সর্বশেষ খবর

   ‘মৃত শিশুর মাতৃত্ব নিয়ে সন্দেহ’ তদন্ত কমিটি গঠন    শুটিং না করেও টিজারে মুনমুন, পরিচালক বলছেন ভিন্ন কথা    বিশ্ব একাদশের হয়ে খেলবেন সাকিব-তামিম    বিয়ানীবাজারে জেনোসিডিল সহ যুবক আটক    বজ্রপাতের সময়ে যেসব বিষয়ে সতর্ক থাকতে হয়    এবার গোপালগঞ্জে বাসচাপায় এক নারী নিহত    সিকৃবিতে ‘সেলফ এসেসমেন্ট’ কমিটির কর্মশালা অনুষ্ঠিত    প্রভাষক জুয়েল হত্যার প্রতিবাদে সিলেটে মানববন্ধন    সিলেটে মশা নিধনে কার্যকর পদক্ষেপের দাবি    রাজনগরে গৃহবধূ খুন    বাংলাদেশ লোকসংস্কৃতি ফোরাম এর সিলেট বিভাগীয় প্রতিনিধি অসিত বরণ    ধোপাদিঘীর ‘ক্ষতি নয়,সৌন্দর্যবর্ধন করছে’ সিসিক    সিলেট চেম্বারে এসএমই উদ্যোক্তাদের ব্যবসা বিকাশে ই-কমার্স শীর্ষক সেমিনার    সুনামগঞ্জে ইয়াবাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী আটক    শাবিতে আসছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান    কাবুলে জঙ্গি হামলা, নিহত বেড়ে ৬৩    পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীকে তারেকের লিগ্যাল নোটিশ    বিএনপির মিছিলে পুলিশি বাধা    জাতীয় পার্টিতে বিএনপির অনেক নেতাই যোগ দেবে: এরশাদ    সংবাদ সম্মেলনে রিজভী তারেক রহমান পাসপোর্ট জমা দিলে সবাইকে দেখান


খবর - তথ্য প্রযুক্তি

বজ্রপাতের সময়ে যেসব বিষয়ে সতর্ক থাকতে হয়

চলছে বৃষ্টি আর বজ্রপাতের মৌসুম। সতর্ক না থাকলে বজ্রপাতের কবলে পড়তে পারে যে কেউ। পৃথিবীর বিভিন্ন দুর্যোগ বিশেষজ্ঞ ও আবহাওয়াবিদরা বজ্রপাতের সময় নিম্ন লিখিত বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।

আশেপাশে যদি আশ্রয় নেয়ার জায়গা খুঁজে না পান তাহলে যতোটা সম্ভব নিচু হয়ে থাকুন। রাবারের জুতা পড়ুন। রাবার বিদ্যুৎ অপরিবাহী বলে রাবারের জুতা পড়লে বজ্রপাতের সময় কিছুটা হলেও নিরাপদে থাকবেন।
সকল ধরনের বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি থেকে দূরে থাকুন। যেকোনো ধরনের ইলেকট্রিক্যাল যন্ত্রপাতি, টেলিভিশন এবং রেডিও অ্যান্টেনার মাধ্যমে বজ্রপাত হতে পারে।
    বিদ্যুতের খুঁটি, লাইন এবং উঁচু জায়গা থেকে দূরে থাকুন।
    কনক্রিটের বানানো ফ্লোর কিংবা দেয়াল থেকে দূরে থাকুন।
    বিস্তারিত

তথ্য-প্রযুক্তি স্মার্টফোনের নেশা থেকে মুক্তি পেতে করণীয়

প্রযুক্তির উৎকর্ষতায় এখন মানুষের হাতে হাতে স্মার্টফোন। স্মার্টফোন ছাড়া এখন অধিকাংশই চোখে অন্ধকার দেখেন। খুব কম সময়ে দূর-দুরান্তের খবর হাতের মুঠোয় এনে দেয় এই স্মার্টফোন। রাস্তা হারিয়ে ফেললে স্মার্টফোনই চিনিয়ে নিয়ে যায় গন্তব্যস্থল। এ রকমই অনেক সুবিধা মানুষকে এনে দেয় স্মার্টফোন। কিন্তু শুধুই কি সুবিধা? স্মার্টফোনের ব্যবহার যেভাবে বাড়ছে, তাতে অনেকেই স্মার্টফোনে আসক্ত। নেশাগ্রস্ত হয়ে অন্যান্য কাজ ভুল করছে মানুষ। কিন্তু সব সমস্যারই সমাধান রয়েছে। তাই জেনে নিন স্মার্টফোনের নেশা থেকে মুক্তি পেতে কী করতে হবে?

১. অফিসে কাজ করার সময়ে ইন্টারনেট ব্যবহার করতেই হয়। তাই কাজ হয়ে গেলে চেষ্টা করুন ফোনের অ্যাপগুলোর নোটিফিকেশন অফ করে রাখতে।

২. এরকম অনেক অ্যাপ রয়েছে, যেগুলোর দ্বারা আপনি সীমিত পরিমাণ ডেটা ব্যবহার করতে পারবেন। আপনার ফোনের পরিসেবায় যতই ডেটা থাকুক না কেন, এই অ্যাপের মাধ্যমে প্রতিদিন নির্দিষ্ট পরিমাণ ডেটাই আপনি ব্যবহার করতে পারবেন। দিনে কতটা ডেটা ব্যবহার করবেন, তা আপনি নিজেই ঠিক করে নিতে পারবেন।

৩. যত ভালই অফার কোনো টেলিকম কোম্পানি দিক, সেই অফারগুলো নেবেন না। কম ডেটা রিচার্জ করুন। এতে ডেটা শেষ হয়ে গেলে আপনি আর স্মার্টফোন নিয়ে বসে থাকবেন না।

৪. যে মুহূর্তে বুঝবেন যে, আপনি স্মার্টফোনের প্রতি আসক্ত, সেই মুহূর্তেই যে অ্যাপগুলো সব থেকে বেশি ব্যবহার করেন, সেগুলো ফোন থেকে আনইনস্টল করে দিন।

৫. ঘুমাতে যাওয়ার আগে ফোন দূরে রেখে ঘুমাতে যান। কোনো ঘড়িতে অ্যালার্ম দিন।

৬. বাড়িতে ‘নো-ফোন এরিয়া’ তৈরি করুন। পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর সময়ে, বা খাবার খাওয়ার সময়ে ফোন হাতের কাছ থেকে দূরে রাখুন।

৭. সব কথা চ্যাটে না বলে, ফোন করে কথা বলুন। এতে কম সময়ে তাড়াতাড়ি কাজ হবে।

৮. সোশ্যাল মিডিয়াতে কম পোস্ট করুন। এতে সোশ্যাল মিডিয়াতে আপনার আ্যক্টিভিটি কম হবে। ফলে নোটিফিকেশনও কম আসবে।

৯. হাতে ঘড়ি পরার অভ্যাস করুন। এতে বার বার ফোন চেক করার প্রবণতা কমবে।
বিস্তারিত

ক্যাসিও’র পানিরোধক স্মার্ট ঘড়ি

স্মার্ট ওয়াচ যতই আধুনিক হোক না কেন জাপানি ক্যাসিওর স্মৃতি ভুলতে পারেন না অনেকেই। যুগের পরিবর্তনে ক্যাসিও এখন আরও আধুনিক হচ্ছে। অন্যান্য ঘড়ি প্রস্তুতকারক কোম্পানির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ক্যাসিও এখন তৈরি করছে স্মার্ট ঘড়ি। সম্প্রতি তারা পানিরোধক একটি স্মার্ট ঘড়ি বাজারে আনার ঘোষণা দিয়েছে। খবর এনডিটিভির।
 
ক্যাসিও ডব্লিউএসডি-এফ২০এ মডেলের ঘড়িটির অপারেটিং সিস্টেম অ্যান্ড্রোয়েড। এটির মনিটরের রেজুলেশন হবে ৩২০/৩০০ পিক্সেল। এছাড়া থাকছে ওয়াইফাই, ব্লু-টুথ ও জিপিএস সুবিধা। এছাড়া থাকবে অফলাইনে গুগল ম্যাপ ব্যবহারের সুবিধা।
 
ক্যাসিও’র এই স্মার্ট ঘড়ি সম্পূর্ণ পানিরোধক। প্রচণ্ড শীতে কম তাপমাত্রা সহ্য করার সেন্সরও রয়েছে এটিতে। এছাড়া আছে বায়ু চাপ সেন্সর, উচ্চতা সেন্সর, কম্পাস ও জিরোস্কোপ। ব্যাটারি সেভিং মুডে পরিপূর্ণ চার্জ দিয়ে এটি একটানা একমাস ব্যবহার করা যাবে।
 
স্মার্টওয়াচটির দাম পড়বে ৩৯৯ ডলার। পহেলা মে থেকে এটি বাজারে পাওয়া যাবে।
 

বিস্তারিত

নাসার বিজ্ঞানীরা চাইছেন মঙ্গলে প্রথম পা ফেলুক নারী

এতদিন পর্যন্ত যত জন চাঁদে গেছেন তাদের ১২ জনই ছিলেন পুরুষ। এবার মার্কিন মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র নাসার একজন জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানী অ্যালিসন ম্যাকলিনটায়ার বলেছেন, মঙ্গলগ্রহে প্রথম অবতরণকারী একজন নারী হওয়া উচিত। তার মতে, মেয়েদের সামনে আনা উচিত এবং যেদিন কোনো মানুষকে তারা মঙ্গল গ্রহে পাঠাবেন, তার নারীই হওয়া উচিত।
 
একবিংশ শতাব্দীতে মহাকাশ গবেষণায় যেসব নারীরা সামনের দিকে রয়েছেন, তাদের সাক্ষাৎকার নিয়েছে বিবিসি রেডিও ফাইভ লাইভ। হিউস্টনে জনসন স্পেস সেন্টারে নভোচারীদের জন্য বিশাল এক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে অ্যালিসন বলেন, ‘আমার সেন্টার পরিচালক একজন নারী, আমার সাবেক ডিভিশন প্রধান ছিলেন একজন নারী, আমাদের নারী নভোচারীও রয়েছেন- কিন্তু আমরা এখনো পর্যন্ত একজন নারীকে চাঁদে পাঠাতে পারিনি।’
 
প্রায় অর্ধশত বছর আগে রাশিয়া প্রথম একজন নারীকে মহাকাশে প্রেরণ করেন। আর ৪০ বছর আগে নাসা প্রথম নির্বাচন করে একজন নারী নভোচারীকে। অ্যালিসন ম্যাকলিনটায়ার নাসাতে ৩০ বছর ধরে আছেন এবং এই সময়ে অনেক পরিবর্তন হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।
 
নাসার অপর এক নারী নভোচারী কারেন নেইবার্গ ইতিমধ্যে ছয় মাসের বেশি সময় মহাকাশে কাটিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমাকে যখন ২০০০ সালে প্রথম নভোচারী হিসেবে বেছে নেয়া হলো, তখন আমি ভেবেছিলাম একটা বাস্তব সম্ভাবনা তৈরি হলো যে আমরাই হয়ত পরবর্তীতে চাঁদে যাবো। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় যে আমরা সে সুযোগটা পাই নি’।
 
নারীরা আদৌ চাঁদে যেতে পারবে কিনা এমন প্রশ্নে কারেনের উত্তর ‘এটা হবে। তবে এখানে অনেক রাজনীতি চলে, প্রচুর অর্থের দরকার। সুতরাং বিষয়টা যে খুব দ্রুত হবে সেটা মনে হচ্ছে না, তবে একদিন অবশ্যই হবে’। বিবিসি।
 
 
বিস্তারিত

ছবিতে ট্যাগিং নিয়ে মামলা : বিপাকে ফেসবুক

ব্যবহারকারীদের অনুমতি ছাড়া অবৈধভাবে ছবিতে ‘ফেস ট্যাগিং’ বা ‘অবয়ব চিহ্নিতকরণ প্রক্রিয়া’ ব্যবহারের অভিযোগে আইনগত ঝামেলায় পড়েছে ফেসবুক।

সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমটির বিরুদ্ধে এই অভিযোগে ‘শ্রেণিগত বৈষম্যের পদক্ষেপে মামলা’ করার আদেশ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া রাজ্যের এক বিচারক।

যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকো ফেডারেল আদালতে জেলা জজ জেমস ডোনাটো সোমবার আদেশ দেন যে, ফেস ট্যাগিং নিয়ে যে বিতর্ক দেখা দিয়েছে তা সমাধানের সবচেয়ে ভালো উপায় হলো ফেসবুকের বিরুদ্ধে শ্রেণিগত বৈষম্যের পদক্ষেপে মামলা করা।

বায়োমেট্রিক তথ্যের গোপনীয়তা সম্পর্কে ইলিনয় রাজ্যের আইন ভঙ্গের অভিযোগে ২০১৫ সালে কয়েকজন ফেসবুক ব্যবহারকারী আদালতের দ্বারস্থ হন।

বিচারক ডোনাটো আদেশে বলেন, ‘শ্রেণি’ বলতে ইলিনয়ের ফেসবুক ব্যবহারকারীদের বুঝাবে যাদের জন্য ২০১১ সালের ৭ জুন ফেসবুক ‘অবয়ব চিহ্নিতকরণ প্রক্রিয়া’ চালু করেছিল। ওই দিনই ফেসবুক তাদের নতুন ফিচার ‘ট্যাগ সাজেশনস’ চালু করে। ফেসবুকে কোনো ছবি আপলোড করলে এই ফিচারের মাধ্যমে ছবিতে থাকা ব্যক্তিদের ট্যাগের প্রস্তাব করে অনুরোধ আসে।

যুক্তরাষ্ট্রে কোনো ব্যক্তি শ্রেণি বা জাতিগত বৈষম্যের কোনো মামলা করতে চাইলে তাকে আগে আদালতের ‘সার্টিফিকেশন অব ক্লাস’ পেতে হয়।

ফেসবুক জানিয়েছে, তারা আদালতের আদেশ পর্যবেক্ষণ করছেন। এক বিবৃতিতে তারা বলে, ‘আমরা বিশ্বাস করি, এই মামলার কোনো ভিত্তি নেই এবং আদালতে বেশ ভালোভাবেই আমরা লড়ব।’

লাখো ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য রাজনৈতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ক্যামব্রিজ অ্যানালিটিকার হাতে চলে যাওয়ার ঘটনায় এমনিতেই সমালোচনা ও মার্কিন আইনপ্রণেতাদের প্রশ্নের মুখে থাকা ফেসবুকের জন্য ক্যালিফোর্নিয়ার বিচারকের এই আদেশ বড় ধরনের এক ধাক্কা। যোগাযোগমাধ্যমটির সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মার্ক জাকারবার্গ এসব ঘটনায় বেশ পেরেশানিতে আছেন। শেয়ার বাজারেও মুখ থুবড়ে পড়েছে ফেসবুক।

তথ্য : রয়টার্স ও বিবিসি
বিস্তারিত

স্মার্ট এয়ারপোর্ট নির্মাণে হুয়াওয়ের নতুন প্রযুক্তি

যাত্রীদের আরো উন্নত সেবা দেওয়ার উদ্দেশে আধুনিক বিমানবন্দর নির্মাণে ‘স্মার্ট এয়ারপোর্ট আইসিটি সল্যুশন’ নিয়ে আসলো বিশ্বের অন্যতম সেরা তথ্যপ্রযুক্তি সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়ে।

সম্প্রতি সুইডেনে অনুষ্ঠিত ‘প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল এক্সপো-২০১৮’তে নতুন এই প্রযুক্তি প্রদর্শন করে প্রতিষ্ঠানটি। এই প্রদর্শনীর মূল থিম ছিল ‘লিডিং নিউ আইসিটি, দ্য রোড টু ডিজিটাল এভিয়েশন’। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ৭০০০ প্রতিনিধি এবং ২২৫ প্রদর্শক প্রদর্শনীতে অংশ নেন। প্রদর্শনীতে বিশ্বের সবচেয়ে আধুনিক উন্নয়ন ও উদ্ভাবন সম্পর্কে আলোচনা করা হয়।

প্রদর্শনীতে হুয়াওয়ে এন্টারপ্রাইজ বিজনেস গ্রুপের ট্রান্সপোর্ট সেক্টরের প্রেসিডেন্ট ইউয়ান জিলিন বলেন, ‘স্মার্ট এয়ারপোর্টের ধারণা এখন বাস্তবে রূপ নিচ্ছে। কারণ বিশ্বের বিভিন্ন এয়ারপোর্ট কর্তৃপক্ষ নতুন নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। ফলে এয়ারপোর্টগুলোতে ফ্লাইট সার্ভিস, প্যাসেঞ্জার সার্ভিস এবং এয়ারপোর্ট পরিচালনা ব্যবস্থা ডিজিটাল ও দৃশ্যমান হচ্ছে। হুয়াওয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের এয়ারপোর্টগুলোতে নতুন নতুন আইসিটি প্রযুক্তি ব্যবহারে সহায়তা করছে। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- ক্লাউড সিস্টেম, ইন্টারনেট অব থিংস (আইওটি) এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার। মূলত এয়ারপোর্টের নিরাপত্তা নিশ্চিত, দক্ষভাবে এয়ারপোর্ট পরিচালনা, সেবার মান বাড়ানো এবং যাত্রীদের জন্য সবচেয়ে ভালো ভ্রমণ পরিবেশ নিশ্চিত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।’

‘স্মার্ট এয়ারপোর্ট আইসিটি সল্যুশন’ দিতে হুয়াওয়ে ট্রাভেল স্কাই, ব্রিলিয়ান্ট টেকনোলজিস, টেরা ভিশন, হুয়াডং ইলেট্রনিক ইনফরমেশন অ্যান্ড টেকনোলজি এবং ক্রাইস্টোনের সঙ্গে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে কাজ করছে। মূলত দক্ষভাবে এয়ারপোর্ট পরিচালনা, নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং যাত্রী সেবার মান বাড়াতেই তারা কাজ করছে। হুয়াওয়ের এসব আধুনিক সল্যুশন ভবিষ্যতে স্মার্ট এয়ারপোর্ট গড়ে তুলতে সহায়তা করবে। উদাহরণস্বরূপ, হামাদ ইন্টারন্যশনাল এয়ারপোর্টের ধারণক্ষমতা বাড়াতে আগামী পাঁচ বছরের জন্য হুয়াওয়ে সেখানে ওশানস্টোর ৯০০০ প্রযুক্তি ব্যবহার করেছে।

এ বিষয়ে হুয়াওয়ে টেকনোলজিস বাংলাদেশ লিমিটেডের এন্টারপ্রাইজ বিজনেসের প্রধান ইয়াং গুওবিন বলেন, ‘যাত্রীদের ভ্রমণ অভিজ্ঞতা আনন্দদায়ক করতে হুয়াওয়ে নিরাপত্তা, দক্ষতা এবং সেবা নিয়ে কাজ করছে। বাংলাদেশ ইতোমধ্যে উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় স্থান করে নিয়েছে এবং খুব শিগগিরই হয়তো নতুন নতুন ও আধুনিক সুবিধাসম্পন্ন  বিমানবন্দর তৈরি হবে। আমরা বিশ্বাস করি, আমাদের স্মার্ট এয়ারপোর্ট সল্যুশন বাংলাদেশকে বিশ্বমানের বিমানবন্দর নির্মাণে সাহায্য করতে পারে। আর শীর্ষ মানের তথ্যপ্রযুক্তি সমাধান প্রদান করে আমরাও মানুষের কাছাকাছি যেতে চাই।’

জানা গেছে, হুয়াওয়ে এয়ারপোর্টগুলোতে ইন্টেলিজেন্ট প্যানোরামিক ভিডিও সার্ভেইলেন্স প্রযুক্তি ব্যবহার করবে। ফলে এয়ারফিল্ড, টার্মিনাল বিল্ডিং এবং পাবলিক এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। ওইসব ক্যামেরাতে মানুষের মুখমন্ডল চিহ্নিতকরণ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে, যা এয়ারপোর্ট পরিচালনা ভবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে এবং যাত্রীদের শনাক্ত করতে সহায়তা করবে।

ইন্টিগ্রেটেড কমিউনিকেশন্স প্ল্যাটফর্মের (আইসিপি) মাধ্যমে হুয়াওয়ে এয়ারপোর্টগুলোতে বহুমুখী যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তুলবে। যার মধ্যে থাকবে ইএলটিই ব্রডব্যান্ড কমিউনিকেশন্স, ভিডিও কনফারেন্স এবং আইপি টেলিফোন ব্যবস্থা। এটা এয়ারপোর্ট পরিচালনা ব্যবস্থাকে আরো দক্ষ করবে এবং রিয়েল টাইম অ্যাসাইনমেন্ট ও কাজের রিপোর্টিং এর মাধ্যমে এয়ারপোর্টের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং ব্যবস্থাকে আরো উন্নত করবে।

এছাড়া এয়ারপোর্টগুলোতে ইন্টারনেট অব থিংস ও বিগ ডাটা অ্যানালিটিকসসহ ক্লাউড প্ল্যাটফর্ম সরবরাহ করতে হুয়াওয়ের অংশীদার হয়েছে ক্রাইস্টোন এবং ওভিফোন। এই প্ল্যাটফর্মটি এয়ারপোর্ট কর্মীদের অ্যাপ্রোন নেভিগেশন লাইটিং ব্যবস্থাপনা, অবস্থান এবং ট্রাকিংয়ে সহায়তা করবে। এছাড়াও এই প্রযুক্তি এয়ারপোর্টের পরিবেশ মনিটরিংয়েও সহায়তা করবে, যা এয়ারপোর্টের সম্পদ ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা বাড়াবে।

বিস্তারিত

গুগল ডুডলে বাংলা নববর্ষ

বাঙালির প্রাণের উৎসব পয়লা বৈশাখ। এ চিরায়ত উৎসব আয়োজনের কোনো কমতি নেই আমাদের। ঐতিহ্যবাহী এ উৎসব উদযাপনে কিন্তু পিছিয়ে নিই সার্চ ইঞ্জিন গুগলও। হাতির নকশা আর মঙ্গল শোভাযাত্রার প্রতীকী ছবি দিয়ে সাজানো হয়েছে গুগল ডুডলকে। গুগলের হোম পেজেই রয়েছে লোগোটি।

বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে সার্চ জায়ান্ট গুগল বিশেষ এই ডুডলে তুলে ধরেছে একটি হাতির নকশা, সেই সঙ্গে দুপাশে মঙ্গল শোভাযাত্রার প্রতীকী ছবি।

বিশেষ দিনে বিভিন্ন দেশের জন্য হোমপেইজে আলাদা ডুডল দিয়ে থাকে পৃথিবীর সবচেয়ে জনপ্রিয় এই সার্চ ইঞ্জিন। ডুডল হলো বিশেষ নকশা বা চিত্রের মধ্য দিয়ে কোনো বিষয় ফুটিয়ে তোলা। ডুডল ব্যবহারের মাধ্যমে এর উপলক্ষ সম্পর্কে সবাইকে জানানো হয়।

১৯৯৮ সাল থেকে বিভিন্ন দেশের জাতীয় দিবস বা বিশ্বব্যাপী পালিত আন্তর্জাতিক দিবসগুলোতে হোম পেজে এই পরিবর্তন আনে গুগল। বাংলাদেশের এ বছরের স্বাধীনতা দিবসটিতেও তার লোগোতে লাল-সবুজের জাতীয় পতাকা দিয়ে সাজিয়ে উদযাপন করেছিল গুগল।

বিস্তারিত

দেশে তৈরি সাশ্রয়ী মূল্যের স্মার্টফোন ‘প্রিমো এফ৮’

ওয়ালটন বাজারে ছাড়লো বাংলাদেশে তৈরি আরেকটি সাশ্রয়ী মূল্যের স্মার্টফোন। যার মডেল ‘প্রিমো এফ৮’। মাত্র ৫ হাজার ৯৯ টাকা মূল্যের ফোনটি মিলছে দেশের সব ওয়ালটন প্লাজা, মোবাইল ফোন ব্র্যান্ড এবং রিটেইল আউটলেটে।

ওয়ালটন সেল্যুলার ফোন গবেষণা ও উন্নয়ন বিভাগের সিনিয়র ডেপুটি ডিরেক্টর আরিফুল হক রায়হান জানান, ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ ট্যাগযুক্ত এই স্মার্টফোনটি তৈরি হয়েছে গাজীপুরের চন্দ্রায় ওয়ালটন ডিজি-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ-এর নিজস্ব কারখানায়। আকর্ষণীয় ডিজাইনের ফোনটি ধূসর ও সোনালি এই দুই রঙে বাজারে ছাড়া হয়েছে।

তিনি আরো জানান, বাংলাদেশে তৈরি এই স্মার্টফোনে ক্রেতারা পাবেন বিশেষ রিপ্লেসমেন্ট সুবিধা। স্মার্টফোন ক্রয়ের ৩০ দিনের মধ্যে যেকোনো ধরনের ত্রুটিতে সঙ্গে সঙ্গে ফোনটি পাল্টে ক্রেতাকে নতুন আরেকটি ফোন দেয়া হবে। এছাড়াও, ১০১ দিনের মধ্যে প্রায়োরিটি বেসিসে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ক্রেতা বিক্রয়োত্তর সেবা পাবেন। তাছাড়া, স্মার্টফোনে এক বছরের এবং ব্যাটারি ও চার্জারে ছয় মাসের বিক্রয়োত্তর সেবা তো থাকছেই।

ওয়ালটন সূত্রে জানা যায়, ‘প্রিমো এফ৮’ মডেলের স্মার্টফোনটিতে ব্যবহৃত হয়েছে ৫ ইঞ্চির আইপিএস প্রযুক্তির এফডব্লিউভিজিএ পর্দা। ১৬ মিলিয়ন কালার সাপোর্টেড পর্দায় ছবি বা ভিডিও দেখা, গেম খেলা কিংবা ইন্টারনেট ব্রাউজিংয়ে মিলবে আনন্দময় অভিজ্ঞতা।

নতুন এই ফোনের উচ্চগতি নিশ্চিতে আছে ১.৩ গিগাহার্জের কোয়াডকোর প্রসেসর। রয়েছে ১ গিগাবাইট র‌্যাম। প্রাণবন্ত ভিডিও ও গেমিং অভিজ্ঞতা দিতে গ্রাফিক্স হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে মালি-৪০০। প্রয়োজনীয় ফাইল সংরক্ষণে রয়েছে ৮ গিগাবাইট স্টোরেজ। যা মাইক্রো এসডি কার্ডের মাধ্যমে ৬৪ জিবি পর্যন্ত বাড়ানো যাবে।



এই স্মার্টফোনের উভয় প্রান্তে রয়েছে বিএসআই সেন্সরযুক্ত ৫ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা। এলইডি ফ্ল্যাশযুক্ত পেছনের ক্যামেরায় নরমাল মোড ছাড়াও প্রফেশনাল, ফেস বিউটি, প্যানোরমা, এইচডিআর, সিন ফ্রেম, স্পোর্টস মোড, নাইট মোডে ছবি তোলা যাবে। অন্যান্য ফিচারের মধ্যে রয়েছে ফেস ডিটেকশন, ডিজিটাল জুম, সেলফ টাইমার, টাচ শট ইত্যাদি। ধারণ করা যাবে ফুল এইচডি ভিডিও।

অ্যান্ড্রয়েড নূগাট ৭.০ অপারেটিং সিস্টেমে পরিচালিত স্মার্টফোনটির প্রয়োজনীয় পাওয়ার ব্যাক-আপের জন্য রয়েছে ২০০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার লি-আয়ন ব্যাটারি। আছে মাল্টি-উইন্ডো প্রযুক্তি। ফলে একই সঙ্গে ডিসপ্লেতে একাধিক অ্যাপস ব্যবহার করা যাবে।

থ্রিজি সাপোর্টেড ফোনটিতে একসঙ্গে ব্যবহার করা যাবে দুটি সিম। কানেক্টিভিটির জন্য আছে ওয়াই-ফাই, ব্লুটুথ ভার্সন ৪, ল্যান হটস্পট, ওটিএ ও মাইক্রো ইউএসবি২ সুবিধা। সেন্সর হিসেবে রয়েছে জিপিএস, এ-জিপিএস নেভিগেশন, প্রক্সিমিটি, অ্যাকসিলারোমিটার (থ্রিডি), লাইট (ব্রাইটনেস) ইত্যাদি। মাল্টিমিডিয়া ফিচার হিসেবে আছে ফুল এইচডি ভিডিও প্লে-ব্যাক ও রেকর্ডিং সুবিধাসহ এফএম রেডিও।

উল্লেখ্য, দেশের সব ওয়ালটন প্লাজা এবং ব্র্যান্ড ও রিটেইল আউটলেটে ০% ইন্টারেস্টে ৬ মাসের ইএমআই সুবিধায় কেনা যায় সব মডেলের ওয়ালটন স্মার্টফোন। একই সঙ্গে ১২ মাসের কিস্তি সুবিধায়ও কেনার সুযোগ থাকছে। সর্বোত্তম বিক্রয়োত্তর সেবার জন্য রয়েছে দেশব্যাপী বিস্তৃত সার্ভিস নেটওয়ার্ক।

বিস্তারিত

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় শঙ্কিত এলন মাস্ক

বর্তমান বিশ্বের প্রযুক্তি জগতের প্রবাদ পুরুষ ধরা হয় এলন মাস্ককে। তিনি মহাকাশ ভ্রমণ সংস্থা স্পেসএক্স এবং বৈদ্যুতিক গাড়ির প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান টেসলা, নিউরোটেকনোলজির গবেষণা সংস্থা নিউরোলিংক, উচ্চ গতিসম্পন্ন পরিবহন ব্যবস্থার বোরিং কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা। উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে বিশ্বকে বদলে দেওয়ার নানা উদ্ভাবনের জন্য প্রযুক্তির ‘বরপুত্র’ বলা হয় তাকে।

এলন মাস্ক বরাবরই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির রোবট নির্মাণের বিরোধিতা করে আসছেন। তার মতে, এ ধরনের পদক্ষেপ হতে পারে ‘খাল কেটে কুমির আনা’।

এবার তিনি দাবি করেছেন, ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির ফলে আমরা আস্তে আস্তে রোবটদের নিয়ন্ত্রণে চলে যাবো, যা থেকে বের হয়ে আসা কোনোদিনও সম্ভব হবে না আমাদের।’ ক্রিস পাইন নির্মিত ‘ডু ইউ ট্রাস্ট দিজ কম্পিউটার?’ নামক ডকুমেন্টারিতে তিনি এ মন্তব্য করেন।

ডকুমেন্টারিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির সম্ভাব্য সুবিধা এবং চরম ক্ষতিকর দিকগুলো তুলে ধরা হয়। একনায়কতান্ত্রিক দেশগুলোতে এই প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে একসময় দেশগুলোর ক্ষমতা রোবটদের হাতে চলে যাওয়ার আশঙ্কা করেন মাস্ক এবং এর ফলে ভবিষ্যতে মানবতা এ সকল রোবটদের হাতে চরম নিপীড়ন এবং অত্যাচারের শিকার হবে বলে মন্তব্য করেন মাস্ক। সময়ের বিবর্তনে আমাদের তৈরি রোবটগুলো আমাদেরই শাসন করা শুরু করবে।

এলন মাস্ক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির কঠোর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার কথা বলেন। তার মতে, একমাত্র কঠোর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার মাধ্যমেই এই প্রযুক্তির অপব্যবহার থেকে মানবতাকে বাঁচানো সম্ভব। তাছাড়া এই প্রযুক্তির মাধ্যমে নির্মিত রোবটগুলো আমাদের জন্য মারাত্মক বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়াবে, যা আমাদের কল্পনার বাইরে। ভবিষ্যতে পরিস্থিতির বশবর্তী হয়ে আমরা যদি রোবটদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যাই, সেখানে ৫-১০ শতাংশেরও কম আমাদের সফলতার সম্ভাবনা রয়েছে; কেননা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন রোবটগুলো অত্যন্ত শক্তিশালী হবে। এই প্রযুক্তি নিয়ে সচেতনতা তৈরি হলে মানুষ এই প্রযুক্তি সম্পর্কে সঠিক ধারণা নিয়েই এটাকে ব্যবহার করবে ফলে বিপদের মাত্রা অনেকাংশে কমে যাবে।

সাধারণত যেটা ঘটে সেটা হচ্ছে, কোনো একটা বিপদ বা ঘটনা ঘটে যাওয়ার পরে গণসচেতনতামূলক নানান কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়, মানুষের ভোগান্তির পরে ব্যবস্থা গ্রহণের প্রসঙ্গ আসে। কিন্তু এক্ষেত্রে যদি পরের কাজ পরে বলে যদি আমরা নিশ্চিন্ত থাকি তাহলে ভবিষ্যতে আমরা রোবটের দাসে পরিণত হব। চরম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং শক্তির অধিকারী রোবট দানব আমাদের নিয়ন্ত্রণ করে শুরু করবে, যা মানবতার নির্মম এক পরিহাসে পরিণত হবে।

প্রতিটি দেশেরই উচিত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি ব্যবহারে সচেতন হওয়া এবং এটি সম্বন্ধে স্বচ্ছ জ্ঞানের মাধ্যমে কঠোর নিরাপত্তাসহ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা। এলন মাস্ক এটাও বলেন, উত্তর কোরিয়ার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে অত্যাধুনিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন রোবট নিয়ে গবেষণা চলেছে এবং তারা গোপনে রোবটিক সৈন্য নির্মাণ করছে যা মানবতা ধ্বংসের পথে নিয়ে যেতে পারে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রযুক্তির বিপজ্জনক দিকগুলো নিয়ে বেশ কয়েক বছর ধরেই সোচ্চার এলন মাস্ক। বিভিন্ন সময়ের তার কিছু মন্তব্য এখানে তুলে ধরা হলো-

* আগস্ট ২০১৪ : ‘আমাদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির ব্যাপারে আরো সচেতন হতে হবে, কেননা পারমাণবিক অস্ত্র থেকে এটি আরো বেশি বিপজ্জনক।’

* অক্টোবর ২০১৪ : ‘আমাদের অস্তিত্বকে ঝুঁকিতে ফেলার মতো প্রযুক্তি হচ্ছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি। আমরা এই প্রযুক্তির মাধ্যমে শয়তানের প্রকোপকে পৃথিবীতে ডেকে আনছি।’

* জুন ২০১৬ : ‘অত্যাধুনিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির ফলাফল হিসেবে আমরা এই প্রযুক্তির বা এই প্রযুক্তিতে তৈরি রোবটদের দাস বা পোষা প্রাণীতে পরিণত হব।’

* জুলাই ২০১৭ : ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি মানবসভ্যতার জন্য খুবই বিপজ্জনক এবং এবং এই বিপদ এড়াতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মাধ্যমে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা উচিত। আমি প্রতিনিয়িত এই প্রযুক্তির নানারকম উন্নয়ন এবং নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি এবং আমি মনে করি জনগণের এটা নিয়ে সচেতন হওয়া উচিত। আমি যতই সতর্কতামূলক কথা বলি না কেন, রোবটগুলো যখন মানুষ মারা শুরু করবে তখন মানুষজন এটার প্রভাব বুঝতে পারবে, কেননা আসলে কি ঘটতে চলেছে তা এই মুহূর্তে কল্পনা করা বেশ কঠিন।’

* আগস্ট ২০১৭ : ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির ব্যাপারে আমাদের কঠোর সচেতনতা অবলম্বন করা উচিত, কেননা এটি উত্তর কোরিয়া থেকেও বেশি বিপজ্জনক।’

* নভেম্বর ২০১৭ : ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি নিরাপদ করার ক্ষেত্রে ৫-১০ শতাংশ সম্ভাবনা রয়েছে।’

* মার্চ ২০১৮ : ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি পারমাণবিক অস্ত্রের থেলেও মারাত্মক। সুতরাং কেন এটার জন্য কোনো নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা থাকবে না?’

* এপ্রিল ২০১৮ : ‘এই প্রযুক্তিটি খুবই গভীর একটি বিষয় এবং এটি এমনভাবে আমাদের জীবনকে ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিতে যাচ্ছে, যা বর্তমানে কল্পনা করা প্রায় অসম্ভব।’

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি নিয়ে দুশ্চিন্তার কারণ
বর্তমান বিশ্বে এই প্রযুক্তি এমন পর্যায়ে গেছে যা, শুধুমাত্র এলন মাস্ক নয়, বিল গেটসের মতো ব্যক্তিত্বকেও চিন্তিত করে তুলেছে। মাস্কের মতে, এই প্রযুক্তি আমাদের অস্তিত্বকে সংকটাপন্ন করে তুলবে এবং পৃথিবীকে নিয়ে যাবে ধ্বংসের পথে। তিনি বিশ্বাস করেন, বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন যন্ত্রগুলো মানুষকে তাদের পোষা প্রাণীতে পরিণত করবে।

তাছাড়া অধ্যাপক স্যার স্টিফেন হকিং বলে গেছেন, আগামী ১,০০০ থেকে ১০,০০০ বছরের মধ্যে প্রযুক্তিগত দুর্যোগ মানুষের অস্তিত্বের জন্য চরম ঝুঁকি বয়ে আনবে।



কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন রোবট কি ধরনের সংকট তৈরি করতে পারে তারই সামান্য নমুনা এখানে তুলে ধরা হল:

* কর্মসংকট সৃষ্টি করবে : ২০১৬ সালের এক গবেষণায় দেখা গেছে, বিশ্বের ৬০ শতাংশ মানুষ মনে করে আগামী দশ বছরে এই রোবটের কারণে তাদের কাজের অভাব ঘটবে। তাছাড়া ২৭ শতাংশ মানুষ এটা মনে করেন যে, তারা মানুষের জন্য কাজের সংখ্যা কমিয়ে ফেলবে যার ফলে মানুষের জীবনমান হয়ে পড়বে বিপন্ন। অন্যান্য গবেষকগণ মনে করেন, এই ধরনের রোবটগুলো জটিল থেকে জটিলতর হয়ে বিজ্ঞানীদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। এছাড়াও আশঙ্কা করা হয় যে, আগামী ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে রোবট আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে দাঁড়াবে। অনেক গবেষক মনে করেন, আগামী দশকেই রোবটের আধিপত্য দেখা যাবে পৃথিবীতে।

* তারা নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে যেতে পারে :  কম্পিউটার বিজ্ঞানী অধ্যাপক মাইকেল উলড্রিজ বলেন, এই ধরনের রোবটগুলো জটিল থেকে জটিলতর হয়ে যেতে পারে যার ফলে তারা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে, যার ফলে বিজ্ঞানীরা তাদের আয়ত্তে রাখতে পারবে না। আসলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন রোবটগুলোর প্রোগ্রামিং অত্যন্ত জটিল যার কাছে বিজ্ঞানী এবং গবেষকগণ প্রায়শই হার মানেন। তাই তাদের আয়ত্তের বাইরে যাওয়ার সম্ভাবনা ব্যাপক। সুতরাং চালকবিহীন গাড়ি বা বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন রোবটগুলো সংকটাপন্ন সময়ে উল্টাপাল্টা সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলতে পারে, যা খুবই বিপজ্জনক। চালকবিহীন গাড়িগুলোর দ্বারা মানুষের মতো বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে গাড়ি চালানো প্রায় অসম্ভব, যার ফলে দুর্ঘটনার হার বাড়ার সম্ভাবনা বেড়ে যাবে।

* মানুষের অস্তিত্ব বিলীন করে দিতে পারে : কিছুসংখ্যক মানুষ মনে করেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন রোবট মানুষের অস্তিত্বকে বিলীন করে দেবে। তাছাড়া অনেক গবেষক মনে করেন, মানুষের অস্তিত্ব একদিন ঠিকই বিলীন হবে এবং প্রযুক্তি এক্ষেত্রে একটি হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হবে। এই শতাব্দীর শীর্ষ ঝুঁকি হিসেবে কিছু গবেষক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তিকে দায়ী করে থাকেন।

তথ্যসূত্র : ডেইলি মেইল
বিস্তারিত

'ফেসবুকে মৃত্যুর গুজব ছড়ানোদের বিরুদ্ধে আইসিটি আইনে মামলা'

ঢাকা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল জানিয়েছেন, পুলিশের হামলায় এক শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ভুয়া সংবাদ ছড়িয়ে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরতদের যারা উত্তেজিত করেছে তাদেরকে শনাক্ত করা হচ্ছে। মঙ্গলবার সচিবালয়ে নিজ দফতরে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
 
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ফেসবুকে একজনের মৃত্যু সংবাদ যে ছড়িয়েছে তাকে শনাক্তের চেষ্টা হচ্ছে। অবশ্যই তার বিরুদ্ধে ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টে মামলা হবে। এই ঘটনা ছাত্রদের উত্তেজিত করেছে। সাংবাদিকরা এসময় ইমরান এইচ সরকারের নাম উল্লেখ করলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, ইমরান এইচ সরকার একা কেন, তার সঙ্গে আরও কারা আছে তাদের শনাক্ত করা হচ্ছে।
 
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের (ভিসি) বাসভবনে যারা হামলা চালিয়েছে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দুই একদিনের মধ্যেই মামলা হবে। যারা জড়িত তাদের শাস্তি পেতে হবে। তবে হামলাকারীরা ছাত্র কিনা তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ছাত্র হলে তারা কেন মুখে কাপড় বেঁধে আসবে।
 
ভিসির বাড়িতে মুখোশধারীদের হামলা কেন? এমন পাল্টা প্রশ্ন করে- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমার জানতে বড়ই ইচ্ছে করছে এরা কারা? ভিসির বাসভবন আক্রান্ত হয়েছে। উপাচার্য পরিবার-পরিজন নিয়ে জীবন বাঁচাতে বাগানে আশ্রয় নিয়েছেন। আমরা এখনো প্রাইমারি স্কুলের একজন শিক্ষককে পেলে পায়ে ধরে সালাম করি। আর সেখানে একজন ভাইস চ্যান্সেলর এভাবে আক্রান্ত হবে এটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যাচ্ছে না।
 
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, রাত পৌণে ২টায় আমাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক নেতা ফোন করে জানান, ভিসি আক্রান্ত হয়েছেন। তাকে (ভিসি) বাঁচাতে হলে এখনই ফোর্স পাঠান। আমি সঙ্গে সঙ্গে আইজি এবং র্যাবের ডিজিকে ফোন করি। এবং দ্রুত ফোর্স পাঠিয়ে ভিসিকে উদ্ধার করার নির্দেশ দেই। তারা সঙ্গে সঙ্গে ফোর্স পাঠিয়ে ভিসিকে উদ্ধার করেন।
 
তিনি আরও বলেন, যে অরাজক পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে তা কল্পনাতীত। হামলাকারীরা বাড়ি-গাড়ি সবই ভেঙেছে। সিসিটিভি ভেঙে মনিটর নিয়ে গেছে। ডকুমেন্ট হিসেবে টিভি চ্যানেল থেকে এবং অন্যান্য সোর্স থেকে আমরা প্রচুর ফুটেজ সংগ্রহ করেছি। কোনো সভ্য সমাজ এটা সহ্য করবে না। আমরা ফুটেজে যা দেখেছি, মুখোশ পরে মহিলারা আগে ঢুকেছে। মুখোশ পরা পুরুষরা ঢুকেছেন পরে। শুনেছি তারা নীলক্ষেত দিয়ে এসেছে। আন্দোলনকারী ছাত্ররা মুখোশ পরবে কেন?’
 
রবিবারের ঘটনা প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রথমে রাত ৮টার দিকে পানি ব্যবহার করে তাদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। পরিস্থিতি খারাপের দিকে গেলে তারা অভিযানে যায়। এখনো মামলা হয়নি, তবে মামলা হবে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে নিরীহদের যেন ছেড়ে দেওয়া হয়। এরইমধ্যে তাদের ছেড়েও দেওয়া হয়েছে।
 
দাবি-দাওয়া নিয়ে ছাত্রদের আন্দোলন হতে পারে মন্তব্য করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, আমরাও ছাত্র আন্দোলন করেছি। আন্দোলনের নামে এই ধরনের অরাজকতা তো কখনো হয়নি। এটি কোন ধরনের আন্দোলন? ছাত্রদের আন্দোলনের ভেতরে বিভিন্ন দলের কর্মীরা থাকতে পারে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সেগুলো খতিয়ে দেখছে।
 
সাংবাদিকদের অপর এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমি অনেকের সঙ্গে কথা বলে জেনেছি, কোনও ধরনের নাশকতার সঙ্গে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা জড়িত নয়। ফেসবুকে ছাত্রলীগের নামে অপপ্রচার চালানো হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, যে ছেলেটির মৃত্যু সংবাদ ছড়ানো হয়েছে, সেই ছেলেটি পরে ফেসবুকে নিজের নাম পরিচয় দিয়ে ‘আমি মরিনি’ বলে যে স্ট্যাটাস দিয়েছে, এটি একটি ভালো কাজ। এই স্ট্যাটাস দেখার পর অনেকেই শান্ত হয়েছে।
বিস্তারিত

ফেসবুকে মুছে ফেলা যাবে পাঠানো মেসেজও

ফেসবুক মেসেঞ্জারে ভুলবশত কাউকে মেসেজ পাঠিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু চাইলেও সেই মেসেজ ডিলিট করার উপায় থাকে না। ফেসবুক ব্যবহারকারীদের সেই আফশোস হয়তো এবার দূর হতে চলেছে। গ্রাহকদের দিকে তাকিয়ে এবার মেসেঞ্জারে যুক্ত হতে চলেছে ‘ডিলিট’ অপশন। 

এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্প্রতি একটি টেকনোলজি ওয়েবসাইটে ফেসবুকের নতুন ফিচার সংক্রান্ত বেশ কিছু তথ্য দেন এক ফেসবুক কর্তা। সেখানেই ডিলিট অপশন মেসেঞ্জারে যুক্ত হওয়ার ব্যাপারে ইঙ্গিত দেন তিনি।

ইনস্টাগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপে অনেকদিন আগে থেকেই ডিলিট অপশনটি চালু হয়ে গিয়েছিল। ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, মেসেঞ্জারে সিক্রেট চ্যাট বলে একটি অপশন অনেকদিন আগে চালু করা হয়েছিল। সিক্রেট চ্যাটের ফলে গোপনীয়তা বজায় রেখে কথা বলা যায়। কিছুক্ষণ পরেই এই চ্যাট আপনা থেকেই ডিলিটও হয়ে যেত।

কিন্তু গ্রাহকদের অনেকদিন ধরেই দাবি ছিল যে, মেসেঞ্জারেও মেসেজ ডিলিট করার অপশন থাকা উচিত। সেই দিকেই তাকিয়ে ফেসবুক এমন উদ্যোগ নিচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে নতুন অপশনটির নাম হতে পারে ‘আনসেন্ড’।

কিন্তু কবে এই ফিচার ব্যবহার করা যাবে তা অবশ্য খোলসা করে জানাননি ফেসবুকের ওই কর্তা।




বিস্তারিত

মেসেঞ্জারেও ফেসবুকের নজরদারি

ফেসবুক মেসেঞ্জার ব্যবহারকারীদের একে অপরকে পাঠানো মেসেজে ফেসবুকের নজরদারি থাকে এবং কোনো কিছু নীতিমালার সঙ্গে না গেলে তা ব্লক করে দেওয়া হয়- মেসেজে নজরদারির এই বিষয়টি স্বীকার করেছে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ।

ক্যামব্রিজ অ্যানালিটিকা নামক একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রায় ৯ কোটি ফেসবুক ব্যবহারকারীর তথ্য অপব্যবহারে কেলেঙ্কারিতে বর্তমানে আস্থার সংকটে থাকা ফেসবুক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইনবক্সের মাধ্যমে কোনো ম্যালওয়ার বা শিশু পর্নোগ্রাফি ছড়াচ্ছে কিনা তা নজরদারি করতে তারা স্বয়ংক্রিয় টুল ব্যবহার করে। এছাড়া কোনো মেসেজ নিয়ে যদি রিপোর্ট করা হয়ে থাকে, তাহলে তা ম্যানুয়ালিও মডারেটরা যাচাই করে থাকেন।

ফেসবুকের এই নজরদারি ভালো উদ্দেশ্যের জন্য শোনালেও, নতুন এই খবরটি ব্যবহারকারীদের মনে উদ্বেগ বাড়িয়েছে- মেসেঞ্জারের মতো একান্ত গোপনীয় প্লাটফর্মে তাদের ব্যক্তিগত বিষয়গুলো সম্পর্কে সাইটটি কতটুকু জানছে।

২০১৬ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচনী কাজে কেমব্রিজ অ্যানালিটিকা নামের প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রায় ৯ কোটি ফেসবুক ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য অগোচরে ব্যবহারের ঘটনা সম্প্রতি ফাঁস হওয়ায় ব্যাপক সমালোচিত হচ্ছে ফেসবুক। এছাড়া অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীদের কল এবং মেসেজের তালিকা সংরক্ষণের ঘটনাতেও সমালোচিত সোশ্যাল জায়ান্ট সাইটটি।

মেসেঞ্জারে নজরদারি প্রসঙ্গে সম্পর্কে সম্প্রতি ভক্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ফেসবুকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মার্ক জাকারবার্গ বলেন, মিয়ানমারে জাতিগত দাঙ্গা সৃষ্টির উদ্দেশ্যমূলক মেসেজগুলো তাদের সিস্টেম স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত করে ব্লক করে দিয়েছিল। ৩৩ বছর বয়সি এই বিলিয়নিয়ার বলেন, এ ধরনের সন্দেহজনক বা নীতিমালা বহির্ভূত কোনো কর্মকান্ড শনাক্ত ও প্রতিরোধ করার জন্য মেসেঞ্জারে মূলত নজরদারি করা হয়।’

এদিকে এই খবরে সোশ্যাল মিডিয়ায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে, বেশিরভাগ ব্যবহারকারীই উদ্বেগ প্রকাশ করছেন।

ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মেসেঞ্জারে ব্যবহারকারীদের মেসেজগুলোতে বিজ্ঞাপনের উদ্দেশ্য নিয়ে নজরদারি করা হয় না। ফেসবুকের নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এমন কনটেন্ট শনাক্তে ফেসবুকে যেসব টুল রয়েছে, একই ধরনের টুল মেসেঞ্জারে নজরদারিতে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এছাড়া কোনো পোস্ট বা মেসেজ নিয়মবর্হিভূত মনে হলে ব্যবহারকারীরা রিপোর্ট করতে পারে। অর্থাৎ ম্যানুয়ালি এবং স্বয়ংক্রিয় উভয়ভাবেই নীতিমালা রক্ষা করা হয়ে থাকে।

ফেসবুক মেসেঞ্জারের একজন মুখপাত্র ডেইলি মেইলকে বলেন, ‘ব্যবহারকারীর মেসেজের গোপনীয়তা আমাদের দায়িত্ব। প্লাটফর্মটিকে নিরাপদ রাখতে ইনবক্সের মাধ্যমে কোনো ম্যালওয়ার বা শিশু পর্নোগ্রাফি ছড়ানো হচ্ছে কিনা তা স্বয়ংক্রিয় সিস্টেমগুলোর মাধ্যমে শনাক্ত করা হয়ে থাকে। কোনো মানুষের মাধ্যমে মেসেজগুলো দেখা হয়ে থাকে না। এছাড়া আমরা ব্যবহারকারীদের ভিডিও কল বা অডিও কল শুনি না।’

কিন্তু ফেসবুকের এই বিবৃতিতে ব্যবহারকারীরা তাদের গোপনীয়তা প্রসঙ্গে পুরোপুরি আশ্বস্ত হতে পারছেন না। টুইটারে কেভিন চ্যাস্টাইন নামের একজন টুইটে জানান, ‘আমি আমার স্ত্রীকে রাতে ডিনারের জন্য মেসেঞ্জারে একটি নির্দিষ্ট স্থানের কথা জানিয়েছিলাম, এর কিছুক্ষণ পরই আমার মেসেঞ্জারে ওই রেস্টুরেন্টে একটি বিজ্ঞাপন ভেসে ওঠে। তার মানে তারা ব্যক্তিগত মেসেজে নজরদারি করে। বিষয়টি সত্যিই ভয়ঙ্কর।’

তথ্যসূত্র : ডেইল মেইল
বিস্তারিত

৮ কোটি ৭০ লাখ ফেসবুক ব্যবহারকারীর তথ্য ফাঁস

প্রায় ৮ কোটি ৭০ লাখ ফেসবুক ব্যবহারকারীর তথ্য রাজনৈতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ক্যামব্রিজ অ্যানালাইটিকার সঙ্গে অনৈতিকভাবে শেয়ার হয়েছে। বৃহস্পতিবার ফেসবুক কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বিবিসি এ তথ্য জানিয়েছে।

গোপন তথ্য ফাঁসকারী ক্রিস্টোফার ওয়ালি এর আগে জানিয়েছিলেন, ৫০ লাখ ফেসুবক ব্যবহারকারীর তথ্য ফাঁস হয়েছে।

ফেসবুকের প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা মাইক স্ক্রোপফার এক ব্লগে জানিয়েছেন, ঠিক কত ব্যবহারকারীর তথ্য ফাঁস ও তা ক্যামব্রিজ অ্যানালাইটিকার হাতে পৌঁছেছে।

বিবিসি জানিয়েছে, যে অ্যাপসের মাধ্যমে তথ্য ফাঁস হয়ে যাওয়ার সন্দেহ করা হচ্ছে সেই ‘ইউর ডিজিটাল লাইফ কুইজ’ অ্যাপসটি ৩০ লাখ ৫ হাজার ব্যবহারকারী ইনস্টল করেছেন। এর আগে এ্ই সংখ্যা ২ লাখ ৭০ হাজার বলে ধারণা করা হচ্ছিল। ‘ইউর ডিজিটাল লাইফ কুইজ’যারা ইন্টস্টল করেছেন তাদের ৯৭ শতাংশই মার্কিন নাগরিক। আর ফেসবুক ব্যবহারকারীদের মধ্যে যাদের তথ্য ফাঁস যুক্তরাষ্ট্রের ছাড়া অন্য দেশের নাগরিকদের সংখ্যা ১ কোটি ৬০ লাখ। এদের মধ্যে আবার ১ কোটি ১০ লাখ ব্যবহারকারী যুক্তরাজ্যের।

এদিকে বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে ফেসুবকের প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গ, তথ্য ফাঁসে নিজেদের ভুল স্বীকার করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘সুস্পষ্টভাবেই আমাদের আর অনেক কিছু করা উচিৎ ছিল। আমরা আগামীতে এই বিষয়টি দেখব।’

বিস্তারিত

যমজ টেলিপ্যাথির রহস্য

মাহমুদুল হাসান আসিফ : যমজ সে যেমনই হোক; ফ্রাটারনাল বা আইডেন্টিক্যাল, তারা নজর কাড়ে সবারই। যমজ মানুষগুলোর ক্ষেত্রে দেখা যায় তাদের সম্পর্কটা খুবই ঘনিষ্ট হয়ে থাকে। জিনগত মিল ছাড়াও তাদের কাপড়চোপড়, খাওয়াদাওয়া, বন্ধুবান্ধব, গোপনীয় বিষয়- সবকিছুর মধ্যেই একটি মেলবন্ধন পাওয়া যায়।

সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় হচ্ছে, আইডেন্টিক্যাল অর্থাৎ অভিন্ন যমজদের ক্ষেত্রে দাবি করা হয়ে থাকে যে, প্রতি  পাঁচটি যমজের মধ্যে একটি যমজে আধ্যাত্মিক এক প্রকারের সম্পর্ক থাকে। অর্থাৎ তারা একে অন্যের মনের কথা বুঝতে পারে অনেকটা মাইন্ড রিডিং এর মতো, যাকে ডাক্তারি ভাষায় টেলিপ্যাথি বলে।

যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণকারী প্রতি ৩০টি শিশুর মধ্যে একটি শিশু যমজ হয়ে থাকে এবং অভিন্ন যমজ বাচ্চাগুলো বেশি আকর্ষণীয় হয়ে থাকে; কেননা তাদের জিনগুলো একই রকম হওয়ার পাশাপাশি তারা দেখতেও একই রকম হয়। কিছু যমজ দাবী করে থাকেন যে, তারা পরস্পরের অনুভূতি বা চিন্তা বুঝতে পারেন অর্থাৎ বিশেষ মানসিক সংযোগ থাকে তাদের মধ্যে। কিন্তু চমকপ্রদ এই ব্যাপারটির পেছনের রহস্যটা কি? এটা কি কেবলই কাকতালীয় ব্যাপার, আধ্যাত্মিক ক্ষমতা নাকি অন্যকিছু?- এ বিষয়েই আজকের এই প্রতিবেদন।

যমজদের মধ্যে একটা ব্যাপার লক্ষনীয়। সেটা হচ্ছে তাদের চিন্তাভাবনা, কথাবার্তা, আচরণ একই রকমের হয়। আসলে এটার পেছনে টেলিপ্যাথির চেয়ে যেটা বেশি কাজ করে তা হচ্ছে, একই ধরনের জীবনাচরণ এবং পরিবেশ। সুতরাং তাদের মধ্যে মনের মিল থাকাটা রহস্যজনক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ নয়। কেননা সাধারণ মানুষদের ক্ষেত্রেও দুটি মানুষ যারা একে অন্যকে ভালোমতো জানে এবং চেনে, একই পরিবেশে বেড়ে উঠেছে এবং সামঞ্জস্যপূর্ণ অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়ে গেছে তাদের মধ্যেও যমজের মতো ঘনিষ্ট সম্পর্ক গড়ে উঠতে পারে। যেমন: একই পরিবারের ভাই-বোন (যমজ নয়), বৃদ্ধ দম্পতি এমনকি যাদের মধ্যে ঘনিষ্ট বন্ধুত্বের সম্পর্ক আছে, তারাও যমজের মতো আচরণ করতে পারে যা দেখলে হয়তো আমরা অবাক হব।

যমজ মানুষের মধ্যে টেলিপ্যাথি সংযোগের ব্যাপারটি এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে আলোচিত। ১৮৪৪ সালে আলেকজান্ডার দমাসের লেখা ‘দ্য করসিকান ব্রাদার্স’ বইটি বেশ উল্লেখযোগ্য। বইটিতে দুই করসিকান যমজ ভাইয়ের কথা বলা হয়েছে, যারা জন্মের পর আলাদা হয়ে যায় এবং পরিণত বয়সেও তাদের চিন্তাভাবনা এবং আচরণ একই রকম ছিল। বইটিতে যমজ দুই ভাইয়ের মধ্যে একজনের জবানীতে বলা আছে, ‘আমরা পরস্পর থেকে দূরে থাকলেও আমাদের শরীর ও মন একই আছে। আমাদের মধ্যে একজনের অনুভূতি বা শারীরিক বা মানসিক অবস্থা যেমন হয়, আরেকজনের অবস্থাও একই হবে।’ দমাস তার বইটিতে যমজদের ‘দুই মন এক শরীর’ হিসেবে তুলে ধরেছিলেন এবং বেশিরভাগই নেতিবাচক হিসেবে।

এক শতাব্দী আগে পশ্চিম আফ্রিকাতে যমজ জন্মের হার পৃথিবীর অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় চারগুণ বেশি ছিল। এমনকি পশ্চিম আফ্রিকার ইউরোবা উপজাতি এবং নাইজেরিয়ানদের মধ্যে যমজ শিশু জন্মানো আতঙ্কের কারণ হিসেবে ভাবা হতো। অনেকসময় মা সহ শিশুকে নির্বাসনে পাঠানো হতো অথবা হত্যা করা হতো।

লোকতত্ববিদ এম.এ র‍্যাডফর্দ ১৯৬১ সালে ‘দ্য এনসাইক্লোপিডিয়া অব সুপারস্টিশনস’ নামে একটি বই প্রকাশ করেন যেখানে একইরকম দেখতে যমজদের সম্পর্কে বেশ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেওয়া হয়। সেখানে বলা হয়, ‘একই রকম দেখতে যমজরা তীব্র সমবেদনার বন্ধনে আবদ্ধ থাকে, যার ফলে তারা একে অন্যের মানসিক অবস্থা বুঝতে পারে। এমনকি তারা ভিন্ন জায়গায় অবস্থান করলেও আরেকজনের বিপদ-আপদ সম্পর্কে বুঝতে পারে এবং রহস্যময়ভাবে একজনের আনন্দ বা খুশি অন্যজনের মধ্যে প্রতিফলিত হতে দেখা যায়।’ বইটিতে আরো বলা হয়, ‘যমজের মধ্যে যদি একজন মৃত্যুবরণ করে, তাহলে অপরজনও দ্রুত মৃত্যুবরণ করে।

কিন্তু আসল ব্যাপার হচ্ছে, কোনো যমজের মধ্যে দুজন যদি একইসময় মারা যায় তা বেশ রহস্যময় ঘটনা। উদাহারণস্বরুপ- ২০১৭ সালে মারথা উইলিয়ামস এবং জেন হ্যালি নামে ৯৭ বছর বয়সি এক যমজ জুটি তাদের রোড আইল্যান্ডের বাড়ির বাইরে ঠান্ডা আবহাওয়ায় একসঙ্গে মৃত্যুবরণ করেন। এর তিন বছর আগে অর্থাৎ ২০১৪ সালে হেলেন মেই কুক এবং ক্লারা মেই মিচেল নামে ৮৩ বছর বয়সি আরেক যমজ জুটি একদিন আগে পরে মারা যান। দুই বোনের মধ্যে প্রথমে হেলেন হার্ট অ্যাটাকে মারা যান এবং পরের দিন ক্লারা অ্যালঝেইমা’র্স রোগে দীর্ঘ দিনের সংগ্রাম শেষে মারা যান। আসলে এই দুই যমজ জুটির একসঙ্গে মৃত্যুর ঘটনা ব্যতিক্রমধর্মী দুটি ঘটনা, যা সচরাচর ঘটে না। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই যমজদের মৃত্যুর ব্যবধান মাস, বছর আবার কখনো যুগের কোটায় গিয়েও দাঁড়ায়।

হেলেন এবং ক্লারা যমজযুগলের মৃত্যুর কারণ আসলে তাদের বয়স। ৮৩ বছর বয়সে দুইজনের একইসঙ্গে মারা যাওয়াটা খুবই স্বাভাবিক একটি বিষয়। উদাহারণরস্বরূপ বলা যায়, ২৩ বছর বয়সি কোনো যমজ জুটির একসঙ্গে মারা যাওয়ার ঘটনা কিন্তু শোনাই যায় না। অভিন্ন যমজ জুটি জীবনের প্রায় একই পর্যায়ে মৃত্যুর ঘটনা প্রত্যাশিত হতে পারে কারণ যারা যমজ নয় তাদের তুলনায় ‍যমজদের জিন একই হওয়ায় হৃদরোগসহ অন্যান্য রোগ উভয়ের মধ্যেই বিকশিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। আরেকটি ব্যাপার হতে পারে যে, যমজদের মধ্যে অনেক তীব্র সহমর্মিতা এবং ভালোবাসার বন্ধন থাকে যার ফলে একজন মারা গেলে আরেকজন এই গভীর শোক সহ্য করতে পারে না। এই মৃত্যুর কারণ হার্ট অ্যাটাক বা গভীর স্নায়ুবিক আঘাত হতে পারে। সুতরাং যমজদের কাছাকাছি সময়ে মৃত্যুর পেছনে তাদের মধ্যে কোনো আধ্যাত্মিক ব্যাপার থাকে না।

অবিশ্বাস্য প্রমাণের পেছনের রহস্য
যমজ টেলিপ্যাথির বেশিরভাগ প্রমাণই বৈজ্ঞানিক নয়, বরঞ্চ মনগড়া কাহিনি। ২০০৯ সালে যমজ টেলিপ্যাথির একটি ঘটনা ঘটে যা তৎকালীন সময়ে গণমাধ্যমে ব্যাপক প্রচার প্রচারণা পেয়েছিল। ঘটনাটি হচ্ছে, গেমা হাউটন নামে এক ব্রিটিশ তরুণী বাড়িতে থাকা অবস্থায় হুট করে তার মনে হয় যমজ বোন লিন হাউটন কোনো বিপদের মধ্যে আছে। গেমা লিনকে খুঁজতে গিয়ে তাকে বাথরুমের মধ্যে অচেতন অবস্থায় পান। তৎক্ষণাৎ তিনি লিনকে কিছু প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান এবং এভাবেই তিনি লিনের জীবন বাঁচিয়েছিলেন। গেমা এবং লিনের এই ঘটনা যমজ টেলিপ্যাথির উদাহরণ হিসেবে ব্যাপকভাবে উল্লেখ করা হয়। গাই লিওন প্লেফার নামে একজন লেখক তার একটি বইয়ে গেমা এবং লিনের এই ঘটনা উল্লেখ করেন যমজ টেলিপ্যাথির নিদর্শন হিসেবে এবং এটাও বলেন যে, যমজ টেলিপ্যাথি মানুষের জীবন বাঁচাতে পারে।

আসলে ঘটনাটি যেমন শোনাচ্ছে বা প্রকাশিত হয়েছিল, ব্যাপারটি কিন্তু তেমন নয়। লিন হাউটন নানান শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন এবং গেমা সহ তার পুরো পরিবার তাকে নজরে নজরে রাখত। লিনের শারীরিক অসুস্থতার কারণে সে প্রায়শই অচেতন হয়ে যেত। সেদিন সে একা একা বাথরুমে গোসল করছিল এবং বেশ কিছুক্ষণ ধরে কোনো আওয়াজ না পাওয়ায় আশঙ্কায় গেমা ছুটে যান এবং লিনকে অচেতন অবস্থায় পান। লিনের অসুস্থতার কারণে গেমা সবসময় তাকে নিয়ে সচেতন থাকতেন, সে কারণেই গেমা সেদিন লিনের জীবন বাঁচাতে সক্ষম হন। এখানে লিনের বিপদের কথা জানার জন্য কোনো টেলিপ্যাথির দরকার নেই। তাছাড়া পরিবারের অন্য কোনো সদস্য যারা যমজ নয় তাদের বেলায়ও বিপদের আশঙ্কায় এমন ঘটনা ঘটতেই পারে। এখানে টেলিপ্যাথি কাজ করে বলা হলে তা নিছক গল্প ছাড়া আর কিছুই নয়। এক্ষেত্রে লিনের মা যদি তার জীবন বাঁচাত তাহলে হয়তো তা এতোটা রসালো গল্প হিসেবে প্রচার পেত না।

আসলে যমজ টেলিপ্যাথির ব্যাপারটা নেহায়েত গুজব ছাড়া আর কিছুই নয়। এক হিসাব অনুযায়ী, পৃথিবীতে ১০০ মিলিয়নের মতো যমজ মানুষ আছেন এবং তারা নিজেদের মধ্যে কোনোরকম রহস্যময় টেলিপ্যাথিক যোগাযোগ অনুভব করেন না। যদি সত্যিই তাদের মধ্যে এমন কোনো যোগাযোগ থাকতো তাহলে আমরা মাত্র কয়েকটি নয়, কয়েক লক্ষাধিক ঘটনা শুনতে পেতাম। প্রকৃতপক্ষে এরকম আধ্যাত্মিক ক্ষমতা বা শক্তি অথবা টেলিপ্যাথির কোনো নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা পৃথিবীতে নেই। যমজ বা সাধারণ মানুষ কারো মধ্যেই টেলিপ্যাথি বা কোনো আধ্যাত্মিক ক্ষমতার নিখাদ প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি।

তথ্যসূত্র : লাইভ সায়েন্স

বিস্তারিত

যমজ টেলিপ্যাথির রহস্য

যমজ সে যেমনই হোক; ফ্রাটারনাল বা আইডেন্টিক্যাল, তারা নজর কাড়ে সবারই। যমজ মানুষগুলোর ক্ষেত্রে দেখা যায় তাদের সম্পর্কটা খুবই ঘনিষ্ট হয়ে থাকে। জিনগত মিল ছাড়াও তাদের কাপড়চোপড়, খাওয়াদাওয়া, বন্ধুবান্ধব, গোপনীয় বিষয়- সবকিছুর মধ্যেই একটি মেলবন্ধন পাওয়া যায়।

সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় হচ্ছে, আইডেন্টিক্যাল অর্থাৎ অভিন্ন যমজদের ক্ষেত্রে দাবি করা হয়ে থাকে যে, প্রতি  পাঁচটি যমজের মধ্যে একটি যমজে আধ্যাত্মিক এক প্রকারের সম্পর্ক থাকে। অর্থাৎ তারা একে অন্যের মনের কথা বুঝতে পারে অনেকটা মাইন্ড রিডিং এর মতো, যাকে ডাক্তারি ভাষায় টেলিপ্যাথি বলে।

যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণকারী প্রতি ৩০টি শিশুর মধ্যে একটি শিশু যমজ হয়ে থাকে এবং অভিন্ন যমজ বাচ্চাগুলো বেশি আকর্ষণীয় হয়ে থাকে; কেননা তাদের জিনগুলো একই রকম হওয়ার পাশাপাশি তারা দেখতেও একই রকম হয়। কিছু যমজ দাবী করে থাকেন যে, তারা পরস্পরের অনুভূতি বা চিন্তা বুঝতে পারেন অর্থাৎ বিশেষ মানসিক সংযোগ থাকে তাদের মধ্যে। কিন্তু চমকপ্রদ এই ব্যাপারটির পেছনের রহস্যটা কি? এটা কি কেবলই কাকতালীয় ব্যাপার, আধ্যাত্মিক ক্ষমতা নাকি অন্যকিছু?- এ বিষয়েই আজকের এই প্রতিবেদন।

যমজদের মধ্যে একটা ব্যাপার লক্ষনীয়। সেটা হচ্ছে তাদের চিন্তাভাবনা, কথাবার্তা, আচরণ একই রকমের হয়। আসলে এটার পেছনে টেলিপ্যাথির চেয়ে যেটা বেশি কাজ করে তা হচ্ছে, একই ধরনের জীবনাচরণ এবং পরিবেশ। সুতরাং তাদের মধ্যে মনের মিল থাকাটা রহস্যজনক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ নয়। কেননা সাধারণ মানুষদের ক্ষেত্রেও দুটি মানুষ যারা একে অন্যকে ভালোমতো জানে এবং চেনে, একই পরিবেশে বেড়ে উঠেছে এবং সামঞ্জস্যপূর্ণ অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়ে গেছে তাদের মধ্যেও যমজের মতো ঘনিষ্ট সম্পর্ক গড়ে উঠতে পারে। যেমন: একই পরিবারের ভাই-বোন (যমজ নয়), বৃদ্ধ দম্পতি এমনকি যাদের মধ্যে ঘনিষ্ট বন্ধুত্বের সম্পর্ক আছে, তারাও যমজের মতো আচরণ করতে পারে যা দেখলে হয়তো আমরা অবাক হব।

যমজ মানুষের মধ্যে টেলিপ্যাথি সংযোগের ব্যাপারটি এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে আলোচিত। ১৮৪৪ সালে আলেকজান্ডার দমাসের লেখা ‘দ্য করসিকান ব্রাদার্স’ বইটি বেশ উল্লেখযোগ্য। বইটিতে দুই করসিকান যমজ ভাইয়ের কথা বলা হয়েছে, যারা জন্মের পর আলাদা হয়ে যায় এবং পরিণত বয়সেও তাদের চিন্তাভাবনা এবং আচরণ একই রকম ছিল। বইটিতে যমজ দুই ভাইয়ের মধ্যে একজনের জবানীতে বলা আছে, ‘আমরা পরস্পর থেকে দূরে থাকলেও আমাদের শরীর ও মন একই আছে। আমাদের মধ্যে একজনের অনুভূতি বা শারীরিক বা মানসিক অবস্থা যেমন হয়, আরেকজনের অবস্থাও একই হবে।’ দমাস তার বইটিতে যমজদের ‘দুই মন এক শরীর’ হিসেবে তুলে ধরেছিলেন এবং বেশিরভাগই নেতিবাচক হিসেবে।

এক শতাব্দী আগে পশ্চিম আফ্রিকাতে যমজ জন্মের হার পৃথিবীর অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় চারগুণ বেশি ছিল। এমনকি পশ্চিম আফ্রিকার ইউরোবা উপজাতি এবং নাইজেরিয়ানদের মধ্যে যমজ শিশু জন্মানো আতঙ্কের কারণ হিসেবে ভাবা হতো। অনেকসময় মা সহ শিশুকে নির্বাসনে পাঠানো হতো অথবা হত্যা করা হতো।

লোকতত্ববিদ এম.এ র‍্যাডফর্দ ১৯৬১ সালে ‘দ্য এনসাইক্লোপিডিয়া অব সুপারস্টিশনস’ নামে একটি বই প্রকাশ করেন যেখানে একইরকম দেখতে যমজদের সম্পর্কে বেশ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেওয়া হয়। সেখানে বলা হয়, ‘একই রকম দেখতে যমজরা তীব্র সমবেদনার বন্ধনে আবদ্ধ থাকে, যার ফলে তারা একে অন্যের মানসিক অবস্থা বুঝতে পারে। এমনকি তারা ভিন্ন জায়গায় অবস্থান করলেও আরেকজনের বিপদ-আপদ সম্পর্কে বুঝতে পারে এবং রহস্যময়ভাবে একজনের আনন্দ বা খুশি অন্যজনের মধ্যে প্রতিফলিত হতে দেখা যায়।’ বইটিতে আরো বলা হয়, ‘যমজের মধ্যে যদি একজন মৃত্যুবরণ করে, তাহলে অপরজনও দ্রুত মৃত্যুবরণ করে।

কিন্তু আসল ব্যাপার হচ্ছে, কোনো যমজের মধ্যে দুজন যদি একইসময় মারা যায় তা বেশ রহস্যময় ঘটনা। উদাহারণস্বরুপ- ২০১৭ সালে মারথা উইলিয়ামস এবং জেন হ্যালি নামে ৯৭ বছর বয়সি এক যমজ জুটি তাদের রোড আইল্যান্ডের বাড়ির বাইরে ঠান্ডা আবহাওয়ায় একসঙ্গে মৃত্যুবরণ করেন। এর তিন বছর আগে অর্থাৎ ২০১৪ সালে হেলেন মেই কুক এবং ক্লারা মেই মিচেল নামে ৮৩ বছর বয়সি আরেক যমজ জুটি একদিন আগে পরে মারা যান। দুই বোনের মধ্যে প্রথমে হেলেন হার্ট অ্যাটাকে মারা যান এবং পরের দিন ক্লারা অ্যালঝেইমা’র্স রোগে দীর্ঘ দিনের সংগ্রাম শেষে মারা যান। আসলে এই দুই যমজ জুটির একসঙ্গে মৃত্যুর ঘটনা ব্যতিক্রমধর্মী দুটি ঘটনা, যা সচরাচর ঘটে না। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই যমজদের মৃত্যুর ব্যবধান মাস, বছর আবার কখনো যুগের কোটায় গিয়েও দাঁড়ায়।

হেলেন এবং ক্লারা যমজযুগলের মৃত্যুর কারণ আসলে তাদের বয়স। ৮৩ বছর বয়সে দুইজনের একইসঙ্গে মারা যাওয়াটা খুবই স্বাভাবিক একটি বিষয়। উদাহারণরস্বরূপ বলা যায়, ২৩ বছর বয়সি কোনো যমজ জুটির একসঙ্গে মারা যাওয়ার ঘটনা কিন্তু শোনাই যায় না। অভিন্ন যমজ জুটি জীবনের প্রায় একই পর্যায়ে মৃত্যুর ঘটনা প্রত্যাশিত হতে পারে কারণ যারা যমজ নয় তাদের তুলনায় ‍যমজদের জিন একই হওয়ায় হৃদরোগসহ অন্যান্য রোগ উভয়ের মধ্যেই বিকশিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। আরেকটি ব্যাপার হতে পারে যে, যমজদের মধ্যে অনেক তীব্র সহমর্মিতা এবং ভালোবাসার বন্ধন থাকে যার ফলে একজন মারা গেলে আরেকজন এই গভীর শোক সহ্য করতে পারে না। এই মৃত্যুর কারণ হার্ট অ্যাটাক বা গভীর স্নায়ুবিক আঘাত হতে পারে। সুতরাং যমজদের কাছাকাছি সময়ে মৃত্যুর পেছনে তাদের মধ্যে কোনো আধ্যাত্মিক ব্যাপার থাকে না।

অবিশ্বাস্য প্রমাণের পেছনের রহস্য
যমজ টেলিপ্যাথির বেশিরভাগ প্রমাণই বৈজ্ঞানিক নয়, বরঞ্চ মনগড়া কাহিনি। ২০০৯ সালে যমজ টেলিপ্যাথির একটি ঘটনা ঘটে যা তৎকালীন সময়ে গণমাধ্যমে ব্যাপক প্রচার প্রচারণা পেয়েছিল। ঘটনাটি হচ্ছে, গেমা হাউটন নামে এক ব্রিটিশ তরুণী বাড়িতে থাকা অবস্থায় হুট করে তার মনে হয় যমজ বোন লিন হাউটন কোনো বিপদের মধ্যে আছে। গেমা লিনকে খুঁজতে গিয়ে তাকে বাথরুমের মধ্যে অচেতন অবস্থায় পান। তৎক্ষণাৎ তিনি লিনকে কিছু প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান এবং এভাবেই তিনি লিনের জীবন বাঁচিয়েছিলেন। গেমা এবং লিনের এই ঘটনা যমজ টেলিপ্যাথির উদাহরণ হিসেবে ব্যাপকভাবে উল্লেখ করা হয়। গাই লিওন প্লেফার নামে একজন লেখক তার একটি বইয়ে গেমা এবং লিনের এই ঘটনা উল্লেখ করেন যমজ টেলিপ্যাথির নিদর্শন হিসেবে এবং এটাও বলেন যে, যমজ টেলিপ্যাথি মানুষের জীবন বাঁচাতে পারে।

আসলে ঘটনাটি যেমন শোনাচ্ছে বা প্রকাশিত হয়েছিল, ব্যাপারটি কিন্তু তেমন নয়। লিন হাউটন নানান শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন এবং গেমা সহ তার পুরো পরিবার তাকে নজরে নজরে রাখত। লিনের শারীরিক অসুস্থতার কারণে সে প্রায়শই অচেতন হয়ে যেত। সেদিন সে একা একা বাথরুমে গোসল করছিল এবং বেশ কিছুক্ষণ ধরে কোনো আওয়াজ না পাওয়ায় আশঙ্কায় গেমা ছুটে যান এবং লিনকে অচেতন অবস্থায় পান। লিনের অসুস্থতার কারণে গেমা সবসময় তাকে নিয়ে সচেতন থাকতেন, সে কারণেই গেমা সেদিন লিনের জীবন বাঁচাতে সক্ষম হন। এখানে লিনের বিপদের কথা জানার জন্য কোনো টেলিপ্যাথির দরকার নেই। তাছাড়া পরিবারের অন্য কোনো সদস্য যারা যমজ নয় তাদের বেলায়ও বিপদের আশঙ্কায় এমন ঘটনা ঘটতেই পারে। এখানে টেলিপ্যাথি কাজ করে বলা হলে তা নিছক গল্প ছাড়া আর কিছুই নয়। এক্ষেত্রে লিনের মা যদি তার জীবন বাঁচাত তাহলে হয়তো তা এতোটা রসালো গল্প হিসেবে প্রচার পেত না।

আসলে যমজ টেলিপ্যাথির ব্যাপারটা নেহায়েত গুজব ছাড়া আর কিছুই নয়। এক হিসাব অনুযায়ী, পৃথিবীতে ১০০ মিলিয়নের মতো যমজ মানুষ আছেন এবং তারা নিজেদের মধ্যে কোনোরকম রহস্যময় টেলিপ্যাথিক যোগাযোগ অনুভব করেন না। যদি সত্যিই তাদের মধ্যে এমন কোনো যোগাযোগ থাকতো তাহলে আমরা মাত্র কয়েকটি নয়, কয়েক লক্ষাধিক ঘটনা শুনতে পেতাম। প্রকৃতপক্ষে এরকম আধ্যাত্মিক ক্ষমতা বা শক্তি অথবা টেলিপ্যাথির কোনো নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা পৃথিবীতে নেই। যমজ বা সাধারণ মানুষ কারো মধ্যেই টেলিপ্যাথি বা কোনো আধ্যাত্মিক ক্ষমতার নিখাদ প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি।

তথ্যসূত্র : লাইভ সায়েন্স

বিস্তারিত

গুগল আপনার সব জানে! কীভাবে এড়াবেন গুগলের গোয়েন্দাগিরি

গুগল হল আজকের সিধু জ্যাঠা। ফেলুদার মতো আমরা যখনই বিপদে পড়ি, সে পাশে এসে দাঁড়ায় পরম বন্ধুর মতো। প্রয়োজনীয় তথ্য নিমেষে হাজির হয়ে যায় চোখের সামনে। কিন্তু জানেন কি, আপনার সম্পর্কেও সব কিছু জানে সে! হ্যাঁ, তেমনটাই জানিয়েছেন ওয়েব ডেভেলপার ডিলন কুরান। তিনি যা জানিয়েছেন, তাতে চোখ কপালে উঠে যাবেই। কেমব্রিজ অ্যানালিটিকা প্রায় ৫ কোটি ফেসবুক ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নিয়েছে, এই খবর শুনে ফেসবুক নিয়ে আতঙ্কের মধ্যেই এবার সামনে চলে এল গুগলের কাণ্ডও।

‘হাফিংটন পোস্ট’-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদন থেকে জানা যাচ্ছে, গুগল তার গ্রাহকদের সম্পর্কে সব খবর রাখে। আপনি গুগলে কী কী সার্চ করছেন তা তো বটেই আরও অনেক অনেক কিছু তার জানা। একটু খুলে বলা যাক।

২০১৬ সাল থেকে গুগল চালু করেছে ‘মাই অ্যাক্টিভিটি।’ একবার লগ ইন করে দেখুন। গুগলে আপনার প্রতিটি পদক্ষেপ সেখানে পেয়ে যাবেন। ইউটিউবে কোন ভিডিও দেখেছেন, গুগল ম্যাপে কোন এলাকা সার্চ করেছেন— সব।

এখানেই শেষ নয়, সকলেরই একটি করে প্রোফাইল বানিয়ে রেখেছে গুগল। যার উপরে ভিত্তি করে আপনাকে কী বিজ্ঞাপন দেখাবে গুগল তা ঠিক করে দেয় আগে থেকেই।

তবে আপনি চাইলেই কিন্তু এর থেকে রেহাই পেতে পারেন। এর জন্য ‘অ্যাক্টিভিটি কন্ট্রোল’-এ যেতে হবে। ‘গুগল মাই অ্যাক্টিভিটি’র বাঁ-দিকে পেয়ে যাবেন ‘অ্যাক্টিভিটি কন্ট্রোল’ ট্যাবটি।



এবার দেখুন পর পর রয়েছে ‘ওয়েব অ্যান্ড অ্যাপ অ্যাক্টিভিটি’, ‘লোকেশন হিস্ট্রি’,‘ডিভাইস ইনফরমেশন’, ‘ভয়েস অ্যান্ড অডিও অ্যাক্টিভিটি’, ‘ইউটিউব সার্চ হিস্ট্রি’, ‘ইউটিউব ওয়াচ হিস্ট্রি’। প্রতিটি ক্ষেত্রেই রয়েছে ‘পজ’ করার উপায়।

‘ওয়েব অ্যান্ড অ্যাপ অ্যাক্টিভিটি’-এর ক্ষেত্রে এর সঙ্গেই ‘ইনক্লুড ক্রোম ব্রাউজিং হিস্ট্রি অ্যান্ড অ্যাক্টিভিটি ফ্রম ওয়েবসাইটস অ্যান্ড অ্যাপস দ্যাট ইউজ গুগল সার্ভিস’ অপশনটিকেও ‘আনটিক’ করে দিতে হবে।

তবে ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, আপনার তথ্য গুগল অন্য কাউকেই দেয় না। পুরোটাই নাকি অত্যন্ত গোপনীয় ভাবে রয়ে যায় তার কাছে। আসলে আপনার সম্পর্কে খুঁটিনাটি জেনে আরও উন্নত পরিষেবা দেওয়াই উদ্দেশ্য জনপ্রিয় এই সার্চ ইঞ্জিনের। তবে চাইলে, সেটাকে নিয়ন্ত্রণ করাও এবার আপনার হাতের মুঠোয়।
বিস্তারিত

সাবধান হোন অ্যান্ড্রয়েড ফোন ব্যবহারকারীরা!

বিশ্বায়নের যুগে হাতে স্মার্টফোন নেই, আর তাতে ফেসবুক নেই, এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া কঠিন। ফেসবুক যেমন সারা দুনিয়াকে হাতের মুঠোয় এনে দিচ্ছে, তেমনই এটি আপনাকে বিপদেও ফেলতে পারে।

আন্তর্জাতিক ওয়েবসাইট ‘আরস টেকনিকা’-র একটি রিপোর্ট থেকে উঠে এসেছে, আপনার গোপন ফোন কল ও মেসেজে আড়ি পাতছে ফেসবুক। রিপোর্টটির দাবি, অ্যান্ড্রয়েড ফোন ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত ফোন কল ও মেসেজের ডেটার উপরে নজরদারি চালায় ফেসবুক।

অ্যানড্রয়েড ফোন ব্যবহারকারী, কবে, কাকে ফোন করেছেন ও কতক্ষণ কথা বলেছেন— এ সবেরই রেকর্ড থাকে ফেসবুকের কাছে। শুধু তাই নয়। ফোনের কনট্যাক্ট লিস্টও স্টোরড থাকছে তাদের কাছে।

যদিও এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে মার্ক জুকেরবার্গের সংস্থা। এই অভিযোগের পরে ফেসবুক ঘোষণা করেছে, যে ব্যবহারকারীরা ডেটা সংগ্রহ করার অনুমতি দেন, শুধু তাদেরই ডেটা সংগ্রহ করা হয়।

নিউ ইয়র্ক টাইমস, ওয়াশিংটন পোস্ট-সহ আরও বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক সংবাদপত্রে বড় করে বিজ্ঞাপন দেয় ফেসবুক। মার্ক জুকেরবার্গের পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘‘আপনাদের তথ্য সুরক্ষিত রাখা আমাদের দায়িত্ব। সেটা যদি আমরা না পারি আমরা এটার যোগ্য নই।’’  

বিস্তারিত

গুগল ডুডলে বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস

বাংলাদেশের ৪৮তম স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে সার্চ ইঞ্জিন গুগল বিশেষ ডুডল দিয়েছে।

গুগলের ওয়েবসাইটের হোম পেজে এই ডুডল প্রদর্শিত হচ্ছে। এমনকি ডুডলে ক্লিক করলে স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের নানা খবরও পাওয়া যাচ্ছে।

বাংলাদেশের জনগণকে উৎসর্গ করা গুগলের এই ডুডলে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার পেছনে রয়েছে বাংলাদেশের ভূপ্রকৃতির একটি ছবি। এর নিচে সবুজ জমিনের ওপর রয়েছে সাদা রঙে গুগল লেখা। রোববার রাত ১২টা থেকে ডুডলটি প্রদর্শন করছে গুগল।

এদিকে গুগল তাদের বিশেষ ডুডল পেজে বলেছে, ৪৭ বছর আগে আজকের এই দিনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের জন্ম হয়।

বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় এই সার্চ ইঞ্জিন আরো বলেছে, আজ বাংলাদেশের মানুষ নানা অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দিবসটি উদযাপন করবে।

ডুডলের অভ্যর্থনা বার্তায় ‘শুভ স্বাধীনতা দিবস, বাংলাদেশ’ লেখা রয়েছে।

বিভিন্ন দেশের জাতীয় দিবস, বিখ্যাত ব্যক্তিদের জন্ম-মৃত্যু ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ঘটনাকে উদ্‌যাপন করতে গুগল ডুডল প্রদর্শন করে। এর আগেও বাংলাদেশের জাতীয় দিবসে ডুডল করেছিল গুগল। গুগল প্রথমবার ২০১৩ সালে বাংলাদেশের ৪৩তম স্বাধীনতা দিবসে একটি বিশেষ ডুডল পোস্ট করে।

বিস্তারিত

ফেসবুক ব্যবহারে টাকা গুণতে হবে!

ইন্টারনেটে ফেসবুক ব্যবহার করতে হলে নির্দিষ্ট টাকা ব্যয় করতে হবে। এই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারে মূল্য নির্ধারণ করার পরিকল্পনা করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)।

রোববার রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে বিটিআরসি'র চেয়ারম্যান শাহজাহান মাহমুদ এ পরিকল্পনার কথা জানান।

‘স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণে টেলিযোগাযোগ সেক্টরের ভূমিকা’ শীর্ষক ওই আলোচনা অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, তরুণ প্রজন্মের সোস্যাল মিডিয়া আসক্তি ঠেকাতে ইন্টারনেটে বিভিন্ন মাধ্যম ব্যবহারে ভিন্ন মূল্য নির্ধারণ করার পরিকল্পনা করছে বিটিআরসি।


তিনি বলেন, এটা অনস্বীকার্য যে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ইন্টারনেট সবার হাতে হাতে পৌঁছে গেছে। দুঃখের বিষয় হল, মোবাইল ফোনে ইন্টারনেট ঘাঁটাটায় (ব্রাউজ) প্র্যাকটিক্যালি ইয়ং জেনারেশন খুব একটা ক্রিয়েটিভ হচ্ছে না।

’আজকে আমি দেখেছি ইয়ংগার জেনারেশনের ভেতরে ম্যাক্সিমাম ব্যবহার করে ফেসবুক চ্যাটিং করার জন্য। এটি কিন্তু ক্রিয়েটিভ ইউজ না।’

তরুণদের ইন্টারনেটে ফেসবুকের মতো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মাত্রাতিরিক্ত আসক্তি বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতেও মাথা ব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তরুণ প্রজন্মের মধ্যে হতাশা থেকে শুরু করে ঘুম কম হওয়াসহ নানা অসুস্থতার জন্যও একে দায়ী করা হচ্ছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারকে ডিজিটাল আফিম হিসেবে আখ্যায়িত করে শাহজাহান মাহমুদ বলেন, এটি ‘ডিজিটাল কোকেন’ অ্যাডিকশনের মতো হয়ে গেছে। আজকাল ইয়ংগার জেনারেশন একবার ফেসবুকের মধ্যে ঢুকলে আর বের হতে চায় না।

এই অবস্থা থেকে উত্তরণে ‘সামাজিক বিপ্লব’ দরকার মন্তব্য করার সঙ্গে নিজের সংস্থার পক্ষ থেকে কিছু পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলেন বিটিআরসি চেয়ারম্যান।

তিনি বলেন, খুব শিগগিরই প্রস্তাব করবো যে যাতে ইন্টারনেটে ক্রিয়েটিভ ইউজের জন্য কোনো বন্দোবস্ত করা যায়। কোনো একটা বিশেষ রেইট দেওয়া যায় ফেসবুক ব্যবহারের জন্য, আবার ক্রিয়েটিভ ইউজ যদি করা যায়, তাহলে আরেক রকমের রেট। তাহলে হয়তবা ফেসবুক ব্যবহার না করে জ্ঞান আহরণের জন্য চেষ্টা করবে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার, বিশেষ অতিথি ছিলেন টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব শ্যাম সুন্দর সিকদার।
বিস্তারিত

ফেসবুকে ‘বিএফএফ’ গুজব

ঢাকা: ফেসবুক অ্যাকাউন্ট নিরাপদ কিনা তা যাচাই করতে ‘বিএফএফ (BFF)’ লিখে পোস্ট বা কমেন্ট করতে বলা হচ্ছে কয়েকদিন ধরে। ‘বিএফএফ’ লেখার পর রঙ সবুজ হলে বলা হচ্ছে ফেসবুক অ্যাকাউন্ট নিরাপদ এবং সবুজ না হলে অ্যাকাউন্ট বিপদজনক বলে পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করতে বলা হচ্ছে। এটি আসলে একটি গুজব এবং এ সংবাদের কোনো ভিত্তি নেই। খবর টেক নাভের।

প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, ‘বিএফএফ’ হল ফেসবুকের একটি বিশেষ ফিচার যাকে টেক্সট ডিলাইট বলা হয়। ‘বিএফএফ’ এর পূর্ণরুপ বেস্ট ফ্রেন্ড ফরএভার। ফেসবুকের এমন আরও অনেক টেক্সট ডিলাইট শব্দ আছে যেমন, ‘Congrats’ বা ‘Congratulation’, ‘best wishes’, ‘xoxo’ ইত্যাদি।। এসব শব্দের জন্য ফেসবুক বিভিন্ন অ্যানিমেশন তৈরি করে ফলে ব্যবহারকারীরা বিভিন্ন রঙ দেখতে পায়। এই লেখাগুলোর ওপর ক্লিক করলে বিভিন্ন রঙের সঙ্গে ফুল, বেলুন ও ভালোবাসার ইমোসহ নানা অ্যানিমেশন ভেসে ওঠে।

তাই ফেসবুকে ‘বিএফএফ’ লেখার পর সেটি সবুজ হয়ে যাওয়া মানে আপনার অ্যাকাউন্টটি নিরাপদ কিনা ঝুঁকিপূর্ণ তার সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই। মার্ক জুকারবার্গের ছবি ব্যবহার করে এ বিষয়ে গুজব ছড়ানো হচ্ছে।

পাঁচ কোটি ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য অপপ্রচারের অভিযোগে সাম্প্রতিক সময়ে ফেসবুক কিছুটা সংকেটর মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ফেসবুকের এই সংকটকে পুঁজি করে কেনো কুচক্রী মহল এমন গুজব ছড়াচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই এটা নিয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা।
বিস্তারিত

‘দেশিয় সফটওয়্যার কোম্পানির অগ্রাধিকারে কাজ করবো’

বাংলাদেশে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে নারীরা আসবেন, তারা অবদান রাখবেন এমনটি বোধ হয় এক সময় কারো ভাবনাতেই ছিল না। কিন্তু সেই বৃত্ত ভেঙে অনেক আগেই নারীরা তথ্যপ্রযুক্তি খাতের উদ্যোক্তা ও ব্যবসা করার কৃতিত্ব দেখিয়েছেন। এক ধরনের পেশাদারিত্ব তৈরি করে নিজেদের মর্যাদাপূর্ণ জায়গায় নিতে সক্ষম হয়েছেন। আর তাই মেধা, নেতৃত্ব, দক্ষতা দিয়ে প্রতিযোগিতামূলক বাজারে তারাও হয়ে উঠেছেন অনন্য একজন।

ঠিক তেমনি একজন লুনা শামসুদ্দোহা। যিনি স্বপ্ন দেখেন বাংলাদেশ প্রযুক্তিগত দিক দিয়ে কেবলই এগিয়ে যাচ্ছে। তথ্যপ্রযুক্তি খাতে নারী উদ্যোক্তা ও নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন লুনা শামসুদ্দোহা। তিনি বাংলাদেশ উইমেন ইন আইটির (বিডাব্লিউআইটি) এর সভাপতি। দেশের খ্যাতনামা সফটওয়্যার কোম্পানি দোহাটেক নিউ মিডিয়ার প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান। সম্প্রতি তিনি জনতা ব্যাংকের চেয়ারম্যান হয়েছেন। সুপরিচিত এই তথ্যপ্রযুক্তি উদ্যোক্তা প্রযুক্তিতে বিশেষ অবদান রাখায় আন্তর্জাতিক সম্মাননা পেয়েছেন। প্রযুক্তি খাতে নারীদের এগিয়ে নিয়ে যাওয়া এবং নারীর ক্ষমতায়ন বৃদ্ধির কারণে গ্লোবাল উইমেন ইনভেন্টরস অ্যান্ড ইনোভেটরস নেটওয়ার্ক (গুইন) সম্মাননা পেয়েছেন। ২০০৫ সালে তিনি সুইস ইন্টারঅ্যাকটিভ মিডিয়া সফটওয়্যার অ্যাসোসিয়েশন (সিসমা) পান।

প্রযুক্তি খাতে নারীদের সম্পৃক্ততা বৃদ্ধিতে ১৯৯২ সালে পল্টন লেনে মাত্র দুজন কর্মী নিয়ে ‘দোহাটেক’-এর যাত্রা শুরু হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে এই প্রতিষ্ঠানে শতাধিক মেধাবী কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার কাজ করছেন। শুরুতে কনটেন্ট ম্যানেজমেন্টের কাজ করে ‘দোহাটেক’। এক সময় ডাব্লিউএইচও, ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের হয়েও এই কাজটি করেন তারা। বর্তমানে তাদের কর্মপরিধি প্রসারিত হয়েছে আমেরিকা, কানাডা, জার্মানিসহ বিভিন্ন দেশে। বাংলাদেশে ই-গভর্নেন্স তৈরির ক্ষেত্রে ‘দোহাটেক’ বিরাট ভূমিকা পালন করছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে তারাই ভোটার এনরোলমেন্ট সফটওয়্যার তৈরি করে, যে ধারাবাহিকতায় সবার জন্য ন্যাশনাল আইডি কার্ড তৈরির বিশাল কর্মযজ্ঞ এ দেশে সম্ভব হয়েছে। ইলেকট্রনিক গভর্নমেন্ট প্রকিউরমেন্ট বা ই-জিপিতেও ‘দোহাটেক’-এর অবদান অসামান্য। বাংলাদেশ সরকারের এমপ্লয়মেন্ট জেনারেশন ফর দ্য পুওরেস্ট (ই-জিপিপি) প্রকল্পের এমআইএস সিস্টেমও ‘দোহাটেক’-এর অবদান। এসব কাজের নেতৃত্বেই থেকেছেন লুনা শামসুদ্দোহা। সম্মুখ সারিতে থেকে তিনিই সব সময় নেতৃত্ব দিয়ে চলেছেন।

সফটওয়্যার উদ্যোক্তা হিসেবে দেশে এবং বিদেশে তিনি একজন পরিচিত মুখ। শুধু তাই নয়, দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় তথ্যপ্রযুক্তি খাতকে একীভূত করার কৃতিত্বও তার। তথ্যপ্রযুক্তি খাতকে অনেক উচ্চতায় নিতে চান তিনি। একই সঙ্গে এ খাতে নারীর সম্পৃক্ততা বাড়াতে তিনি অঙ্গীকারবদ্ধ। আর সেজন্যই হয়তো দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের অন্যতম শীর্ষ বাণিজ্য সংগঠন বেসিস নির্বাচনে এবার প্যানেল ঘোষণা করেছেন তথ্যপ্রযুক্তি খাতের বিশিষ্ট নারী উদ্যোক্তা লুনা শামসুদ্দোহা। তার প্যানেলের নাম ‘উইন্ড অব চেইঞ্জ’। তবে বেসিসের কার্যনির্বাহী কমিটির ৯টি পদের বিপরীতে ৮ জন প্রার্থী নিয়ে এই প্যানেল গঠন করা হয়েছে। এই ৮ জনের সবাই জেনারেল ক্যাটাগরিতে নির্বাচন করবেন। অ্যাসোসিয়েট ক্যাটাগরির একটি পদের জন্য কোনো প্রার্থী প্যানেলটিতে নেই।



নারীর ক্ষমতায়ন, বেসিস নির্বাচনসহ বিভিন্ন বিষয়ে কথা হয় লুনা শামসুদ্দোহার সঙ্গে।

প্রশ্ন : তথ্যপ্রযুক্তি খাতে নারীদের সংশ্লিষ্ট করতে সরকারের কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া উচিত?
লুনা শামসুদ্দোহা : সরকারের অবশ্যই কাজ করার আছে। দেশেও সরকার কিন্তু বসে নেই। এই প্রযুক্তির অবকাঠামো কিন্তু সরকার বানিয়েছে। আমাদের দেশে যে প্রযুক্তি ইকো-সিস্টেম সেটাও সরকারের তৈরি করা। কারণ শুধু বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে এটা করা সম্ভব নয়। ট্যাক্স কমাচ্ছে, এ সবই করছে সরকার। এটাকে ব্যবহার করে আমরা যদি মেয়েদের আনতে পারি তবেই সফলতা। আমরা শুধু দেখি নাই, নাই, নাই। কিন্তু যেটুকু আছে সেটার ব্যবহার করতে আমরা পারি না। আমাদের এখন ৭ দশমিক ২ শতাংশ গ্রোথ। এখানে যে মেয়েদের অবদান নেই সেটাতো কেউ অস্বীকার করতে পারবে না।

প্রশ্ন : দোহাটেকের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান আপনি। এই প্রতিষ্ঠানটিকে আজকের অবস্থানে আনতে কোন ধরনের বাধা এসেছে কী?
লুনা শামসুদ্দোহা : দোহাটেককে আজকের অবস্থানে আসতে অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। কারণ অনেকবার ফেল করেছি। আবার দাঁড়িয়েছি। অনেক কাজ পাইনি, কিন্তু যেকাজ পেয়েছি সেটাতে ফেল করিনি। কেউ নিজের খাবার প্লেটে করে সাজিয়ে দেয় না। নিজে নিজে সেটা করে নিতে হয়। নিজে জেনে, বুঝে, এগিয়ে, সবার সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে কাজ করছি। এটা একটা তৃপ্তির যে, আমাকে কেউ না দিলেও আমি একটা জায়গায় প্রতিযোগিতা করে কাজ নিতে পারছি, সেটা সফলভাবে করতে পারছি। এই চিত্র শুধু যে দেশে তা নয়, আমরা বাইরের দেশেও অনেক বড় বড় প্রতিষ্ঠানকে পিছনে ফেলে কাজ পেয়েছি, সেগুলো সফলভাবে করেছি। এটা আসলে কাজের যোগ্যতা। কোম্পানির যোগ্যতায় এটা করা।

প্রশ্ন : নারীদের জন্য তথ্যপ্রযুক্তি কর্মক্ষেত্রের চ্যালেঞ্জগুলো কী?
লুনা শামসুদ্দোহা : এ এক মহাচ্যালেঞ্জ। আর এমন চ্যালেঞ্জ হাজারোটা রয়েছে। প্রথম কথা হলো, যদি অনেক উপর থেকে বলি তবে বলতে হয়, মেয়েরা কম্পিউটার সায়েন্স, ইঞ্জিনিয়ারিং খুব কম পড়ে। এটাকে অনেকেই ছেলেদের লেখাপড়া ভাবে। সেখানে একটা বাধা রয়েছে। তারপর মেয়েরা যাও পড়ে, তাতে ছেলেদের তুলনায় ক্যারিয়ারে যায় না। এটাও হয়। খুব কম মেয়ে দেখা যায় পড়ালেখা শেষে কাজ করতে আসে। এটাও সামাজিক চ্যালেঞ্জ। অনেকেই মেয়েদের রাতের বেলায় আসা যাওয়া, কাজ করাকে স্বাভাবিকভাবে নেয় না। এটা এখনো আমাদের দেশে হচ্ছে। এখনো সামাজিক বাধাটাই সবচেয়ে বড় বাধা। এসব সামাজিক বাধা অতিক্রম করে তাদের কাজে নিয়ে আসা চ্যালেঞ্জের।

প্রশ্ন: কর্মক্ষেত্রের বাইরে পারিবারিক জীবনে আপনি নিজেকে কতটা সফল মনে করেন?
লুনা শামসুদ্দোহা : আামদের একমাত্র মেয়ে রীম শামসুদ্দোহা। মা-বাবাকে দেখে মেয়ে তথ্যপ্রযুক্তিতে এলেও মা-বাবার প্রতিষ্ঠানে যুক্ত হননি। নিজেই ‘যেতে চাও ডটকম’ (jetechao.com) নামে একটি ওয়েবসাইট চালু করেছে। যেখানে ঢাকা শহরের বিভিন্ন ইভেন্টের আপডেট খবরাখবর থাকে। মেয়ের এ উদ্যোগ আগামীতে বড় ধরনের সাফল্য পাবে বলে আশাবাদী।

প্রশ্ন : বেসিসের নির্বাচনে বিজয়ী হলে কোন কোন বিষয়ে অগ্রাধিকার থাকবে?
লুনা শামসুদ্দোহা : আমি সেই ১৯৯৪ সাল থেকে শিখে আসছি, এখনও শিখছি। এখন শুধু দেশে নয়, আন্তর্জাতিক কোম্পানির সঙ্গেও প্রতিযোগিতা করে টিকে থাকছি। আমার এই দীর্ঘ অভিজ্ঞতাকে বেসিসের কাজে লাগাতে চাই। আমি যেভাবে নিজের কোম্পানিকে এগিয়ে নিয়ে গেছি সেভাবে বেসিসের সদস্যভুক্ত কোম্পানিগুলোকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই। বেসিস যে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে তৈরি হয়েছিল সেই লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য থেকে অনেকটাই সরে গেছে। আমি বেসিসের সেই ভিত্তি, লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে এগিয়ে যেতে চাই। ফোকাস ইনিশিয়েটিভ ও যথাযথ রিসার্চ করে সেটা যদি সবার সঙ্গে শেয়ার করা যায় তাহলে সকলেই উপকৃত হবে। তাই এটি আমার অন্যতম লক্ষ্য হবে। এছাড়া সচিবালয়কে শক্তিশালীকরণেরও উদ্যোগ নেয়া হবে। এটি অনেকটা পরিবারকে সামলানোর মতো। তাই আমার নিজের পরিবার বা প্রতিষ্ঠানগুলোকে যেভাবে সামলেছি বা এগিয়ে নিয়েছি ঠিক সেভাবেই বেসিস সচিবালয়কে পরিচালনার উদ্যোগ নেয়া হবে। আমার আরেকটি লক্ষ্য হলো, বিদেশি কোম্পানির আধিপত্য কমানো। বিদেশি কোম্পানি বাংলাদেশে কাজ করবে সেটা সমস্যা নয় বা আমরা স্বাগত জানাই। তাদের কাছ থেকে আমরা শিখবো। তাই বলে তাদের আধিক্য বা সব কাজ তারা করবে এটা মানা যায় না। আমরা লোকাল সফটওয়্যার তৈরি করে বিদেশে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে কাজ করছি। সব জায়গায় টেকনোলজি এক, আমাদের দেশিয় কোম্পানিগুলোর সক্ষমতা রয়েছে, তাহলে আমাদের দেশে কেন দেশি কোম্পানিকে বাদ দিয়ে বিদেশি কোম্পানিকে কাজ দেওয়া হচ্ছে? এই বিষয়টাতেও আমার ফোকাস থাকবে। আমাদের প্রশিক্ষণও বিদেশিদের দেওয়া হচ্ছে। আমরা প্রয়োজনে বিদেশি পরামর্শক রাখবো, তাই বলে দেশের প্রশিক্ষণ বিদেশিদের দিতে চাই না। এই বিষয়েও কাজ করতে চাই।
বিস্তারিত

বাংলাদেশে গুগলের এমসাইট সার্টিফিকেট পেল ‍৪৫০ জন

গুগল মোবাইল সাইট ডেভেলপার অনুষ্ঠানে তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক

বিজ্ঞান-প্রযুক্তি ডেস্ক : ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়ে গেল প্রযুক্তি জায়ান্ট গুগলের ‘মোবাইল সাইট ডেভেলপার ডে ২০১৮’। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় এবারই প্রথমবারের মতো এই আয়োজন করে গুগল। বাংলাদেশ সফলভাবে গুগলের এম-সাইট সার্টিফিকেশন সম্পন্ন করা ডেভেলপারের সংখ্যা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াতে সর্বোচ্চ। এই অসাধারণ অর্জনের স্বীকৃতিস্বরূপ ঢাকায় প্রথমবারের মতো এই ডেভেলপার ডে আয়োজন করে গুগল।

রাজধানীর নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত গুগলের ‘মোবাইল সাইট ডেভেলপার ডে’ অনুষ্ঠানে অংশ নেয় দেশের ৪৫০ জন এমসাইট সার্টিফায়েড ডেভেলপার এবং গুগলের দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ডেভেলপার রিলেশন টিম। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ডেভেলপার রিলেশন এর পিএম মানিকান্তান কৃষ্ণামূর্তি, গুগল এশিয়ার ইন্ডাস্ট্রি হেড গোলাম কিবরিয়া, গুগল বাংলাদেশের মার্কেটিং কনসালটেন্ট হাসমি রাফসানজানি এবং তথ্য ও যোগাপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। এছাড়াও অনুষ্ঠানে অংশ নেয় দেশের স্বনামধন্য সকল আইটি প্রতিষ্ঠানের কর্ণধারবৃন্দ।

গুগল ডেভেলপার গ্রুপ জিডিজি সোনারগাঁওয়ের আয়োজনে অনুষ্ঠানে গুগলের বিভিন্ন প্রযুক্তি, প্রগ্রেসিভ ওয়েব অ্যাপ, এক্সেলারেট মোবাইল পেজ, টেনসর ফ্লো, ফায়ার বেইজ ইত্যাদি সম্পর্কে আলোচনা করা হয়। অনুষ্ঠানে তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, ‘দেশ ধারাবাহিকভাবে প্রযুক্তিতে এগিয়ে যাচ্ছে। দেশে গুগলের ডেভেলপাররা এই খাতকে আন্তর্জাতিকভাবে আরো এগিয়ে নিয়ে যাবে।’

গুগল এমসাইট সার্টিফিকেট একটি অ্যাডভান্স ওয়েব ডেভেলপমেন্ট প্লাটফর্ম। এখানে ওয়েব ডেভেলপাররা বিনামূল্যে গুগলের উদ্ভাবিত নতুন প্রযুক্তি এম-সাইট, প্রগ্রেসিভ ওয়েব অ্যাপের ট্রেনিং ও সার্টিফিকেশন সম্পন্ন করতে পারেন।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, গুগল ডেভেলপার গ্রুপ জিডিজি সোনারগাঁও দেশে ১৫টিরও অধিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘এম-সাইট ডেভেলপার সার্টিফিকেশন ট্রেনিং’ এর আয়োজন করেছিল। এতে অংশগ্রহণ করেন ৭৫০ জনেরও বেশি শিক্ষার্থী ও আইটি এক্সপার্ট। তাদের মধ্যে ৪৫০ জনের সফলভাবে সার্টিফিকেট লাভ করেন, যা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ। ইতিমধ্যে সফলভাবে সার্টিফিকেট অর্জন করা তরুণ-তরুণিরা দেশের স্বনামধন্য আইটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি পেতে সক্ষম হয়েছে।

বাংলাদেশ গুগল সার্টিফায়েড ডেভেলপারের সংখ্যা আরো বহুগুণে বৃদ্ধি করার জন্য কাজ করে যাচ্ছে জিডিজি সোনারগাঁও। জিডিজি সোনারগাঁও এর কার্যক্রম দেশব্যাপী ছড়িয়ে দিতে কমিনিউটি ম্যানেজার ইশতিয়াক রেজা তার ভবিষ্যত কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন। তিনি আরো আশাবাদ ব্যক্ত করেন, আগামীতে গুগলের সার্বিক সহায়তায় বাংলাদেশি ডেভেলপারদের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ ওয়েব ডেভেলপমেন্ট কোর্স চালু করার।

অনুষ্ঠানের শেষে সফলভাবে কোর্স সম্পন্ন করা ডেভেলপারদের হাতে সার্টিফিকেট তুলে দেন অতিথিরা।





বিস্তারিত

আন্তর্জাতিক রোবট অলিম্পিয়াডের সদস্য হল বাংলাদেশ

এ বছর থেকে আন্তর্জাতিক রোবট অলিম্পিয়াডে নিয়মিত অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা।

১৮ মার্চ রোববার, আনুষ্ঠানিকভাবে এই অলিম্পিয়াডের আয়োজক কমিটি বাংলাদেশকে সদস্য হিসাবে তাদের ওয়েবসাইটে (www.iroc.org/copy-of-about) যুক্ত করেছে। বাংলাদেশের পক্ষে এই অলিম্পিয়াড আয়োজন ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পেয়েছে বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্ক (বিডিওএসএন)। স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীদের রোবটিক সংক্রান্ত এই অলিম্পিয়াডের আয়োজক দক্ষিণ কোরিয়াভিত্তিক আন্তর্জাতিক রোবট অলিম্পিয়াড কমিটি।

বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের এই নতুন সুযোগ কাজে লাগানোর আহবান জানিয়ে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, ‘এই স্বীকৃতি আমাদের শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক মানে গড়ে ওঠার ক্ষেত্রে সহায়তা করবে। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের মোকাবেলায় রোবটিক্স, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, বিগডেটা ইত্যাদি বিষয়ে সরকার থেকে নানা উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে আইসিটি ডিভিশনের উদ্যোগে বুয়েটে রোবটিক্স সেন্টারসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রোবটিক্স ল্যাব তৈরিতে সহায়তা করা হয়েছে।’

আইসিটি প্রতিমন্ত্রী আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘গণিত অলিম্পিয়াড, প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতাসহ বিভিন্ন বিষয়ের অলিম্পিয়াডের মতো রোবট অলিম্পিয়াডেও আমাদের শিক্ষার্থীরা তাদের মেধার প্রকাশ দেখাতে পারবে।’

বিডিওএসএনের রোবট সংক্রান্ত কর্মকাণ্ডের সমন্বয়কারী রিদওয়ান ফেরদৌস গত ডিসেম্বরে চিনের বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত ১৯তম আন্তর্জাতিক রোবট অলিম্পিয়াডে পর্যবেক্ষক হিসেবে যোগ দেন এবং বাংলাদেশের সদস্যপদের জন্য আবেদন করেন। এরপর আয়োজক কমিটির বিভিন্ন শর্ত পূরণ করার পর আজ এ সদস্য পদ চূড়ান্ত হল।

বিডিওএসএনের সাধারণ সম্পাদক মুনির হাসান জানান, এ বছরের ডিসেম্বর মাসে ফিলিপিনের রাজধানী ম্যানিলাতে অনুষ্ঠেয় ২০তম আন্তর্জাতিক রোবট অলিম্পিয়াডে অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে বাংলাদেশের স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা। এজন্য এবার থেকে দেশে জাতীয় পর্যায়ে রোবট অলিম্পিয়াডের আয়োজন করা হবে।

বিস্তারিত

যে কারণে নোবেল পুরস্কার পাননি হকিং

শেষ পর্যন্ত নোবেল পুরস্কার আর পাওয়া হলো না স্টিফেন হকিংয়ের। কিন্তু কেন? এত বড় বিজ্ঞানী তিনিই কিনা নোবেল থেকে বঞ্চিত হলেন!

নোবেল পুরস্কার নিয়ে হকিংয়ের আগ্রহের কথা অনেক শোনা যায় শেষ কয়েক বছরে। এক বড় মিলনায়তনে বক্তৃতা করছিলেন বিজ্ঞানী। হঠাৎ করে সবাই নড়েচড়ে বসলেন। কারণ, পর্দায় বড় একটা নোবেল পুরস্কারের ছবি! এসময় শোনা গেল, হকিংয়ের কণ্ঠস্বর- ‘যদি কম ভরের কৃষ্ণগহ্বর আবিষ্কৃত হয়, তাহলেই আমি নোবেল পুরস্কার পেয়ে যাব।’

হকিংকে নোবেল পুরস্কার দিতে না পারার একটা কারণ হলো-বাস্তবে একটা ব্ল্যাকহোল থেকে হকিং বিকিরণ বের হয়ে আসছে কি না, তা মাপার জন্য কারিগরি দক্ষতা এখনো মানুষের আয়ত্ত হয়নি। তাহলে বাকি থাকে ল্যাবরেটরিতে ব্ল্যাকহোল বানানো। সেটার একটা সম্ভাবনা ছিল, ইউরোপের সার্নে অবস্থিত লার্জ হেড্রন কলাইডারে। কিন্তু সেটা আর হয়নি।

নোবেল পুরস্কার ছাড়া আর সব পুরস্কার ও স্বীকৃতি পেয়েছেন হকিং। কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে তার একটি আবক্ষ মূর্তি আছে। সেখানে তার নামে একটা ভবনও আছে।

এছাড়া দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউনেও তার একটি মূর্তি আছে। এল সালভাদরের রাজধানী সান সালভাদরের বিজ্ঞান জাদুঘরটির নাম ‘স্টিফেন হকিং বিজ্ঞান জাদুঘর’। ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের রানি তাকে অর্ডার অব দ্য ব্রিটিশ এম্পায়ার এবং অর্ডার অব দ্য কম্প্যানিয়ন অনারে ভূষিত করেছেন।

আমেরিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা তার গলায় ঝুলিয়ে দিয়েছেন প্রেসিডেন্সিয়াল মেডেল অব ফ্রিডম পদক। পেয়েছেন তত্ত্বীয় পদার্থবিদদের সর্বোচ্চ সম্মান আলবার্ট আইনস্টাইন পদক।

১৯৭৯ সালে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় হকিংকে বানায় গণিতের লুকাসিয়ান প্রফেসর, একসময় যে পদ অলংকৃত করেছিলেন আইজ্যাক নিউটন। ২০০৯ সালে আবার এই পদে যোগ দেন। সর্বশেষ ২০১৫ সালে পেয়েছেন বিবিভিএ ফাউন্ডেশন ফ্রন্টিয়ার অব নলেজ অ্যাওয়ার্ড।

বুধবার মারা যান এই বিশ্বখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী। তার বয়স হয়েছিল ৭৬ বছর। স্টিফেন হকিং পৃথিবীর সেরা মহাকাশবিজ্ঞানীদের একজন। ব্ল্যাকহোল বা কৃষ্ণগহ্বর ও আপেক্ষিকতা নিয়ে গবেষণার জন্য বিখ্যাত ছিলেন ব্রিটিশ এই পদার্থবিদ।
বিস্তারিত

৩ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ওয়ালটন করপোরেট চুক্তি

দুটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এবং একটি আইটি ফার্মের সাথে করপোরেট চুক্তি করেছে ওয়ালটন কম্পিউটার। ওয়ালটন এবং প্রতিষ্ঠান তিনটির মধ্যে পারস্পরিক জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার বিনিময় সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে এই চুক্তি সম্পাদিত হয়। এরফলে প্রতিষ্ঠান তিনটির সব শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারী ওয়ালটন কম্পিউটার, ল্যাপটপ ও অনান্য এক্সেসরিজ ক্রয়ে বিশেষ সুবিধা পাবেন।
প্রতিষ্ঠান তিনটি হলো কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ, ভিক্টোরিয়া ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ এবং আইবিসিএস-প্রাইম্যাক্স।
সম্প্রতি রাজধানীতে প্রতিষ্ঠান তিনটির কার্যালয়ে উক্ত চুক্তি সম্পাদিত হয়। ওয়ালটন ডিজি-টেকের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন কম্পিউটার প্রজেক্ট ইনচার্জ মো. লিয়াকত আলী। কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ-এর পক্ষে ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মাহফুজুল ইসলাম এবং ভিক্টোরিয়া ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ-এর পক্ষে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসা প্রশাসন বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর মো. আব্দুল মান্নান চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। আইবিসিএস-প্রাইম্যাক্স-এর পক্ষে পরিচালক (শিক্ষা) কাজী আশিকুর রহমান চুক্তিবদ্ধ হন।
 
এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ওয়ালটন পিআর অ্যান্ড মিডিয়া বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক মো. ফিরোজ আলম, কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের রেজিস্ট্রার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. আসাদুজ্জামান সুভানী, ভিক্টোরিয়া ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ-এর ট্রেজারার ও ইংরেজি বিভাগের প্রফেসর রায়হানা শামস এবং আইবিসিএস-প্রাইম্যাক্স-এর ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর বিমল চন্দ্র বণিক।
 
অনুষ্ঠানে ওয়ালটনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ওয়ালটন ডিজি-টেক ইন্ড্রাস্ট্রিজ লিমিটেডের অধীনে গাজীপুরের চন্দ্রায় বিশ্বের সর্বাধুনিক প্রযুক্তির মেশিনারিজ সমৃদ্ধ কারখানায় ওয়ালটন কম্পিউটার ও ল্যাপটপ তৈরি হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যাতে প্রযুক্তিগত শিক্ষা লাভ করে প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে নিজেদের যোগ্য করে গড়ে তুলতে পারে, সেজন্যই ওয়ালটন কম্পিউটার ও ল্যাপটপ ক্রয়ে তাদের বিশেষ সুবিধা দেয়া হচ্ছে। এছাড়া, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ওয়ালটনে ইন্টার্নশিপ করতে পারবেন বলেও জানানো হয়।
এ সময় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা ওয়ালটনের সঙ্গে এরকম একটি চুক্তি সম্পাদনে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তারা এই চুক্তিকে উভয় পক্ষের জন্য একটি মাইলফলক বলেও উল্লেখ করেন।
ক্যাপশন: ওয়ালটন এবং কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের মধ্যে কর্পোরেট চুক্তি সম্পাদন করেন ওয়ালটন কম্পিউটার প্রজেক্ট ইনচার্জ মো. লিয়াকত আলী এবং কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ-এর ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মাহফুজুল ইসলাম। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ওয়ালটন পিআর অ্যান্ড মিডিয়া বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক মো. ফিরোজ আলম এবং কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের রেজিস্ট্রার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব) মো. আসাদুজ্জামান সুভানী।

বিস্তারিত

  • ‘মৃত শিশুর মাতৃত্ব নিয়ে সন্দেহ’ তদন্ত কমিটি গঠন
  • শুটিং না করেও টিজারে মুনমুন, পরিচালক বলছেন ভিন্ন কথা
  • বিশ্ব একাদশের হয়ে খেলবেন সাকিব-তামিম
  • বিয়ানীবাজারে জেনোসিডিল সহ যুবক আটক
  • বজ্রপাতের সময়ে যেসব বিষয়ে সতর্ক থাকতে হয়
  • এবার গোপালগঞ্জে বাসচাপায় এক নারী নিহত
  • সিকৃবিতে ‘সেলফ এসেসমেন্ট’ কমিটির কর্মশালা অনুষ্ঠিত
  • প্রভাষক জুয়েল হত্যার প্রতিবাদে সিলেটে মানববন্ধন
  • সিলেটে মশা নিধনে কার্যকর পদক্ষেপের দাবি
  • রাজনগরে গৃহবধূ খুন
  • বাংলাদেশ লোকসংস্কৃতি ফোরাম এর সিলেট বিভাগীয় প্রতিনিধি অসিত বরণ
  • ধোপাদিঘীর ‘ক্ষতি নয়,সৌন্দর্যবর্ধন করছে’ সিসিক
  • সিলেট চেম্বারে এসএমই উদ্যোক্তাদের ব্যবসা বিকাশে ই-কমার্স শীর্ষক সেমিনার
  • সুনামগঞ্জে ইয়াবাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী আটক
  • শাবিতে আসছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান
  • কাবুলে জঙ্গি হামলা, নিহত বেড়ে ৬৩
  • পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীকে তারেকের লিগ্যাল নোটিশ
  • বিএনপির মিছিলে পুলিশি বাধা
  • জাতীয় পার্টিতে বিএনপির অনেক নেতাই যোগ দেবে: এরশাদ
  • সংবাদ সম্মেলনে রিজভী তারেক রহমান পাসপোর্ট জমা দিলে সবাইকে দেখান
  • মুসলমানরাই সবচেয়ে বেশি সন্ত্রাসের শিকার: বান কি মুন   ৫০৬৯৯
  • ছলনাময়ী নারীদের চেনার উপায়   ১৪৮৯১
  • মেয়র কালামের পায়ের নিচে ওসি আতাউর শার্ট খুলে লিনডাউন,তারপর জুতো পেটার প্রস্তাব   ১৪৭৯৯
  • জুমার নামাজ ছুটে গেলে কী করবেন?   ১৩৪৪৮
  • ​চিনা কোম্পানিকে কাজ দিতে প্রতিমন্ত্রী তারানার স্বাক্ষর জাল   ৯৪৩০
  • জেনে নিন ছুলি দূর করতে কিছু ঘরোয়া উপায়   ৯৩৪২
  • মুসাফির কাকে বলে? মুসাফিরের রোযা ভঙ্গ করলে   ৮৯৩৩
  • ডিমের পর স্বয়ংসম্পূর্ণতার পথে সোনালি মুরগি   ৮৭৭১
  • গরুর দুধের অসাধারণ কয়েকটি গুণ   ৮৪৭৯
  • ঋণখেলাপি নই-হুন্ডি ব্যবসায়িও নই,সম্পত্তি নিলামের খবর অপপ্রচার-নাসির   ৮৪৬০
  • খতমে ইউনুস নামে সামাজে চলে আসা জালিয়াতী   ৭৮৭২
  • মুঘল সম্রাটদের দিনযাপন   ৭০১৮
  • হযরত শাহ্‌ জালাল ইয়েমেনী (রাঃ)-এঁর সংক্ষিপ্ত জীবনী   ৬৪৫৯
  • চিত্রনায়িকা সাহারার সেক্স ভিডিও ফাঁস!   ৬৪২৪
  • ম,আ,মুক্তাদিরের ছেলে রাহাত লন্ডনে এক সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছে   ৬৪১০
  • শিশুর কানে আজান দেবে কে?   ৬২৮০
  • প্রশ্নব্যাংকে প্রশ্ন, স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাছাই হয়ে পরীক্ষা   ৫৭৪১
  • কামরূপ-কামাখ্যা : নারী শাসিত যাদুর ভূ-খন্ড   ৫৭৩২
  • ফুলবাড়ির বশর চেীধুরী আজ ইন্তেকাল করেছেন   ৫৬৪৯
  • চিকিৎসায় দ্রুত সরকারি সহযোগিতা চান খাদিজার বাবা মাসুক মিয়া   ৫৪১৯
  • সাম্প্রতিক আরো খবর

  • বজ্রপাতের সময়ে যেসব বিষয়ে সতর্ক থাকতে হয়
  • তথ্য-প্রযুক্তি স্মার্টফোনের নেশা থেকে মুক্তি পেতে করণীয়
  • ক্যাসিও’র পানিরোধক স্মার্ট ঘড়ি
  • নাসার বিজ্ঞানীরা চাইছেন মঙ্গলে প্রথম পা ফেলুক নারী
  • ছবিতে ট্যাগিং নিয়ে মামলা : বিপাকে ফেসবুক
  • স্মার্ট এয়ারপোর্ট নির্মাণে হুয়াওয়ের নতুন প্রযুক্তি
  • গুগল ডুডলে বাংলা নববর্ষ
  • দেশে তৈরি সাশ্রয়ী মূল্যের স্মার্টফোন ‘প্রিমো এফ৮’
  • কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় শঙ্কিত এলন মাস্ক
  • 'ফেসবুকে মৃত্যুর গুজব ছড়ানোদের বিরুদ্ধে আইসিটি আইনে মামলা'
  • ফেসবুকে মুছে ফেলা যাবে পাঠানো মেসেজও
  • মেসেঞ্জারেও ফেসবুকের নজরদারি
  • ৮ কোটি ৭০ লাখ ফেসবুক ব্যবহারকারীর তথ্য ফাঁস
  • যমজ টেলিপ্যাথির রহস্য
  • যমজ টেলিপ্যাথির রহস্য
  • গুগল আপনার সব জানে! কীভাবে এড়াবেন গুগলের গোয়েন্দাগিরি
  • সাবধান হোন অ্যান্ড্রয়েড ফোন ব্যবহারকারীরা!
  • গুগল ডুডলে বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস
  • ফেসবুক ব্যবহারে টাকা গুণতে হবে!
  • ফেসবুকে ‘বিএফএফ’ গুজব
  • ‘দেশিয় সফটওয়্যার কোম্পানির অগ্রাধিকারে কাজ করবো’
  • বাংলাদেশে গুগলের এমসাইট সার্টিফিকেট পেল ‍৪৫০ জন
  • আন্তর্জাতিক রোবট অলিম্পিয়াডের সদস্য হল বাংলাদেশ
  • যে কারণে নোবেল পুরস্কার পাননি হকিং
  • ৩ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ওয়ালটন করপোরেট চুক্তি