সর্বশেষ খবর

   হাথুরুসিংহের পরিকল্পনা ভুলে গেছে বাংলাদেশ: মাশরাফি    নতুন সম্পর্কে জোলি!    মাটির লেয়ারের ভিন্নতায় পদ্মা সেতুর ১৪ পাইলের ডিজাইনে বিলম্ব    ব্যাংকিং খাতে জবাবদিহিতার জন্য পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে : অর্থমন্ত্রী    অবকাঠামো উন্নয়নে ৬০ মিলিয়ন ডলার দেবে ওএফআইডি    বাংলাদেশ যথেষ্ট সক্ষমতা অর্জন করেছে : বিশ্বব্যাংক    ৩৭ হজ এজেন্সিকে নোটিশ    বাজেটে এমপিও অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে সরকার সিদ্ধান্ত নিবে: প্রধানমন্ত্রী    ভোলাগঞ্জ ও কালাইরাগে ৩৬টি ‘বোমা মেশিন’ ধ্বংস    ফেঞ্চুগঞ্জে ছাত্রলীগের ৫ নেতা বহিষ্কার    আম্মার মতো আমিও হারিয়ে যাব : রাইমা    ‘সূর্যসেন’ নতুন মঞ্চনাটক    আমি মৃত্যুকে ভয় করি না: আইভী    আমি একাই যথেষ্ট: শামীম ওসমান    সিরিয়ার কুর্দিদের বিরুদ্ধে অভিযান চালাবেন এরদোয়ান    বড় ধরনের বিপদ থেকে বাচঁলেন শোয়েব!    কোহলির জরিমানা    নির্বাচন স্থগিত হওয়া ইসির চরম ব্যর্থতা: ফখরুল    ঢাকা উত্তরের মেয়র পদে উপনির্বাচন স্থগিত    রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু ২ বছরের মধ্যে


খবর - সাহিত্য

জসীম উদ্‌দীন সাহিত্য পুরস্কার দেবে বাংলা একাডেমি

বাংলা একাডেমি ‘জসীম উদ্‌দীন সাহিত্য পুরস্কার’ প্রবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে। পুরস্কারের মূল্যমান ৫ লাখ টাকা।

সোমবার বিকেলে একাডেমির সম্মেলন কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান, সচিব মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, একুশে গ্রন্থমেলা কমিটির সদস্য সচিব জালাল আহমেদ প্রমুখ বক্তব্য দেন।
মহাপরিচালক বলেন, দ্বিবার্ষিক এ পুরস্কারটি ষাটোর্ধ্ব জীবিত লেখক বা মনীষীকে দেওয়া হবে। বিশেষ সাহিত্য বা সাহিত্যে সামগ্রিক অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এ পুরস্কার দেওয়া হবে।
শামসুজ্জামান খান বলেন, ‘জসীম উদ্‌দীন সাহিত্য পুরস্কার’ শিরোনামে দুই বছর অন্তর প্রতি মার্চ মাসে এ বিস্তারিত

গণমানুষের কবি দিলওয়ারের ৮২তম জন্মদিন আজ

গণমানুষের কবি দিলওয়ার-এর ৮২তম জন্ম দিন আজ। তিনি ১৯৩৭ সালের ১ জানুয়ারি সিলেট জেলার দক্ষিণ সুরমার ভার্থখলার একটি সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পৈতৃক নিবাস ভার্থখলার ‘খান মঞ্জিল’। তাঁর পিতা মৌলভী মোহাম্মদ হাসান খান এবং মাতা রহিমুন্নেসা। ১৯৫২ সালে সিলেটের উত্তর সুরমার রাজা জিসি হাইস্কুল থেকে প্রবেশিকা পাসের পর এম সি কলেজ থেকে ১৯৫৪ সালে ইন্টারমিডিয়েট পাস করেন।
গণমানুষের প্রিয় কবি লেখালেখি শুরু করেন শৈশব থেকেই, মাত্র তের (১৩) বছর বয়সেই ১৯৪৯ সালে তৎকালীন সাপ্তাহিক যুগভেরী পত্রিকায় “সাইফুল্লাহ হে নজরুল” নামক কবিতাটি প্রথম ছাপা অক্ষরে প্রকাশিত হয়।শিক্ষকতার মাধ্যমে পেশা জীবনের শুরু হলেও এরপর রাজধানীতে এসে সাংবাদিকতা শুরু করেন কবি। ১৯৬৭ সালে সহকারী সম্পাদক হিসাবে যোগ দেন দৈনিক সংবাদে। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭৩-৭৪ সালে দৈনিক গণকণ্ঠেও সহকারী সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। উদীচী ও খেলাঘর আসরের সিলেটের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন দীর্ঘদিন তিনি।শারীরিক অসুস্থতার কারণে ইন্টারমিডিয়েট পাসের পরই তার প্রতিষ্ঠানিক শিক্ষার ইতি ঘটে। ১৯৬০ সালে পেশায় সেবিকা আনিসা খাতুনের সঙ্গে বিয়ে হয় কবি দিলওয়ারের।তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলো হলো-‘ঐকতান, ‘পূবাল হাওয়া’, ‘উদ্ভিন্ন উল্লাস’, ‘বাংলা তোমার আমার’, ‘রক্তে আমার অনাদি অস্থি’, ‘বাংলাদেশ জন্ম না নিলে’, ‘স্বনিষ্ট সনেট’, ‘নির্বাচিত কবিতা’, ‘দিলওয়ারের একুশের কবিতা’, ‘দিলওয়ারের স্বাধীনতার কবিতা’, ‘সপৃথিবী রইব সজীব’ ও ‘দুই মেরু, দুই ডানা’ ছাড়াও প্রবন্ধ, গান, ও ভ্রমণকাহিনীও লিখেছেন তিনি। জীবদ্দশায় কবি দিলওয়ার ১৯৮০ সালে কাব্য চর্চায় বাংলা একাডেমী পুরস্কার ও ২০০৮ সালে সাহিত্যে অবদানের জন্য একুশে পদক লাভ করেন।১০ অক্টোবর ২০১৩ সালে সিলেট নগরের ভার্থখলায় নিজ বাসভবনে মৃত্যূবরণ করেন কবি দিলওয়ার। এ উপলক্ষে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেন।এ উপলক্ষে কবি দিলওয়ার পরিষদের পক্ষ থেকে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।এদিকে, গণমানুষের কবি দিলওয়ারের ৮২ তম জন্মদিন উদ্যাপন উপলক্ষে কৈতর সিলেট আজ ১ জানুয়ারি সোমবার সন্ধ্যে ৬টায় কেমুসাস সাহিত্য আসর কক্ষে এক সভার আয়োজন করেছে। সভায় লেখক সাংবাদিক মুহম্মদ বশিরুদ্দিন-এর দ্বিতীয় গ্রন্থ ‘দিলওয়ার:ব্যক্তি ও কবি’-এর প্রকাশনা উৎসব অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদের সভাপতি প্রফেসর মো.আব্দুল আজিজ ও প্রধান বক্তা হিসেবে কেমুসাস-এর সাবেক সভাপতি অধ্যক্ষ মাসউদ খান উপস্থিত থাকবেন। সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বীর মুক্তিযোদ্ধা এডভোকেট মুজিবুর রহমান চৌধুরী, সমাজসেবী আ.ন.ম. শফিকুল হক, লে. কর্ণেল (অব.) কবি সৈয়দ আলী আহমদ, লে. কর্ণেল (অব.) অধ্যক্ষ এম. আতাউর রহমান পীর, অধ্যক্ষ কবি কালাম আজাদ, দেওয়ান মাহমুদ রাজা চৌধুরী। মূখ্য আলোচক হিসেবে উপস্থিত থাকবেন কবি মুকুল চৌধুরী। আলোচক হিসেবে উপস্থিত থাকবেন কবি বেলাল আহমদ চৌধুরী ও কবি মুসা আল হাফিজ। সভায় সভাপতিত্ব করবেন কৈতর সিলেট এর চেয়ারম্যান সেলিম আউয়াল। মূল প্রবন্ধ পাঠ করবেন কবি বাছিত ইবনে হাবীব। এতে সবাইকে যথাসময়ে উপস্থিত থাকার জন্য কৈতর সিলেট এর পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। বিস্তারিত

কথাসাহিত্যিক রবিশংকর বল আর নেই

কথাসাহিত্যিক, সাংবাদিক ও লেখক রবিশংকর বল আর নেই। মঙ্গলবার ভোর ৪টায় তিনি মারা যান।

পশ্চিমবঙ্গের কথাসাহিত্যিক অমর মিত্র মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, কয়েক দিন ধরেই রবিশংকর কলকাতার বিআরসিং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। শারীরিক অবস্থার অবনতি  হওয়ায় তাকে ভেন্টিলেশন দেওয়া হয়েছিল।
রবিশংকর বলের জন্ম ১৯৬২ সালে। তিনি ১৫টির বেশি উপন্যাস লিখেছেন। এ ছাড়া রয়েছে পাঁচটি ছোটগল্পের সংকলন। কবিতা ও শিল্পসাহিত্যবিষয়ক প্রবন্ধও রচনা করেছেন তিনি। সম্পাদনা করেছেন উর্দু লেখক সাদত হাসান মান্টোর নির্বাচিত রচনার বাংলা অনুবাদ সংকলন। ‘দোজখ্‌নামা’ উপন্যাস লিখে খ্যাতি অর্জন করেছেন। উপন্যাসটির জন্য পেয়েছেন পশ্চিমবঙ্গ সরকার প্রবর্তিত বঙ্কিমচন্দ্র স্মৃতি পুরস্কার।
এদিকে রবিশংকর বলের মৃত্যুতে তরুণ কথাসাহিত্যিক স্বকৃত নোমান তার ফেসবুক স্টেট্যাসে এক শোকবার্তায় লিখেছেন, পশ্চিম বাংলার সমকালীন যেসব লেখকের লেখাজোখা মনযোগ দিয়ে পড়ি, রবিশংকর বল ছিলেন তাঁদের একজন। কবরে শুয়ে শুয়ে মীর্জা গালিব ও সা’দত হাসান মান্টো সংলাপ করছে―তাঁর দোজখনামা উপন্যাসের এই আঙ্গিকটা অসাধারণ লেগেছিল। তাঁর অকালপ্রয়াণে বিচলিত হয়েছি। বেঁচে থাকলে বাংলা সাহিত্য আরো সৃমদ্ধ হতো। তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা।
গল্পকার মাসউদ আহমাদ লিখেছেন, গল্পকার-ঔপন্যাসিক রবিশংকর বল চলে গেলেন! সকালবেলায়, আমি নিজে এত অসুস্থ, তবুও তার মৃত্যুর খবরে মনটা বিষণ্নতায় ভরে গেল। তার সঙ্গে প্রথমবার কথা হয়েছিল ফেসবুকে। তার গল্প পছন্দ করি। রবিশংকরের গল্পের সাথে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন কথাশিল্পী হামীম কামরুল হক। অন্যরকম গল্প লিখতেন তিনি। উপন্যাসও। 'দোজখনামা' তার বিশেষ উপন্যাস। গত বছর আমার সম্পাদিত ছোটকাগজ গল্পপত্র-তে তিনি একটি লেখা দিয়েছিলেন, গল্পভাবনা। পরে, মার্চ মাসে কলকাতায় গিয়ে খুবই অল্প সময়ের জন্য তার সঙ্গে দেখা হয়েছিল। কিন্তু দুঃখ এই, সেই সময় হাতে গল্পপত্রের কপিটি ছিল না। তারও তাড়া ছিল। তাই দিতে পারিনি। আপনি ভালো থাকবেন, প্রিয় গল্পওয়ালা। প্রিয় রবিশংকর বল। আপনাকে অনেক ভালোবাসা ও শুভেচ্ছা জানাই। বিস্তারিত

‘তরুণেরা এখন বুক বাদ দিয়ে ফেসবুক নিয়ে মজে আছে’

সিলেটে প্রথমা এবং বেঙ্গল পাবলিকেশন্সের উদ্যোগে শুরু হয়েছে ছয় দিনব্যাপী ‘সিলেট বইমেলা’। মঙ্গলবার বিকেলে মেলার উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মো. রাহাত আনোয়ার। নগরের লামাবাজার এলাকার সিলেট জেলা স্টেডিয়ামের মোহাম্মদ আলী জিমনেশিয়ামে প্রতিদিন বেলা ১১টা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত এই মেলা সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। মেলা চলবে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত। প্রথম দিনেই লেখক-পাঠকের ভিড়ে জমে উঠেছে বইমেলা।

বেলা চারটায় আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক ছাড়াও অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন শিশু সাহিত্যিক তুষার কর, বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সদস্য মাহি উদ্দিন আহমদ সেলিম, কবি মোস্তাক আহমাদ দীন, আইনজীবী নূরে আলম সিরাজী, জেলা পরিষদের সদস্য মোহাম্মদ শাহনূর, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এনামুল মুনীর, লেখক জিবলু রহমান, আবিদ ফয়সাল, সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সহকারী অধ্যাপক প্রণবকান্তি দেব প্রমুখ। পুরো অনুষ্ঠানটি সঞ্চালন করেন প্রথম আলোর সিলেট প্রতিনিধি সুমনকুমার দাশ।

বক্তৃতায় উদ্বোধক জেলা প্রশাসক মো. রাহাত আনোয়ার বলেন, ‘তরুণেরা এখন বুক (বই) বাদ দিয়ে ফেসবুক নিয়ে মজে আছে। এ সময়ে তরুণদের বইপড়ায় আগ্রহ তৈরি করতে প্রথমা ও বেঙ্গল পাবলিকেশন্সের এই বইমেলার উদ্যোগ ইতিবাচক ফল নিয়ে আসবে। বইপড়ার কোনো বিকল্প নেই, কষ্ট করে হলেও বই পড়তে হবে। কেবল বই-ই পারে একটি জাতিকে উন্নতির চরম শিকড়ে পৌঁছে দিতে।’

মেলার প্রথম দিনেই লেখক-পাঠকদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। প্রথমদিনেই নগরের বিভিন্ন শ্রেণিপেশার বিশিষ্টজনেরা উপস্থিত হয়েছিলেন। এর মধ্যে উদীচী সিলেটের সভাপতি এ কে শেরাম, সহসভাপতি এনায়েত হোসেন মানিক, সম্মিলিত নাট্য পরিষদ সিলেটের সভাপতি মিশফাক আহমদ চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক রজতকান্তি গুপ্ত, সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ড্রাস্টির পরিচালক মুকির হোসেন চৌধুরী, ভূমিসন্তান বাংলাদেশের সমন্বয়ক আশরাফুল কবীর, বাউল বশিরউদ্দিন সরকার, বাউল শাহীনুর আলম সরকার, নাট্য সংগঠক মোস্তাক আহমদ, সংস্কৃতিকর্মী রীমা দাস, প্রণবজ্যোতি পাল, লেখক জসীম আল ফাহিম প্রমুখ উল্লেখযোগ্য।

    মেলায় প্রথমা এবং বেঙ্গল পাবলিকেশন্সের বই ছাড়াও দেশি-বিদেশি বইয়ের বিশাল সমারোহ থাকবে। প্রথমার বইয়ে ৩০% থেকে ৬০% পর্যন্ত এবং বেঙ্গল পাবলিকেশন্সের বইয়ে ২৫% থেকে ৫০% পর্যন্ত ছাড়ে বিক্রি হবে। অন্যান্য প্রকাশনীর বই ২৫% ছাড়ে বিক্রি হবে। এ ছাড়া ভারতীয় নতুন বই ১ রুপি=১.৮ টাকা ও ভারতীয় পুরোনো বই ১ রুপি=১.৫ টাকা হিসেবে বিক্রি হবে। মেলা আয়োজনে সহযোগিতা করছে প্রথম আলো সিলেট বন্ধুসভা।
বিস্তারিত

চিত্রশিল্পী এসএম সুলতানের ২৩তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

চিত্রশিল্পী এসএম সুলতানের ২৩ তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। এ উপলক্ষে নড়াইলে সুলতান সংগ্রহশালায় নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। নড়াইল জেলা প্রশাসন এবং এসএম সুলতান ফাউন্ডেশন দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

তার পুরো নাম ছিল শেখ মোহাম্মদ সুলতান। পরিবারের সকলের কাছে তিনি লাল মিয়া নামেও পরিচিত ছিলেন।

বিশেষ ঢং আর প্রেক্ষাপটে আঁকা চিত্রকর্মের জন্যই সবার কাছে সুপরিচিত তিনি। চিত্রশিল্পীর পাশাপাশি তিনি ছিলেন একজন সুর সাধকও। বাঁশি বাজানো ছিল তার নেশা। ১৯৮২ সালে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাকে ‘এশিয়ার ব্যক্তিত্ব’ ঘোষণা করে।

১৯২৩ সালের ১০ আগস্ট তৎকালীন পূর্ব বাংলায় নড়াইলের মাসিমদিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন শেখ মোহাম্মদ সুলতান। তার মায়ের নাম মোছাম্মত মেহেরুননেসা। তার বাবা শেখ মোহাম্মদ মেসের আলী পেশায় ছিলেন রাজমিস্ত্রি। তবে কৃষিকাজই ছিল তার বাবার মূল পেশা, পাশাপাশি বাড়তি আয়ের জন্য ঘরামীর কাজও করতেন।

বিদ্যালয়ে পড়ানোর মতো সামর্থ্য তার পরিবারের না থাকলেও ১৯২৮ সালে নড়াইলের ভিক্টোরিয়া কলেজিয়েট লাল মিয়াকে স্কুলে ভর্তি করানো হয়। তবে মাত্র পাঁচ বছর অধ্যয়নের পর সেই বিদ্যালয়ে ছেড়ে বাবার সহযোগী হিসেবে রাজমিস্ত্রির কাজ শুরু করেন তিনি। এ সময় বাবার ইমারত তৈরির কাজ সুলতানকে প্রভাবিত করে এবং তিনি রাজমিস্ত্রির কাজের ফাঁকে আঁকা-আঁকি শুরু করেন।

১৯৭৬ সালে তার আঁকা শিল্পকর্ম নিয়ে শিল্পকলা একাডেমীর প্রদর্শনীর মধ্যে দিয়েই নতুন করে সামনে আসে তার প্রতিভা। তেলরঙ এবং জলরঙ-এ ছবি আঁকতেন এই চিত্রশিল্পী। পাশাপাশি রেখাচিত্র আঁকতেন। আঁকার জন্য তিনি একেবারে সাধারণ কাগজ, রঙ এবং জটের ক্যানভাস ব্যবহার করতেন।

এজন্য তার অনেক ছবিরই রঙ নষ্ট হয়ে যায়। নড়াইলে থাকাকালীন সময়ে তিনি অনেক ছবি কয়লা দিয়ে এঁকেছিলেন, সঠিকভাবে সংরক্ষণের অভাবে সেগুলোও নষ্ট হয়ে যায়।

তার আঁকা চিত্রকর্মে গ্রামীণ জীবনের পরিপূর্ণতা, প্রাণপ্রাচুর্যের পাশাপাশি শ্রেণীর দ্বন্দ্ব এবং গ্রামীণ অর্থনীতির হালও ফুটে উঠেছে। পাশাপাশি এই চিত্রশিল্পীর আঁকা ছবিগুলোতে বিশ্বসভ্যতার কেন্দ্র হিসেবে গ্রামের মহিমা উঠে এসেছে এবং কৃষককে এই কেন্দ্রের রূপকার হিসেবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।

১৯৯৪ সালের ১০ অক্টোবর মৃত্যুবরণ করেন এই শিল্পী। শিল্পীর মৃত্যুর পর নড়াইলে শিল্পীর সমাধিকে কেন্দ্র করে সুলতানের চিত্রকর্ম, ব্যবহার্য জিনিসপত্র নিয়ে গড়ে তোলা হয় সুলতান সংগ্রহশালা।

বর্তমানে শিল্পীর এই সংগ্রহশালায় নেই যথাযথ লোকবল, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা, দুর্লভ ছবি সংরক্ষণে কার্যকর উদ্যোগ। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বেশ কিছু চিত্রকর্মে ভাঁজ পড়েছে, ফাটল দেখা দিয়েছে। ২০১৬ সালে শিল্পকলা একাডেমি থেকে প্রতিনিধি দল গিয়ে একটি চিত্রকর্ম সংস্কার কাজ করেন তারপর আর কোন উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

শিল্পী সুলতান ১৯৮২ সালে একুশে পদক, ১৯৮৪ সালে বাংলাদেশ সরকারের রেসিডেন্ট আর্টিস্ট হিসেবে স্বীকৃতি, ১৯৮৬ সালে বাংলাদেশ চারুশিল্পী সংসদ সম্মাননা এবং ১৯৯৩ সালে স্বাধীনতা পদকসহ অসংখ্য পদকে ভূষিত হয়েছেন।
বিস্তারিত

গণমানুষের কবি দিলওয়ার-এর ৫ম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

গণমানুষের কবি দিলওয়ারের ৫ম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ২০১৩ সালের ১০ অক্টোবর শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন বাংলা সাহিত্যের এই শক্তিমান কবি। অভিভক্ত ভারতবর্ষে কবি দিলওয়ার এর জন্ম।

ব্রিটিশ-ভারতের অন্তর্গত শ্রীহট্ট জেলার (বর্তমান সিলেট) দক্ষিণ সুরমার ভার্থখলা গ্রামে ১৯৩৭ সালের ১ জানুয়ারি দিলওয়ার-এর জন্ম হয়। (পুরো নাম দিলওয়ার খান) ডাক নাম দিলু। পিতা মরহুম মৌলভী মোহাম্মদ হাসান খান এবং মাতা মরহুমা মোসাম্মৎ রহিমুন্নেসা।

ঝালোপাড়া পাঠশালা থেকে প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করে রাজা জি.সি. হাইস্কুল থেকে মেট্রিকুলেশন পাশ করেন ১৯৫২ সালে। ১৯৫৪ সালে এম.সি কলেজ থেকে আই.এ পাশ করেন। তারপর শারীরিক অসুস্থতার জন্য একাডেমিক পড়াশুনার ইতি টানেন।

দক্ষিণ সুরমা হাইস্কুলের শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু। শিক্ষকতার স্থায়িত্বকাল মাত্র দুই মাস। তারপর সাংবাদিক জীবন। ১৯৬৭ থেকে ১৯৬৯ দৈনিক সংবাদের সহকারী সম্পাদক, ১৯৬৯-১৯৭১ সম্পাদক সমস্বর। ১৯৭৩-১৯৭৪ দৈনিক গণকন্ঠের সহকারী সম্পাদক। ১৯৭৪-এ সিনিয়র ট্রান্সলেটর মাসিক উদয়ন, বাংলা সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, ঢাকা। ফেব্রুয়ারি ১৯৭৫ সম্পাদক উল্লাস, জুন ১৯৭৫ সম্পাদক-মৌমাছি। ১৯৭৬ সম্পাদক গ্রাম সুরমার ছড়া। জানুয়ারি ১৯৮১ সম্পাদক মরুদ্যান ১৯৮৫ সম্পাদক-সময়ের ডাক। ১৯৮৬ প্রধান সম্পাদক-সিলেট পরিদর্শক।

‘তুমি রহমতের নদীয়া’ তাঁর রচিত গান দিয়ে সিলেট বেতার কেন্দ্র উদ্বোধন করা হয়। সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার-এর প্রতিষ্ঠাতা আহবায়ক, সিলেট খেলাঘর এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি; সিলেট উদীচী শিল্পী গোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি; ভার্থখলা স্বর্ণালী সংঘ’-এর জন্মদাতা এবং স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের গীতিকার ছিলেন কবি দিলওয়ার।

তরুণ বয়সে ১৯৫৩ সালে বের হয় কবির প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘জিজ্ঞাসা’। কবিতা ‘সাইফুল্লাহ হে নজরুল’ তাঁর প্রথম প্রকাশিত রচনা যা প্রকাশ হয় দৈনিক যুগভেরীতে ১৯৪৮/৪৯ সালে। তাঁর ১২টি কাব্যগ্রন্থ, ২টি গানের বই; ২টি প্রবন্ধ গ্রন্থ, ২টি ছড়ার বই, দিলওয়ার রচনা সমগ্র ১ম খ-, দিলওয়ার রচনা সমগ্র ২য় খন্ড, ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রীর ডাকে (সংবর্ধনা স্মৃতিচারণ-২০০১) বিভিন্ন সময় প্রকাশ হয়। মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত ষাটোর্ধকাল কবি দিলওয়ার অসংখ্য লেখা লিখেছেন। বিভিন্ন জনের কাছে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে এবং যা অপ্রকাশিত।

ঊনসত্তরের গণআন্দোলনের সংগে একাত্ম হয়ে সিলেটের কবি-সাহিত্যিক-সাংবাদিক-শিল্পীদের নিয়ে গঠন করেন ‘সমস্বর লেখক ও শিল্পী সংস্থা’। সংস্থাটি ছিল স্বাধীনতার প্রতীক।

একুশে পদক, বাংলা একাডেমী পুরস্কারসহ বিভিন্ন সম্মাননায় ভূষিত হন কবি দিলওয়ার।

মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে পাঠ্য পুস্তকে কবির রচনা ‘রক্তে আমার অনাদি অস্থি’ কবিতাটি অন্তর্ভুক্ত হয়।

আজ কবি’র ৫ম প্রয়াণদিবসে কবি দিলওয়ার পরিষদ সকাল ৯টায় কবির সমাধিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে কবির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন জানাবে। এছাড়া দোয়া ও প্রার্থনা সভার উদ্যোগ নিয়েছেন কবি দিলওয়ার পরিষদ।

বিস্তারিত

‘আমারে দেবো না ভুলিতে’

“আমারে দেবো না ভুলিতে” শিরোনামে হবিগঞ্জে পালিত হল প্রেম সাম্য ও দ্রোহের কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৪১ তম প্রয়াণ দিবস।

সুসজ্জিত মঞ্চে কবিতা পত্রসাহিত্য আর গানের মাধ্যমে চমৎকার পরিবেশনা ছিল চারুকন্ঠের শিল্পীদের।

“গাহি সাম্যের গান, মানুষের চেয়ে বড় কিছু নাই নহে কিছু মহীয়ান।” “একি অপরূপ রূপে মা তোমার হেরি গো পল্লী জননী”, “আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে”সহ নজরুলের গান ও কবিতায় ভরপুর অনুষ্ঠানে দর্শকদের নন্দিত হয় গৌরি রায়ের কন্ঠে ফজিলাতুন্নেসা কে নিয়ে কাজী মোতাহের হোসেনের কাছে লেখা নজরুলের চিঠিপাঠ।

বুধবার সুরবিতান ললিতকলা একাডেমীতে নজরুল একাডেমীর আয়োজনে ছিল চারুকন্ঠের পরিবেশনা।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই জাতির পিতা স্মরণে ১ মিনিট শোক প্রকাশ করা হয়। প্রথম পর্ব শুরু হয় নমঃ নমঃ নমো কবিতার মাধ্যমে। তারপর কবিতা, পত্র পাঠ ও গানের মাধ্যমে অনুষ্ঠান চলমান থাকে।

২য় পর্বে হয় অনুভূতি ব্যাক্ত করেন করেন আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হবিগঞ্জেরজেলা প্রশাসক মনীষ চাকমা অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে খুব গর্ববোধ করেন। তিনি বলেন, এমন সাজসজ্জা ও গোছানো অনুষ্ঠান জাতীয় পর্যায়ে দেখা যায়। হবিগঞ্জে আসার পর এমন একটি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহন করতে পেরে খুব গর্ববোধ করছি।

হবিগঞ্জ নজরুল একাডেমির সভাপতি তাহমিনা বেগম গিনির সভাপত্বি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক মনীষ চাকমা। বিশেষ অতিথি ছিলেন স্থানীয় সরকার উপ পরিচালক (উপ-সচিব) শফিউল আলম, অধ্যাপক ইকরামুল ওয়াদুদ, ডাঃ জমির আলী প্রমুখ।

গৌরি রায়ের পরিচালনায় পরিবেশনায় ছিল চারুকন্ঠের একঝাঁক তরুন শিল্পী। মঞ্চ সজ্জায় ছিলেন নারায়ন রায় ও অজয় রায়।
বিস্তারিত

প্রথাবিরোধী লেখক হুমায়ুন আজাদের মৃত্যুবার্ষিকী আজ

বহুমাত্রিক জ্যোতির্ময় ও বাংলা সাহিত্যের প্রথাবিরোধী লেখক হিসেবে পরিচিত হুমায়ুন আজাদের মৃত্যুবার্ষিকী আজ (১২ আগস্ট)।

২০০৪ সালের ১২ আগস্ট জার্মানির মিউনিখ শহরে রহস্যজনকভাবে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর আগে ওই বছরের ২৭ ফেব্রুয়ারি তিনি একুশে বইমেলায় ধর্মীয় মৌলবাদীদের সন্ত্রাসী হামলার শিকার হন। সে সময় এই হামলাকে কেন্দ্র করে পুরো দেশের প্রগতিশীল সমাজ বিক্ষোভে ফেটে পড়ে।

হুমায়ুন আজাদ ১৯৪৭ সালের ২৮ এপ্রিল মুন্সিগঞ্জের রাড়িখাল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। প্রথাবিরোধী এই লেখক ছিলেন একই সাথে কবি, উপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, ভাষা বিজ্ঞানী ও সাহিত্য সমালোচক।

তিনি ছিলেন মার্ক্সিয় দর্শনের অনুসারি এবং একজন মুক্তচিন্তার ধারক-বাহক ও পথ প্রদর্শক। সমাজের প্রতিটি রন্ধ্রে বিরাজমান সব প্রথাকে তিনি আস্তাকুঁড়ে ফেলে হয়ে উঠেছিলেন প্রথাবিরোধী এক মানুষ। তাই হুমায়ুন আজাদের লেখনির মাঝেই প্রকাশ পায় তাঁর প্রথা বিরোধিতা।

সমসাময়িক লেখক সাহিত্যিকদের সাহিত্য নিয়ে তিনি সমালোচনা করেছেন নির্দ্বিধায়। লেখকের এই প্রথা বিরোধিতার ফলে তিনি নানান সময়ে আলোচিত-সমালোচিত হলেও বিজ্ঞানমনষ্ক ও যুক্তিবাদী চিন্তা চেতনার কারণে বাংলা সাহিত্যে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা বিন্দুমাত্র কমেনি, বরং বেড়েছে বহুগুণ। তাই তাঁর মৃত্যুর এক যুগ অতিবাহিত হলেও এখনও তিনি এবং তাঁর লেখনি অপরিমেয় চিন্তার খোরাক যোগায়।

ধর্মীয় মৌলবাদ ও সাম্প্রদায়িকতার ঘোর বিরোধী এই লেখকের উল্লেখযোগ্য উপন্যাসগুলোর মধ্যে রয়েছে পাক সার জমিন সাদ বাদ, ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইল, যাদুকরের মৃত্যু, শ্রাবণের বৃষ্টিতে রক্তজবা।

কাব্যগ্রন্থের মধ্যে আছে সব কিছু নষ্টদের দখলে যাবে, আমি বেঁচে ছিলাম অন্যদের সময়, অলৌকিক ইস্টিমার। এছাড়া ভাষা বিজ্ঞানের বইয়ের মধ্যে বাংলা ভাষার শত্রুমিত্র, বাঙলা ভাষা (প্রথম ও দ্বিতীয় খণ্ড), তুলনামূলক ও ঐতিহাসিক ভাষা বিজ্ঞান। তাঁর লেখা প্রবচনগুচ্ছ পাঠকদের বিশেষ নজর কাড়ে। এছাড়া তিনি লিখেছেন কিশোরসাহিত্য ও সমালোচনামূলক বহু গ্রন্থ।

২০১২ সালে সাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য তিনি মরণোত্তর একুশে পদক লাভ করেন।

ধর্মীয় মৌলবাদের প্রবল আক্রোশ ও আক্রমণে তাঁর রক্ত ঝরলেও এখনও সে হত্যাচেষ্টা মামলার নিষ্পত্তি হয় নি।
বিস্তারিত

বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে ১৩ শতাধিক গ্রন্থ প্রকাশ

জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিুবুর রহমানের জীবন ও কর্মের ওপর বিভিন্ন বিষয়ে লেখা এই পর্যন্ত দেশ-বিদেশে প্রায় ১৩ শতাধিক মৌলিক গ্রন্থ প্রকাশ পেয়েছে। একজন নেতার ওপর পৃথিবীর আর কোন দেশে এতো বিপুল সংখ্যক বই প্রকাশ পায়নি বলে লেখক-প্রকাশকরা জানিয়েছেন।

লেখক ও প্রকাশকরা বাসসকে জানান, এই বইগুলো বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় প্রকাশিত। এ ছাড়াও বঙ্গবন্ধুর ওপর বেশ সংখ্যক বই চীনা, জাপানী, ইটালী, জার্মানী, সুইডিশসহ কয়েকটি বিদেশী ভাষায় প্রকাশিত হয়েছে।

বাংলা একাডেমি থেকে ২০১৪ সালের জুন মাসে প্রকাশিত আবু মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেনের লেখা ‘বঙ্গবন্ধু বিষয়ক গ্রন্থপঞ্জি’ বইতে উল্লেখ করা হয়, ‘১৯৯৮ সালে ‘বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধু চর্চা’ শিরোনামে আমার যে বইটি প্রকাশ পেয়েছিল, তাতে বঙ্গবন্ধুর ওপর বইয়ের সংখ্যা ছিল সাড়ে তিনশত। আর বর্তমান ‘বঙ্গবন্ধু বিয়ষক গ্রন্থ’ বইটিতে (২০১৪ সালে প্রকাশ) এ পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুর ওপর প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা ১ হাজার ছাড়িয়ে গেছে।’ তার এই বইটি প্রকাশের পর তিন বছরেরও বেশি সময় অতিবাহিত হয়েছে। এ সময়ে বঙ্গবন্ধুর ওপর আরও তিন শতাধিক বই প্রকাশ পেয়েছে বলে বিভিন্ন প্রকাশনা সংস্থা থেকে এবং লেখকরা জানান। এ নিয়ে প্রায় শুধুমাত্র ১৩ শত মৌলিক গ্রন্থ জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর ওপর প্রকাশ পেয়েছে।

‘বঙ্গবন্ধু বিষয়ক গ্রন্থপঞ্জি’ বইতে যে পরিসংখ্যান দেয়া হয়,তা ১৬টি শিরোনামে বিভক্ত করা হয়। এর মধ্যে ‘ভাষা আন্দোলন ও বঙ্গবন্ধু’ বিষয়ক বই প্রকাশ পেয়েছে ৯টি। ‘আগরতলা মামলা ও উনসত্তরের গণঅভূত্থান’ বিষয়ে সাতটি, মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধু’ বিষয়ে ১১৭টি, রাজনীতি, প্রশাসন ও পররাষ্ট্রনীতি বিয়ষক ১৭৩টি,‘স্মৃতিচারণমূলক গ্রন্থ’ বিষয়ে ৩২টি, আলোকচিত্র ও দলিলপত্র বিষয়ে ১২৬টি, প্রবন্ধ ও নিবন্ধ বিষয়ে ১০৪টি, গল্প ও উপন্যাস বিষয়ে ১২২টি, কবিতা ও ছড়া বিষয়ে’ ৯৮টি, জীবনী গ্রন্থ-১৫১টি, শিশুতোষ গ্রন্থ- ৭৮টি, ‘বঙ্গবন্ধুবিরোধীদের দৃষ্টিতে বঙ্গবন্ধু’ বিষয়ে-১৪টি, বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে লেখা যাত্রা, নাটক, সংগীত, গীতি আলেখ্য গ্রন্থ ১১টি, বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড বিষয়ক গ্রন্থ- ৮১টি, মূল্যায়নধর্মী গ্রন্থ’৫৫টি এবং দেশি-বিদেশী লেখকদের লেখা ইংরেজি ভাষায় প্রকাশিত গ্রন্থ- ৬৭টি প্রকাশ পেয়েছে।

দেলোয়ার হোসেন বইটির ভূমিকায় বলেন ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালের লাইব্রেরিসহ, বাংলা একাডেমি লাইব্রেরি, কেন্দ্রীয় পাবলিক লাইব্রেরি ও বিভিন্ন জেলার লাইব্রেরি এবং কলকাতাসহ কয়েকটি দেশ থেকেও বঙ্গবন্ধুর ওপর বইয়ের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এরপরও দেশের বিভিন্ন জেলায় প্রকাশিত অনেক বইয়ের তথ্য সংগ্রহ করা যায়নি।’

গ্রন্থটির তথ্য অনুযায়ি দেশের প্রায় তিন শতাধিক প্রকাশনী উল্লেখিত বইগুলো প্রকাশ করেছে। এর মধ্যে বেশি সংখ্যক বই প্রকাশ করেছে,বাংলা একাডেমি, আগামী প্রকাশনী, ইউপিএল, মওলা ব্রাদার্স, সময় প্রকাশনী, পারিজাত প্রকাশনী, পার্ল, অন্বেষা, অন্য প্রকাশ, হাক্কানী, পাঠক সমাবেশ, বর্ণায়ন, অনুপম, প্রতীক, মীরা প্রকাশনী, জাগৃতি।

এ ছাড়া এক থেকে পাঁচটি পর্যন্ত বই প্রকাশ করেছে শতাধিক প্রকাশনী। অন্যদিকে ইংরেজি ভাষায় দেশে সবচেয়ে বেশি বই প্রকাশ করেছে ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড (ইউপিএল)। তারা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ‘আত্মজীবনী’ গ্রন্থটি একযোগে বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় প্রকাশ করে। বাংলা একাডেমি ও আগামী প্রকাশনীও ইংরেজি ভাষায় এ সংক্রান্ত বই প্রকাশ করেছে।

বাংলা একাডেমি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের লেখা ‘কারাগারের রোজনামচা’সহ নয়টি বই প্রকাশ করেছে। এই বইটি বঙ্গবন্ধুর কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সার্বিক তত্ত্বাবধানে প্রকাশিত হয়। মীরা প্রকাশনী থেকে জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারের মামলা তদন্ত, ডেথ রেফারেন্স, সওয়াল জবাব, সাক্ষীদের জেরা ও রায় নিয়েই শুধু আবুল হোসেনের লেখা নয়টি গ্রন্থ প্রকাশ করেছে। মীরা থেকে জানান হয়, তারা বঙ্গবন্ধু বিষয়ে প্রকাশ করেছে বাইশটি বই।

বিভিন্ন প্রকাশকরা জানান, ২০১৪ সালে বাংলা এডাডেমি বঙ্গবন্ধুর ওপর গ্রন্থপঞ্জি বইটি প্রকাশের পর গত তিন বছরে বঙ্গবন্ধুর ওপর আরও প্রায় তিন শতাধিক বই প্রকাশ পেয়েছে। ফলে এ পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুর ওপর শুধুমাত্র মৌলিক গ্রন্থ তের শতাধিক দাঁড়িয়েছে। গত তিনটি একুশের গ্রন্থমেলায় বঙ্গবন্ধুর ওপর অসংখ্য বই প্রকাশ পেয়েছে।

অধ্যাপক আনিসুজ্জামান এ বিষয়ে বাসসকে বলেন, পৃথিবীর আর কোন নেতার ওপর এতো বই প্রকাশ পেয়েছে বলে আমার জানা নেই। বাংলাদেশ নানা প্রতিকুল অবস্থার মধ্যে থেকেও বঙ্গবন্ধুর ওপর এতো বই বের হয়েছে,তা তার প্রতি ভালবাসা ও কৃতজ্ঞতারই প্রকাশ পায়। তার জীবন ও কর্মের ওপর অপ্রকাশিত অনেক তথ্য বের হয়ে আসছে প্রতিনিয়ত। ফলে বঙ্গবন্ধুর ওপর বই প্রকাশনা আগামীতেও অব্যাহত থাকবে এই আশা করা যায়।

আগামী প্রকাশনী বঙ্গবন্ধুর ওপর বিভিন্ন বিষয়ে ৮০টি বই প্রকাশ করেছে। এই প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী ওসমান গণি বাসসকে বলেন, এককভাবে আমরা সবচেয়ে বেশি বই প্রকাশ করেছি। আমরা আশিটি বই প্রকাশ করেছি। এর মধ্যে শেখ হাসিনার ‘ শেখ মুজিব আমার পিতা’ বইটিসহ কয়েকটি বই বিপুল সংখ্যক বিক্রি হয়েছে। তিনি বলেন,আমাদের জানা মতে এ পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুর ওপর বইয়ের সংখ্যা হবে তেরশ’র বেশি। আর কোন দেশের জাতির পিতা-স্থপতির ওপর এতো বই প্রকাশ পেয়েছে কি না সন্দেহ। সে দিক থেকে আমরা গর্ব করতে পারি বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে। প্রতি মাসেই অসংখ্য বই বের হচ্ছে জাতিরপিতাকে নিয়ে।

বাংলা একাডেমি ২০১৪ সালে প্রকাশিত একটি বইয়ে বঙ্গবন্ধু বিষয়ক বইয়ের সংখ্যা ১ হাজারের বেশি বলেছে। সেই সময়েই এগারশত প্রকাশ পেয়েছিল। আর গত তিনবছরে বের হয়েছে আড়াইশ’র মতো বই। সংখ্যাটা বর্তমানে তেরশ’র বেশি হবে। সরকারী পৃষ্ঠপোষকতা পেলে বঙ্গবন্ধুর ওপর আরও গুরুত্বপূর্ণ বই প্রকাশ করা যাবে।

পারিজাত প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী শওকত হোসেন লিটু জানান, বাঙালি জাতির জন্য এটা সৌভাগ্য যে-বঙ্গবন্ধুর ওপর এতো বই প্রকাশ পেয়েছে। এতো বিপুল সংখ্যক বই হয়তো বিশ্বের অন্য কোন নেতার ওপর প্রকাশ পায়নি। তারা পনেরটি বই বের করেছেন বলে জানান।

কবি হাবীবুল্লাহ সিরাজী বাসস’কে বলেন, বঙ্গবন্ধুর ওপর তেরশত বই প্রকাশের খবরটি নিঃসন্দেহে আনন্দের। এ পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে চীনা, জাপানীজ, ইটালী, জামার্নী ও সুইডিশ ভাষায়ও অসংখ্য বই প্রকাশ পেয়েছে। এই সব বইয়ের মধ্যে যদি পাঁচশত বই’ও উন্নতমানের হয়ে থাকে, তা বাঙালিজাতির জন্য অনন্য সুখবর। কারণ পৃথিবীর আর কোন নেতাকে নিয়ে এতো গ্রন্থ প্রকাশ পায়নি। বাসস


বিস্তারিত

রবীন্দ্র প্রয়াণ দিবস আজ

আজ বাইশে শ্রাবণ। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ৭৬তম মৃত্যুবার্ষিকী। যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি পালন উপলক্ষে সরকারি ও বেসরকারিভাবে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সাহিত্যিক রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৮৬১ সালের ৭ মে (বাংলা-পঁচিশে বৈশাখ-১২৬৮) ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার জোড়াসাঁকো ঠাকুর পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর। মাতা সারদা সুন্দরী দেবী। রবীন্দ্রনাথের পূর্বপুুরুষেরা খুলনা জেলার রুপসা উপজেলার পিঠাভোগে বাস করতেন। বাংলা ১৩৪৮ সালের বাইশে শ্রাবণ (ইংরেজি ৭ আগস্ট-১৯৪১) কলকাতায় পৈতৃক বাসভবনে মৃত্যুবরণ করেন তিনি।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একাধারে কবি, উপন্যাসিক, নাট্যকার, সংগীতজ্ঞ, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, ভাষাবিদ, চিত্রশিল্পী-গল্পকার। আট বছর বয়সে তিনি কবিতা লেখা শুরু করেন। ১৮৭৪ সালে ‘তত্ববোধিনী পত্রিকা’য় তার প্রথম লেখা কবিতা ‘অভিলাষ’ প্রকাশিত হয়। অসাধারণ সৃষ্টিশীল লেখক ও সাহিত্যিক হিসেবে সমসাময়িক বিশ্বে তিনি খ্যাতিলাভ করেন। লিখেছেন বাংলা ও ইংরেজি ভাষায়। বিশ্বের বিভিন্ন ভাষায় তার সাহিত্যকর্ম অনূদিত হয়েছে। বিভিন্ন দেশের পাঠ্যসূচিতে তার লেখা সংযোজিত হয়েছে। ১৮৭৮ সালে তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘কবিকাহিনী’ প্রকাশিত হয়। এ সময় থেকেই কবির বিভিন্ন ঘরানার লেখা দেশ-বিদেশে পত্র-পত্রিকায় প্রকাশ পেতে থাকে। ১৯১০ সালে প্রকাশিত হয় তার ‘গীতাঞ্জলী’ কাব্যগ্রন্থ। এই কাব্যগ্রন্থের ইংরেজি অনুবাদের জন্য তিনি ১৯১৩ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।

লেখালেখির পাশাপাশি তিনি ১৯০১ সালে পশ্চিমবঙ্গের শান্তিনিকেতনে ব্রহ্মচর্যাশ্রম প্রতিষ্ঠা করেন। এরপর থেকে তিনি সেখানেই বসবাস শুরু করেন। ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনে জড়িয়ে পড়েন। ১৯২১ সালে গ্রামোন্নয়নের জন্য ‘শ্রীনিকেতন’ নামে একটি সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯২৩ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘বিশ্বভারতী’ প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৮৯১ সাল থেকে পিতার আদেশে কুষ্টিয়ার শিলাইদহে, পাবনা, নাটোরে এবং উড়িষ্যায় জমিদারীগুলো তদারকি শুরু করেন কবি। শিলাইদহে তিনি দীর্ঘদিন অতিবাহিত করেন। এখানে জমিদার বাড়িতে তিনি অসংখ্য কবিতা ও গান রচনা করেন। ১৯০১ সালে শিলাইদহ থেকে সপরিবারে কবি বোলপুরে শান্তিনিকেতনে চলে যান।

বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ৭৬তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বাংলা একাডেমি আজ রবিবার বিকাল চারটায় আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে বিশেষজ্ঞ বক্তৃতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। এছাড়াও বাংলাদেশ রবীন্দ্র সংগীত শিল্পী সংস্থা, শিশু একাডেমি বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। এদিকে, ছায়ানট আয়োজন করেছে স্মরণ অনুষ্ঠানের। সন্ধ্যা সাতটায় ছায়ানট ভবনে শুরু হবে অনুষ্ঠান।

বিস্তারিত

বইপ্রেমীদের সংগঠন ‘মলাট’র যাত্রা শুরু

শুক্রবার (২৮ জুলাই) বিকাল চারটায় সিলেটের ঐতিহ্যবাহী মুরারীচাঁদ (এমসি) কলেজ প্রাঙ্গণে সিলেটের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত পেশাজীবী বইপ্রেমীরা মিলিত হয়ে পাঠকদের সাম্প্রতিক পড়া বই নিয়ে প্রাণবন্ত আড্ডা শেষে এ সংগঠনের আত্মপ্রকাশ করে।

মলাটের সমন্বয়ক সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ ও প্রকাশনা বিভাগের সহকারী পরিচালক ফয়সাল খলিলুর রহমান জানান, ‘দিনদিন বই পড়া কমিয়ে দিচ্ছি আমরা। শিক্ষার্থীদের পাঠ্যপুস্তকের বাইরেও অন্যান্য বই পড়া দরকার। সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইটগুলো দিনদিন আসক্তিতে রূপান্তর হচ্ছে, ঠিক এ চিন্তা থেকেই মলাট আত্মপ্রকাশ করলো।’

আয়োজক সূত্রে জানা যায়, লেখক আর পাঠকদের সমন্বয়ক হবে এই সংগঠন। পাক্ষিক পাঠচক্র, সাহিত্য সভা, লেখকের সাথে আড্ডা, বই মেলা আয়োজন, পাঠাগার নির্মাণ ইত্যাদি কর্মসূচি নিয়ে এগুবে মলাট।

মলাটের যাত্রার দিনে উপস্থিত ছিলেন গোলাপগঞ্জ উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার রিমা দাস, সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজের চিকিৎসক সৈয়দা রূমী, বিয়ানীবাজার সরকারী কলেজের শিক্ষার্থী শেখ মাহফুজা রশিদ দিবা, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের রনজয় তালুকদার, শেখ নূরুল আমীন, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের রওনক আফরোজ ইভা, শবনম বিনতে মতিউর, নর্থ ইস্ট ইউনিভার্সিটির উত্তম কাব্য দাস, সাজিদ আহমেদ, এমসি কলেজের অর্ণব তালুকদার দিপু, আমিনা আক্তার, সিলেট সরকারী কলেজের নওরিন আক্তার তন্বী, মদনমোহন কলেজের জিপসী তারেক, লিটন লিটু, গৃহিণী অতন্দ্র তমিস্রা প্রমুখ।
বিস্তারিত

হুমায়ূনের কবরে স্ত্রী-সন্তানদের ভালোবাসা

কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের ৫ম মৃত্যুবার্ষিকীতে তার কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন, ছেলে নিশাদ, নিনিত,  লেখকের পরিবার-পরিজন ও হুমায়ুন ভক্তরা।

বুধবার বেলা পৌনে ১২টার দিকে গাজীপুরের নুহাশপল্লীতে লেখকের কবর জিয়ারত ও ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান তারা। এর পর মাওলানা মজিবুর রহমান বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করেন।

এর আগে মঙ্গলবার সকাল থেকেই বৃষ্টি উপেক্ষা করে ঢাকা, গাজীপুর ও আশপাশের এলাকা থেকে শত শত হুমায়ূন ভক্ত নুহাশপল্লীতে ভিড় করেন। তাদের অনেকেই প্রিয় লেখকের কবরে ফুল দেন এবং নিশ্চুপ দাঁড়িয়ে থেকে তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।
বিস্তারিত

স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী সুব্রত সেনগুপ্ত মারা গেছেন

মহান মুক্তিযুদ্ধের অপ্নুপ্রেরণাদায়ী স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী, গীতিকার সুব্রত সেনগুপ্ত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।

প্রোস্টেট ক্যান্সারে আক্রান্ত এই শিল্পী মঙ্গলবার ভোরে ঢাকার গ্রিন লাইফ হাসপাতালে মারা যান। মৃত্যুর বিষয়টি সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন তাঁর স্ত্রী জলি সেনগুপ্ত।

তিনি বলেন, “ভোর সাড়ে ৫টার দিকে ফোন আসে, তার অবস্থা খারাপের দিকে যাচ্ছে। পরে সাড়ে ৬টার দিকে তিনি আমাদের ছেড়ে চলে যান।”

চিকিৎসকরা আগেই জানিয়েছিলেন, সুব্রতর প্রোস্টেট গ্ল্যান্ডের ক্যান্সার শরীরের অন্যান্য অংশেও ছড়িয়ে পড়েছে। সেইসঙ্গে আরও কিছু জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি। বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে গ্রিন লাইফের আইসিইউতে ভর্তি ছিলেন বেশ কিছু দিন।

জলি জানান, হাসপাতাল থেকে তাঁর স্বামীর মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে পোস্তগলা মহাশ্মশানে, সেখানেই শেষকৃত্য হবে।

সুব্রত সেনগুপ্ত স্বদেশি আন্দোলনের নেতা সুধীর সেনগুপ্তের ছেলে; প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার তার মায়ের আপন বোন। একাত্তরে যখন বাঙালির স্বাধীনতার যুদ্ধ শুরুল হয়, সুব্রত তখন ঢাকার সেগুনবাগিচায় ওস্তাদ বারীণ মজুমদারের সংগীত মহাবিদ্যালয়ের ছাত্র। মুক্তিযুদ্ধ শুরুর পর এক পর্যায়ে কসবা হয়ে আগরতলা চলে যান সুব্রত সেনগুপ্ত। সেখান থেকে যান কলকাতায়, যোগ দেন বালীগঞ্জ সার্কুলার রোডে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে।

‘রক্ত চাই রক্ত চাই, অত্যাচারীর রক্ত চাই’, ‘ছোটরে সবাই বাঁধ ভাঙা অগণিত গ্রাম মজুর কিষাণ’, ‘শোন জনতা গণ জনতা’সহ স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে গাওয়া মুক্তিযুদ্ধের বেশ কিছু গান সুব্রত সেনগুপ্তর রচনা করা।

গীতিকার সুব্রত একুশে ফেব্র্রুয়ারি নিয়ে ১৬০টি গান, আর বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে ৫৫৫টি গান রচনা করেছেন।

সুব্রত-জলি দম্পতির দুই ছেলে শুভদীপ সেনগুপ্ত ও সংগীত সেনগুপ্ত দুজনই স্নাতকোত্তর পর্যায়ে লেখাপড়া করছেন।
বিস্তারিত

‘নিখোঁজ’ ফরহাদ মজহার

বিশিষ্ট কবি, লেখক ও কলামিস্ট ফরহাদ মজহারকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাকে অপহরণ করা হয়েছে বলে সন্দেহ করছেন তার পরিবারের সদস্যরা।

সোমবার ভোর চারটার দিকে একজন পরিচিত ব্যক্তির ফোন পেয়ে বাসা থেকে বেরিয়ে যান তিনি। এরপর থেকে আর তার সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না।

আদাবর থানার এসআই মোহসিন সাংবাদিকদের বলেন, “সকাল ১০টার দিকে ফরহাদ মজহারের এক আত্মীয় থানায় এসে অভিযোগ করেন, তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। ভোর চারটার দিকে পরিচিত এক লোকের ফোন পেয়ে বাসা থেকে বেরিয়ে যান। এরপর আর তার সঙ্গে যোগাযোগ হয়নি।”

তিনি বলেন, “ফরহাদ মজহারের বাসায় এখন শুধু তার স্ত্রী রয়েছেন। ওই ঘটনায় এখনো কোনো জিডি বা মামলা হয়নি। তবে অভিযোগ পাওয়ার পর ওসি ও ইনস্পেক্টর তদন্ত ফরহাদ মজহারের বাসায় গিয়েছেন। তারাই এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে পারবেন।”

ফরহাদ মজহারের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত রুমেল হোসেন বলেন, “ফরিদা আপার (ফরহাদ মজহারের সহধর্মিনী) সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। আরোো কয়েকজনের সঙ্গেও কথা হয়েছে। তাকে অপহরণের কথা বলেছেন তারা।”

রুমেল বলেন, “ভোরের দিকে ফরহাদ ভাই ঘুম থেকে উঠেন। তাকে কেউ একজন ডাক দিয়েছেন এবং ডাক শুনে তিনি চার তলা থেকে নিচে নামেন। এরপর তাকে আর পাওয়া যায়নি। এরপর তিনি ফোনে দুই-তিনবার ফরিদা আপার সঙ্গে কথা বলেছেন। এর মধ্যে একবার তিনি বলেন, ওরা আমাকে নিয়ে যাচ্ছে, আমাকে মেরে ফেলবে। এরপর তিনি আবার ফোনে কথা বলেন। তখন তিনি জানিয়েছেন তারা ৩৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ চায়।”

ফরহাদ মজহার তার চিন্তা ও কর্মের ভেতর দিয়ে ইতোমধ্যে কিংবদন্তি হয়ে উঠেছেন। ১৯৪৭ সালে নোয়াখালীতে জন্ম নেয়া এ চিন্তকের যেমন আছে অনুসারীদল তেমনি আছে কট্টর নিন্দুকসমাজ। জীবনযাপন, কাজ, কাব্য, সঙ্গীত, নাটক, চিন্তাভাবনা, কৃষি, শিল্প, প্রকৃতি, ভাবান্দোলন, রাজনীতি সব মিলিয়েই তার পক্ষে-বিপক্ষেও তর্ক, যুক্তি, ভর্ৎসনা চলে চা-খানায় ও অন্তর্জালে।
বিস্তারিত

কবর থেকে তোলা হবে শিল্পী সালভাদর দালির দেহ

বিখ্যাত পরাবাস্তববাদী চিত্রশিল্পী সালভাদর দালির দেহাবশেষ কবর থেকে তুলে পরীক্ষা করার নির্দেশ দিয়েছেন মাদ্রিদের এক আদালতের বিচারক।

এর কারণ, ১৯৫৬ সালের জন্মানো এক মহিলা এক মামলায় দাবি করেছেন সালভাদর দালিই তার পিতা, কারণ তার জন্মের আগের বছর অর্থাৎ ১৯৫৫ সালে তার মা'র সাথে সেই বিখ্যাত শিল্পীর গোপন প্রণয়ের সম্পর্ক ছিল।

মহিলাটির মা সে সময় একজন গৃহপরিচারিকা ছিলেন।

দালির মৃতদেহ কবে কবর থেকে তোলা হবে তার কোন তারিখ ঠিক হয় নি। তবে এটা জুলাই মাসেও হতে পারে।

সালভাদর দালি ১৯৮৯ সালে ৮৫ বছর বয়েসে স্পেনে মারা যান।

মামলাকারী মহিলাটির নাম মারিয়া পিলার আবেল মার্টিনেজ। তার জন্ম জিরোনাতে। তিনি প্রথম এই পিতৃত্বের দাবি করেন ২০১৫ সালে।

তিনি বলেন, তার মা আন্তোনিয়া কাদাকুয়েস-এর একটি পরিবারে কাজ করতেন। তাদের পাশের বাড়িটিতেই থাকতেন সালভাদর দালি।

১৯৫৫ সালে তিনি ওই কাজ ছেড়ে দিয়ে আরেক শহরে গিয়ে অন্য এক ব্যক্তিকে বিয়ে করেন।

কিন্তু মিজ মার্টিনেজ বলছেন, তার মা তাকে অনেকবার বলেছেন যে তার আসল বাবা হচ্ছেন সালভাদর দালি। অন্যান্য লোকের সামনেও তিনি এ কথা বলেছেন।

এল মুন্ডো নামের এক পত্রিকাকে মিজ মার্টিনেজ বলেন - "সালভাদর দালির শুধু একটি জিনিসই আমার নেই - তা হলো তার গোঁফ।"

তার মায়ের সাথে কথিত ওই প্রেমের সময় সালভাদর দালি বিবাহিত ছিলেন।

তার স্ত্রী এবং মডেলের নাম গালা - আসল নাম এলেনা ইভনোভনা দিয়াকোনোভা। তাদের কোন সন্তান ছিল না।

মিজ মার্টিনেজের এর আগে দুবার পিতৃত্বের পরীক্ষা হয়েছিল কিন্তু তার কোন ফলাফল তিনি পান নি।

পরীক্ষায় যদি প্রমাণ হয় যে তিনি সালভাদর দালিরই সন্তান, তাহলে তিনি চাইলে দালির পদবী ব্যবহার করতে এবং দালির সম্পত্তির অংশ পেতে পারবেন।

খবরঃ বিবিসি বাংলা।

বিখ্যাত পরাবাস্তববাদী চিত্রশিল্পী সালভাদর দালির দেহাবশেষ কবর থেকে তুলে পরীক্ষা করার নির্দেশ দিয়েছেন মাদ্রিদের এক আদালতের বিচারক।

এর কারণ , ১৯৫৬ সালের জন্মানো এক মহিলা এক মামলায় দাবি করেছেন সালভাদর দালিই তার পিতা, কারণ তার জন্মের আগের বছর অর্থাৎ ১৯৫৫ সালে তার মা'র সাথে সেই বিখ্যাত শিল্পীর গোপন প্রণয়ের সম্পর্ক ছিল।

মহিলাটির মা সে সময় একজন গৃহপরিচারিকা ছিলেন।

দালির মৃতদেহ কবে কবর থেকে তোলা হবে তার কোন তারিখ ঠিক হয় নি। তবে এটা জুলাই মাসেও হতে পারে।

স্পেনছবির কপিরাইটEPAImage captionআবেল মার্টিনেজ (ডানে), ও সালভাদর দালি

সালভাদর দালি ১৯৮৯ সালে ৮৫ বছর বয়েসে স্পেনে মারা যান।

মামলাকারী মহিলাটির নাম মারিয়া পিলার আবেল মার্টিনেজ - তার জন্ম জিরোনাতে। তিনি প্রথম এই পিতৃত্বের দাবি করেন ২০১৫ সালে।

তিনি বলেন, তার মা আন্তোনিয়া কাদাকুয়েস-এর একটি পরিবারে কাজ করতেন। তাদের পাশের বাড়িটিতেই থাকতেন সালভাদর দালি।

১৯৫৫ সালে তিনি ওই কাজ ছেড়ে দিয়ে আরেক শহরে গিয়ে অন্য এক ব্যক্তিকে বিয়ে করেন।

কিন্তু মিজ মার্টিনেজ বলছেন, তার মা তাকে অনেকবার বলেছেন যে তার আসল বাবা হচ্ছেন সালভাদর দালি। অন্যান্য লোকের সামনেও তিনি এ কথা বলেছেন।

স্পেনছবির কপিরাইটKEYSTONEImage captionনিজের মাথার ভাস্কর্যের সামনে সালভাদর দালি

এল মুন্ডো নামের এক পত্রিকাকে মিজ মার্টিনেজ বলেন - "সালভাদর দালির শুধু একটি জিনিসই আমার নেই - তা হলো তার গোঁফ।"

তার মায়ের সাথে কথিত ওই প্রেমের সময় সালভাদর দালি বিবাহিত ছিলেন।

তার স্ত্রী এবং মডেলের নাম গালা - আসল নাম এলেনা ইভনোভনা দিয়াকোনোভা। তাদের কোন সন্তান ছিল না।

স্পেনছবির কপিরাইটBARHAMImage captionসালভাদর দালি ও তার স্ত্রী গালা

মিজ মার্টিনেজের এর আগে দুবার পিতৃত্বের পরীক্ষা হয়েছিল কিন্তু তার কোন ফলাফল তিনি পান নি।

পরীক্ষায় যদি প্রমাণ হয় যে তিনি সালভাদর দালিরই সন্তান, তাহলে তিনি চাইলে দালির পদবী ব্যবহার করতে এবং দালির সম্পত্তির অংশ পেতে পারবেন।
বিস্তারিত

শহীদ জননী জাহানারা ইমামের মৃত্যুবার্ষিকী আজ

শহীদ জননী জাহানারা ইমামের মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ১৯৯৪ সালের ২৬ জুন তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে তাঁর ছেলে শফি ইমাম রুমী শহীদ হন। এছাড়া তার স্বামী শরীফ ইমামও মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে মৃত্যুবরণ করেন। নিজের ছেলেকে মুক্তিযুদ্ধে পাঠিয়েছিলেন তিনি, অমর এ তাগের জন্যে তিনি 'শহীদ জননী' হিসেবে সমধিক পরিচিত।

তাঁর একাত্তরের দিনলিপি নিয়ে বিখ্যাত গ্রন্থ ‘একাত্তরের দিনগুলি’-তে একজন মুক্তিযোদ্ধার মায়ের দৃঢ়তা, ত্যাগ ফুটে উঠেছে। যা তাঁকে দেশের মানুষের কাছে চির সম্মানের আসনে পৌঁছে দেয়।

১৯৮৮ সালে বাংলাদেশের অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র গঠনের সর্বশেষ সাংবিধানিক পেরেক ঠুকে দেন জেনারেল এরশাদ। কলমের খোঁচায় দেশের ওপর লেগে যায় ধর্মীয় লেবাস। গড়ে ওঠে সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী জোট। নেতৃত্বে ছিলেন- আহমদ শরীফ, শাহরিয়ার কবির, সিরাজুল ইসলাম, শহীদ জননী জাহানারা ইমাম। কিন্তু তারা নির্বিঘ্নে তাদের প্রতিবাদ চালিয়ে যেতে পারেন নি।

সামরিক শাসকের রক্তচক্ষু আর সাম্প্রদায়িক মৌলবাদী গোষ্ঠীর রোষানলে পড়েন। রাজাকার মান্নানের ইনকিলাব পত্রিকা তাদের বিপক্ষে নেমে পড়ে সম্মুখ সমরে। ফলে হেন কোন অভিধা বাকি থাকেনি তাদের জন্যে। তবু তারা প্রতিবাদে মুখর ছিলেন এবং লৌকিক কোন অর্জন ঘরে তুলতে না পারলেও চেতনার বীজকে প্রোথিত করেছিলেন সবার মাঝে। যা এক দাবানল হিসেবে পরিগণিত হয়।

১৯৯২ সালে যখন জামায়াতে ইসলামি তাদের ভারপ্রাপ্ত আমীরের পদ থেকে রাজাকার আব্বাস আলী খানকে সরিয়ে দিয়ে গোলাম আজমকে "আমীর" ঘোষণা করলো তখন চেতনার স্ফুলিঙ্গ জ্বলে ওঠে। সামনে চলে আসে ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি। শহীদ জননী জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে গঠিত হয় গণআদালত।

শহীদ জননী জাহানারা ইমামের আন্দোলনের সূত্রপাত হয় ১৯৯১ সালের ২৯ ডিসেম্বর যখন পাকিস্তানি নাগরিক ও যুদ্ধাপরাধী গোলাম আযমকে জামায়াতে ইসলামী তাদের দলের আমীর ঘোষণা করে। একটা দলের প্রধান কে হবে সেটা তাদের নিজস্ব বিষয় থাকলেও যখনই একজন পাকিস্তানি নাগরিক এবং শীর্ষ যুদ্ধাপরাধীকে বাংলাদেশের একটা রাজনৈতিক দলের প্রধান করা হয় তখনই বিক্ষোভে ফেটে পড়ে সুধী সমাজ।

জাহানারা ইমামকে আহ্বায়ক করে ১৯ জানুয়ারি ১৯৯২, ১০১ সদস্যবিশিষ্ট একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি গঠিত হয়। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী প্রতিরোধ মঞ্চ, ১৪টি ছাত্র সংগঠন, প্রধান প্রধান রাজনৈতিক জোট, শ্রমিক-কৃষক-নারী এবং সাংস্কৃতিক জোটসহ ৭০টি সংগঠনের সমন্বয়ে ১৯৯২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি 'মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন ও একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল জাতীয় সমন্বয় কমিটি' গঠিত হয়।

কমিটি ১৯৯২ সালে ২৬ মার্চ 'গণআদালত' এর মাধ্যমে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে একাত্তরের নরঘাতক গোলাম আযমের ঐতিহাসিক প্রতীকী বিচার অনুষ্ঠান করে। গণআদালতে গোলাম আযমের বিরুদ্ধে দশটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ উত্থাপিত হয়।

এডভোকেট গাজিউল হক, ড. আহমদ শরীফ, স্থপতি মাজহারুল ইসলাম, ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ, সুফিয়া কামাল, কবীর চৌধুরী, কলিম শরাফী, শওকত ওসমান, লে. কর্নেল (অব.) কাজী নুরুজ্জামান, লে. কর্নেল (অব.) আবু ওসমান চৌধুরী ব্যারিস্টার শওকত আলী খান এবং জাহানারা ইমাম নিয়ে ১২ জন বিচারক সমন্বয়ে গঠিত গণআদালতের রায়ে গোলাম আযমের ১০টি অপরাধ মৃত্যুদণ্ডযোগ্য বলে ঘোষণা করেন।

গণআদালতের চেয়ারম্যান হিসেবে রায় ঘোষণা করে শহীদ জননি জাহানারা ইমাম এবং একই সাথে তিনি গণআদালতের রায় কার্যকর করার জন্য সরকারের কাছে দাবিও জানান।

গণআদালতে যখন গোলাম আযমের মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষিত হলো তখনই জামায়াতবান্ধব বিএনপি সরকার গণআদালতের সাথে সংশ্লিষ্ট ২৪ জন বিশিষ্ট ব্যক্তিসহ জাহানারা ইমামের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগ এনে অজামিনযোগ্য মামলা দায়ের করে। পরবর্তী সময়ে হাইকোর্ট ২৪ বিশিষ্ট ব্যক্তির জামিন মঞ্জুর করেন।

এরপর লাখো জনতার পদযাত্রার মাধ্যমে জাহানারা ইমাম ১৯৯২ সালের ১২ এপ্রিল গণআদালতের রায় কার্যকর করার দাবি সম্বলিত স্মারকলিপি নিয়ে জাতীয় সংসদের স্পিকার, প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ও বিরোধীদলীয় নেত্রী শেখ হাসিনার কাছে পেশ করেন। ১০০ জন সংসদ সদস্য গণআদালতের রায়ের পক্ষে সমর্থন ঘোষণা করেন। রায় বাস্তবায়নের দাবি জানানো ১০০ জন সংসদ সদস্যের মধ্যে ৮৮জনই ছিলেন আওয়ামীলীগ থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য।

গণআদালতে রায় ঘোষণা, স্মারকলিপি দিয়েই তিনি থেমে থাকেন নি, আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় দেশব্যাপী গণস্বাক্ষর, গণসমাবেশ, মানববন্ধন, সংসদ যাত্রা, অবস্থান ধর্মঘট, মহাসমাবেশ ইত্যাদি কর্মসূচি পালনের মাধ্যমে আন্দোলন আরও বেগবান হয়।

তৎকালীন বিএনপি সরকার ১৯৯৩ সালের ২৮ মার্চ নির্মূল কমিটির সমাবেশে পুলিশ হামলা চালায় । পুলিশের লাঠিচার্জে আহত হন জাহানারা ইমাম। সারাদেশ থেকে এই আন্দোলন দেশের বাইরেও ছড়িয়ে যায়। বিশ্বের দেশে দেশে বাংলাভাষী বাংলাদেশি আছেন সেখানেও গঠিত হয় কমিটি।

২৬ মার্চ ১৯৯৩ সালে স্বাধীনতা দিবসে গণআদালত বার্ষিকীতে জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে গণতদন্ত কমিটি ঘোষিত হয় এবং আরও আট শীর্ষ যুদ্ধাপরাধীর নাম ঘোষণা করা হয়। যার মধ্যে রয়েছে আব্বাস আলী খান, মতিউর রহমান নিজামী, মোঃ কামারুজ্জামান, আবদুল আলীম, দেলাওয়ার হোসেইন সাইদি, মওলানা আবদুল মান্নান, আনোয়ার জাহিদ এবং আবদুল কাদের মোল্লা।

গণতদন্ত কমিটি ঘোষিত হওয়ার ঠিক এক বছর পর ১৯৯৪ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসে গণআদালতের দ্বিতীয় বার্ষিকীতে গণতদন্ত কমিশনের চেয়ারম্যান কবি বেগম সুফিয়া কামাল ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউটের সামনে জনসমাবেশে জাহানারা ইমামের হাতে জাতীয় গণতদন্ত কমিশনের রিপোর্ট হস্তান্তর করেন যেখানে সন্নিবেশিত ছিল রাজাকারদের আখ্যান এবং অপরাধের পূর্বাপর।

গণতদন্ত কমিশনের সদস্যরা ছিলেন শওকত ওসমান, কে এম সোবহান, সালাহ উদ্দিন ইউসুফ, অনুপম সেন, দেবেশ চন্দ্র ভট্টাচার্য, খান সারওয়ার মুরশিদ, কবি শামসুর রাহমান, শফিক আহমেদ, আবদুল খালেক এবং সদরুদ্দিন।

একই সমাবেশে আরও আট যুদ্ধাপরাধীর বিরুদ্ধে তদন্ত কার্যক্রম চালানোর ঘোষণা দেয়া হয়। এ সময়ে খুব দ্রুত শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটতে থাকলে ১৯৯৪ সালের ২ এপ্রিল চিকিৎসার জন্যে যুক্তরাষ্ট্রে যেতে হয় জাহানারা ইমামকে। সে সময়ে তিনি কথা বলার শক্তি হারিয়ে ফেলেন। ২৬ জুন সবাইকে ছেড়ে চলে যান জাহানারা ইমাম।

শহীদ জননী জাহানারা ইমাম মারা যাওয়ার আগে দেশবাসীর উদ্দেশে এক আবেগঘন এবং দিকনির্দেশনাপূর্ণ চিঠি লিখে গেছেন। যে চিঠিতে তিনি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নের ভার দেশবাসীর ওপর ছেড়ে দিয়ে নিশ্চিন্ত থাকতে চেয়েছিলেন।

তাঁর অসুস্থতা এবং মৃত্যুর মাত্র দিন তিনেক আগে বাংলাদেশে গোলাম আযম নাগরিকত্ব লাভ করে। দীর্ঘ তিন বছরের আন্দোলনের পরিসমাপ্তি হয় দুঃখজনকভাবে। মারা যাওয়ার আগে জাহানারা ইমাম এই আন্দোলনের দায়িত্ব জনসাধারণের ওপর ন্যস্ত করে দিয়ে এক আবেগঘন ও দিকিনির্দেশনামূলক চিঠি লিখেন। চিঠিতে তিনি লিখেন-

    সহযোদ্ধা দেশবাসীগণ,
    আপনারা গত তিন বছর একাত্তরের ঘাতক ও যুদ্ধাপরাধী গোলাম আযমসহ স্বাধীনতাবিরোধী সকল অপশক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করে আসছেন। এই লড়াইয়ে আপনারা দেশবাসী অভূতপূর্ব ঐক্যবদ্ধতা ও সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন। আন্দোলনের শুরুতে আমি আপনাদের সঙ্গে ছিলাম। আমাদের অঙ্গীকার ছিল লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত কেউ রাজপথ ছেড়ে যাবো না।

    মরণব্যাধি ক্যান্সার আমাকে শেষ মরণ কামড় দিয়েছে। আমি আমার অঙ্গীকার রেখেছি। রাজপথ ছেড়ে যাই নি। মৃত্যুর পথে বাধা দেবার ক্ষমতা কারো নেই। তাই আপনাদের কাছ থেকে বিদায় নিচ্ছি এবং অঙ্গীকার পালনের কথা আরেকবার আপনাদের মনে করিয়ে দিতে চাই। আপনারা আপনাদের অঙ্গীকার ও ওয়াদা পূরণ করবেন। আন্দোলনের শেষ পর্যায় পর্যন্ত ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ে থাকবেন। আমি না থাকলেও আপনারা আমার সন্তান-সন্ততিরা - আপনাদের উত্তরসূরিরা সোনার বাংলায় থাকবেন।

    এই আন্দোলনকে এখনো অনেক দুস্তর পথ পাড়ি দিতে হবে। দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক, মুক্তিযোদ্ধা, নারী, ছাত্র ও যুবশক্তি, নারীসমাজসহ দেশের সর্বস্তরের মানুষ এই লড়াইয়ে আছে। তবু আমি জানি জনগণের মতো বিশ্বস্ত আর কেউ নয়। জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস। তাই গোলাম আযম ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের মুখোমুখি করা এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নের দায়িত্বভার আমি আপনাদের, বাংলাদেশের জনগণের হাতে অর্পণ করলাম। অবশ্যই, জয় আমাদের হবেই।
    - জাহানারা ইমাম

বিস্তারিত

‘ঈদ’, ‘ইদ’, দু’ভাবেই লিখা যাবে

ঈদের আগে ‘ঈদ’ বানান নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিতর্কের সূত্রপাত বাংলা একাডেমির আধুনিক বাংলা অভিধান। এ অভিধানে দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত ‘ঈদ’ শব্দকে ‘ইদ’ হিসেবে লেখা হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এ নিয়ে তোলপাড়। পক্ষে-বিপক্ষে অনেকেই। এ অবস্থায় বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. শামসুজ্জামান খান জানিয়েছেন, দুটি বানানই লিখা যায়। ‘ঈদ’ বানানটিকে তিনি ঐতিহ্য এবং ‘ইদ’ বানানকে সংস্কার বলেও উল্লেখ করেছেন।

বৃহস্পতিবার (২২ জুন) ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে লিখেন, "বাংলা একাডেমির আধুনিক বাংলা অভিধানে প্রথম বানান হিসাবে 'ঈদ' এবং বিকল্প বানান 'ইদ' দেয়া আছে। প্রথম বানানটি প্রচলিত;  ২য় বানানটি সংস্কারকৃত। কোন মানুষ দীর্ঘকাল কোন বানান ব্যবহার করলে তা ঐতিহ্যে পরিণত হয়ে যায়। 'ঈদ' বানানটি তেমনি। অতএব, দুটি বানানই ব্যবহার করা যায়।"

উল্লেখ্য, বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধানে ‘ইদ’ শব্দটির ভুক্তিতে বলা হয়েছে, ‘ইদ/ইদ্/[আ.]বি. ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের প্রধান উৎসব; (ইদুল ফিতর বা ইদুল আজহা); খুশি, উৎসব; ঈদ-এর সংগততর ও অপ্রচিলত বানান। ইদ মোবারক /ইদ্ মোবারক্/বি. ইদের শুভেচ্ছা বিনিময়কালে উচ্চারিত অভিবাদন।’ অন্যদিকে, অভিধানের ‘ঈদ’ ভুক্তিতে বলা হয়েছে, ‘/ইদ/[আ.]বি. ইদ-এর প্রচলিত ও অসংগত বানান।’ আবার বাংলা একাডেমি ব্যবহারিক বাংলা অভিধানে ‘ইদ’ শব্দের ভুক্তিতে নির্দেশ করা হয়েছে ‘ঈদ’ শব্দকে।
বিস্তারিত

কবি সুফিয়া কামালের ১০৬ তম জন্মবার্ষিকী আজ

বাঙালী নারী জাগরণের অগ্রদূত কবি বেগম সুফিয়া কামালের ১০৬তম জন্মবার্ষিকী মঙ্গলবার। ১৯১১ সালের ২০ জুন বরিশালের শায়েস্তাবাদে মামার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন সুফিয়া কামাল।রক্ষণশীল মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করলেও মায়ের কাছেই বাংলা পড়তে শেখেন এই মহিয়সী নারী।

কবি সুফিয়া কামাল সাহিত্য চর্চার পাশাপাশি নারীমুক্তি, মানবমুক্তি এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় নিরলস কাজ করে গেছেন। তিনি বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন। ১৯৬১ সালে পাকিস্তান সরকার কর্তৃক রবীন্দ্রসঙ্গীত নিষিদ্ধের প্রতিবাদে সংগঠিত আন্দোলনেও যোগ দেন। ৬৯’এর গণঅভ্যুত্থানে অংশ নিয়েছেন। একাত্তরের মার্চে অসহযোগ আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। তিনি ছিলেন একজন একনিষ্ঠ সংগঠক। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন তিনি।
- বিজ্ঞাপন -

কবি সুফিয়া কামালের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে পৃথক পৃথক বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বাণীতে রাষ্ট্রপতি বলেন, বেগম সুফিয়া কামালের আদর্শ ও অমর সাহিত্যকর্ম নতুন প্রজন্মের কাছে প্রেরণার চিরন্তন উৎস হয়ে থাকবে। তার সাহিত্যকর্ম নতুন প্রজন্মকে গভীর দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ ও অনুপ্রাণিত করে। কবির জীবন ও আদর্শ এবং তার অমর সাহিত্যকর্ম নতুন প্রজন্মের প্রেরণার চিরন্তন উৎস হয়ে থাকবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সাহিত্যে বেগম সুফিয়া কামালের সৃজনশীলতা ছিল অবিস্মরণীয়। শিশুতোষ রচনা ছাড়াও দেশ, প্রকৃতি, গণতন্ত্র, সমাজ সংস্কার এবং নারীমুক্তিসহ বিভিন্ন বিষয়ে তার লেখনী আজও পাঠককে আলোড়িত ও অনুপ্রাণিত করে। সুফিয়া কামাল ছিলেন একদিকে আবহমান বাঙালি নারীর প্রতিকৃতি, মমতাময়ী মা, অন্যদিকে বাংলার প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রামে ছিল তার আপোষহীন এবং দৃপ্ত পদচারণা।

কবির ১০৬ তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করছে। এর মধ্যে রয়েছে কবি সুফিয়া কামাল স্মারক বক্তৃতা, কবি সুফিয়া কামাল সম্মাননা পদক প্রদান ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

এ ছাড়াও সভায় ‘মুক্তিযুদ্ধের অসাম্প্রদায়িক চেতনা এবং শিক্ষা ও সুফিয়া কামাল’ শীর্ষক স্মারক বক্তৃতা প্রদান করবেন বিশিষ্ঠ সমাজবিজ্ঞনী ড. অনুপম সেন। সকাল ১০ টায় শুরু হওয়া সভায় সভাপতিত্ব করবেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি আয়শা খানম।

বিস্তারিত

আমরা প্রকৃতই ‘ভোতা’ হয়ে গেছি

অম্বরীষ দত্ত

ক'দিন ধরে মনটা খুব খারাপ, ইদানিং যা প্রায় নৈমিত্তিক হয়ে গেছে, গা সওয়া। আর খুব খুব করে মনে পড়ছে স্বচক্ষে দেখা একটা ঘটনা। আশির দশকের মধ্যভাগে শেষভাগে খালাম্মা মানে কবি সুফিয়া কামাল মাঝে মাঝেই সিলেটে এসে দিন কতেক থাকতেন, মেয়ের বাসায়, মানে রঞ্জুদার বাসায়।

তখন এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে সারা দেশ উত্তাল। আমরা সুযোগ পেলে যেতাম, বসতাম, কথাবার্তা হতো, নানা বিষয় আশয় নিয়ে- ঘুরেফিরে সমাজ রাজনীতি কুশাসন সুশাসন মুক্তিযুদ্ধ সামনে চলে আসতো। আমাদের আরেক মাসীমা মানে রঞ্জুদার মা বীণাপাণি চক্রবর্তী, শহরের পরিচিত মুখ, উনিও এসেছেন, খুব সম্ভব রাজশাহী থেকে অথবা লন্ডন থেকে। আশির দশকের শেষদিকে একদিন সন্ধ্যায় সস্ত্রীক গিয়েছি রঞ্জুদার বাসায়। ঠিক সন্ধ্যায়। ত্রি-সন্ধ্যা যাকে বলে। মাগরিবের নামাজের সময়। পুরো বাসা নীরব, কোন কথা বার্তা শুনা যাচ্ছে না। দরজা খোলা। যতদূর মনে পড়ে বৌদি মানে সুলতানা কামাল তখন থাইল্যান্ড বা হংকং নাকি পোল্যান্ডে মানে বিদেশে কোথাও গেছেন পেশাগত কারনে। দিয়া তখন খুব ছোট - ৫/৬/৭ বৎসরের বাচ্চা মেয়ে।

পরিবারের সদস্যদের সাথে কবি সুফিয়া কামাল

রঞ্জুদা বাসায় নেই- স্বভাবসিদ্ধ নিয়মে। ভিতরে ঢুকলাম। রঞ্জুদার বাসার পুরনো ঘরের দক্ষিণ দিকের বারান্দায় এক পাশে একটা বর্ধিত কোঠা । ঠাকুর ঘর, গৃহ দেবতা, রঞ্জুদার মা শিষ্টাচারী ব্রাহ্মণ বিধবা, সন্ধ্যাবাতি ধূপধূনা জ্বালিয়ে ঠাকুরঘরে বসে সান্ধ্যপ্রার্থনা করছেন; বিপরিত প্রান্তে পশ্চিম দিকের বড় ঘরটায় খালাম্মা, কবি সুফিয়া কামাল - মাগরিবের নামাজ পড়ছেন। আমরা খানিকক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে রঞ্জুদার চেম্বারে এসে বসতে না বসতেই আবার ভিতরে যাবার ডাক। তখন কি পারুলদি ছিল? আমি মনে করতে পারি না। খালাম্মা আর মাসীমা- দু'জনেই অনিন্দ্য সুন্দর শুভ্রকায় সদালাপী- দু'জনেরই বৈধব্য জীবন, দুজনেই সত্তরোর্ধ, দুজনেই ধার্মিক ভিন্ন বিশ্বাসে, প্রার্থনায় মগ্ন, কী অপূর্ব সে দৃশ্য, কোন সংঘাত নেই, কোন ক্লেদ নেই, কোন কালিমা নেই, কোন দ্বিধা সংকোচ নেই, সে কী মিল দুজনের- আমি আজো ভুলতে পারিনা।

আর বৌদি, আপনিতো কেবলই বৌদি নন। যত কম দিনেরই হোক, শিক্ষাগুরুওতো, আমার বা আমার মত অনেকেরই। আপনার অন্তর আলোর খানিকটা আঁচতো আমাদের গায়েও লেগেছে। অথচ আমরা, সংস্কৃতি কর্মীরা, নাট্যকর্মীরা, সুশীলজনেরা , আপনার ছাত্র-ছাত্রীরা কী আশ্চর্য নীরবতা পালন করছি, কোন বিকার নেই আমাদের ! আপনার দৃষ্টিভঙ্গির সাথে, জীবনচেতনার সাথে, রাজনৈতিক মতাদর্শের সাথে অনেক ক্ষেত্রেই হয়ত মিল নেই আমার বা আমাদের, তাই বলে এমন অসহ সময়ে, ভয়াক্রান্ত সময়ে, এমন দহনের কালে আপনার পাশে দাঁড়ানোর কোন দায় নেই আমাদের ! কি করে সম্ভব ? আমার পাপ মার্জনা করবেন ম্যাডাম। আমরা প্রকৃতই 'ভোতা' হয়ে গেছি।

আমি শুধু ভাবি, আমাদের দু'জন মাসীমা জীবিত থাকতেন যদি আজকে, কেমন হতো তাঁদের ব্যক্তি-অনুভুতি? তাঁরা কি খুব কষ্ট পেতেন? রুষ্ট হতেন? মিথ্যাচারী মানুষের প্রতি? তাঁদের স্নেহচ্ছায়ায় বড় হয়ে উঠা নিকটজনদের প্রতি? ভ্রষ্ট সমাজের প্রতি?

(ফেসবুক থেকে)
লেখক : সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব।
বিস্তারিত

নূরজাহান বেগমের ৯৩তম জন্মদিন আজ

বাংলাদেশে নারী সাংবাদিকতার অগ্রদূত এবং সাহিত্যিক নূরজাহান বেগমের ৯৩তম জন্মদিন রবিবার (৪ জুন)। ১৯২৫ সালের এই দিনে তিনি চাঁদপুর জেলার চালিতাতলী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন ছিলেন সওগাত পত্রিকার সম্পাদক ও বেগম পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা।

নূরজাহান বেগম ভারত উপমহাদেশের প্রথম নারী সাপ্তাহিক ‘বেগম’ পত্রিকার সূচনালগ্ন থেকে এর সম্পাদনার কাজে জড়িত ছিলেন। আর ছয় দশক ধরে বেগম পত্রিকার সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। তার ডাক নাম ছিল নূরী।
- বিজ্ঞাপন -

কলকাতা থেকে বেগম পত্রিকার প্রকাশনা শুরু হয় ১৯৪৭ সালের ২০ জুলাই। সে সময় নূরজাহান বেগম বিএ ক্লাসে পড়তেন।

নূরজাহান বেগমের মতো যারা সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুল ও লেডি বেবোর্ন কলেজে পড়তেন তারা সবাই মিলে বেগম-এর জন্য কাজ করতেন।

নূরজাহান বেগম ১৯৫২ সালে কেন্দ্রীয় কচি-কাঁচার মেলার প্রতিষ্ঠাতা রোকনুজ্জামান খানের (দাদা ভাই) সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।

সাংবাদিকতায় বিশেষ অবদান রাখায় ২০১১ সালে বাংলাদেশের জাতীয় এবং সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা একুশে পদকে ভূষিত হন তিনি।

২০১৬ সালের ২৩ মে ৯১ বছর বয়সে নূরজাহান বেগম ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন।
বিস্তারিত

লালনের সাহিত্য কর্ম বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ: প্রণব মুখার্জী

ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জী বলেছেন, ফকির লালন শাহ-এর শিল্প কর্ম বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ। লালন শাহ-এর গান হিন্দিতে অনুবাদের মাধ্যমে ভারতের হিন্দিভাষী বিপুলসংখ্যক মানুষ লালনের সঙ্গীতসহ সাহিত্যকর্ম সম্পর্কে যেমন জানতে পারবে, তেমনি এর মাধ্যমে ভারত-বাংলাদেশ বন্ধুত্ব আরো সুদৃঢ় হবে।
 
বাসস’র নয়া দিল্লী প্রতিনিধি জানান, প্রণব মুখার্জী আজ সন্ধ্যায় দিল্লিতে রাষ্ট্রপতি ভবনে লালন শাহ-এর সঙ্গীতের হিন্দি অনুবাদের মোড়ক উন্মোচন করেন। অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতিকে হিন্দিতে অনুবাদকৃত পুস্তক এবং ডিভিডি-এর প্রথম কপি প্রদান করা হয়। প্রণব মুখার্জী লালন শাহ’কে কবি এবং দার্শনিক হিসাবে আখ্যায়িত করে তার সাহিত্যকর্ম কোনও নিদিষ্ট ভৌগলিক সীমানা, ভাষা এবং ধর্মের মধ্যে আবদ্ধ না রেখে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
 
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেন, লালন শাহ-এর সাহিত্য কর্মে মানবতাবোধকে সর্বাগ্রে স্থান দেয়া হয়েছে। অসাম্প্রদায়িকতা এবং সাম্যের আহ্বান তার সাহিত্যের অন্যতম বিষয়বস্তু। তিনি বলেন, বর্তমানে আমরা সকলে তিনটি বড় হুমকী মোকাবিলা করছি। এগুলো হচ্ছে দারিদ্র্য, সাম্প্রদায়িকতা এবং আনবিক বোম। আমরা লালনের সাহিত্য কর্মের মাধ্যমে এই তিন হুমকীর শান্তিপূর্ণ মোকাবিলা করতে পারি।
 
তথ্যমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, লালন সঙ্গীতের হিন্দি অনুবাদের মাধ্যমে উপ-মহাদেশে সন্ত্রাস এবং বৈষম্যমুক্ত একটি নতুন যুগের সূচনা করা সম্ভব হবে।
 
অনুষ্ঠানে অনান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ভারতের সাবেক পররাষ্ট্র সচিব ও বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের সাবেক রাষ্ট্রদূত প্রফেসর মুকচুন্দ দূবে, যিনি লালনের ১০৫টি সঙ্গীত হিন্দিতে অনুবাদ করেছেন। এছাড়াও বাংলা একাডেমীর সভাপতি অধ্যাপক আনিসুজ্জামান এবং মনোরঞ্জন মহান্তি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন।
 
রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জীকে হিন্দি অনুবাদের প্রথম কপি হস্তান্তর করেন সাহিত্য একাডেমী-এর সভাপতি ডঃ বিশ্বণাথ প্রসাদ তেওয়ারী এবং ডিভিডি-এর প্রথম কপি প্রদান করেন আইসিসিআর-এর প্রেসিডেন্ট প্রফেসর লোকেশ চন্দ্র।
অনুষ্ঠানে প্রখ্যাত লালন সঙ্গীত শিল্পী ফরিদা পারভীন হিন্দিতে অনুবাদ করা ২টি এবং বাংলায় একটি লালন সঙ্গীত পরিবেশন করেন।বাসস বিস্তারিত

আয় চলে আয়রে ধূমকেতু

নজরুল নিয়ে এসেছিলেন দ্রোহ, প্রেম, সাম্য, মানবতা ও শোষিত বঞ্চিত মানুষের মুক্তির বার্তা। তার কবিতা, গান ও সাহিত্য কর্ম বাংলা সাহিত্যে নবজাগরণ সৃষ্টি করেছিল। বাংলা কবিতায় নজরুলের আর্বিভাব একেবারেই ধুমকেতুর মত।

কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তার সম্পর্কে বলেছেন, ‘কাজী নজরুল ইসলাম কল্যাণীয়েষু, আয় চলে আয়রে ধূমকেতু/ আঁধারে বাঁধ অগ্নিসেতু, দুর্দিনের এই দুর্গশিরে উড়িয়ে দে তোর বিজয় কেতন।’

আজ জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১১৮তম জন্মবার্ষিকী ।১৮৯৯ খ্রিস্টাব্দের ২৪ মে (জ্যৈষ্ঠ ১১, ১৩০৬ বঙ্গাব্দ) তিনি পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার আসানসোল মহকুমার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

নজরুল ছিলেন অসাম্প্রদায়িকতা ও জাতীয়তাবোধের মূর্ত প্রতীক। অত্যাচার, নিপীড়ন ও শোষণের বিরুদ্ধে ছিলেন উচ্চকণ্ঠ। বিদ্রোহী কবি তার অন্য পরিচয়। তার শিকল ভাঙ্গার গানে জেগে উঠেছিল ঝিমিয়ে পড়া বাঙালি জাতি।

ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে তার লেখনী এ উপমহাদেশের মানুষকে উজ্জীবিত করেছিল।  বিদ্রোহী কবির অগ্নিঝরা কবিতা ও গান আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে ছিল অনন্ত প্রেরণার উৎস। শৌর্য-বীর্য ও স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের মন্ত্রে উজ্জীবিত কবির গান ‘চল্ চল্ চল্’ বাংলাদেশের রণসংগীত ।

আবার নজরুল ছিলেন মানবতা ও সাম্যের কবি। কবি নজরুল ছিলেন বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী, তিনি একাধারে ছিলেন গল্পকার, ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক, সাংবাদিক, সম্পাদক ও অনুবাদক। তিনি অনন্যসাধারণ লেখনীর মাধ্যমে আমাদের সাহিত্য, সংগীত ও সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করেছেন।

জাতি আজ তার জন্মদিনে জাতীয় কবিকে বিশেষভাবে স্মরণ করছে। বিভিন্ন সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানে কবিকে নিয়ে আয়োজন করেছে স্মরণ অনুষ্ঠানের।বেতার ও টিভি-চ্যানেলেও বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচারিত হচ্ছে।রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় কবির জন্মদিন উপলক্ষে বাণী প্রদান করেছেন।

রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ প্রদত্ত বাণীতে বলেন, সাম্য ও মানবতার কবি কাজী নজরুল ইসলাম বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির ইতিহাসে একজন উজ্জ্বল নক্ষত্র। তার সাহিত্য সম্ভার যেমন বিশাল তেমনি বর্ণাঢ্য। তার কালজয়ী লেখায় ঋদ্ধ হয়েছে বাংলা ভাষা ও সাহিত্য। তিনি একাধারে কবি, সংগীতজ্ঞ, কথা সাহিত্যিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক ও সমাজ-সংস্কারক। কবির লেখনী শোষিত-নির্যাতিত ও বঞ্চিতদের অধিকার আদায়ে সকলকে সোচ্চার করে, শিক্ষা দেয় অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে।

রাষ্ট্রপতি নজরুল চর্চার মাধ্যমে দেশপ্রেম, সততা ও নিষ্ঠা দিয়ে সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠন করার অঙ্গীকার নিতে নতুন প্রজন্মের প্রতি আহবান জানিয়েছেন।

প্রদত্ত বাণীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের প্রকৃতি, মানুষ ও মানুষের অকৃত্রিম ভালোবাসা নজরুলকে গভীরভাবে আকর্ষণ করেছিল।কবির কৈশোর কাটে ময়মনসিংহের ত্রিশালে। তিনি কুমিল্লা ও ঢাকায় থেকেছেন। এদেশের মানুষের সাথে ঘনিষ্ঠ ও প্রীতিপূর্ণ আত্মিক সম্পর্ক গড়ে তুলেছিলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কবি নজরুল ইসলামকে জাতীয় কবি হিসেবে ঘোষণা করেন এবং তাকে সপরিবারে বাংলাদেশে এনে নাগরিকত্ব দেন। জাতির পিতা অসুস্থ নজরুলের চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। এ মাটিতেই কবি চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন।

আজ জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১১৮তম জন্মবার্ষিকী উদযাপনের উদ্বোধন অনুষ্ঠান বাংলাদেশ বেতার সরাসরি সম্প্রচার করবে। বিকাল সাড়ে ৩টায় রাজধানী ঢাকার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠান হবে। এতে রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। অনুষ্ঠানটি বিটিসিএল লাইনের মাধ্যমে বাংলাদেশ বেতার ঢাকা-ক অর্থাৎ ৬৯৩ কিলোহার্জে ও এফএম ১০৩ দশমিক ২ মেগাহার্জে এবং ওয়েবসাইট www.bctar.gov.bd থেকে সরাসরি সম্প্রচার করবে।

আজ সকালে  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গনে কবির সমাধিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করবে আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মদিন যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের জন্য আওয়ামী লীগ, সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের সকল স্তরের নেতা-কর্মী, সমর্থক, শুভানুধ্যায়ী ও দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) বিভিন্ন কর্মসূচী গ্রহণ করেছে। এ উপলক্ষে আজ সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং ছাত্রী-ছাত্রীরা কলা ভবন প্রাঙ্গণে অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে সমবেত হবেন এবং সেখান থেকে উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকের নেতৃত্বে শোভাযাত্রা সহকারে কবির মাজারে গমন করবেন।উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে কবির মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন।

মাজার প্রাঙ্গণে উপাচার্যের সভাপতিত্বে এক স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত হবে। এবারের প্রতিপাদ্য বিষয় “সাম্রাজ্যবাদ ও উপনিবেশবাদ বিরোধী সৈনিক নজরুল।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তঃধর্মীয় ও আন্তঃসাংস্কৃতিক সংলাপ কেন্দ্র (সিআইআইডি) এবং বিশ্ব ধর্ম ও সংস্কৃতি বিভাগের যৌথ উদ্যোগেও সকালে অপরাজেয় বাংলার পাদদেশ থেকে জাতীয় কবির মাজার পর্যন্ত র‌্যালি অনুষ্ঠিত হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাবের উদ্যোগে সন্ধ্যা ৭টার দিকে ‘রবীন্দ্র-নজরুল সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা’র আয়োজন করা হয়েছে । এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে প্রো-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. নাসরীন আহমাদ, প্রো-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো: আখতারুজ্জামান ও কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো: কামাল উদ্দীন উপস্থিত থাকবেন।

স্বাগত বক্তব্য রাখবেন ক্লাবের সম্পাদক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বাহাউদ্দিন এবং সমাপনী বক্তব্য রাখবেন ক্লাবের সভাপতি অধ্যাপক ড. এ বি এম শহিদুল ইসলাম। সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় থাকবে সঙ্গীত, আবৃত্তি, মূকাভিনয় ও নৃত্য পরিবেশন।

 
বিস্তারিত

সিলেট শিল্পকলার রবীন্দ্র-নজরুল জন্মবার্ষিকী উদযাপন

বাংলা সাহিত্যের দুই নক্ষত্র কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম। ২৫ বৈশাখ বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর’এর ১৫৬তম আর ১১ জ্যৈষ্ঠ জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম’এর ১১৮তম জন্মবার্ষিকী। এই দুই কবির জন্মবার্ষিকী উদ্যাপন উপলক্ষে সিলেট জেলা প্রশাসন ও জেলা শিল্পকলা একাডেমির উদ্যোগে শনিবার বিকাল ৫টায় রিকাবীবাজারস্থ কবি নজরুল অডিটোরিয়ামে আয়োজন করা হয় আলোচনাসভা ও বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের।

এবারে কবিদ্বয়ের জন্মবার্ষিকী উদ্যাপনের প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল ‘মানুষের ধর্ম : রবীন্দ্রনাথ ও সমকালীন প্রাসঙ্গিকতা’ এবং ‘সাম্রাজ্যবাদ ও উপনিবেশবাদ বিরোধী সৈনিক নজরুল’।

আলোচনাসভার পূর্বে সত্যজিত রায়ের বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উপর নির্মিত ডকুমেন্টরী প্রদর্শন করা হয়। জেলা কালচারাল অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) কাজী আরিফুর রহমান এর সঞ্চালনায় আলোচনাপর্বে সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শহিদুল ইসলাম চৌধুরীর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়-এর স্থানীয় সরকার শাখার উপপরিচালক এবং জেলা প্রশাসক (ভারপ্রাপ্ত) দেবজিৎ সিনহা।

এবারের প্রতিপাদ্য বিষয়ের উপর আলোচনা করেন সিলেট কমার্স কলেজের অধ্যক্ষ ড. মোস্তাক আহমাদ দীন এবং শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম।

আলোচনাসভা শেষে রবীন্দ্র-নজরুল জন্মবার্ষিকী উদ্যাপন উপলক্ষে জেলা শিল্পকলা একাডেমির উদ্যোগে শুক্রবার আয়োজিত ‘রবীন্দ্রসংগীত’, ‘নজরুলসংগীত’ ও ‘আবৃত্তি’ প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

অনিমা দে তন্বীর উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গান, কবিতা আর তৃতীয় পর্বে কাজী নজরুল ইসলামের গান, কবিতা নিয়ে সিলেটের বিশিষ্ট শিল্পীবৃন্দ ও সুনামধন্য সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর সাংস্কৃতিক পরিবেশনা আগত দর্শকদের মুগ্ধ করে।
বিস্তারিত

স্ত্রীকে হারালেন আইসিইউতে থাকা শিল্পী মুর্তজা বশীর

শিল্পী মুর্তজা বশীরের স্ত্রী আমেনা বশীর মৃত্যুবরণ করেছেন। শনিবার সকালে রাজধানীর অ্যাপোলো হাসপাতালে তার মৃত্যু ঘটে বলে তার পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

আমেনা বশীরের স্বামী মুর্তজা বশীরও গুরুতর অসুস্থ হয়ে অ্যাপোলো হাসপাতালে আইসিইউতে রয়েছেন।

মুর্তজা বশীরের মেয়ে মুনীরা বশীর এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মুনীরা বশীর জানান, তার মাকে 'লাইফ সাপোর্টে' রাখা হয়েছিল। শনিবার সকাল পৌনে ৭টার দিকে তা খুলে নেওয়া হয়। দুপুরে জোহরের নামাজের পর গুলশানের আজাদ মসজিদে আমেনা বশীরের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর মনিপুরীপাড়ায় বায়তুশ শরফ মসজিদে দ্বিতীয় জানাজা শেষে বনানীতে দাফন করা হবে তাকে।

ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর ছেলে মুর্তজা বশীর গত বৃহস্পতিবার থেকে আইসিইউতে রয়েছেন। তার ফুসফুসে পানি জমেছে জানা গেছে। তবে অবস্থা এখন স্থিতিশীল বলে সূত্র জানিয়েছে।
বিস্তারিত

আইসিইউতে শিল্পী মুর্তজা বশীর

শ্বাসকষ্টজনিত কারণে প্রখ্যাত চিত্রশিল্পী মুর্তজা বশীরকে রাজধানীর অ্যাপোলো হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১১ মে) রাত ১০টার দিকে তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয়।

শিল্পীর বড় মেয়ে মুনীজা বশীর জানান, গত রোববার যান্ত্রিক গোলযোগের কারণে একই হাসপাতালের লিফটে দেড় ঘণ্টা আটকে ছিলেন মুর্তজা বশীর৷ ওই দিন রাত সোয়া ১০টা থেকে ১১টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত ছেলে মেহতাজ বশীরকে নিয়ে হাসপাতালের লিফটে আটক ছিলেন তিনি। সেদিন হাসপাতালের লিফটে বন্ধ হয়ে লিফটের ভেতর থাকায় অতিরিক্ত গরমে তার বাবার শারীরিক অবস্থা অবনতির দিকে যায়। অবস্থা খুব খারাপ হওয়ায় বৃহস্পতিবার তাকে আইসিইউতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

তার মাও একই হাসপাতালে আইসিইউতে আছেন বলে জানান মুনীজা বশীর। তিনি সেখানে ভারতীয় চিকিৎসক ডা. চন্দ্রপ্রকাশের অধীনে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

মুর্তজা বশীরের লিফটে আটকে থাকার বিষয়ে সে সময় অ্যাপোলো হাসপাতালের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ফ্যাসিলিটি ম্যানেজমেন্ট ডিপার্টমেন্ট) সাজেদুল ইসলাম খান গণমাধ্যমকে জানান, তাদের একটি সফটওয়্যার লক হয়ে যাওয়াতেই এই বিপত্তি ঘটে। পরে মহাখালী ও টঙ্গী থেকে ভেন্ডরদের দুটি দল ৪৫ থেকে ৪৮ মিনিটের মধ্যে পৌঁছার পর তারা নতুন সফটওয়ার ইনস্টল করেছে। তারপর লিফট খোলা সম্ভব হয়েছে।

ভাষাবিজ্ঞানী ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর ছেলে মুর্তজা বশীরের জন্ম ১৯৩২ সালের ১৭ আগস্ট ঢাকায়। তিনি একাধারে ভাষা সৈনিক, চিত্রকর, শিক্ষক, কবি, চলচ্চিত্র নির্মাতা, শিল্প নির্দেশক, গবেষক ও মুদ্রা বিশারদ।
বিস্তারিত

  • হাথুরুসিংহের পরিকল্পনা ভুলে গেছে বাংলাদেশ: মাশরাফি
  • নতুন সম্পর্কে জোলি!
  • মাটির লেয়ারের ভিন্নতায় পদ্মা সেতুর ১৪ পাইলের ডিজাইনে বিলম্ব
  • ব্যাংকিং খাতে জবাবদিহিতার জন্য পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে : অর্থমন্ত্রী
  • অবকাঠামো উন্নয়নে ৬০ মিলিয়ন ডলার দেবে ওএফআইডি
  • বাংলাদেশ যথেষ্ট সক্ষমতা অর্জন করেছে : বিশ্বব্যাংক
  • ৩৭ হজ এজেন্সিকে নোটিশ
  • বাজেটে এমপিও অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে সরকার সিদ্ধান্ত নিবে: প্রধানমন্ত্রী
  • ভোলাগঞ্জ ও কালাইরাগে ৩৬টি ‘বোমা মেশিন’ ধ্বংস
  • ফেঞ্চুগঞ্জে ছাত্রলীগের ৫ নেতা বহিষ্কার
  • আম্মার মতো আমিও হারিয়ে যাব : রাইমা
  • ‘সূর্যসেন’ নতুন মঞ্চনাটক
  • আমি মৃত্যুকে ভয় করি না: আইভী
  • আমি একাই যথেষ্ট: শামীম ওসমান
  • সিরিয়ার কুর্দিদের বিরুদ্ধে অভিযান চালাবেন এরদোয়ান
  • বড় ধরনের বিপদ থেকে বাচঁলেন শোয়েব!
  • কোহলির জরিমানা
  • নির্বাচন স্থগিত হওয়া ইসির চরম ব্যর্থতা: ফখরুল
  • ঢাকা উত্তরের মেয়র পদে উপনির্বাচন স্থগিত
  • রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু ২ বছরের মধ্যে
  • মুসলমানরাই সবচেয়ে বেশি সন্ত্রাসের শিকার: বান কি মুন   ৫০৬২১
  • মেয়র কালামের পায়ের নিচে ওসি আতাউর শার্ট খুলে লিনডাউন,তারপর জুতো পেটার প্রস্তাব   ১৪৬৯১
  • ছলনাময়ী নারীদের চেনার উপায়   ১৩৬৬০
  • জুমার নামাজ ছুটে গেলে কী করবেন?   ১১৫৬১
  • ​চিনা কোম্পানিকে কাজ দিতে প্রতিমন্ত্রী তারানার স্বাক্ষর জাল   ৯৩৪১
  • ঋণখেলাপি নই-হুন্ডি ব্যবসায়িও নই,সম্পত্তি নিলামের খবর অপপ্রচার-নাসির   ৮৩৩৪
  • জেনে নিন ছুলি দূর করতে কিছু ঘরোয়া উপায়   ৮২৬৭
  • ডিমের পর স্বয়ংসম্পূর্ণতার পথে সোনালি মুরগি   ৮২১৩
  • মুসাফির কাকে বলে? মুসাফিরের রোযা ভঙ্গ করলে   ৮১৭৮
  • গরুর দুধের অসাধারণ কয়েকটি গুণ   ৭৯৯৬
  • খতমে ইউনুস নামে সামাজে চলে আসা জালিয়াতী   ৭১১১
  • মুঘল সম্রাটদের দিনযাপন   ৬৫৬৮
  • চিত্রনায়িকা সাহারার সেক্স ভিডিও ফাঁস!   ৫৯৭৬
  • হযরত শাহ্‌ জালাল ইয়েমেনী (রাঃ)-এঁর সংক্ষিপ্ত জীবনী   ৫৯০১
  • শিশুর কানে আজান দেবে কে?   ৫৫০৩
  • চিকিৎসায় দ্রুত সরকারি সহযোগিতা চান খাদিজার বাবা মাসুক মিয়া   ৫৩৩৮
  • কামরূপ-কামাখ্যা : নারী শাসিত যাদুর ভূ-খন্ড   ৫২৯৩
  • প্রশ্নব্যাংকে প্রশ্ন, স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাছাই হয়ে পরীক্ষা   ৫২২৯
  • ম,আ,মুক্তাদিরের ছেলে রাহাত লন্ডনে এক সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছে   ৪৯৪৯
  • ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক, চীন-পাকিস্তান সমীকরণ   ৪৮৩৮
  • সাম্প্রতিক আরো খবর

  • জসীম উদ্‌দীন সাহিত্য পুরস্কার দেবে বাংলা একাডেমি
  • গণমানুষের কবি দিলওয়ারের ৮২তম জন্মদিন আজ
  • কথাসাহিত্যিক রবিশংকর বল আর নেই
  • ‘তরুণেরা এখন বুক বাদ দিয়ে ফেসবুক নিয়ে মজে আছে’
  • চিত্রশিল্পী এসএম সুলতানের ২৩তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ
  • গণমানুষের কবি দিলওয়ার-এর ৫ম মৃত্যুবার্ষিকী আজ
  • ‘আমারে দেবো না ভুলিতে’
  • প্রথাবিরোধী লেখক হুমায়ুন আজাদের মৃত্যুবার্ষিকী আজ
  • বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে ১৩ শতাধিক গ্রন্থ প্রকাশ
  • রবীন্দ্র প্রয়াণ দিবস আজ
  • বইপ্রেমীদের সংগঠন ‘মলাট’র যাত্রা শুরু
  • হুমায়ূনের কবরে স্ত্রী-সন্তানদের ভালোবাসা
  • স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী সুব্রত সেনগুপ্ত মারা গেছেন
  • ‘নিখোঁজ’ ফরহাদ মজহার
  • কবর থেকে তোলা হবে শিল্পী সালভাদর দালির দেহ
  • শহীদ জননী জাহানারা ইমামের মৃত্যুবার্ষিকী আজ
  • ‘ঈদ’, ‘ইদ’, দু’ভাবেই লিখা যাবে
  • কবি সুফিয়া কামালের ১০৬ তম জন্মবার্ষিকী আজ
  • আমরা প্রকৃতই ‘ভোতা’ হয়ে গেছি
  • নূরজাহান বেগমের ৯৩তম জন্মদিন আজ
  • লালনের সাহিত্য কর্ম বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ: প্রণব মুখার্জী
  • আয় চলে আয়রে ধূমকেতু
  • সিলেট শিল্পকলার রবীন্দ্র-নজরুল জন্মবার্ষিকী উদযাপন
  • স্ত্রীকে হারালেন আইসিইউতে থাকা শিল্পী মুর্তজা বশীর
  • আইসিইউতে শিল্পী মুর্তজা বশীর