতিবৃষ্টির কারণে বীজতলার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে জেলার ৪ উপজেলায় ৬০ টি স্থানে ভাসমান বীজতলা তৈরী করা হয়েছে।

এর মধ্যে সদর উপজেলায় ১৫ টি, নলছিটিতে ৮ টি, রাজাপুরে ১২ টি ও কাঠালিয়ায় ২৫ টি।

ভাসমান বীজতলা তৈরির কাজ শেষ। এতে যে বীজ উৎপাদিত হয়েছে তা আগামী ১০/১২ দিনের মধ্যে রোপণ উপযোগী হবে।

২০১৭ সালের জানুয়ারী মাসে এর ফসল ঘরে তুলতে পারবেন কৃষকরা।

 জেলায় বন্যা, অতিবৃষ্টি ও কয়েকদফা জোয়ারের পানি বৃদ্ধির ফলে  আমনের বীজতলা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।

জেলার ৪ উপজেলায় ৬০০ হেক্টরের বীজতলা সম্পূর্ণ এবং প্রায় ১৮০০ হেক্টরের বীজতলা আংশিক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। এর ফলে উচ্চ ফলনশীল জাতের আবাদ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।

এই পরিস্থিতি সামাল দেয়ার জন্য ব্রী-২৩ জাতের ভাসমান বীজতলা তৈরি করা হচ্ছে।

জেলায় ৩২টি ইউনিয়নের  ভাসমান বীজতলা তৈরি করা হচ্ছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের   উপপরিচালক শেখ আবু বকর সিদ্দিক বলেন, পরিস্থিতি সামাল দেয়ার জন্য জেলা প্রশাসক মো. মিজানুল হক চৌধুরীর দিক নির্দেশনায় জেলা কৃষি বিভাগের সহায়তায় লেইট ভেরাইটি বিআর ২৩ জাতের এ ভাসমান বীজতলা তৈরী করা হয়েছে।

ঝালকাঠি জেলায় বন্যা, অতিবৃষ্টি এবং জোয়ারের পানিতে ৭৩৯৫ হেক্টরের আমন বীজতলা, রোপা আমোন, শাকসবজি, পেঁপে, পান বরজ, কলা চাষের ক্ষেত নিমজ্জিত হয়েছে। ৭০৫ হেক্টরে ফসল সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।

ঝালকাঠি সদর উপজেলায় ৩৩৯৮ হেক্টরে ফসলের ক্ষেত ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে এবং এরমধ্যে ১৬০ হেক্টর সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।ক্ষয়ক্ষতির পরিমান ৬০,৫০,০০০ টাকা।
 
নলছিটি উপজেলায় ১৫৫০ হেক্টরে ফসলের ক্ষেত ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে এর মধ্যে ৩৯৫ হেক্টরে সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। ক্ষতির পরিমাণ ৩৬,৪২,১০০ টাকা।

রাজাপুর উপজেলায় ১৩৭৫ হেক্টরে ক্ষতিগ্রস্থ জমির মধ্যে ১৫০ হেক্টরে সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে এই ক্ষতির পরিমাণ ২ কোটি ৩০ লাখ ৪৫ হাজার টাকা।

কাঁঠালিয়া উপজেলায় ৯৭২ হেক্টরে জমিতে থাকা ফসল ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।এতে ১ কোটি ৮৬ লাখ, ৬২ হাজার ৪০০ টাকার ক্ষয়ক্ষতির প্রাথমিক হিসেব করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসক মো. মিজানুল চৌধুরী জানান, ফেসবুকে একজনের পরামর্শে কৃষি বিভাগের সাথে আলোচনা করি। কৃষি বিভাগের সহায়তায় কৃষকরা ভাসমান বীজতলা তৈরীতে আগ্রহী হয়।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের   উপপরিচালক শেখ আবু বকর সিদ্দিক জানান, অনেক বীজতলা নষ্ট হওয়ায় যথাসময়ে ফসল উৎপাদনে বিলম্ব হতে পারে বা ফসলের ঘাটতি হতে পারে। সে প্রেক্ষিতে ভাসমান বীজতলা তৈরী করতে কৃষকদেরকে উদ্বুদ্ধ করা হয় ।

আগামী ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে জমিতে এ বীজ রোপণ করা সম্ভব হবে। এর ফলে আশা করা যায়  ২০১৭ সালের জানুয়ারী মাসে ফসল সংগ্রহ করা যাবে। এর ফলে বন্যা, অতিবৃষ্টি ও জোয়ার জনিত ক্ষতিগ্রস্ত বীজতলার শস্য উৎপাদনে সৃষ্ট ক্ষতি পুষিয়ে উঠা সম্ভব হবে এবং বাম্পার ফলন হবে।

ব্রী-২৩ ধান লেইট ভ্যারাইটি এবং লবন সহিষ্ণু জাত। এই জাত ঝড় বন্যায়ও মাথা তুলে দাড়াতে পারে। এর উৎপাদন হেক্টর প্রতি ৫ মে. টন।

সমগ্র দেশে অতিবৃষ্টি ও বন্যার সময় এ পদ্ধতিতে ভাসমান বীজতলা তৈরী করা হলে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে সহায়ক হবে।

ফেইসবুক সংবাদদাতা, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও উপজেলা প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানান জেলা প্রশাসক।

ঝালকাঠি জেলা প্রশাসক মো. মিজানুল হক চৌধুরী ও জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপপরিচালক শেখ আবু বকর সিদ্দিক ভাসমান বীজতলা পরিদর্শন করে সন্তুষ্টি হয়ে কৃষকদের ধন্যবাদ জানান।

ঝালকাঠি সদর উপজেলার ছত্তরকান্দা, সাচিলাপুর, রাজাপুর উপজেলার পিংরি ও চর ইন্দ্রপাশা ব্লকে এই ধরনের ভাসমান বীজতলা তৈরি করতে দেখা গেছে। এসময় জেলা কৃষি সম্প্রসারণের উপ-পরিচালক শেখ আবু বকর সিদ্দিক সহ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা, ও ব্লক পর্যায় উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদের পাশে থেকে ভাসমান বীজতলা  তৈরির কাজে মনিটরিং করছে।


বিস্তারিত

টমেটো চাষীদের প্রশিক্ষণ দিল প্রাণ

রাজশাহী বিভাগে চুক্তি ভিত্তিক চাষীদেরকে উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে উচ্চ ফলনশীল জাতের টমেটো চাষ এবং রোগ-বালাই দমন ব্যবস্থাপনার উপর প্রশিক্ষণ দিয়েছে প্রাণ।

টমেটোর উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং এর গুণগত মান উন্নয়নের জন্য কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠান প্রাণ সম্প্রতি এই প্রশিক্ষণের আয়োজন করে।

প্রাণ এগ্রো বিজনেস লিমিটেডের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা মাহতাব উদ্দিন বলেন, ওই প্রশিক্ষণে কিভাবে টমেটো চাষের উৎপাদন খরচ কমানো যায় এবং ফসল পরবর্তী ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা যায় সে বিষয়ে কৃষকদেরকে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে।

প্রাণ এর চুক্তি ভিত্তিক ৪০ জন লিড টমেটো চাষীদেরকে নিয়ে নাটোরে প্রাণ এর এগ্রো লিমিটেডের কারখানায় দিনব্যাপি এ কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়।

এতে রাজশাহী বিভাগের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের অতিরিক্ত পরিচালক ফজলুর রহমান, নাটোর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. আলহাজ্ব উদ্দিন এবং সদর উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, এই মৌসুমে প্রাণ ১০,০০০ থেকে ১২,০০০ মেট্রিক টন টমেটো সংগ্রহ করবে। রাজশাহী বিভাগের তালিকাভুক্ত ৮,০০০ কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি এই টমেটো সংগ্রহ করবে প্রাণ। সংগৃহীত টমেটো থেকে প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে সস, কেচাপ, টমেটো পেস্ট ও মিক্সড আচার উৎপাদন করবে প্রতিষ্ঠানটি।

মাহতাব উদ্দিন বলেন, প্রাণ তার চুক্তিভিত্তিক টমেটো চাষীদেরকে নানামূখি প্রশিক্ষণ, কারিগরি জ্ঞান ও স্বল্প মূল্যে উচ্চ ফলন বীজ প্রদান করছে। এটি কৃষকদেরকে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করতে সহায়তা করবে বলে তিনি মনে করেন। পাশাপাশি, প্রাণ কৃষকদেরকে তার উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্যে বিক্রির নিশ্চয়তা দিয়ে থাকে। এ কার্যক্রমে ফড়িয়াদের দৌরত্ব থাকে না বিধায় কৃষকরা ফসল বিক্রয় করে লাভবান হচ্ছে। 

বিস্তারিত

কৃষকদের চাষাবাদে উৎসাহিত করতে লাখো ফোন

আধুনিক চাষাবাদে উৎসাহিত করার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কৃষকদের মধ্যে ৫০ লক্ষ মোবাইল ফোন বিতরণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানিয়েছেন পাকিস্তানের কর্মকর্তারা।

পাঞ্জাবের আইটি বোর্ডের চেয়ারম্যান ড. উমার সাইফ বলছেন, আগামী অক্টোবর মাসেই মোবাইল ফোনের প্রথম চালানটি কৃষকদের হাতে পৌঁছাবে।

এই ফোনের মাধ্যমেই কৃষিখাতের বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ পৌঁছে যাবে কৃষিজীবীদের কাছে।

ড. সাইফের বরাত দিয়ে পাকিস্তানী বার্তা সংস্থা এপিপি খবর দিচ্ছে, ফসলের ওপর কী পরিমাণ কীটনাশক ব্যবহার করা হবে, সে সম্পর্কে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে কৃষকদের কাছে অ্যালার্ট পাঠানো হবে।

ভারত এবং কেনিয়ায় বিপুল সংখ্যক কৃষিজীবী ইদানিং কৃষিখাতে স্মার্টফোন প্রযক্তি ব্যবহার শুরু করেছেন।

ডেনমার্কের আলবর্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক হেনড্রিক নচে ভারতে এমন একটি প্রকল্পের সাথে যুক্ত ছিলেন যেখানে অক্ষর জ্ঞানহীন কৃষিজীবীরাও স্মার্টফোন ব্যবহার করে সুবিধা ভোগ করতে পারেন।

তবে নিজের অভিজ্ঞতার আলোকে তিনি বলছেন, কৃষকদের প্রয়োজন হয় এমন অনেক তথ্য এখনো ইন্টারনেটে খুঁজে পাওয়া যায় না।

তবে কৃষিখাতে মোবাইল প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু হলে, ভবিষ্যতে এর অনেক সুফল পাওয়া যাবে বলে তিনি মনে করছেন।

 
বিস্তারিত

কৃষিজমি ও বনভূমিতে চিংড়ি চাষ অবৈধ

দেশের সমুদ্র উপকূলীয় এলাকায় কৃষি জমি ও বনভূমিতে জোরপূর্বক লোনা পানি প্রবেশ করিয়ে চিংড়ি চাষ করাকে অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায় বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ। আজ ৩১ আগস্ট বুধবার হাইকোর্টে দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের করা আপিল খারিজ করে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে আপিল বিভাগের পাঁচ সদস্যের বেঞ্চ এই আদেশ দেন।

বেঞ্চের অপর সদস্যরা হলেন বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী, বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার ও বিচারপতি মোহাম্মদ বজলুর রহমান।
 
আদালতে রিটের পক্ষে ছিলেন এ এম আমিন উদ্দিন, সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান ও মিনহাজুল হক চৌধুরী। অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আমাতুল করীম।

এ বিষয়ে আইনজীবী এ এম আমিন উদ্দিন সাংবাদিকদের জানান, আপিল আবেদন খারিজের মাধ্যমে হাইকোর্টে রায় বহাল থাকবে এবং দেশের কৃষিজমি ও বনভূমি রক্ষা পাবে।

মামলার বিবরণে জানা যায়, উপকূলীয় এলাকার বিভিন্ন জেলায় স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবশালীরা কৃষকদের সম্মতি না নিয়েই জোরপূর্বক কৃষিজমিতে লোনা পানি প্রবেশ করে চিংড়ি চাষ করে। এতে করে চাষাবাদ করা যায় না এবং দিনে দিনে কৃষিজমি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে এ বিষয়টি প্রকাশিত হওয়ার পর এ পদ্ধতিতে চিংড়ি চাষ বন্ধের নির্দেশনা চেয়ে ‘বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি’ ও ‘নিজেরা করি’র সংগঠন রিট দায়ের করে।

রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে ২০১০ সালে ১০ জানুয়ারি হাইকোর্ট রুল জারি করে। ওই রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে ২০১২ সালের ১ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট রায় দেন। রায়ে দেশের সমুদ্র উপকূলীয় এলাকায় কৃষিজমি ও বনভূমিতে জোরপূর্বক লোনা পানি প্রবেশ করিয়ে চিংড়ি চাষ করাকে অবৈধ ঘোষণা করা হয়।
 
পরে ২০১৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ। ওই আবেদনের শুনানি শেষে আজ রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন খারিজ করে দেওয়া হয়। এতে করে হাইকোর্টের রায় বহাল থাকল।

বিস্তারিত

তেলাপিয়া মাছে স্বাস্থ্য ঝুঁকি নেই

বাংলাদেশের তেলাপিয়া মাছে কোনো ক্যানসার বা স্বাস্থ্য ঝুঁকিপূর্ণ বিষাক্ত দ্রব্য নেই। এই মাছ খাওয়া শতভাগ নিরাপদ। এমনটি জানিয়েছে মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট।

দেশের বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে তেলাপিয়া মাছের বিরুদ্ধে অবৈজ্ঞানিক ও ভিত্তিহীন অপপ্রচারের বিরুদ্ধে বুধবার ‘তেলাপিয়া মাছের উৎপাদন ও জনস্বাস্থ্য’ শীর্ষক এক সেমিনারে এসব কথা বলেন বক্তারা।

সেমিনারে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের তেলাপিয়া মাছে কোনো প্রকার ক্যানসার বা স্বাস্থ্য ঝূঁকিপূর্ণ বিষাক্ত দ্রব্য নেই এবং এই মাছ খাওয়া শতভাগ নিরাপদ। দেশের তেলাপিয়া মাছের স্বাস্থ্য ঝুঁকির বিষয়টি বাংলাদেশেও প্রচার করায় জনমনে ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে যা যুক্তিহীন।

বক্তারা বলেন, মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট দেশের বিভিন্ন এলাকার ৫০টি তেলাপিয়া মাছের নমুনা সংগ্রহ করে গবেষণাগারে পরীক্ষা করে। কোনো পরীক্ষাতেও ক্ষতিকর রাসায়নিক দ্রব্য খুঁজে পায়নি।

সেমিনারে বলা হয়, বিশ্বে চাষযোগ্য মাছের মধ্যে তেলাপিয়ার অবস্থান দ্বিতীয় অর্থাৎ কার্পজাতীয় মাছের পরেই এর স্থান। আর বাংলাদেশ হচ্ছে বিশ্বে তেলাপিয়া মাছ উৎপাদনকারী দেশের মধ্যে সপ্তম।

২০১৪-১৫ অর্থবছরে বিশ্বে তেলাপিয়ার উৎপাদন ছিল ৪ দশমিক ৬৭ মিলিয়ন টন, যা বাংলাদেশের মোট উৎপাদনের ৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ। ২০০৫ সালে বাংলাদেশ এ মাছের উৎপাদন ছিল মোট ২০ হাজার মেট্রিকটন এবং ২০১৫ সালে এসে তা দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ৪৮ লাখ মেট্রিকটন।

মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের ডিজি ড. ইয়াহিয়ার সভাপতিত্বে সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাকসুদুল হাসান খান, মৎস্য অধিদপ্তরের ডিজি ড. সৈয়দ আরিফ আজাদ, তেলাপিয়া বিশেষজ্ঞ প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. এ এইচ এম কোহিনুর।

প্রসঙ্গত, গেল বছর ১২ অক্টোবর আমেরিকান একটি ব্লগে তেলাপিয়া খাওয়া বন্ধ করার পরামর্শ দিয়ে একটি লেখা প্রকাশ করা হয়। বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তা ছড়িয়ে পড়ে। ব্লগ ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এমন খবর ছড়িয়ে পড়ার পর হুমকির মুখে পড়ে এ মাছ চাষ আর বিক্রির সাথে জড়িত হাজারও মানুষ।
বিস্তারিত

কৃষকদের ট্যাব দেবে সরকার, হবে ডাটাবেজ

প্রযুক্তির মাধ্যমে ঘরে বসে বিভিন্ন সেবা দিতে কৃষকদের ট্যাব দেবে সরকার। একই সঙ্গে কৃষকদের তথ্য সম্বলিত পূর্ণাঙ্গ ডাটাবেজ তৈরি করা হবে।

এজন্য একটি প্রকল্প হাতে নিচ্ছে কৃষি মন্ত্রণালয়। ‘ই-কৃষির মাধ্যমে কৃষি সম্প্রসারণ সেবা জোরদারকরণ ও ডিজিটাল ডকুমেন্টেশন’ প্রকল্পের মাধ্যমে মাঠ পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তাদেরও ট্যাব সরবরাহ করা হবে।

কৃষি ব্যবস্থাপনাকে তথ্য-প্রযুক্তির আওতায় আনতে সাড়ে ৫০০ কোটি টাকার এ প্রকল্পটি শীঘ্রই পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-প্রধান মো. মনজুরুল আনোয়ার।

তিনি বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে ২০ হাজার কৃষক লিডার বা রিসোর্স কৃষকদের ট্যাব দেওয়া হবে। আইপিএম (সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা), আইসিএম (সমন্বিত শস্য ব্যবস্থাপনা) ক্লাবের কৃষকরা এটা পাবেন। তাদের অ্যাপস ব্যবহারে প্রশিক্ষণও আমরা দেব।’

মনজুরুল আনোয়ার বলেন, ‘কৃষকরা ট্যাবের মাধ্যমে কৃষি সংক্রান্ত নানা ধরনের সেবা ঘরে বসে পাবেন। কৃষি অফিস বা অন্য কোথাও কৃষকদের যেতে হবে না। ট্যাবের মাধ্যমে কোন ফসল উৎপাদন করতে হবে, উৎপাদন সংক্রান্ত পরিকল্পনা ও বাজারজাতকরণ সংক্রান্ত তথ্য পাবে। ফসলের রোগ-বালাই ও এর প্রতিকারের বিষয়ে তথ্য পাবে। আবহাওয়া সংক্রান্ত তথ্যও কৃষক তাৎক্ষণিক পেয়ে যাবেন।’

ট্যাবে প্রয়োজনীয় সফটওয়্যারগুলো ইনস্টল করা থাকবে ও এ বিষয়ে অ্যাপস তৈরি করা হচ্ছে জানিয়ে যুগ্ম-প্রধান বলেন, ‘কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে।’

কৃষি মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা শাখা থেকে জানা গেছে, এই প্রকল্পের আওতায় কৃষকদের ডাটাবেজও তৈরি করা হবে। প্রত্যেক কৃষককে একটি কার্ড দেওয়া হবে। এ কার্ডে কৃষকের সব তথ্য থাকবে। ব্যাংকে গেলে এ কার্ড দিয়ে সে ঋণ নেবে, আর ভেরিফিকেশনের দরকার হবে না। এ ছাড়া উন্নয়ন সহযোগীরা জানতে পারবেন কৃষকের কী অবস্থা। কোন কৃষককে কী উন্নয়ন করা দরকার।

আপাতত এক কোটি ৫৫ লাখ কৃষকের ডাটাবেজ তৈরি করা হবে। তবে সরকারের লক্ষ্য আড়াই কোটি কৃষকের ডাটাবেজ করা।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানান, ট্যাবের দাম ১২ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ট্যাবের সঙ্গে ইন্টারনেট দেওয়া না হলে উদ্দেশ্য সফল নাও হতে পারে। এজন্য কৃষকদের ইন্টারনেটের খরচও বহন করবে সরকার।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর এ প্রকল্পটি প্রণয়ন করে কৃষি মন্ত্রণালয়ের জমা দেয়। প্রকল্প প্রণয়নের সঙ্গে সম্পৃক্ত অধিদফতরের একজন কর্মকর্তা প্রকল্পের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। প্রকল্পটি মন্ত্রণালয়ে বিবেচনাধীন থাকায় তিনি নাম প্রকাশ করতে চাননি।

ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘ইতোমধ্যে ভারতে ই-কৃষি সম্প্রসারণ সেবা চালু হয়ে গেছে। কিন্তু বাংলাদেশে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে ই-কৃষি নিয়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে যে যার মতো কাজ করছে। এর কোন সমন্বয় নেই। মূলত সরকার লোক ভাড়া করে এখন ই-কৃষি সেবা দিচ্ছে। খরচও বেশি। এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে সেবাটা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তারা দিতে পারবেন। এ প্রকল্পের মাধ্যমে আমরা ডিজটালি কো-অর্ডিনেটেড প্ল্যাটফরম করব।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের দেশে একজন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তাকে (এসও) আড়াই হাজার কৃষি পরিবারকে সহায়তা দিতে হয়, এটা একটা অসম্ভব ব্যাপার। কৃষি সংশ্লিষ্ট আপডেটেড ইনফরমেশনগুলো সঠিক সময়ে পাওয়া যায় না। সঠিক সময়ে সঠিক তথ্য কৃষকের কাছে যাচ্ছে না। এখন কৃষক শুধু খাওয়ার জন্যই পণ্য উৎপাদন করে না, তার অনেক বাজার সংক্রান্ত তথ্য প্রয়োজন। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে এ সমস্যাগুলো থাকবে না।’

তিনি আরও জানান, যে কৃষি কর্মকর্তারা মাঠে কাজ করছে তাদের ট্র্যাকিং করা দরকার। একজন কৃষক কোথা থেকে কথা বলছে সে তথ্যও দরকার। তবে সঠিকভাবে তথ্য দেওয়া যাবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে আমরা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের (এসএএও) ট্র্যাকিং করতে পারব যে, কোন স্থান থেকে দেখা যাবে তারা মাঠে কাজ করছে কি-না।

সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা জানান, এ প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের মাঠ পর্যায়ে কর্মরত এসএএও-দের সঙ্গে কৃষকের তথ্য আদান-প্রদান সহজ হবে। এজন্য সব এসএএও-দের ট্যাব দেওয়া হবে। সব এসএএও ও কর্মকর্তার করপোরেট নম্বর থাকবে। এ নম্বরগুলো কেউ পরিবর্তন করতে পারবে না।

দেশের বর্তমানে ১১ হাজারের মতো এসএএও রয়েছেন। কোন কৃষক সেবার জন্য সিস্টেমে ফোন দিলে সঙ্গে সঙ্গে তা সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের এসএএও’র কাছে চলে যাবে। এসএএও জবাব দিতে না পারলে সেকেন্ডের মধ্যে তা কৃষি কর্মকর্তার কাছে চলে যাবে। এজন্য সহজ একটা নম্বর চালু করা হবে। কৃষক যে কোন ফোন থেকে সহজেই সেখানে ফোন করতে পারবেন বলেও জানান ওই কর্মকর্তা।

বর্তমানে কৃষি সংক্রান্ত রিপোর্টিং মান্ধাতা আমলের পদ্ধতিতে হয়। ট্যাব পাওয়ার পর এসএএএও’রা শস্য উৎপাদনসহ বিভিন্ন ধরনের তথ্য তাদের ট্যাবে ইনপুট দেবেন। এ প্রতিবেদন যে কেউ, যে কোন স্থান থেকে দেখে নিতে পারবেন বলে জানান কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের কর্মকর্তা।

এ প্রকল্পের আওতায় এসএএও-দের প্রযুক্তিগত উন্নয়নে একটা পোর্টাল করা হবে। কৃষি উন্নয়নে কাজে লাগে এমন নিত্যনতুন উদ্ভাবিত প্রযুক্তির বিষয়গুলো এ পোর্টালে থাকবে।

এ ছাড়া ভিডিও কনফারেন্সিং পদ্ধতি চালু করা হবে। এতে অধিদফতরের মহাপরিচালক কিংবা পরিচালকদের মাঠে যাওয়ার প্রয়োজন হবে না। যে কোনো মিটিং বা কোথাও ফসলের ক্ষয়ক্ষতি হলে তারা অফিসে বসে থেকেই তা দেখতে পারবেন।

বিস্তারিত

জেলেদের জালে সোয়া ৩ কেজি ওজনের ইলিশ!

মনপুরায় জেলেদের জালে ধরা পড়ল তিন কেজি দুইশ' গ্রাম ওজনের একটি ইলিশ। গত ৫০ বছরের মধ্যে এতো বড় ইলিশ জেলেদের জালে ধরা পড়েনি।
 
বুধবার সন্ধ্যায় ৭টার দিকে উপজেলার মনপুরা ইউনিয়নের রামনেওয়াজ মৎস্য ঘাটের জেলে আক্তার মাঝির জালে মাছটি ধরা পড়ে।
 
সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় আক্তার মাঝি মাছটি রামনেওয়াজ মৎস্য ঘাটের স্থানীয় মেম্বার আলমগীর হোসেনের গদিতে নিয়ে যান। এ সময় মাছ ব্যবসায়ী কোরবান আলী ব্যাপারী ১২ হাজার দুইশ' টাকায় ইলিশটি কিনে নেন।
 
জেলেরা জানান, গত ৫০ বছরের মধ্যে এত বড় সাইজের ইলিশ তাদের জালে ধরা পড়েনি। এতে এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। ইলিশ মাছটি দেখতে রাত ৯টায় পর্যন্ত ছিল মানুষের ভিড়।

বিস্তারিত

দেশীয় জাতের মাছ উৎপাদন ও সংরক্ষণের আহ্বান রাষ্ট্রপতির

স্থানীয় জাতের মাছের বিভিন্ন প্রজাতি সংরক্ষণ এবং উৎপাদন বৃদ্ধির পদক্ষেপ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ বলেছেন, দেশের জলজ পরিবেশ ও জীববৈজিত্র্য সুরক্ষায় স্থানীয় মাছের বিভিন্ন জাত সংরক্ষণ ও চাষে জনগণকে আগ্রহী হতে হবে।

জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ-২০১৬ পালন উপলক্ষে আজ বঙ্গভবনের দরবার হলে এক অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি বলেন, স্থানীয় জাতের মাছের উৎপাদন কমে যাচ্ছে এবং কিছু জাতের মাছ বিলোপ হতে যাচ্ছে। এজন্য জীববৈচিত্র্য বজায় রাখতে অবশ্যই আমাদের স্থানীয় জাতের মাছের বিভিন্ন প্রজাতি আবাদ ও সুরক্ষায় জনগণকে আগ্রহী করে তোলার পদক্ষেপ নিতে হবে।

মৎস্য খাতের গুরুত্ব তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি মৎস্য উৎপাদন ও সংরক্ষণে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আইন যথাযথ বাস্তবায়নের পরামর্শ দেন এবং জনগণকে বিশেষ করে মাছ উৎপাদনকারী ও ব্যবসায়ীদের এসব আইন সম্পর্কে সচেতন করে তুলতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন।

মাছ উৎপাদন জোরদারে সংশ্লিষ্ট সরকারি ও বেসরকারি সকল স্টেকহোল্ডার এবং স্বেচ্ছাকৃত ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে একটি কার্যক্রম গ্রহণের ওপর তিনি জোর গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি বলেন, ‘দেশের বিপুল জলজ সম্পদের যথাযথ ব্যবস্থাপনা এবং মাছ উৎপাদন জোরদারের দায়িত্ব শুধুমাত্র সরকারের একার নয়।’

তিনি বলেন, মৎস্যখাত প্রাণীজ প্রোটিনের চাহিদার ৬০ ভাগ পূরণ করছে অধিকন্তু দেশের জনসংখ্যার ১১ শতাংশ এই খাতে জীবিকা নির্বাহ করছে।

পরে রাষ্ট্রপতি বঙ্গভবনের পুকুরে মাছ অবমুক্ত করেন।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ ছায়েদুল হক, প্রতিমন্ত্রী নারায়ন চন্দ্র চন্দ, মৎসা ও প্রাণীসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মাকসুদুল হাসান খান এবং মৎস্য অধিদফতরের মহাপরিচালক সৈয়দ আরিফ আজাদ অন্যান্যের মধ্যে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন। বাসস


 
বিস্তারিত

ব্রীড আপগ্রেডেশন থ্রু প্রজেনী টেস্ট প্রকল্পের ইনসেনটিভ প্রদান

ব্রীড আপগ্রেডেশন থ্রু প্রজেনী টেস্ট প্রকল্পের আওতায় প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সংযোগ খামারীদের মধ্যে ইনসেনটিভ প্রদান করা হয়েছে।

বুধবার (২০ জুলাই) সিলেট নগরীর পূর্ব মিরাবাজারস্থ একটি অভিজাত হোটেলের কনফারেন্স হলে ইনসেনটিভ প্রদান অনুষ্ঠিত হয়।

জেলা কৃত্রিম প্রজনন কেন্দ্রের ডা. মো. সফিউল আহাদ সরদারের সভাপতিত্বে ও আম্বিয়া খাতুনের পরিচালনায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন সিলেট বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ উপ- রিচালক অচিন্ত্য কুমার সাহা।

বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. নূরুল ইসলাম, প্রকল্প পরিচালক মো. লুৎফুর রহমান খান, বালাগঞ্জ উপজেলার ইউএলও ডা. মো. শরীফুল আলম, গোলাপগঞ্জ ইউএলও ডা. মো. মাহবুবুল আলম।

ইনসেনটিভ প্রাপ্তদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আফতাবুল ডেইরির মহিউদ্দিন আহমদ, হেলাল ইউনাইটেড ফার্মের হেলাল উদ্দিন চৌধুরী, পশ্চিমবাগ ডেইরির জামাল উদ্দিন আহমদ, প্রভাতী দুদ্ধ খামারের হোসেন আহমদ সিদ্দিকী।

স্বাগত বক্তব্য রাখেন জেলা কৃত্রিম প্রজনন কেন্দ্রের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এবিএম কাউছার আহমেদ ও নিবাস চন্দ্র পাল।

প্রকল্পের কার্যক্রমের বিষয়ে উপস্থাপন করেন ব্রীড আপগ্রেডেশন থ্রু প্রজেনী টেস্ট প্রকল্প ডিপিডি ডা. মো. আসাদ।

বিস্তারিত

লেবু উৎপাদনের কলাকৌশল ও সংগ্রহোত্তর ব্যবস্থাপনা বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মসূচী

সিলেটে ব্যাকটেরিয়াল ক্যাঙ্কারমুক্ত, রপ্তানীযোগ্য লেবু উৎপাদনের আধুনিক কলাকৌশল ও সংগ্রহোত্তর ব্যবস্থাপনা বিষয়ক দিনব্যাপী কৃষক প্রশিক্ষণ কর্মসূচী অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সিলেট সদর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সার্বিক সহযোগিতায় ও বাংলাদেশ ফ্রুটস ভেজিটেবল এন্ড এ্যালাইট প্রোডাক্ট এক্রাপোটার্স এসোসিয়েশন এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এগ্রো প্রোডাক্টস বিজনেস প্রমোশন কাউন্সিল এর উদ্যোগে আয়োজিত দিনব্যাপী কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অদিপ্তরের উদ্ভিদ সংরক্ষণ উইংয়ের উপ-পরিচালক (রপ্তানী) আনোয়ার হোসাইন খান।

সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কাজী মজিবর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট ওসমানী আন্তজার্তিক বিমানবন্দরের উদ্ভিদ সংরক্ষণ উইংয়ের উপ পরিচালক প্রতুল চন্দ্র সরকার, হযরত শাহজালাল আন্তজার্তিক বিমানবন্দরের উদ্ভিদ সংরক্ষণ উইংয়ের উপ পরিচালক মো. হাফিজুর রহমান, প্রকল্পের এডভাইজার মো. মঞ্জুরুল ইসলাম, জৈন্তাপুর সাইট্রাস গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. লুৎফুর রহমান।

অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন সদর উপজেলার অতিরিক্ত কৃষি অফিসার কুহিনুর বেগম। কর্মশালায় ৮০ জন কৃষক অংশগ্রহণ করেন।

বিস্তারিত

বৃক্ষরোপণে জাতীয় পুরস্কার পাচ্ছেন ২ প্রতিমন্ত্রীর স্ত্রী

‘বৃক্ষরোপণে প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় পুরস্কার ২০১৫’ এর জন্য ১০টি শ্রেণিতে ২৯ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে চূড়ান্তভাবে মনোনীত করেছে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়।

এরমধ্যে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী মির্জা আজমের স্ত্রী রয়েছেন।

পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব শেখ মুহম্মদ তৌহিদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক আদেশে পুরস্কারের জন্য মনোনীতদের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে।

প্রতিটি শ্রেণিতে পুরস্কারপ্রাপ্তরা সনদ, ক্রেস্ট ও চেক পাবেন। প্রথম পুরস্কারের জন্য ৩০ হাজার টাকা, দ্বিতীয় পুরস্কারের জন্য ২০ হাজার টাকা ও তৃতীয় পুরস্কারের জন্য ১৫ হাজার টাকা দেওয়া হবে।

পুরস্কার প্রদানের তারিখ এখনও নির্ধারণ করা হয়নি। আগামী মাসে (জুলাই) অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মনোনীতদের হাতে পুরস্কার তুলে দেবেন বলে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে।

প্রাথমিক বিদ্যালয়, উচ্চবিদ্যালয়, এবতেদায়ী মাদ্রাসা, সিনিয়র মাদ্রাসা শ্রেণিতে প্রথম পুরস্কার পেয়েছে চট্টগ্রামের রাউজান সুরেশ বিদ্যায়তন, দ্বিতীয় হয়েছে যশোরের ঝিকরগাছার গাজীর দরগা কুয়েত ইসলামিক ইয়াতিম কমপ্লেক্স। তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে ঢাকার কেরানীগঞ্জের শুভাড্যা উচ্চ বিদ্যালয়।

কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় শ্রেণিতে নওগাঁর ধামইরহাট এমএম ডিগ্রি কলেজ প্রথম, চট্টগ্রামের আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় দ্বিতীয় ও দিনাজপুরের কেবিএম কলেজ তৃতীয় পুরস্কার পাচ্ছে।

ইউনিয়ন, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন শ্রেণিতে প্রথম পুরস্কার পাচ্ছে চুয়াডাঙ্গার দামুরহুদা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়। দ্বিতীয় খুলনার তেরখাদা উপজেলা পরিষদ ও তৃতীয় অবস্থানে খুলনার দাকোপের উপজেলা নির্বাহী অফিসার মৃণাল কান্তি দে।

অধিদফতর, পরিদফতর, করপোরেশন, প্রতিষ্ঠান বনায়ন শ্রেণিতে প্রথম পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছে খুলনার খান জাহান আলী সেতুর (রূপসা সেতু) টোল প্লাজা। দ্বিতীয় পুরস্কারের জন্য বাগেরহাটের মংলা ইপিজেড ও মুন্সীগঞ্জের পশ্চিম মুক্তারপুরের শাহ সিমেন্ট ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড তৃতীয় পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছে।

এনজিও, ক্লাব ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন শ্রেণিতে প্রথম পুরস্কার পাচ্ছে নীলফামারীর জলঢাকার তিস্তা বহুমুখী সমাজ কল্যাণ সংস্থা। দ্বিতীয় ও তৃতীয় পুরস্কার পাবে পটুয়াখালীর দোয়েল সামাজিক সংস্থা, চট্টগ্রামের হাটহাজারীর খন্দকিয়া বাথুয়া ভুলিয়াপাড়া সম্মিলিত পানি ব্যবস্থাপনা দল।

ব্যক্তিগত পর্যায়ে বৃক্ষরোপণের জন্য প্রথম পুরস্কার পাচ্ছেন কেরানীগঞ্জের সংসদ সদস্য ও বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপুর স্ত্রী সীমা হামিদ। দ্বিতীয় পুরস্কার পাচ্ছেন জামালপুরের সংসদ সদস্য ও পাট প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজমের স্ত্রী আলেয়া আজম। তৃতীয় পুরস্কার পাচ্ছেন যৌথভাবে চাঁপাইনবাবগঞ্জের নতুন হাজরাপুরের নাসিমা রহমান ও মতিউর রহমান।

ব্যক্তি মালিকানাধীন নার্সারি শ্রেণিতে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় পুরস্কার পাচ্ছেন খুলনা ফুলতলার মেসার্স হাইব্রিড নার্সারি, রংপুর সদরের বুড়িরহাট রোডের চব্বিশহাজারীর কৃষিবিদ নার্সারি, খুলনার পাইকগাছার গদাইপুরের আদর্শ নার্সারি।

ছাদে বাগান সৃজন শ্রেণিতে প্রথম পুরস্কার পাচ্ছেন রাজশাহী রাজপাড়ার মহিষবাথানের শামীম আরা। চট্টগ্রামের পতেঙ্গার মানিক চন্দ্র দাশ ও সারথী রানী দাশ যৌথভাবে দ্বিতীয় এবং গাজীপুর কালিয়াকৈরের সফিপুর পশ্চিম পাড়ার রাজিয়া সুলতানা তৃতীয় পুরস্কার পাচ্ছেন।

বন অধিদফতরের সৃজিত বাগানের ক্যাটাগরিতে প্রথম রাজশাহীর পাইকবান্দা রেঞ্জের ধামইরহাট বিটের সামাজিক বন বিভাগ। দ্বিতীয় খুলনার বাগেরহাটের ডুমুরিয়া সামাজিক বনায়ন বাগান কেন্দ্রের সামাজিক বন বিভাগ ও তৃতীয় পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছে নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী নার্সারি কেন্দ্রের উপকূলীয় বন বিভাগ।

বৃক্ষ গবেষণা, সংরক্ষণ, উদ্ভাবন শ্রেণিতে সেরা হয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. আবুল বাসার ও দ্বিতীয় পুরস্কার পাচ্ছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আরবরিকালচার সেন্টারের পরিচালক ড. মিহির লাল সাহা।

বিস্তারিত

এডভোকেট আলমগীর চৌধুরী।

হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে তিনদিনব্যাপী কৃষি প্রযুক্তি মেলা- ২০১৬ শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে মেলার উদ্বোধন করেন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান

সিলেট অঞ্চলের শস্যের নিবিড়তা বৃদ্ধিকরণ প্রকল্পের আওতায় উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে মেলা উদ্বোধন অনুষ্টানে আগে শহরে র‌্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

বেলা দেড়টায় উপজেলা কৃষি অফিসের হল রুমে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ মাসুম বিল্লাহ সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এডভোকেট আলমগীর চৌধুরী। কৃষি কর্তকর্তা মোহাম্মদ দুলাল উদ্দিনের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন মহিলা ভাইস চেয়ারম্যন নাজমা বেগম, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল জাহান চৌধুরী, প্যানেল মেয়র এটিএম সালাম।

উপস্থিত ছিলেন কুর্শি ইউনিয়নের নব-নির্বাচিত চেয়ারম্যান আলী আহমেদ মুছা, প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক রাকিল হোসেন, অফিস সম্পাদক ৭১ নিউজ টিভি প্রতিনিধি মতিউর রহমান মুন্না, দীঘলবাক ইউপি আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম হোসেন রব্বানী, উপজেলা যুবলীগ নেতা রাব্বি আহমেদ চৌধুরী মাক্কু, সাবেক সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলর জাকিয়া আক্তার লাকি, শিক্ষিকা মিজবাহ আক্তার প্রমুখ।

মেলায় মোট ১০টি স্টল অংশ নিচ্ছে। ৩০ জুন পর্যন্ত এ মেলা চলবে।

এর আগে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান উপজেলা পর্যায়ে প্রযুক্তি হস্তান্তরের জন্য কৃষক প্রশিক্ষণ (২য় পর্যায়) প্রকল্পের আওতায় কৃষক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের উদ্বোধন করেন।

উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এডভোকেট আলমগীর চৌধুরী উপজেলার করগাঁও ইউপির বিভিন্ন গ্রামের দারিদ্র লোকদের মধ্যে স্যানেটারী রিং বিতরণ করেন।

বিস্তারিত

‘কৃষিতে সিলেট সম্ভাবনাময় অঞ্চল’

সিলেট কৃষি বিভাগের উপপরিচালক আবুল হাসেম বলেছেন, কৃষিতে সিলেট সম্ভাবনাময় স্থান। মানুষ বাড়ীর আঙ্গীনায় বিভিন্ন জাতের ফলের আবাদ করে থাকে। ফরমালিন বর্জন করে নিজেরা ফল গাছ লাগাতে হবে। তিনি বলেন, যান্ত্রিক সহায়তায় কৃষি উৎপাদন করতে পারলে কৃষিতে সিলেট অঞ্চল একটি বিল্পব ঘটাতে পারবে।

২৪জুন ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা কৃষি বিভাগের উদ্যোগে দিন ব্যাপী কৃষকের প্রশিক্ষণ শেষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসকল কথা বলেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা চন্দন কুমার মহাপাত্রের সভাপতিত্বে প্রশিক্ষণে প্রশিক্ষক ছিলেন, সিলেট কৃষি বিভাগের প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা সালা উদ্দিন আহমেদ, উপজেলা কৃষি সম্প্রসারন কর্মকর্তা রায়হান পারভেজ, সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মুহিবুর রহমান ইরান, পিপিআই মিছির আলী।

উপজেলার কৃষক সহ ৬০ জন বিভিন্ন পেশার লোকজন অংশগ্রহন করেন। প্রশিক্ষন শেষে প্রত্যেক প্রশিক্ষনার্থীকে ৪/৫টি করে বিভিন্ন ফলের ছারা বিতরন করা হয়।

বিস্তারিত

  • হাথুরুসিংহের পরিকল্পনা ভুলে গেছে বাংলাদেশ: মাশরাফি
  • নতুন সম্পর্কে জোলি!
  • মাটির লেয়ারের ভিন্নতায় পদ্মা সেতুর ১৪ পাইলের ডিজাইনে বিলম্ব
  • ব্যাংকিং খাতে জবাবদিহিতার জন্য পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে : অর্থমন্ত্রী
  • অবকাঠামো উন্নয়নে ৬০ মিলিয়ন ডলার দেবে ওএফআইডি
  • বাংলাদেশ যথেষ্ট সক্ষমতা অর্জন করেছে : বিশ্বব্যাংক
  • ৩৭ হজ এজেন্সিকে নোটিশ
  • বাজেটে এমপিও অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে সরকার সিদ্ধান্ত নিবে: প্রধানমন্ত্রী
  • ভোলাগঞ্জ ও কালাইরাগে ৩৬টি ‘বোমা মেশিন’ ধ্বংস
  • ফেঞ্চুগঞ্জে ছাত্রলীগের ৫ নেতা বহিষ্কার
  • আম্মার মতো আমিও হারিয়ে যাব : রাইমা
  • ‘সূর্যসেন’ নতুন মঞ্চনাটক
  • আমি মৃত্যুকে ভয় করি না: আইভী
  • আমি একাই যথেষ্ট: শামীম ওসমান
  • সিরিয়ার কুর্দিদের বিরুদ্ধে অভিযান চালাবেন এরদোয়ান
  • বড় ধরনের বিপদ থেকে বাচঁলেন শোয়েব!
  • কোহলির জরিমানা
  • নির্বাচন স্থগিত হওয়া ইসির চরম ব্যর্থতা: ফখরুল
  • ঢাকা উত্তরের মেয়র পদে উপনির্বাচন স্থগিত
  • রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু ২ বছরের মধ্যে
  • মুসলমানরাই সবচেয়ে বেশি সন্ত্রাসের শিকার: বান কি মুন   ৫০৬২১
  • মেয়র কালামের পায়ের নিচে ওসি আতাউর শার্ট খুলে লিনডাউন,তারপর জুতো পেটার প্রস্তাব   ১৪৬৯১
  • ছলনাময়ী নারীদের চেনার উপায়   ১৩৬৬০
  • জুমার নামাজ ছুটে গেলে কী করবেন?   ১১৫৬১
  • ​চিনা কোম্পানিকে কাজ দিতে প্রতিমন্ত্রী তারানার স্বাক্ষর জাল   ৯৩৪১
  • ঋণখেলাপি নই-হুন্ডি ব্যবসায়িও নই,সম্পত্তি নিলামের খবর অপপ্রচার-নাসির   ৮৩৩৪
  • জেনে নিন ছুলি দূর করতে কিছু ঘরোয়া উপায়   ৮২৬৭
  • ডিমের পর স্বয়ংসম্পূর্ণতার পথে সোনালি মুরগি   ৮২১৩
  • মুসাফির কাকে বলে? মুসাফিরের রোযা ভঙ্গ করলে   ৮১৭৮
  • গরুর দুধের অসাধারণ কয়েকটি গুণ   ৭৯৯৬
  • খতমে ইউনুস নামে সামাজে চলে আসা জালিয়াতী   ৭১১১
  • মুঘল সম্রাটদের দিনযাপন   ৬৫৬৮
  • চিত্রনায়িকা সাহারার সেক্স ভিডিও ফাঁস!   ৫৯৭৬
  • হযরত শাহ্‌ জালাল ইয়েমেনী (রাঃ)-এঁর সংক্ষিপ্ত জীবনী   ৫৯০১
  • শিশুর কানে আজান দেবে কে?   ৫৫০৩
  • চিকিৎসায় দ্রুত সরকারি সহযোগিতা চান খাদিজার বাবা মাসুক মিয়া   ৫৩৩৮
  • কামরূপ-কামাখ্যা : নারী শাসিত যাদুর ভূ-খন্ড   ৫২৯৩
  • প্রশ্নব্যাংকে প্রশ্ন, স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাছাই হয়ে পরীক্ষা   ৫২২৯
  • ম,আ,মুক্তাদিরের ছেলে রাহাত লন্ডনে এক সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছে   ৪৯৪৯
  • ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক, চীন-পাকিস্তান সমীকরণ   ৪৮৩৮
  • সাম্প্রতিক আরো খবর

  • ফরিদপুরে বানিজ্যিক ভাবে ড্রাগন ফল চাষ শুরু
  • ৬৩ হাজার বৃক্ষরোপন করার উদ্যোগ
  • হরিপদ কাপালি আর নেই
  • বন্যায় ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে চাষাবাদ বাড়ানোর তাগিদ কৃষিবিদদের
  • তাপদাহে কৃষির ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা
  • টুঙ্গিপাড়ায় বাংলাদেশে প্রথম ব্রি-৫ জাতের ধানের চাষ
  • পেঁয়াজ বীজের সাদাফুলে ভরা মাঠ
  • সুনামগঞ্জ হাওর রক্ষা বাঁধ : মেয়াদ শেষেও অর্ধেক কাজ শেষ হয়নি
  • ইঁদুর নিধন: উত্তরাঞ্চলে দেড় লাখ মেট্রিক টন ধান রক্ষা
  • কৃষিতে নারীর অবদানের মূল্যায়ন ও স্বীকৃতি প্রদানের দাবি
  • বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের বীজ বিতরণ
  • হবিগঞ্জে প্রাকৃতিক জলাশয়ে মাছ চাষে আগ্রহ বাড়ছে
  • ঝালকাঠিতে বন্যার ক্ষতি পোষাতে ভাসমান বীজতলা
  • টমেটো চাষীদের প্রশিক্ষণ দিল প্রাণ
  • কৃষকদের চাষাবাদে উৎসাহিত করতে লাখো ফোন
  • কৃষিজমি ও বনভূমিতে চিংড়ি চাষ অবৈধ
  • তেলাপিয়া মাছে স্বাস্থ্য ঝুঁকি নেই
  • কৃষকদের ট্যাব দেবে সরকার, হবে ডাটাবেজ
  • জেলেদের জালে সোয়া ৩ কেজি ওজনের ইলিশ!
  • দেশীয় জাতের মাছ উৎপাদন ও সংরক্ষণের আহ্বান রাষ্ট্রপতির
  • ব্রীড আপগ্রেডেশন থ্রু প্রজেনী টেস্ট প্রকল্পের ইনসেনটিভ প্রদান
  • লেবু উৎপাদনের কলাকৌশল ও সংগ্রহোত্তর ব্যবস্থাপনা বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মসূচী
  • বৃক্ষরোপণে জাতীয় পুরস্কার পাচ্ছেন ২ প্রতিমন্ত্রীর স্ত্রী
  • এডভোকেট আলমগীর চৌধুরী।
  • ‘কৃষিতে সিলেট সম্ভাবনাময় অঞ্চল’