সর্বশেষ খবর

   ‘ভয়ংকর পরিস্থিতি তৈরি করতে চাচ্ছে ঢাবি প্রশাসন’    প্যারিসে সবুজ বাংলা বুশারি শপের উদ্ভোধন    সাংবাদিক কামরুলের উপর হামলাকারীদের গেপ্তারের দাবীতে সিলেটে মানববন্ধন    করমর্দন না করায় নাগরিকত্ব আবেদন বাতিল    ক্যাসিও’র পানিরোধক স্মার্ট ঘড়ি    জাতিসংঘের ৩ সংস্থার নির্বাচনে বাংলাদেশের বিজয়    গুঞ্জন উড়ালেন কিয়ারা    ‘অসহায় শিল্পীদের পাশে দাঁড়াতেই কনসার্টে অংশ নিচ্ছি’    পরের ম্যাচ জিতলেই চ্যাম্পিয়ন বার্সা    বোলিংয়ে বিবর্ণ সাকিবের ব্যাটে ঝড়, হায়দরাবাদের প্রথম হার    দুই সিটিতে ২০ দলীয় জোটের চার কমিটি    বিচ্ছিন্ন নয়, সামগ্রিক আন্দোলন চান ফখরুল    বিএনপির ঐক‌্য সরকারকে পীড়া দিচ্ছে : রিজভী    শাবিতে বিভাগীয় প্রধান কর্তৃক শিক্ষক লাঞ্ছনার অভিযোগ    টাইম ম্যাগাজিনের ১০০ প্রভাবশালীর তালিকায় শেখ হাসিনা    জাতীয় বাজেট সামনে রেখে ব্যবসায়ীদের সাথে সিলেট চেম্বারের মতবিনিময়    সুনামগঞ্জ ছাত্রলীগের সভাপতি ও সম্পাদক পদে লড়ছেন ১০ জন    ফেঞ্চুগঞ্জে পাচারকালে ৬৬ বস্তা রিলিফের চাল জব্দ    ধর্ম অবমাননার অভিযোগে তসলিমা-সুপ্রীতিদের বিরুদ্ধে মামলা    শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রশংসা করলেন ট্রুডো


খবর - পর্যটন

পিয়াইন নদীতে নিখোঁজ পর্যটকের লাশ উদ্ধার

সিলেটের জাফলংয়ের পিয়াইন নদীতে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ কলেজছাত্র ফয়সল হোসেন সৌরভের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। সৌরভ চট্টগ্রামের ভাঙ্গা রেলওয়ে কলোনীর আম বাগান এলাকার বাসিন্দা সিরাজুল মওলার পুত্র ও চট্টগ্রাম সরকারী সিটি কলেজের একাদ্বশ শ্রেণীর দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র।

বুধবার সকালে জাফলং জিরো পয়েন্ট থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয় বলে জানান গোয়াইনঘাট থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হিল্লোল রায়।

এর আগে গতকাল, কামাল শেখ নামে এক কলেজ ছাত্রের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। কামাল শেখ ময়মনসিংহ জেলার ভালুকা পৌরসভার বাসিন্দা রশিদ শেখ’র পুত্র ও ময়মনসিংহ এ্যাপোলো ইনিস্টিটিউটের একাদ্বশ শ্রেণীর প্রথম বর্ষের ছাত্র।

পুলিশ সূত্রে জানাযায়, কামাল শেখ ও তার ১৫ জন বন্ধু মিলে গতকাল মঙ্গলবার সকালে বিস্তারিত

‘রাতারগুলে পর্যটক নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নিচ্ছে বনবিভাগ’

দেশের একমাত্র  মিঠাপানির জলাবন রাতারগুলে পর্যটকদের যাতায়াত নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নিয়েছে বনবিভাগ। প্রতিদিন নির্দিষ্ট পরিমাণ পর্যটক প্রবেশের অনুমতিসহ সপ্তাহে দুইদিন বনে প্রবেশ বন্ধ রাখার কথাও ভাবছে বনবিভাগ।

সিলেটের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মুনিরুল ইসলাম বলেছেন, বিশেষজ্ঞ মতামত নিয়ে পর্যটকদের জন্য অনলাইনে টিকেটিং ও প্রতিদিন নির্দিষ্ট পরিমাণ পর্যটক প্রবেশের ব্যবস্থা করা হবে।

মুনিরুল ইসলাম জানান, সপ্তাহে দুইদিন বনে প্রবেশ বন্ধ রাখার কথাও বনবিভাগ ভাবছে।

দেশের ভ্রমণবিলাসীদের অন্যতম প্রিয় এ বন দেখতে প্রতিদিন সেখানে আসে হাজারো পর্যটক। ছুটির দিনের সংখ্যা ছাড়িয়ে যায় চার থেকে পাঁচ হাজারে।

এই বন কর্মকর্তা বলেন, পর্যটকদের অবাধ যাতায়াতের কারণে হুমকির মুখে পড়েছে রাতারগুলের জীব বৈচিত্র্য। বন ছেড়ে যাচ্ছে বন্যপ্রাণিরা। এ অবস্থায় প্রাণীদের বসবাস নিরাপদ করতে বনের উপর মানুষের চাপ কমানো জরুরি। এ জন্য বনে মানুষের ধারণ ক্ষমতা নির্ণয়ের কাজ চলছে।

তিনি জানান,বনের আকার আয়তনের উপর ভিত্তি করে প্রতিদিন কতজন পটর্যটককে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে তা বন গবেষণা ইনস্টিটিউট ঠিক করবে। তবে কবে নাগাদ এ পরিকল্পনা কার্যকর করা হবে তা জানাননি  ওই বন কর্মকর্তা ।

প্রাকৃতিকভাবে বেড়ে ওঠা এ বনে হিজল করচসহ ৭৩ প্রজাতির উদ্ভিদ, ২৫ প্রজাতির স্তন্যপায় প্রাণী, ২০ প্রজাতির সরীসৃপ, ১৭৫ প্রজাতির পাখি ও নয় প্রজাতির উভচর প্রাণীর রয়েছে।

বিস্তারিত

পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়া হচ্ছে মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত

আজ রোববার থেকে মৌলভীবাজারের বড়লেখায় দেশের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়া হচ্ছে। সকাল ১০টার দিকে জলপ্রপাতে প্রবেশের প্রধান ফটক পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়ার কথা রয়েছে।

অতিবর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে মাধবকুণ্ড ইকোপার্ক এলাকার টিলা ও রাস্তা দেবে গিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যাওয়ায় গত ২২ জুন থেকে মাধবকুণ্ড ইকোপার্ক ও জলপ্রপাত এলাকা পর্যটকদের জন্য অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল।

বন বিভাগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অতিবর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে মাধবকুণ্ড ইকোপার্ক এলাকার টিলা ও রাস্তা দেবে যায়। এতে পর্যটন এলাকাটি পর্যটকদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। ফলে দুর্ঘটনা এড়াতে বন বিভাগ গত ২২ জুন থেকে মাধবকুণ্ড ইকোপার্ক ও জলপ্রপাত এলাকা পর্যটকদের জন্য অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে। এই ঘোষণার ফলে এতদিন মাধবকু- এলাকায় পর্যটকদের প্রবেশাধিকার ছিল না। এদিকে বন বিভাগ জরুরি ভিত্তিতে মাধবকুণ্ড ইকোপার্ক এলাকা সংস্কার করেছে।

সংস্কারের পর এলাকাটি ঝুঁকিমুক্ত হওয়ায় সিলেট বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আর এস এম মুনিরুল ইসলাম গত ১৬ আগস্ট তাঁর স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছেন, প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে মাধবকুণ্ড ইকোপার্কের রাস্তা দেবে গিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় পর্যটকদের নিরাপত্তার স্বার্থে সর্বসাধারণের প্রবেশাধিকার সাময়িক বন্ধ রাখা হয়েছিল। ইতিমধ্যে ইকোপার্কের জরুরি মেরামত কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। আজ রবিবার থেকে সীমিত পরিসরে পর্যটকদের জন্য ইকোপার্ক খুলে দেওয়া হবে। বিজ্ঞপ্তিতে পর্যটকদের ভ্রমণ করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।


বিস্তারিত

টাঙ্গুয়ার হাওরের আকর্ষণ বাড়াবে টুরিস্ট কটেজ গাইড

হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী:দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জীববৈচিত্র্যসমৃদ্ধ সুনামগঞ্জের বিশাল টাঙ্গুয়ার হাওর যেন রূপের রাণি। সাগরের ন্যায় হাওরের অদূরে খাসিয়া-জৈন্তা পাহাড় যেন টাঙ্গুয়ার পানিকে আটকে দিয়েছে। সারা বছরই এখানে পর্যটকদের ভিড় লেগে থাকে। আকাশের সব নীল টাঙ্গুয়ার হাওরে যখন গিয়ে মিলিত হয় আর শীতে অতিথি পাখির পাখায় সেই নীল ঢাকা পড়ে তখনকার দৃশ্য যে কাউকে মুগ্ধ করে। আবার শীতে শান্ত হাওরের নিচে নানা প্রজাতির মাছের খেলার দৃশ্য অপূর্ব। এর ভিতরে রয়েছে নানা প্রকার উদ্ভিদ ও জলজ প্রাণী— যদিও সেই দৃশ্যাবলি আগের চেয়ে ক্ষুণ্ন হয়েছে অনেকটাই। তবে এই সুন্দর ও চিত্তাকর্ষক দৃশ্য এখনো বিদ্যমান। আগের অবস্থা ফিরিয়ে আনতে বেশ দেরিতে হলেও সরকারি উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
যোগাযোগ অবকাঠামো ও থাকা-খাওয়ার তেমন সুবিধা না থাকা সত্ত্বেও সারাবছর পর্যটকদের ভিড় লেগেই থাকে। মেঘালয় পাহাড়ের পাদদেশে রামসার সাইট অন্তর্ভুক্ত তাহিরপুরের টাঙ্গুয়ার হাওরে পর্যটকদের  উপস্থিতি ও সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে পর্যটন কর্পোরেশন। কর্পোরেশন পাঁচটি কটেজ নির্মাণ করবে। হাওর দেখতে আসা পর্যটকদের সুবিধার জন্য ১২ জন ট্যুরিস্ট গাইড নিয়োগ করা হবে। একই সাথে ১শ লোকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবে।

গত ১২ জুলাই টাঙ্গুয়ার হাওরের জীববৈচিত্র্যের বর্তমান অবস্থা যাচাই ও স্থানীয় জনগণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধিমূলক আলোচনা সভায় এসব বিষয় তুলে ধরেন পর্যটন কর্পোরেশনের যুগ্ম সচিব মিজানুর রহমান। তাহিরপুর উপজেলা পাবলিক লাইব্রেরি মিলনায়তনে সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. সাবিরুল ইসলামের সভাপতিত্বে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।  প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের যুগ্ম সচিব মিজানুর রহমান বলেন, টাঙ্গুয়ার হাওরে জীববৈচিত্র্য রক্ষা করা আমাদের উদ্দেশ্য। তাই সরকার টাঙ্গুয়ার হাওরকে দেশ-বিদেশের পর্যটকদের কাছে তুলে ধরার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন এবং আইইউসিএন বাংলাদেশ কান্ট্রি অফিস এর যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত সভায় টাঙ্গুয়ার  হাওরবিষয়ক মূল নিবন্ধ উপস্থাপন করেন, ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব ন্যাচার (আইইউসিএন) বাংলাদেশ কান্ট্রি অফিসের সহকারী প্রকল্প কর্মকর্তা সেলিনা সুলতানা।

দেশের দ্বিতীয় রামসার সাইট টাঙ্গুয়ার হাওর ২০০৩ সালে জেলা প্রশাসন দেখভালের দায়িত্ব নেয়। ২০০৬ সালের ডিসেম্বরে এর দেখভালের দায়িত্ব পায় আইইউসিএন। ২০১৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত আইইউসিএন টাঙ্গুয়ার হাওর দেখভালের দায়িত্বে ছিল। এরপর আবার ১৬ মাসের জন্য অর্থাত্ ২০১৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত দেখভালের দায়িত্বে পায় আইইউসিএন। তবে অভিযোগ রয়েছে আইইউসিএন হাওরের উন্নয়ন জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ব্যর্থ।

সুনামগঞ্জ জেলা সদর থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে তাহিরপুর ও ধর্মপাশা উপজেলায় টাঙ্গুয়ার হাওরের অবস্থান। ছয়কুড়ি বিল, নয়কুড়ি কান্দার সমন্বয়ে এ হাওরের দৈর্ঘ ১১ কিলোমিটার এবং প্রস্থ ৭ কিলোমিটার। শীত, গ্রীষ্ম ও বর্ষা একেক ঋতুতে একেক রূপ ধারণ করে টাঙ্গুয়া। বর্ষায় অন্যান্য হাওরের সঙ্গে মিশে এটি সাগরের রূপ ধারণ করে। শুকনো মৌসুমে ৫০-৬০ টি আলাদা বা সংযুক্ত বিলে পরিণত হয় পুরো হাওর। ১১টি বাগসহ ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা অসংখ্য হিজল, করচ গাছ, নলখাগড়া, দুধিলতা, নীল শাপলা, পানিফল, শোলা, হেলেঞ্চা, বনতুলসিসহ শতাধিক জাতের উদ্ভিদ হাওরকে দৃষ্টিনন্দন করে। অক্টোবর থেকে হাওরে শুরু হয় পরিযায়ী পাখির সমাবেশ। স্থানীয় জাতের পানকৌড়ি, কালেম, দেশি মেটে হাঁস, বালিহাঁস, বক ও শীত মৌসুমে আসা লক্ষ পরিযায়ী পাখি এখানে যাত্রাবিরতি করে। আবার কোনো কোনো পরিযায়ী পাখি পুরো শীতকাল এখানেই কাটায়।

মেঘালয় পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত টাঙ্গুয়ার হাওরের উত্তর বংশিকুয়ায় রয়েছে কয়েকটি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী পল্লী। গারো-হাজং বাসীর জীবন পর্যবেক্ষণের সুযোগ রয়েছে পর্যটকদের। মূলত শীতকালই এই হাওরে বেড়ানোর উপযুক্ত সময়। যোগাযোগ ব্যবস্থা আগের চেয়ে একটু ভালো হওয়ায় যেকোন সময় পর্যটকদের ভিড় হয়। বিশেষ করে সুনামগঞ্জে সুরমা নদীতে সেতুসহ সড়ক যোগাযোগব্যবস্থা একটু ভালো হওয়ায় খুব অল্প সময়ে তাহিরপুর পৌঁছানো যায়। এবারের ছুটিতে সাগররূপ জলরাশি, আকাশে মেঘের খেলা, মুষলধারে বৃষ্টি, হাওরবাসীর সংগ্রামী জীবন, সবুজে ঢাকা মেঘালয় আর পানির উপর মাথা উঁচু করে থাকা নলখাগড়া-গাছগাছালি বনবাদার দেখতে পর্যটকদের ভিড় হয় সবসময়। তবে হাওর এলাকায় আবাসন সুবিধা নেই, তাই যারা রাত্রি যাপন করেন তারা ঝুঁকি নিয়ে ট্রলারেই রাত কাটান।

১৯৯৯ সালে টাঙ্গুয়ার হাওরের প্রতিবেশ ও এর প্রাকৃতিক সমপদ সংরক্ষণের গুরুত্ব বিবেচনা করে সরকার টাঙ্গুয়ার হাওরের ৯ হাজার ৭২৭ হেক্টর এলাকাকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা ঘোষণা করে। ২০০০ সালে যখন হাওরটি দেশের দ্বিতীয় রামসার সাইট হিসেবে মর্যাদা পায় তখন হাওরের প্রাকৃতিক সমপদ রক্ষা করতে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় সমাজভিত্তিক ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেয়।

বিস্তারিত

শিশু পার্কে শিশুদের বিনোদন

ঈদ আনন্দে মেতেছে সিলেট। বিভাগীয় এই নগরীর অভ্যন্তরের ওসমানী শিশু উদ্যান, ড্রিমল্যান্ড, ইকো পার্ক, অ্যাডভেঞ্জার ওয়ার্ল্ডের মতো বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে এখন দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভীড়।

বিশেষ করে এসব বিনোদন কেন্দ্রে বাবা-মায়ের সাথে বেড়াতে আসা শিশু-কিশোররা বাঁধভাঙ্গা আনন্দে মেতেছেন। আর তাদের বিনোদন ছুঁয়েছে বড়দেরও। তাইতো শিশুদের সঙ্গে নিয়ে আনন্দে মেতে উঠছে তারাও।

ঈদের পরদিন মঙ্গলবার দুপুরের পর থেকেই ভ্রমণপ্রেমীরা পরিবার পরিজন নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন এসব বিনোদন কেন্দ্রে। আবার অনেকেই সকালে ছুটে গেছেন প্রকৃতি কন্যা জাফলং, সুউচ্চ জলপ্রপাত মাধবকুন্ড, জলারবন রাতারগুল, পান্তুমাই, বিছনাকান্দি, উৎমাছড়া, লোভাছড়া কিংবা স্বচ্ছ পানির লালাখালে।

এছাড়া সন্ধ্যার পর নগরীর কাজিরবাজারে সুরমা নদীর উপর নবনির্মিত দৃষ্টিনন্দন কাজির বাজার সেতু, সুরমার তীরের ক্বীনব্রীজ এবং শহরতলীর চা বাগানগুলোতেও নামবে মানুষের ঢল।

এদিকে, নগরীর বিনোদন কেন্দ্রগুলোর পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাসমূহে বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা। সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার (মিডিয়া) মো. জেদান আল মুসা জানান, শান্তিপূর্ণ ও স্বাভাবিক রাখতে নগরী ও আশপাশ এলাকায় র‌্যাব পুলিশসহ অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা তৎপর রয়েছেন। তাছাড়া নগরীর হোটেল মোটেল ছাড়াও কারাগার, বিদ্যুৎ বিভাগ, ব্যাংকসহ সব ক’টি স্থাপনা কঠোর নজরদারির আওতায় রয়েছে বলে জানান তিনি।

বিস্তারিত

সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে পর্যটকদের ভিড়

ঈদের ছুটিতে হবিগঞ্জের সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান দর্শনার্থীদের পদচারনায় মুখরিত হয়ে উঠছে। পরিবার পরিজন নিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটকরা ভিড় করছেন। সবুজ প্রকৃতি আর বন্য প্রাণীদের দেখতে বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষের মিলন মেলায় পরিণত হয়েছে গোটা সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান। ঈদের দিন বিকাল থেকে শুরু হয় দশনার্থীদের পদচারনা। ঈদের তিনদিন পর্যন্ত চলবে দর্শনার্থীদের আনাগোনা।

জেলার চুনারুঘাট উপজেলায় অবস্থিত রঘুসুন্দর পাহাড়ের ৭টি ছড়া থেকে মূলত নামকরণ করা হয়েছে সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের। ঈদের ছুটিতে জেলা ও জেলার বাইরে বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসছেন পর্যটক।

কুড়িগ্রাম থেকে আসা জাহিদ মিয়া নামে এক পর্যটক জানান, ঈদের ছুটিতে প্রাকৃতিক জীববৈচিত্র দেখার জন্য পরিবার নিয়ে এখানে বেড়াতে এসেছেন। তিনি বলেন, সাতছড়িতে এসে খুবই ভালো লাগছে। তবে ওয়াশরুমসহ বিভিন্ন ধরনের সমস্যা রয়েছে। এগুলোতে কর্তৃপক্ষ নজর দিলে আরও পর্যটক বাড়বে।

একই জেলার পলি নামে এক শিক্ষার্থী জানান, ঈদের ছুটিতে সাতছড়িতে এসে খুবই ভাল লাগছে। এখানে না আসলে বোঝা যাবে না প্রকৃতিকে কত কাছে পাওয়া যায়। কিছুক্ষণের জন্য প্রকৃতির মাঝে হারিয়ে গিয়েছিলাম।

সাতছড়ি রেঞ্জের রেঞ্জার মাহমুদ হোসেন জানান, এখানে পর্যটকদের সার্বক্ষনিক নিরাপত্তার জন্য পর্যটন পুলিশ কাজ করছে। পাশাপাশি গাইড নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। যারা গহীণ অরণ্যে যেতে চায় তাদেরকে গাইডের মাধ্যমে যেতে হবে।

তিনি বলেন, ঈদ আসলে পর্যটকদের সংখ্যা বেড়ে যায়। তখন আমাদের সামলাতে হিমশিম খেতে হয়। তবে আমরা চেষ্টা করি পর্যটকদের সব ধরনের সুযোগ সুবিধা দেওয়ার জন্য।

তিনি জানান, বৃষ্টি আসলে যাতে পর্যটকদের কোনও ধরনের অসুবিধা না হয় সেজন্য বেশ কয়েকটি ছাতা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি টয়লেট ও ওয়াশরুমের জন্য শীঘ্রই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বিস্তারিত

ঈদে পর্যটকদের জন্য প্রস্তুত কুয়াকাটা

পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটাকে সাজিয়ে তোলা হয়েছে নতুন সাজে। হোটেল ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, পর্যটকরা ঈদের ছুটি উপভোগ করতে হোটেলগুলোতে আগাম বুকিং দিয়েছেন। অগ্রিম বুকিংয়ের জন্য পর্যটকরা অনলাইন ও ফোনের মাধ্যমে যোগাযোগ করছেন। ভালো সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে এ বছর বেশি পর্যটক সমাগম ঘটবে।

পর্যটকদের নিরাপত্তা ও সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনও প্রস্তুত রয়েছে। ঈদ আনন্দে কেনাকাটার জন্য স্থানীয় মার্কেটের রাখাইন তরুণীরা বিভিন্ন সামগ্রির পসরা নিয়ে বসে গেছেন। সৈকতে বসার বেঞ্চ ও ছাতায় এখন রং-বাহারে নতুনত্বের ছোঁয়া।

কুয়াকাটার দর্শনীয় স্থান নারিকেল কুঞ্জ, ইকোপার্ক, জাতীয় উদ্যান, শ্রীমঙ্গল বৌদ্ধবিহার, সীমা বৌদ্ধবিহার, ফাতরার বনাঞ্চল, গঙ্গামতি, কাউয়ারচর, লেম্বুরচর, শুঁটকি পল্লীসহ সৈকতের জিরোপয়েন্ট থেকে পূর্ব ও পশ্চিমে মনোমুগ্ধকর সমুদ্রের বেলাভূমি, একাধিক নয়নাভিরাম লেক, সংরক্ষিত বনায়ন ও ইলিশ পার্ক যেন পর্যটকদের এখন হাতছানি দিয়ে ডাকছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, ঈদ উপলক্ষে দীর্ঘ ছুটিতে কর্মজীবী মানুষ একটু বিনোদনের জন্য ছুটে আসবেন পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটার সৈকতে। এজন্য আমরা সকল ধরনের সেবা দিতে প্রস্তুত রয়েছি। ট্যুরিস্ট বোর্ড মালিক সমিতির পরিচালক হোসাইন আমির জানান, পর্যটকদের নৌপথে ভ্রমণের জন্য নৌ-তরীগুলো প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এছাড়া পর্যটকদের বিভিন্ন ¯পটে ঘুরে বেড়ানো ও তথ্য জানানোর জন্য সৈকতের আশপাশে একাধিক ট্যুরিজম তথ্য সেবা কেন্দ্র রয়েছে।

কুয়াকাটার বিলাসবহুল হোটেল সিকদার রিসোর্ট অ্যান্ড ভিলার ভারপ্রাপ্ত অপারেশন ম্যানেজান গোলাম মোর্শেদ খান জানান, ঈদ উপলক্ষে আমাদের হোটেলের রুমের মূল্যছাড় দেয়া হয়েছে। হোটেলের পক্ষ থেকে ঈদের এক, দুই, তিন দিন লাইভ বারবিকিউ ও ডিনার পার্টিও রয়েছে। কুয়াকাটা হোটেল মোটেল ওনার্স এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোতালেব শরীফ জানান, রমজান মাসে কুয়াকাটা ছিল পর্যটকশূন্য। সড়কপথে পটুয়াখালী থেকে কুয়াকাটা ফেরিমুক্ত হওয়াতে ঈদের ছুটিতে পর্যটকদের উপচেপড়া ভিড় থাকবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন।

কুয়াকাটার পৌর মেয়র আবদুল বারেক মোল্লা জানান, পৌরসভার পক্ষ থেকে সৈকতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন কাজ চলছে। কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট পুলিশ জোনের এএসপি আব্দুল করিম জানান, পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য জিরো পয়েন্টসহ সৈকতের তিনটি পয়েন্টে ২৪ ঘন্টা পুলিশ নিয়োজিত থাকবে।

বিস্তারিত

পর্যটকদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ দেশের তালিকায় বাংলাদেশ: ডব্লিউইএফ

ভ্রমণ ও পর্যটনের জন্য কোন দেশ ভালো, কোনটির অবস্থান বাজে, তা নিয়ে প্রতিবছরই প্রতিবেদন প্রকাশ করে সুইজারল্যান্ডভিত্তিক সংস্থা ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম’ (ডব্লিউইএফ)। এক দশক ধরে সংস্থাটি এই প্রতিবেদন প্রকাশ করছে।
 
এরই ধারাবাহিকতায় চলতি বছর ১৩৬টি দেশের ওপর প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। এতে নিরাপত্তা ও সুরক্ষার বিষয়টি মাথায় রেখে ২০টি দেশকে পর্যটকদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ‘ট্র্যাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম কমপিটিটিভনেস রিপোর্ট’ শিরোনামের প্রতিবেদনে ঝুঁকিপূর্ণ সেই ২০ দেশের তালিকায় আছে বাংলাদেশও। 
 
প্রতিবেদনে তালিকায় থাকা দেশগুলোর  বিভিন্ন সামাজিক বিষয় তুলে ধরা হয়েছে।
 
১. কলম্বিয়া
একসময়ের বিপজ্জনক কলম্বিয়ার অবস্থা আগের চেয়ে ভালো হলেও এখনো পর্যটকদের জন্য যথেষ্ট ভীতি রয়েছে। সশস্ত্র বিভিন্ন সংগঠনের সক্রিয় তৎপরতা, অপহরণ, মাদক পাচার ও ডাকাতির মতো বিষয়গুলোর দেশটি এখনো পর্যটকদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। এ ছাড়া বোগোতার মতো বড় শহরে বিস্ফোরণ ও সন্ত্রাসবাদের মতো ঘটনাগুলোও পর্যটকদের জন্য হুমকিস্বরূপ।
 
২. ইয়েমেন
ইয়েমেনের রাজধানী সানায় বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করে আটক করে যাচ্ছে। আল-কায়েদার মতো চরমপন্থী সংগঠন সেখানে সক্রিয়। এ ছাড়া ল্যান্ড মাইন (মাটির নিচে লুকানো বোমা) এবং বিমান হামলায় বিধ্বস্ত দেশটিতে খাবার, পানি, চিকিৎসা সহায়তাসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। তাই এটি পর্যটকদের জন্য সুখকর কোনো অভিজ্ঞতা দেবে না।
 
৩. এল সালভাদর
মধ্য আমেরিকার দেশ এল সালভাদর খুনোখুনির জন্য কুখ্যাত। বিশ্বের সবচেয়ে বেশি হত্যা হয় দেশটিতে। এ ছাড়া দেশটিতে মারাস নামে সশস্ত্র একটি সংগঠন রয়েছে যারা সহিংসতা, অস্ত্র চোরাচালান ও মাদক পাচারে যুক্ত।
 
৪. পাকিস্তান
কয়েক বছর ধরে পাকিস্তানে ধর্মের নামে সহিংসতা নিত্যকার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশটির সরকার মোটা দাগে বাকস্বাধীনতা কেড়ে নিয়েছে। শুধু তাই নয়, অনেক জায়গায় বিদেশিদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।
 
৫. নাইজেরিয়া
বোকো হারাম এবং পশ্চিম আফিকায় সক্রিয় আইএসের মতো চরমপন্থী দল নাইজেরিয়ায় সহিংসতার জন্য দায়ী। তাদের আক্রমণের প্রধান লক্ষ্য থাকে গির্জা, স্কুল, রেস্তোরাঁ, আবাসিক হোটেল এবং বিনোদন কেন্দ্রগুলো।
নাইজেরিয়ায় ভ্রমণের ওপর পর্যটকদের সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট। তাদের পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘ঘনবসতিপূর্ণ স্থানে যাওয়ার সময় সবার সতর্ক থাকা উচিত।’
 
৬. ভেনিজুয়েলা
পানি, খাদ্য, ওষুধ ও বিদ্যুতের ঘাটতি থাকা দেশটিতে সামাজিক অস্থিরতা ও অপরাধ বাড়ছে। বিশ্বের অন্যতম অপরাধপ্রবণ একটি দেশ ভেনিজুয়েলা। ডাকাতি, খুন, অপহরণ ও গাড়ি ছিনতাইয়ের মতো ঘটনা খুবই সাধারণ। তাই দেশটিতে ভ্রমণে সতর্কতা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট।
 
৭. মিসর
আইএস ও অন্য চরমপন্থী সংগঠনগুলো মিসরের বিভিন্ন পাবলিক প্লেসসহ পর্যটন এলাকাগুলোতে শক্ত অবস্থান নিয়েছে। পরিবহন খাতকেও লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছে এসব সংগঠন। এর ফলে ভঙ্গুর হয়ে গেছে দেশটির পর্যটন খাত।
 
৮. কেনিয়া
রাজধানী নাইরোবির বাইরে অনেক সন্ত্রাসী হামলা হয়েছে। রাজধানীতেও সন্ত্রাসী হামলার হুমকি এখনো বিরাজ করছে। গ্রেনেড, গুলি ও ছুরিকাঘাতের মাধ্যমে আক্রমণ দেশটির নিত্যচিত্র।
 
৯. হুন্ডুরাস
বিশ্বের সর্বোচ্চ হত্যার হার এই দেশে। পুলিশ বা সামরিক বাহিনীর সদস্যসংখ্যা কম হওয়ায় দেশটিতে এখানে অপরাধ বাড়ছে। টেগুসিগালপা, সান পেড্রো সুলা এবং লা সিবা বিপজ্জনক এলাকা। গত সাত বছরে এসব এলাকায় যেসব হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, তার ৭০ ভাগই যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক।
 
১০. ইউক্রেন
দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে রাশিয়া-সমর্থিত বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সংঘর্ষের চিত্র নিত্যকার। দেশটিতে প্রায়ই এই সংঘাতের বলি হচ্ছে বেসামরিক নাগরিকরা।
 
১১. ফিলিপাইন
রাজধানী ম্যানিলার ক্যাসিনোতে গোলাগুলি এবং অগ্নিকাণ্ড ছাড়াও সুলু দ্বীপপুঞ্জ এবং দক্ষিণ সলুসাগরজুড়ে অপহরণ সাধারণ ঘটনা। পর্যটকরা অপহরণের প্রধান লক্ষ্যবস্তু।
 
১২. লেবানন
বেশ কিছু চরমপন্থী সংগঠন সক্রিয় থাকায় বোমা বিস্ফোরণের মতো সন্ত্রাসী হামলা প্রতিনিয়তই ঘটছে। প্রতিবেশী কিংবা পরিবারের মধ্যে ছোট বিরোধের জের ধরে হিংসাত্মক হয়ে ওঠে স্থানীয় কিছু সংগঠন।
 
১৩. মালি
মালির রাজধানী বামাকোতে পর্যটকদের ওপর হামলারa ঝুঁকি বেশি। হোটেল ও রেস্তোরাঁয় পর্যটকদের লক্ষ্যবস্তু বানানো হয়। ২০১৫ সালের নভেম্বরে বামাকোর র্যাডিসন হোটেলে অনেক লোককে জিম্মি করে হত্যা করা হয়।
 
১৪. বাংলাদেশ
সন্ত্রাসী হামলার হুমকির পাশাপাশি, প্রতিকূল আবহাওয়া বাংলাদেশকে পর্যটকদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে। এ ছাড়া দেশটিতে ঘূর্ণিঝড়, বন্যা ও ভূমিকম্পের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ লেগে আছে।
 
১৫. শাদ
আইএস, আল-কায়েদা ও বোকো হারাম দেশটিতে সক্রিয়। বেসামরিক নাগরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর পাশাপাশি বিদেশিরাও এদের হামলার শিকার। লিবিয়া, সুদান ও শাদের সীমান্তবর্তী এলাকায় মাইন (মটির নিচে থাকা বোমা) থাকায় পারাপার বিপজ্জনক।
 
১৬. গুয়াতেমালা
মেক্সিকোসংলগ্ন গুয়াতেমালা সীমান্ত দেশটির সবচেয়ে বিপজ্জনক অংশ। সেখানে ঘন ঘন মাদক ও ভিনদেশি লোকজনকে পাচার করা হয়।  এ ছাড়া গাড়ি ছিনতাই, ডাকাতি, চুরি নিয়মিত ঘটনা।
 
১৭. দক্ষিণ আফ্রিকা
দক্ষিণ আফ্রিকার অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধির কারণে অনেক লোকজন ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকর্মী ভাড়া করতে বাধ্য হচ্ছেন। প্রত্যন্ত মফস্বল ও বস্তিগুলোতে প্রতিনিয়তই নানা ধরনের অপরাধ সংঘটিত হয়।
 
১৮. জ্যামাইকা
বর্তমানে দেশটিতে ভ্রমণের কোনো পরামর্শ নেই। কিংস্টন এবং মন্টেগো বের মতো কিছু শহরে ব্যাপক হারে অপরাধ বাড়ছে। এমনকি পর্যটকরাও এসব হামলায় আক্রান্ত হতে পারে।
 
১৯. থাইল্যান্ড
 থাইল্যান্ডে চারটি প্রদেশ সবচেয়ে বিপজ্জনক। বিগত ১৩ বছরে এসব স্থানে সহিংসতায় সাড়ে ছয় হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।
 
২০. গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র
দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর কিছু অংশ, অন্য সশস্ত্র সংগঠন ও ডাকাতদলগুলো বিভিন্ন প্রান্তে সক্রিয়। তারা প্রায়ই সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। পর্যটকরা এসব সশস্ত্র সংঘাতের বলি হতে পারে।
বিস্তারিত

জাফলং ‘বল্লাপুঞ্জী রাজবাড়ী’

আব্দুল হাই আল-হাদী

চারিদিকে চলছে প্রকৃতি ধ্বংসের মহোৎসব। নদীর বুক চিরে অনবরত চলছে সারি সারি ট্রাক, চলছে গর্ত খোরার অসুস্থ প্রতিযোগিতা। চারপাশে মানবের দানবীয় হাতের ক্ষত-বিক্ষত চিত্র। দেখে মনে হবেনা এখানে একদা স্বচ্ছ নির্মল পানির এক নদী ছিল! বর্তমানে প্রকৃতি এখানে আহত, নিসর্গ এখানে পরাজিত। প্রকৃতির নির্মল পরিবেশ ও নিসর্গ ধ্বংসের এক জ্বলন্ত উদাহরণ এ যেন।

এ তাণ্ডবলীলার মাঝেই সবুজে আচ্ছাদিত গাছ-গাছালীতে পূর্ণ একটি জায়গা টিকে আছে কোন রকমে। স্থানীয়দের কাছে এটি ‘মন্দিরের জুম’ নামেই পরিচিত। চারদিকের বাস্তবতায় এ যেন এক মরূদ্যান! সে ’মন্দিরের জুম’ নামে পরিচিত স্থানটি প্রকৃতপক্ষে ৭ শতাধিক বছর পুরনো এক রাজবাড়ী। খাসিয়াদের গৌরবজনক প্রাচীন মালনিয়াং রাজ্যের রাজবাড়ী এটি। প্রাচীন আমলের অনেক ধ্বংসাবশেষ এখনও সগৌরবে দাঁড়িয়ে আছে এখানে।
 
সিলেটের জাফলং দেশ-বিদেশের পর্যটকদের একটি আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র। প্রকৃতি অকৃপণ হাতে স্থানটিকে সাজিয়েছে নিজের মতো করে। পাথর কোয়ারীর জন্যও জাফলং সমধিক পরিচিত। কিন্তু জাফলং কেবল প্রাকৃতিক সৌন্দর্য কিংবা খনিজ সম্পদের জন্যেই পরিচিত নয়। ঐতিহাসিকভাবেও জায়গাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হাজার বছরের পুরনো খাসিয়াদের ঐতিহাসিক ‘মালনিয়াং রাজ্য’ এর রাজধানী ছিল জাফলংয়ের বল্লাপুঞ্জি এবং এখানকার রাজবাড়ী থেকেই প্রভাবশালী মালনিয়াং রাজারা বিশাল রাজ্য শাসন করেছেন।

জাফলংয়ের বল্লাপুঞ্জিতে অবস্থিত ‘মন্দিরের জুম’ নামে পরিচিত স্থানে প্রাচীন মালনিয়াং রাজ্যের রাজবাড়ীর ধ্বংসাবশেষ আজও আলোকিত গৌরবময় অতীতের স্মৃতি ধারণ করে আছে। ঐতিহাসিক এ রাজবাড়ীটি দীর্ঘদিন থেকে লোকচক্ষুর অন্তরালে নিজেকে টিকিয়ে রাখতে সক্ষম হয়েছে। স্থানীয় লোকজনও প্রাচীন এ রাজবাড়ীর কথা পুরোপুরি ভুলে গেছে। যে দু’একজন এ বাড়ীটিকে চেনে, তাদের মধ্যেও এটা নিয়ে রয়েছে ভুল ধারণা।

খাসিয়া সম্প্রদায়ের প্রাচীন ইতিহাস ও জৈন্তিয়া রাজ্য সম্পর্কে অধ্যয়ন করতে গিয়ে প্রাচীন মালনিয়াং রাজ্য এবং সে রাজ্যের রাজধানী জাফলংযের বল্লাপুঞ্জিতে অবস্থিত রাজবাড়ীর তথ্য পাওয়া যায়। কিন্তু কোথাও এ বাড়ীর সুনির্দিষ্ট অবস্থানের উল্লেখ বা  বিবরণ পাওয়া যায় না। ব্যক্তিগত উৎসাহ এবং গবেষণার প্রয়োজনে দীর্ঘদিন অনুসন্ধানের পর এ রাজবাড়ীর অবস্থান এবং ধংসাবশেষের সন্ধান পাওয়া গেছে। জাফলং এ শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে বসবাসরত খাসিয়া প্রবীণদের সহযোগিতা ও এ  রাজবাড়ীর অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত করতে অনেক সাহায্য করেছে। একই সাথে প্রাচীন সেই ’মালনিয়াং রাজ্য’ এবং তাঁর রাজাদের সম্পর্কে অনেক অজানা তথ্য জানা সম্ভব হয়েছে।

জাফলং এর প্রাচীন খাসিয়া বসতি ’বল্লাপুঞ্জি’র বন-বাদাড় ও পান-সুপারী’ জুমের মধ্যে বাড়িটির সন্ধান পাওয়া গেছে। স্থানীয়দের কাছে জায়গাটি ’মন্দিরের জুম’ নামে পরিচিত। সে জুমটি পান-সুপারিসহ নানা রকম বৃক্ষে আচ্ছাদিত এবং কাটা তারের বেড়া দিয়ে সুরক্ষিত। পাথর খেকোদের লোলুপ দৃষ্টি ও লোভাতুর হাত থেকে রক্ষার জন্যই সম্ভবত: জায়গার মালিকরা এমন ব্যবস্থা নিয়ে থাকতে পারেন। সে জুমের মধ্যে ঢুকে দেখা গেছে, হাজার বছরের পুরনো সে রাজবাড়ীর ধংসাবশেষ আজও নিজের অতীতের গৌরবগাঁথা ধারণ করে আছে। বাড়ীটির পূর্ব ও দক্ষিণ দিকের বিশাল দেয়ালটি এখনো অবিকৃতভাবে দাঁড়ানো আছে । দু’দিকে রয়েছে প্রাচীন আমলের দু’টি রাজকীয় গেইট যা প্রাচীন স্থাপত্যশৈলীর পরিচয় বহন করছে। দেয়ালের মধ্যে রয়েছে রাজবাড়ীর মূল ঘরটি; যদিও পুরো ঘরটি সম্পূর্ণভাবে দাঁড়ানো নেই। শুধুমাত্র দেয়ালের ভূমিসংলগ্ন অংশ প্রায় ৪/৫ ফুটের মতো উচ্চতা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। ঘরের দেয়ালের নীচের পাকা অংশ দেখে সহজেই সে ঘরের আয়তন সম্পর্কে জানা যায়। ঘরটি দৈর্ঘ্যে প্রায় ২০ গজ এবং প্রস্থে প্রায় ১৫ ফুটের মতো হবে। উচ্চতা কেমন ছিল-তা বর্তমান সময়ে অনুমান করা সম্ভব নয়। তবে স্থপতিদের দ্বারা সেটা সম্ভব হতে পারে বলে আমরা মনে করি।

প্রবীণদের প্রদত্ত তথ্যমতে, বর্তমানে রক্ষিত বাড়িটিতে আগে পাকা নির্মিত একটি বৈঠকের জায়গা ছিল যা ১৯৮৮ সালের বন্যার সময় হারিয়ে গেছে। তাছাড়া আগে বর্তমান বাড়িটির উত্তর দিকে একটি পুকুর ছিল যা জাফলং নদীর সাথে সংযুক্ত ছিল। বর্তমানে তা ভরাট করে রাস্তা তৈরি করা হয়েছে। স্থানীয় ইউ/পি সদস্য সাদ মেম্বার বর্তমানে সে জায়গাটির মালিক। রাস্তার কারণে সেখানে আর সাবেক কালের মূল রাজবাড়ীটির কোন নিদর্শন দেখা যায় না। মূল ঘরের ধংসাবশেষের কাছে প্রচুর ইট-সুরকি ছড়ানো-ছিটানো রয়েছে যা বাড়িটির প্রাচীনত্বের ইঙ্গিত প্রদান করে। প্রত্নতাত্ত্বিক খননকাজের মাধ্যমে এ রাজবাড়ীর প্রাচীনত্বের পাশাপাশি আরও অনেক অজানা দিক উদঘাটিত হতে পারে।

মূল রাজবাড়ীটি বর্তমানে এক সুরক্ষিত পান-সুপারির জুমের মধ্যে অবস্থিত হওয়ায় এখানে যে দেয়ালসহ রাজবাড়ীর অবস্থান আছে, তা যে কারও দেখা তো দূরের কথা, অনুমান করতেও কষ্ট হবে। তাছাড়া বাড়ীর ধংসাবশেষ ও চতুর্দিকে পান-সুপারির গাছ রোপণ এবং আগাছার কারণে বাড়িটিতে এক ভুতুড়ে পরিবেশ রয়েছে। এতে ভেতরে ঢুকেও জায়গাটিকে চিহ্নিত করা কষ্টসাধ্য কাজ। খাসিয়া প্রবীণদের মধ্যে যারা এ বাড়ী সম্পর্কে জানেন, তাদের মধ্যেও এক ধরণের অস্পষ্ট বা ভুল ধারনা রয়েছে। তাদের অনেকেই মনে করেন যে, এটা একটা মন্দির। স্বাধীনতার কয়েক বছর পর পর্যন্তও এখানে পূজা অনুষ্ঠিত হতে দেখেছেন বলে মন্তব্য করেন। তবে আশার কথা হচ্ছে-ঐতিহ্যবাহী বল্লাপুঞ্জির এ রাজবাড়ীটি এখনো  সরকারি রেকর্ডে মন্দিরের ভূমি হিসেবে চিহ্নিত এবং সরকারী মালিকানায় রয়েছে। বাড়িটি বর্তমানে গোয়াইনঘাট উপজেলার জাফলং ইউনিয়নের অন্তর্গত ছৈলাখাল ২য় খণ্ড মৌজায় অবস্থিত। বাড়িটি ১০৩ জে.এল. নম্বরের ২৭ নম্বর দাগে অবস্থিত। মৌজা মানচিত্রে জায়গাটিকে মন্দির হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এতে মোট ভূমির পরিমাণ হচ্ছে ৮ ডিসিমেল।  অযত্ন আর অবহেলায় পড়ে থাকলেও বাড়িটিকে সংস্কার ও দখলমুক্ত করে এখনো দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করা সম্ভব।

রাজবাড়ীসহ আশেপাশের সুরক্ষিত এ জুমবাগানটিতে মোট দশ বিঘা জায়গা রয়েছে। বর্তমান বাড়ী সংলগ্ন জুমের মালিক বল্লাপুঞ্জির বরেন লামিন এর তথ্যমতে, বল্লাপুঞ্জির রাজবাড়ীসহ পার্শ্ববর্তী মোট জমির পরিমাণ ছিল ১০ বিঘা । পুরো এ জায়গার মালিক ছিলেন তার মা কানেং লামিন। তার বোন পাহেলা লামিন উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত সম্পত্তির ৬ বিঘা বিয়ানীবাজারের এক প্রবাসী বাঙালীর কাছে বিক্রি করে দেন যা এখন তাঁর দখলে আছে। তার মা কানেং লামিন তাঁর বাড়িতে আশ্রিত এক ধর্মীয় ভাইকে বাকি অংশ দিয়ে দেন। এ অংশ আবার সে লোকটির কন্যা শিরিং তংপের বরেন লামিনের কাছে বিক্রি করে দিয়ে ভারতে চলে যান। সর্বশেষ জরিপে জায়গাটি বরেন লামিনের নামে রেকর্ড হয়েছে। তাঁর জায়গার দাগ হচ্ছে ২৮। ২৯ দাগের পূর্বে ২৬ নং দাগ উপাই খংলার নামে রেকর্ড হয়। মোহাম্মদ আব্দুল আজিজ (১৯২৭) এবং সৈয়দ মূর্তাজা আলী ১৯৫৪ সালে তাদের প্রকাশিত বইয়ে এ রাজবাড়ীর জাফলংয়ে অবস্থানের কথা উল্লেখ করেছেন।

জাফলংয়ের সোনারটিলা, বল্লাপুঞ্জি, প্রতাপপুর , সেংগ্রেইন, নকশিয়ার ও লামাপুঞ্জি ইত্যাদির নামকরণ ও বসতিস্থাপনের ইতিহাস পর্যালোচনা করে আমরা নিশ্চিত যে, জাফলং এবং পার্শ্ববর্তী অঞ্চল সুপ্রাচীনকাল থেকেই খাসিয়াদের বিচরণভূমি ছিল।
 
খাসিয়াদের এ রাজবাড়ী সম্পর্কে আলোচনায় তাঁদের সে ঐতিহাসিক রাজ্য ‘মালনিয়াং’ নিয়ে আলোচনা করা অপ্রাসঙ্গিক হবে না। খাসিয়ারা ভারতে বিশেষ করে খাসিয়া-জৈন্তিয়া পাহাড় এবং পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে প্রথম বসতি স্থাপনকারী জাতিসমূহের মধ্যে যে অন্যতম, সে ব্যাপারে পণ্ডিতদের কোন মতানৈক্য নেই। সুসংহত রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে ‘রাষ্ট্র’ এর আবির্ভাবের আগে তা অনেকগুলো ধাপ পেরিয়ে এসেছে। রাষ্ট্রের ঠিক আগের অবস্থাটিকে রাজনৈতিক নৃবিজ্ঞানীরা ‘চীফডোম’ বা ‘মুখিয়াতন্ত্র’ বলে অভিহিত করেছেন। প্রাগৈতিহাসিককালের যে সময়ই খাসিয়া জাতি উপমহাদেশে বসতি স্থাপন করুক না কেন তারা সে সময় রাজনৈতিক ক্ষেত্রে বিশেষ ক্ষমতা ও দক্ষতা অর্জন করেছিল।

জৈন্তিয়া পাহাড়, সিলেট এবং প্রাগজ্যোতিষপুরে (আসামের আদি নাম) পার্বত্য ও সমতলভূমির বিভিন্ন এলাকায় খাসিয়াদের ক্ষুদ্র ও বৃহৎ অনেকগুলি ‘মুখিয়াতন্ত্র’ (রাজ্য বলতে যা বুঝায় প্রায় সেরুপ) গঠিত হয়েছিল। খাসিয়াদের এসব ‘মুখিয়াতন্ত্র’ তাদের ভাষায় ‘সিয়েম’ নামে পরিচিত। খাসিয়া প্রবাদে এসব সিয়েমকে একত্রে ‘kari lai phew syiem khaddar doloi’ যার বাংলা অর্থ হলো ‘ত্রিশ রাজা বার দলইর দেশ’ বলা হয়। দলই মানে এলাকা পতি বা অঞ্চল পতি। খাসিয়া রাষ্ট্র ব্যবস্থায় দলইগণের প্রভাব ছিল অনেক বেশি। তাদের আরেক প্রবাদে আছে ‘Ri hynniew trop’ অর্থাৎ সপ্ত কুটিরের দেশ। এটি তাদের উৎপত্তি ও বিকাশের ক্ষেত্রে বলা হয়ে থাকে।

লোককাহিনী ও প্রবাদ মতে, প্রাচীন আমলের খাসিয়া সিয়েম বা রাজ্যগুলো  হচ্ছে জৈন্তা, মাহারাম, নংখোলাও, চেরা মাওইয়াং, খাইরেম, ভুওয়াল, শেল্লা, রামব্রাই, নংষ্টোইন, হাদেম মুকাশিয়ার, মেরওয়েট, নংখাম, মালনিয়াং প্রভৃতি। এদের মধ্যে ‘মালনিয়াং’ রাজ্যটি সবচেয়ে প্রাচীন, ক্ষমতাশালী এবং সর্ববৃহৎ ছিল বলে গবেষকগণ সিদ্ধান্তে উপনিত হয়েছেন।

খাসিয়া গবেষক ড. এইচ.বারেহ, ড. এইচ.লিংডহ, জে.এন. চৌধুরী, রুশ পতাম প্রমুখ প্রাচীন মালনিয়াং রাজ্য সম্পর্কে আলোচনার প্রয়াস পেয়েছেন। খাসিয়াদের ইতিহাসের আলোচনায় যে প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়, সেটি হচ্ছে পর্যাপ্ত তথ্যের অভাব। ১৭ শতকের আগে খাসিয়াদের কোন তথ্যভিত্তিক লিখিত ইতিহাস পাওয়া যায় না। কারণ ব্রিটিশদের আগমনের পূর্ব পর্যন্ত তাদের ভাষার কোন লিখিত রূপ ছিলনা। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে লিখিত ইতিহাসের পূর্বে তাদের কী কোন ইতিহাস নেই, নেই কোন রাজত্ব বা রাজবংশের ইতিহাস? মিথ, কিংবদন্তী বা লোককাহিনী এ ব্যাপারে অনেক তথ্যভিত্তিক উপাদান সরবরাহ করেছে যার চুলচেরা বিশ্লেষণ করে খাসিয়াদের গৌরবময় ও প্রাচীন ‘মালনিয়াং রাজ্য’ সম্পর্কে বৈজ্ঞানিকভাবে আলোকপাতের প্রয়াস পেয়েছেন।

গবেষকদের মতে, মালনিয়াং রাজ্যের রাজাগণ জায়ন্তিয়া বা সিন্টেং বংশোদ্ভূত লোক ছিলেন। সিলেটের অধিকাংশ এলাকা প্রাচীনকালে এ রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত ছিল। মধ্যযুগ পর্যন্ত দু’টি স্থানে এ রাজাদের রাজধানী ছিল। একটি হলো খাসিয়া-জৈন্তিয়া পাহাড়ের মাধুর-মাস্কুট নামক স্থানে এবং অন্যটি হচ্ছে সিলেট জেলার জাফলং এর ‘বল্লাপুঞ্জি’ নামক স্থানে। তবে বেশিরভাগ গবেষকই মাধুর-মাস্কুট মালনিয়াং রাজ্যের অপর নাম বলে আখ্যায়িত করেছেন। আমাদের আলোচ্য রাজবাড়ীটি সে রাজ্যেরই রাজবাড়ী। এ রাজ্যের সীইমদের সীম না ডেকে রাজা বলেই ডাকা হতো এবং তাদের রাজ্যকে ‘মধুর মাস্কুট’ নামে ডাকা হতো। কিংবদন্তী মতে, এ রাজ্যের পূর্বদিকে মণিপুর রাজ্য, উত্তরে ব্রহ্মপুত্র নদী, পশ্চিমে ময়মনসিংহ এবং দক্ষিণে ঢাকা-ত্রিপুরা অবস্থিত ছিল। জৈন্তিয়াসহ ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র রাজ্য বা সীয়েমসমূহ এ সাম্রাজ্যের অধীনে ছিল।
 
রুশ পতামের মতে, ’এ রাজ্যটি এককালে সিলেট সদর ও শহর এলাকা , কোম্পানীগঞ্জ ,সুনামগঞ্জ জেলার কিয়দংশ, জাইন্তিয়া পাহাড়ের কিয়দংশ এবং আসামের সমতলভূমি নিয়ে গঠিত ছিল। সিলেটের মালাগুল, মালনিছড়া, দলহরগঞ্জ,  গোয়াইনঘাট, ইয়াওফ্লাং (জাফলং), চিকনাগুল, শীলত (সিলেট) ইত্যাদি নামক স্থানগুলোর নাম এ রাজাদের সময়ে বা রাজাদের কর্তৃক নামকরণ করা হয়েছে বলে রুশ পতাম অনুমান করেছন। খাসিয়াদের আরেক প্রভাবশালী রাজ্য জৈন্তিয়া’র অনেক পূর্বেই এটার অস্তিত্ব ছিল।

সিলেট অঞ্চলে সম্ভবত: সিলেট শহরে অথবা শহরের অদূরে রাজাগণ বসবাস করতেন। পরবর্তীতে জয়ন্তিয়া ও গৌড় রাজাদের আধিপত্যের কারণে তাদের রাজধানী বালা (জাফলং এর ’বল্লাঘাট’) নামক স্থানে স্থানান্তরিত হয় এবং জাফলং নামক স্থানে ‘ফ্লুং’ বা রাজাদের প্রস্তর ফলক রাখা হতো। সিলেট সদর থানা , কোম্পানীগঞ্জ থানা এবং ছাতক থানা মিলে এই সব অঞ্চলকে ‘মাস্কুট লিটাং সমতল ভূমি’ নামে অভিহিত করা হতো’ (রুশ পতাম ২০০৫:৫৭-৫৮)।

তিনি লোককাহিনীর বরাত দিয়ে মন্তব্য করেন, এ রাজ্যের রাজাগণ হচ্ছেন নিয়াং রাজা, কল্লং রাজা, কন্দুর রাজা  এবং মাইলং রাজা। মাইলং রাজাই এ রাজবংশের শেষ রাজা। এ রাজার রাজবাড়ী ছিল জাফলং। তার অনুমান হচ্ছে,  তের শতাব্দীর পূর্বেই এই রাজ্যটি বিলুপ্ত হয়েছিল।

Dr. Homiwell Lyngdoh  তাঁর বিখ্যাত ‘Ki Syiem Khasi Bad Synteng’ গ্রন্থে প্রাচীন মালনিয়াং রাজ্য সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে আলোকপাত করেছেন। বইটি খাসিয়া ভাষায় লিখিত হলেও অন্যান্য গবেষকদের বরাতে আমরা সেই বইয়ে প্রদত্ত তথ্য সম্পর্কে জানার চেষ্টা করেছি। খাসিয়া গবেষক জে এন চৌধুরী তার The Khasi People বইতে প্রাসঙ্গিক অংশটুক ইংরেজীতে তুলে ধরেছেন।

Dr. Homiwell Lyngdoh  মালনিয়াং রাজ্য সম্পর্কে বলেন,
‘The Malyangiang Syiems or Madur Maskut Syiems were great and powerful Syiems of these hills. The people used to call them ‘God Kings’ ; and their kingdom tradition holds , touched Damer (Dimarua) in Nowgong in Assam to the north, running along the Khasi and Jaintia Hills upto Kuwain (Sylhet) in the south. Tradition affirms that at one time the kingdom included the whole of Jaintia Hills. After Kyllong Raja was killed, the Synteng (Jaintia) succeeded in conquering and annexing the Kingdom of Madur Maskut. From that time, the Malyngiang people were scattered throughout Khasi and Jaintia Hills. According to tradition, from the time that disappearance of the Malyngiang Kingdom till the advent of the British, seven generations have passed by. If you allow 25 years for a generation  and if you take 1826 as the year when the East India Company first came to these Hills, the Kingdom of Maskut came to an end in 1651 i.e. at the time of Jasamanta Roy, the Syiem of the Synteng people and Jaintapur.’ (Quoted by J.N. Chowdhury 1996:)।

অর্থাৎ মালনিয়াং রাজ্যটি উত্তর দিকে আসামের নওগা জেলার দিমারুয়া থেকে খাসি-জৈন্তিয়া পার্বত্য অঞ্চল হয়ে দক্ষিণ দিকে সিলেটের গোয়াইঘাট পর্যন্ত পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। রাজ্যটি ১৬৫১ খ্রিস্টাব্দে জৈন্তিয়া রাজা যশোমন্ত রায়ের হাতে সমাপ্তি ঘটে।

Dr. Bareh (1967) এর তথ্যমতে, মালনিয়াং রাজত্বের সমসাময়িক খাসিয়া চিফডমগুলো হচ্ছে পূর্বদিকে জৈন্তিয়া, মধ্য অঞ্চলে Mawroh Marpri এবং পশ্চিমদিকে Inog Syiem। তিনি একমত যে, মালনিয়াং রাজারা তাদের রাজ্যকে কামরুপের বেলতলা, মালাগুল (মুলাগুল যা বর্তমানে সিলেটের কানাইঘাটে অবস্থিত) এবং সুরমা উপত্যকার সিলেট পর্যন্ত বিস্তৃত করেছিলেন। Dr. Bareh (1967) এ রাজ্যের সর্বশেষ ৩ জন রাজার নাম উল্ল্যেখ করেছেন। তারা হচ্ছেন- নিয়াং রাজা, কল্লং রাজা এবং মাইলং রাজা। মাইলং রাজা ১২০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত এ অঞ্চল শাসন করেছেন বলে তিনি মতপ্রকাশ করেছেন। মালনিয়াং রাজারা অতিপ্রাকৃত ক্ষমতাপ্রাপ্ত ছিলেন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

P.R.T. Gurdon (1914) তাঁর বিখ্যাত ‘The Khasi’ বইতে মালনিয়াং রাজ্য সম্পর্কে মন্তব্য করেন এভাবে ‘The weird tale about the Siem of Malyniang (Malyngiang) is the pride of the Maskut people, for in older day their king, i.e. the Siem of Malyniang, is supposed to have been a very powerful monarch amongst the Khasis’।

অন্যদিকে, সিলেট ডিস্ট্রিক গেজেটিয়ারে (১৯৭৫) বর্ণিত তথ্যমতে, জৈন্তার রাজা বিজয় মানিকের আমলে এটি জৈন্তারাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হয়।

আমরা এবার দৃষ্টিপাত করবো ‘জৈন্তিয়ার ইতিহাস’ রচিয়াতের দিকে যারা সিন্টেং বা জৈন্তা জাতির পাশাপাশি ভৌগলিক অঞ্চল হিসেবে প্রাচীন জৈন্তিয়ার ইতিহাস রচনার প্রয়াস পেয়েছেন। আমরা জৈন্তার ইতিহাসের দিকে দৃষ্টিপাত না করেই সরাসরি এ রাজ্যের সাথে প্রাচীন মালনিয়াং কিংবা জাফলং রাজ্যের সম্পৃক্ত অংশটুকুর দিকেই নজর দেব।

মোহাম্মদ আবদুল আজিজ রচিত ‘জৈন্তা রাজ্যের ইতিহাস’ গ্রন্থে জাফলং পরগণা বা রাজ্যের ইতিহাস তুলে ধরেছেন এভাবে,

’...... রাজা জয়ন্ত রায়ের তিন পুত্র ও এক পোষ্য কন্যা ছিলেন। কন্যার নাম ছিল জৈন্তি; উহাকে একটি বৃহৎ মাছের পেটে পাওয়া গিয়াছিল বলিয়া মাছের পেটের রাণীও বলা হইত। ইনি শৈশবে পর্বতের ’হুতুঙ্গা’ পুঞ্জিতে প্রতিপালিত হইয়াছিলেন বলিয়া রাজা তাহাকে সেই পুঞ্জিরই খাসিয়া সর্দারের পুত্র লন্ডবরের সহিত বিবাহ দিয়াছিলেন। খাসিয়াগণ বিবাহের পর শ্বশুরালয়ে চলিয়া যায় এবং কন্যা পিতৃগৃহেই থাকে। ইহা তাহাদের চিরন্তন প্রথা । সুতরাং এই নিমিত্ত রাজা নিজপাট নগরীসহ জৈন্তাপুরীরাজ পরগণা ঐ কন্যাকে, জাফলং পরগণা ১ম পুত্রকে; চারিকাটা পরগনা ২য় পুত্রকে ও ফালজুর পরগনা ৩য় পুত্রকে বন্টন করিয়া দিয়া পরলোক গমন করেন।

এই রাজ্য বিভাগকালে রাজা জয়ন্ত রায় সমতা রক্ষার জন্য প্রত্যেক একই নামবিশিষ্ট গ্রামসমূহের নামকরণ করিয়াছিলেন। যথ: বাউরভাগ, ভিত্তিখেল, চৈলাখেল, পাঁচসেউতিখেল, নয়াখেল, লক্ষীপ্রসাদখেল ও হুরুখেল। এই জন্য উক্ত চারিরাজকে ’খেলুরাজ’ বলা হয় এবং ঐ খেলুরাজ চতুষ্টয়ে আজও সেই গ্রামসমূহ বিদ্যমান আছে।

কালক্রমে ঐ কন্যা স্বীয় বুদ্ধি ও ক্ষমতাবলে অতিশয় পরক্রান্ত হইয়া উঠেন এবং প্রথমত: চারিকাটার অধিশ্বরকে নিহত করিয়া তাহাদের রাজ্য ও নিজ রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত করিয়া লন। এবং স্বীয় নামানুসারে বা পালক পিতার নামানুসারে ‘জয়ন্তা বা জৈন্তিয়া’ বলিয়া রাজ্যের নাম রাখেন। এখনও চারিকাটা, ফালজুর ও জাফলং এ রাজবাড়ীত্রয় বিদ্যমান থাকিয়া সেই প্রাচীন কীর্তির পরিচয় দিতেছে। চারিকাটার রাজবাড়ীকে ’দুধরাজার বাড়ী’ এবং জাফলং এর রাজবাড়ীকে ‘মাইলং রাজার বাড়ী’ বলা হইয়া থাকে। জাফলং এর রাজবাড়ীতে বর্তমানে কমলার বাগান অবস্থিত, কিন্তু অপর রাজবাড়ীদ্বয় ঘোর অরণ্যে আচ্ছাদিত’ (মোহাম্মদ আবদুল আজিজ ১৯২৭:২-৩)।

Syed Murtaza Ali , তার The History of Jaintia বইতে উল্ল্যেখ করেছেন,

‘---------We have already said that Kingdom of Jaintia consisted of Jaintapuriraj pergana only before the advent of Bijoy Manik. Charikata, Faljur and Jaflong were three separate principalities at that time. It was Bijoy Manik who consolidated the kingdom. After the death of the princes of Jaflong and Charikata, he seized their territory. Then he treacherously got Long Raja, prince of Faljur, murdered and included his territory also in his domain. Long Raja is said to have been a powerful monarch among the Synteng. Long Raja is referred to as a Raja of Jaintia by Col. Gurdon. The traces of the places of the prices of Charikata, Faljur and Jaflong are still to be seen in these perganas.’ (Syed Murtaza Ali 1954:8)।

রাজা বিজয় মানিকের রাজত্বকাল উল্ল্যেখ করতে গিয়ে তিনি বলেন, Bijoy Manik was the contemporary of  Bejoy Manikya, King of Tipperah (1528-79) and Koch King Narrayana(1540-87)। তাঁর মতে, রাজা যশোমন্ত রায়ের শাসনকাল হচ্ছে ১৬৪৮-১৬৬৮ খ্রিস্টাব্দ।

মালনিয়াং রাজ্য এবং প্রভাবশালী রাজা কল্লং সম্পর্কে জাফলং এ বসবাসরত প্রবীণ খাসিয়াদের মধ্যে অনেক কিংবদন্তী চালু আছে। বল্লাপুঞ্জির বরেন লামিন সে কিংবদন্তী সম্পর্কে বিস্তারিত জানা সম্ভব হয়েছে। Bijoya Sawian তাঁর ‘Khasi Myths, Legends and Folklore’  বইতেও এ কিংবদন্তী বিস্তৃতভাবে আলোচনা করেছেন। জেএন চৌধুরী তাঁর The Khasi People ‘বইতেও এ কিংবদন্তী’র আলোচনা করে তাঁর সত্যাসত্য বিচারের চেষ্টা করেছেন।

কিংবদন্তী মতে, রাজা কল্লং ঐশ্বরিকভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত ছিলেন। ঐশ্বরিকভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কল্লং রাজা মাধুর মাস্কুট গ্রামে বসবাস করতেন। গ্রামটি বর্তমানে মাস্কুটের দলইশীপের অধীনে অবস্থিত। কল্লং রাজা সিদ্ধান্ত নিলেন যে, পুরো সিন্টেং রাজ্য এবং পার্শ্ববর্তী খিনরিয়াম (উপরদিকের খাসি) রাজ্যগুলোও তাঁর রাজ্যের অধীনে নিয়ে আসবেন। রাজার স্বপ্ন বাস্তবায়নের ক্ষমতাও তাঁর নিজের ছিল। কারণ রাজার কোন শক্তিশালী বাহিনীর প্রয়োজন ছিল না এবং তিনি কখনো কোথাও পরাজিত হন নি। যদি তিনি কখনো মারাও যান তবে ঐশ্বরিক জাদুমন্ত্রে তিনি জীবন ফিরে পান। একদা এরকম এক ঘটনা ঘটেছিল। সিন্টেং সিয়েমের লোকের একদা তাকে হত্যা করে দেহকে সবদিকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে দেয়। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে পরের দিন তিনি আগের রুপে আবির্ভূত হলেন। সিন্টেং রাজা তা দেখে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে গেলেন এবং কল্লং রাজার ক্ষমতার গোপন রহস্য জানার জন্য অনুসন্ধান শুরু করলেন। অনেক ভেবে চিন্তে অবশেষে সিন্টেং বা জৈন্তিয়া রাজা এর রহস্য উদঘাটনের জন্য ভিন্ন এক কৌশল গ্রহণ করলেন।সমস্ত রাজ্য জুড়ে তালাশ করে এক সুন্দরী তরুণীকে বের করা হলো । তাকে খোঁজার উদ্দেশ্যে বর্ণনা করে দামি মিহি পোশাক-পরিচ্ছেদ এবং মূল্যবান অলংকার দান করা হলো। সে যদি কল্লং রাজার গোপন ক্ষমতার রহস্য বের করে আনতে পারে, তবে তাকে আরও মূল্যবান অনেক সম্পদ দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলো। সে প্রাপ্ত উপহার পেয়ে রাজার প্রস্তাবে অর্পিত কাজ করতে রাজি হয়ে গেল। এবার তাকে নির্দেশনা দেওয়া হলো কিভাবে সে কাজ করবে। তাকে বলা হলো সে যেন সেজে-গুজে ঘন ঘন বাজারে যাতায়াত করে যে বাজারে কল্লং রাজা যাতায়াত করেন। নিজের সৌন্দর্য ও ব্যক্তিত্ব দ্বারা যেন সে রাজাকে প্ররোচিত করে। সিন্টেং সিয়েম হিসাব করলো যে, এতে রাজা তাঁর সৌন্দর্য্যে আকৃষ্ট হয়ে তাকে বিয়ে করবে। রাজা তরুণীকে বললেন যে, যদি তার হিসাব মিলে যায় তবে সে যেন চরম ভালোবাসার ছলনা করে এবং রাজার আত্ববিশ্বাসকে জয় করে গোপন ক্ষমতার রহস্য উদঘাটন করে। সিন্টেং রাজার হিসেব পুরোপুরি মিলে গেল। কল্লং রাজা তরুণীর সৌন্দর্যে আকৃষ্ট হয়ে তাকে বিয়ে করলেন।

দিন দিন কল্লং রাজা তার প্রতি সুন্দরীর চরম ছলনাময় ভালবাসায় একেবারে প্রেমে অন্ধ হয়ে পড়লেন এবং তাকে পুরোপুরি বিশ্বাস করতে শুরু করলেন। স্ত্রীর উপর রাজার এত আত্মবিশ্বাস জন্মালো যে তিনি তাঁর অতিপ্রাকৃত ক্ষমতার গোপন রহস্য তাঁর কাছে প্রকাশ করলেন। তিনি তাকে বললেন যে, তাঁর সব ক্ষমতা তার নাড়িভুঁড়ির মধ্যে অবস্থান করে। কল্লং স্ত্রীকে বললেন যে, প্রতিদিন সকালে তিনি যখন গোসল করেন তখন সব নাড়িভুড়ি বের করে পানি দিয়ে যথাযথভাবে ধৌত করেন এবং এরপরই প্রথম খাবার গ্রহণ করেন। কেউ যদি খুব শক্তিশালী হয় এবং গোসলের সময় তার নাড়িভুড়ি কেঁড়ে নিতে পারে, তবেই তার ইতি ঘটবে। অন্যথায় পৃথিবীর কেউই তাকে পরাজিত করতে পারবে না কিংবা তার মৃত্যু ঘটাতে পারবে না। নিজের স্বামী কল্লংয়ের প্রতি বিশ্বস্ত থেকে সে সব গোপন কথা তাকে যে সিন্টেং রাজা পাঠিয়েছিল, তাঁর চরের সাথে গোপনে সব কথা প্রকাশ করে রাজার কাছে পৌঁছে দেওয়ার দেয়ার জন্য পাঠিয়ে দিল।

কল্লং রাজার ক্ষমতার গোপন রহস্য সম্পর্কে অবগত হওয়ার পর সিন্টেং রাজা ‘রেলিয়েং’ থেকে একজন বিশ্বস্ত ও শক্তিশালী লোককে ডেকে পাঠালো। তাঁকে সব খুলে বলার পর অত্যন্ত বিশ্বাস করে কল্লং রাজাকে হত্যার মিশনে পাঠানো হলো। সে ও রাজাকে হত্যার জন্য সম্ভাব্য সব কৌশল ও শক্তি প্রয়োগ করবে বলে সিন্টেং রাজাকে আশ্বস্ত করলো। যেমন কথা তেমন কাজ। সে গোপনে রাজাকে অনুসরণ করে সুযোগ খুঁজতে লাগলো। একদিন সে সুযোগ আসলো।

অভ্যাসবশত: রাজা একদিন নদীতে গোসল করতে নামলেন, নাড়িভুঁড়ি বের করার পর সেগুলো যথারীতি ধৌত করে নদীর তীরে রাখলেন। এসময় ‘রেলেয়িং’ থেকে আগত লোকটি যে কিনা গোপনে তাকে অনুসরণ করছিলো সে রাজার উপর ঝাঁপিয়ে পড়লো এবং তাকে হত্যা করলো। এরপর থেকে তিনি তিনি চিরদিনের মতো ক্ষমতাহীন হয়ে পড়লেন। কল্লং রাজার মৃত্যুর পর তার সকল ক্ষমতার উৎস ‘নাড়িভুড়ি’ কে ছোট ছোট টুকরো করে কুকুরকে খাওয়ানো হলো। সিন্টেং রাজা তার রাজ্য ও রাজত্ব দখল করলেন এবং কল্লং রাজার পরিবারের সব সদস্যকে নির্বাসিত করা হলো । এভাবে কল্লং রাজত্বের দু:খজনক ইতি ঘটলো।

দেখা যাচ্ছে যে, প্রাচীন মালনিয়াং রাজ্যকে ’মাধুর মাস্কুট’ রাজ্য নামেও ডাকা হতো এবং এর রাজধানী ছিল জাফলংয়ের বল্লাপুঞ্জিতে। রাজার মৃত্যুর পর সম্ভবত: পাহাড়ের দুর্গম কোন স্থানে চলে গিয়েছিলেন। নিয়াং রাজা, কল্লং রাজা, কন্দুর রাজা এবং মাইলং রাজা এ রাজ্যের শাসনকর্তা ছিলেন। মাইলং রাজাই এ রাজ্যের শেষ রাজা। তবে এ রাজ্যের অস্তিত্বকালের সময় নিয়ে আমরা পণ্ডিতদের মধ্যে মতানৈক্য দেখতে পাই। Dr. Homiwell Lyngdoh জৈন্তিয়ার রাজা যশোমন্ত রায়ের সময় ১৬৫১ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত এ রাজ্য অস্তিত্বমান ছিল বলে মত প্রকাশ করেছেন।

ফজলুর রহমানের মতে, যশোমন্ত রায় ১৬৪৭ খ্রিস্টাব্দে সিংহাসনে আরোহণ করেন এবং তাঁর শাসনকাল ১৬৪৭-১৬৬৮ খ্রিস্টাব্দ। আমরা এ দু’জনের সময়কালের মধ্যে এক ধরণের ঐক্যমত্য দেখতে পাই । Dr. Bareh (1967) মাইলং রাজা ১২০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত এ রাজ্য শাসন করেছেন বলে মতপ্রকাশ করেছেন। রুশ পতামও একই মত পোষণ করেছেন।

অন্যদিকে, সিলেট ডিস্ট্রিক গেজেটিয়ার, মোহাম্মদ আবদুল আজিজ এবং সৈয়দ মুর্তাজা আলী একমত যে, জৈন্তিয়ার রাজা বিজয় মানিকের সময় দ্বিতীয়বারের মতো হয়তোবা জাফলং তাঁর স্বাধীনতা হারায় এবং এটি তখন জৈন্তিয়া রাজার অধীনস্থ আধা-স্বাধীন কোন রাজ্য হিসেবে ছিল। রাজা বিজয় ১৫৬৪ খ্রিস্টাব্দে সিংহাসনে আরোহণ করেন এবং তাঁর শাসনকাল হচ্ছে ১৫৬৪-১৫৮০ পর্যন্ত। আমরা দেখতে পাই যে, বেশিরভাগ গবেষকই ১৫ শতক বা ১৬ শতকের পক্ষে মত প্রকাশ করেছেন। তবে আমাদের অনুমান হচ্ছে, বিজয় মানিকের সময় হয়তোবা সম্পূর্ণভাবে রাজ্যটি তাঁর স্বকীয়তা হারিয়ে বিলুপ্ত হয়ে জৈন্তিয়া রাজ্যের সাথে একীভূত হয়ে যায়।

মোহাম্মদ আবদুল আজিজ রচিত ‘জৈন্তা রাজ্যের ইতিহাস’ গ্রন্থে জাফলং পরগণা বা রাজ্যে সৃষ্টির যে ইতিহাস তুলে ধরেছেন, তা হয়তো পরবর্তীকালের ঘটনা। রাজা জয়ন্ত রায়ের বহু আগেই রাজ্যটি তাঁর নিজস্বতা হারিয়ে ফেলেছিল এবং তিনি তাঁর অধীন রাজ্যকে বিভাজিত করেছিলেন মাত্র। এর পূর্বেই মালনিয়াং রাজ্যটি হয়তো প্রথমবারের মতো তার গৌরবময় স্বাধীনতা হারিয়ে জৈন্তিয়া রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল। পরবর্তীতে তা যশোমন্ত রায় বা বিজয় মানিকের সময় জৈন্তিয়া রাজ্যের মধ্যে পুনরায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল। এর পূর্বে রাজ্যটি হয়তো জৈন্তিয়া রাজার অধীনতা স্বীকার করে কোন রকম নিজের অস্তিত্বকে টিকিয়ে রাখতে পেরেছিল। আমাদেরও অনুমান হচ্ছে, তের শতকের পূর্বেই মালনিয়াং বা মাধুর মাস্কুট রাজ্যটির গৌরবজনক ইতিহাসের পরিসমাপ্তি ঘটেছিল।

কিংবদন্তী, মিথ বা লোককাহিনী ইতিহাস না হলেও এর মধ্যে ইতিহাসের উপাদান পাওয়া যায়। প্রাচীন ‘মালনিয়াং রাজ্য’ সম্পর্কে যে সব কিংবদন্তী ও লোককথা প্রচলিত আছে, নিশ্চয়ই তার মধ্যে অনেক সত্য আছে। আর এজন্য খাসিয়া গবেষকরা বারবারই এ রাজ্য সম্পর্কে আলোকপাতের প্রয়াস পেয়েছেন। সে রাজ্যের রাজাদের ধারাবাহিকতা, রাজ্যের বিস্তৃতি, সে রাজ্যের বস্তুগত উপাদানসমূহের ধবংসাবশেষ ইত্যাদি সম্পর্কে আলোচনার মাধ্যমে সে রাজ্য ও রাজাদের সম্পর্কে তারা নিশ্চিত তথ্য প্রদান করেছেন। জাফলংয়ের বল্লাপুঞ্জির রাজবাড়ীর ধংসাবশেষ এখনও সে সত্যেরই সাক্ষ্য বহণ করেছে। প্রাচীন মালনিয়াং বা মাধুর-মাস্কুট রাজ্যের ইতিহাসের ব্যাপক অধ্যয়ন শুধু খাসিয়াদের গৌরবময় অতীত নয়, পুরো সিলেটের ইতিহাসের ইতিহাসের সত্য উদঘাটনে সহায়তা করবে। জাফলংয়ের বল্লাপুঞ্জির রাজবাড়ীর সংস্কার ও সংরক্ষণে প্রশাসনের পাশাপাশি বেসরকারি ব্যক্তি ও সংগঠনকে এগিয়ে আসা প্রয়োজন যা পর্যটনকেন্দ্র জাফলংকে আরোও মহিমান্বিত করে তুলবে বলে আমরা মনে করি।


আবদুল হাই আল হাদী, প্রধান সমন্বয়কারী, সেভ দ্য হেরিটেজ এন্ড এনভায়রনমেন্ট

বিস্তারিত

অপরূপ সৌন্দর্যের রাতারগুল

ইয়াসিন
বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগের খেলা কভার করতে সিলেটে আসা। ঢাকা থেকে সিলেটের প্রতিনিধির সঙ্গে কথা বলে জানলাম এখানে ঠান্ডা একেবারেই নেই। কিন্তু শনিবার ভোর সোয়া পাঁচটায় গ্রীন লাইনের বিজনেস ক্লাসের বাস থেকে নামতেই দেখি উল্টো চিত্র!

কনকনে ঠান্ডা, সঙ্গে প্রচন্ড ঠান্ডা বাতাস। মনে হচ্ছিল বাসেই ভালো ছিলাম। সেখানেই থাকা যেত! যাক, কোনো রকমে একটা সিএনজি ধরে চলে এলাম জিন্দাবাজার। হোটেল গোল্ডেন সিটিতে আগেই রুম বুকিং করেছিলেন সহকর্মী। হোটেলে উঠে গরম পানিতে গোসল করে দিলাম লম্বা এক ঘুম।

সকাল ১০টায় সিলেট স্টেডিয়ামে ওয়ালটন সেন্ট্রাল জোন ও বিসিবি নর্থ জোনের অনুশীলন। সকালে অনুশীলন দেখে দুপুরে হোটেলে এসে দুই ঘণ্টার মতো কাজ করলাম। দুপুর সাড়ে তিনটায় হোটেল থেকে নেমে রিকশায় গেলাম পানসিতে। পানসি সিলেটের বিখ্যাত হোটেল। ভোজনরসিকদের প্রিয় একটি জায়গার নাম পানসি। রিকশা থেকে নামতেই ওয়ালটন সেন্ট্রাল জোনের ম্যানেজার মিলটন আহমেদ ভাইয়ের ফোন-‘আপনি কোথায়?’

উত্তর দিলাম, ‘পানসিতে, লাঞ্চ করব।’

তিনি বললেন, ‘অর্ডার দিয়েছেন?’

‘না।’

‘ওখানে অর্ডার দিয়েন না। চলেন আরেকটা ভালো জায়গায় খাই। আমি দুই মিনিটের মধ্যে গাড়ি নিয়ে আসছি।’
 



ওয়ালটন সেন্ট্রাল জোন সিলেটে উঠেছে নির্ভানা ইন হোটেলে। পানসি থেকে নির্ভানা ইনের দূরত্ব দুই মিনিটের। খানিকটা জ্যাম ঠেলে মিলটন ভাই চলে এলেন পাঁচ মিনিটের মধ্যে। গাড়িতে উঠে দুজন কথা বলছি বিসিএল, সিলেট স্টেডিয়ামসহ অন্যান্য অনেক প্রাসঙ্গিক বিষয় নিয়ে। হঠ্যাৎ আমার মনে পড়ল, আমরা তো খাওয়ার জন্য বেরিয়েছি। কিন্তু গাড়ি যাচ্ছে জাফলং যাওয়ার রাস্তায়। এর আগে একাধিকবার জাফলং গিয়েছি বলে রাস্তাটা আমার পরিচিত। ড্রাইভারকে জিজ্ঞেস করলাম, ‘এদিকে কোথায় যাচ্ছে?’

‘বুড়ো’ ড্রাইভার বললেন, ‘স্যার তো রাতারগুল যেতে বলল।’

মিলটন ভাইকে জিজ্ঞেস করলাম, ‘এটা কী হলো?’

উনি বললেন, ‘আরে চলেন। পরিকল্পনা করে কি কখনো কিছু হয়।’

আমি সম্মতি দিলাম। আসলেও পরিকল্পনা করে কিছু হয় না। হুটহাট ভ্রমণের সিদ্ধান্তগুলো সবসময়ই মজার। আলাদা রকমের রোমাঞ্চ, আলাদা রকমের অ্যাডভেঞ্চার থাকে।

জিন্দাবাজার থেকে প্রায় ৩০ কি.মি. গাড়ি চলার পর পৌঁছলাম রাতারগুলের মূল রাস্তায়। সেখানে ২০-২২ বছর বয়সি এক তরুণকে জিজ্ঞাসা করতেই বলল, ‘আরও ১৫ কি.মি. ভিতরে রাতারগুল।’
 



আবারও গাড়ি চলতে শুরু করল। গ্রামের আঁকাবাঁকা পথ। সরু রাস্তা। ধীর গতিতে গাড়ি চালাচ্ছেন আমাদের ‘পাইলট’। অনেকদিন পর গ্রামের আবহ পেয়ে আমার বেশ ভালো লাগছিল। শুনশান নীরবতা। কোনো কোলাহল নেই। পথ চলতে চলতে চোখে পড়ল ক্রিকেট টুর্নামেন্ট হচ্ছে একটি মাঠে। একটু এগুতেই দেখতে পেলাম পিকনিকের বাস থামিয়ে ফুটবল খেলছে একদল কিশোর। ঘণ্টাখানেক পর আমরা পৌঁছে গেলাম রাতারগুলের খুব কাছাকাছি গোয়াইনঘাটে।

টোল প্লাজায় গাড়ি থামল। রাতারগুলের বনে ঢুকতে প্রয়োজন হয় ছোট্ট নৌকার। টোল প্লাজা থেকে জানলাম, সাড়ে ছয়শ টাকায় এক ঘণ্টার জন্য মিলবে একটি নৌকা। সেখান থেকে প্রায় ২ কি.মি. পায়ে হাঁটার পর পৌঁছালাম রাতারগুল ঘাঁটে।

নৌকায় উঠে আমি মুগ্ধ। কোমর ডুবিয়ে দাঁড়িয়ে আছে সারি সারি গাছ। শীতকাল বলে পানি এখন নিচে নেমে গেছে, নইলে গাছগুলোর গলা ডুবে যেত পানিতে।  স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, বর্ষকালে এখানকার সৌন্দর্য মনমুগ্ধকর। নিস্তব্ধ বিকেলে নৌকার বৈঠার ছলাৎ ছল ছলাৎ ছল শব্দ ও রাতারগুল অন্যরকম এক আবহ। যতই গভীরে ঢুকছি ততই মুগ্ধ হচ্ছি।

‘বাংলার অ্যামাজন’ নামে পরিচিত রাতারগুল সারি সারি গাছের বিশাল এক জঙ্গল। বিশ্বে স্বাদু পানির জলাবন আছে মাত্র ২২টি। এর একটি রাতারগুল। ‘বাংলার অ্যামাজন’ বলার পেছনের কারণ হচ্ছে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সোয়াম্প বন অ্যামাজন। এ সোয়াম্পের মতোই স্বাদু পানির বন রাতারগুল।

বর্ষাকালে এই বন অথৈ জলে ভেসে থাকে। বর্ষাশেষে পানি নেমে যায়। তবে রাতারগুলের একেক সময়ের সৌন্দর্য্য একেক রকম। বর্ষায় এক রকম, শীতে অন্যরকম। তবে স্থানীয়দের মতে এপ্রিল থেকে অক্টোবর পর্যন্ত রাতারগুলে আসার সেরা সময়। বনের আয়তন তিন হাজার ৩২৫ দশমিক ৬১ একর। এর মধ্যে ৫০৪ একর বন ১৯৭৩ সালে বন্যপ্রাণীর অভয়ারণ্য ঘোষণা করা হয়।  ২৫ প্রজাতির উদ্ভিদ রয়েছে এ বনে। এছাড়া বন বিভাগ হিজল, বরুণ, করচসহ কিছু জলবান্ধব জাতের গাছ লাগিয়েছে এ বনে। সিলেটের শীতলপাটি তৈরির মূল উপাদান মুতার বড় অংশ এই বন থেকেই আসে।
 



আমাদের মাঝি জানাল, বনে অজগর, গুঁইসাপ, মেছোবাঘ, কাঠবিড়ালি, বানর, ভোদড়, বনবিড়াল, বেজি ঘুরতে দেখা যায়। এছাড়া পাখিদের মধ্যে  ঘুঘু, চড়ুই, সাদা বক, মাছরাঙা, টিয়া পাওয়া যায়। তবে পড়ন্ত বিকেলে আমরা শুধুমাত্র একটি বানরের দেখা পেলাম।

ওয়াচ টাওয়ারে গিয়ে পুরো রাতারগুলের সৌন্দর্য দেখা গেল। ওপর থেকে মনে হচ্ছিল সবুজের আচ্ছাদনে ঢেকে আছে পুরো রাতারগুল। ওখান থেকেই সূর্যাস্ত উপভোগ করলাম। সূর্য লাল আভায় ঈষৎ ছায়া জলে এক অপূর্ব রূপ ধারণ করেছিল অপরূপ সৌন্দর্যের অসম্ভব সুন্দর রাতারগুল। শীতের শেষে বসন্তের রাতারগুল উপভোগ হলো মিলটন ভাইয়ের শেষ মুহূর্তের পরিকল্পনায়। এবার বর্ষার রাতারগুল উপভোগের প্রহর গুণতে থাকা!
বিস্তারিত

ঘুরে আসুন ‘চায়ের রাজধানী’ শ্রীমঙ্গল

চায়ের রাজধানী বলে খ্যাত দেশের অন্যতম নৈসর্গিক সৌন্দর্যময় এক উপজেলা মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল। বাংলাদেশের অপূর্ব সুন্দর দর্শনীয় স্হানগুলোর মধ্যে অন্যতম এই শ্রীমঙ্গল।

এ উপজেলাটি সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজার জেলায় অবস্হিত। ঢাকা থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দুরে অবস্থান উচুঁ-নিচু টিলাসমৃদ্ধ এই উপজেলার। এর আয়তন ৪২৫.১৫ বর্গ কিলোমিটার।

চা- বাগান অধ্যুষিত এই উপজেলায় দেশের সবচেয়ে বেশি চা বাগান অবস্হিত। ঋতুভেদে প্রকৃতির অপূর্ব লীলা ধরা দেয় এখানে। তাই এখানে পর্যটকদের ভিড় সব সময় লেগেই থাকে।

শ্রীমঙ্গল উপজেলার যে স্হানগুলোর জন্য এই উপজেলা পর্যটকদরে পছন্দের শীর্ষে, সেগুলো হলো- লাউয়াছড়া জাতীয় পার্ক, বাইক্কা বিল, মাধবপুর লেক, হামহাম জলপ্রপাত, বধ্যভূমি ৭১ ও অপরূপ সবুজ চা বাগানসহ অর্ধশতাধিক পর্যটন স্পট। মাধবপুর লেক ও হামহাম জলপ্রপাত পার্শ্ববর্তী উপজেলায় হলেও পর্যটকরা শ্রীমঙ্গলে অবস্হান করেই এসব স্হানগুলো দেখতে যান।

শ্রীমঙ্গলে খাওয়া- দাওয়া ও আবাসন ব্যবস্হা খুবই ভাল হবার কারনে পর্যটকরা শ্রীমঙ্গলে অবস্হান করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন বেশি। দেশি-বিদেশি পর্যটকরা শ্রীমঙ্গল থেকে কার, মাইক্রোবাস, সিএনজি অটোরিকশা নিয়ে সহজেই পর্যটন স্পটগুলো ঘুরে বেড়াতে পারেন। বিদেশিদের মধ্যে অনেকেই বাইসাইকেল নিয়ে বেরিয়ে পড়েন পর্যটন স্পটগুলোর উদ্দেশে।

অপূর্ব সৌন্দর্যময় শ্রীমঙ্গল উপজেলার সর্বত্রই কোথাও না কোথাও রয়েছে দৃষ্টিনন্দন পর্যটন কেন্দ্র। সব পর্যটন স্পটে যাওয়ার জন্য আছে সুন্দর যোগাযোগ ব্যবস্হা। যানবাহনেরও নেই কমতি। ইকো-গাইডরাও প্রস্তুত আপনাকে ঘুরে দেখানোর জন্য। থাকার জন্য রয়েছে অত্যাধুনিক আবাসিক হেটেল, রিসোর্ট, কটেজ ও বাংলো। খাবারের জন্য রয়েছে ভাল ও উন্নতমানের রেস্তোরাঁ।

ঢাকাসহ সারাদেশ থেকে শ্রীমঙ্গলে আসার জন্য রেল ও সড়কপথে রয়েছে উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্হা। বিমানেও আসতে পারেন শ্রীমঙ্গলে। সেক্ষেত্রে আপনাকে সিলেট নেমে শ্রীমঙ্গলে আসতে হবে।

সৌন্দর্য পিপাসুরা সময়-সুযোগ করে ঘুরে আসতে পারেন প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমন্ডিত শ্রীমঙ্গল থেকে।
বিস্তারিত

ফাগুনের আগুন লেগেছে যেখানে তাহিরপুরের শিমুল বাগান

নদীর নাম যাদুকাটা। এর তীর ঘেঁষে ভারতীয় সীমান্ত লাগোয়া টিলাভূমি। নাম লাউরেরগড়। সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার লাউড়েরগড়ের বিশাল শিমুল বাগান হয়ে ওঠেছে পর্যটকদের নতুন আকর্ষন।

বসন্তে শিমুলের রক্তরাঙা সৌন্দর্য দেখতে দূর্গম পথ পাড়ি দিয়ে পর্যটকরা হাজির হচ্ছেন লাউড়ের গড়ে।

লাউড়েরঘর এলাকায় যাদুকাটা নদীর তীর ঘেঁষে বিস্তীর্ণ এক নান্দনিক সৌন্দর্যের বাগান। পুরো এলাকাজুড়ে টকটকে লাল শিমুল ফুল গাইছ বসন্তের জয়গান।

একপাশে মরুপ্রায় যাদুকাটা পেরিয়ে বারেক টিলার নৈসর্গিক সৌন্দর্য আর আরেক পাশে লাল ফুলের এই বাগান যে কাউকে আকৃষ্ট করবে।  ডালে ডালে খুনসুটিতে ব্যস্ত পাখিরা আর বাসন্তি হাওয়ায় শিমুলের দোল খাওয়া দেখে হৃদয় জুড়িয়ে যায়। এ যেনো নতুন প্রাণের স্পন্দন প্রকৃতিতে।

বসন্তের দুপুরে ধূসর ঘাসে মেলে থাকা শিমুলের এমন রক্তিম আভা মন রাঙায় তো বটেই, ঘুম ভাঙায় সৌখিন হৃদয়েরও। আর জেগে ওঠে আবেগমাখা সুন্দর স্বপ্নগুলো।

এ যেনো কল্পনার রঙে সাজানো এক প্রান্তর। ওপারে ভারতের মেঘালয় পাহাড়, মাঝে যাদুকাটা নদী আর এপাড়ে শিমুল বন। সব মিলে মিশে গড়ে তুলেছে প্রকৃতির এক অনবদ্য কাব্য।

২০০২ সালে টাঙ্গুয়ার হাওর তীরবর্তী লাউড়ের গড় গ্রামে বাণিজ্যিক এই শিমুলের বাগান গড়ে তোলেন বাদাঘাট (উত্তর) ইউপি'র সাবেক চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন। তার পরিচর্যায় বেড়ে ওঠে দেশের সবচেয়ে বড় শিমুল বাগান।

২ হাজার ৪০০ শতক জমিতে এই শিমুল বাগান গড়ে তোলেন জয়নাল আবেদীন। ফাগুনের শুরুতেই হাজার দু'য়েক গাছে যখন একই সাথে ফুল ফোটে তখন অসাধারণ এক দৃশ্যের অবতারণা পর্যটকদের আকৃষ্ট করে। শিমুল বনের রক্তরাঙ্গা সৌন্দর্যের দেখা মেলে বছরে এই একটি ঋতুতেই। মধু আহরণের টানে ছুটে আসে হরেক রকমের পাখপাখালি।

বাগানমালিক জয়নাল আবেদীন প্রয়াত হয়েছেন, কিন্তু রয়ে গেছে তার শিমুল বাগান। এখন তার বড় ছেলে সাবেক চেয়ারম্যান আফতাব উদ্দিনের তত্বাবধানে শিমুল গাছের ফাঁকে ফাঁকে লাগানো হয়েছে লেবু গাছ, এতে বাগানের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পেয়েছে কয়েকগুণ।

নজড়কাড়া এই সৌন্দর্য উপভোগ করতে এই বসন্তে ঘুরে আসতে পারেন হাছন রাজা-বাউল আব্দুল করিমের দেশে।

বাংলাদেশের যেকোন প্রান্ত থেকে সুনামগঞ্জ জেলা শহরে আসতে বেগ পেতে হবে না। সড়ক পথে প্রায় সবগুলো পরিবহনেরই বাস চালু আছে এখন। রেলপথে আসতে হলে প্রথমে সিলেট আসতে হবে, তারপর সিলেট থেকে মাইক্রো বা বাসে সুনামগঞ্জ।

সুনামগঞ্জ নেমে নতুন ব্রীজের গোড়াতেই মোটরবাইক পাওয়া যাবে। মোটর বাইক ছাড়া এ রাস্তায় অন্য কোনো বাহন পাওয়া যায় না তেমন। তবে রিজার্ভ করে নিলে প্রাইভেটকার বা মাইক্রো পাওয়া যায়। মোটর বাইকই নিরাপদ এবং আরামদায়ক, কারণ এই সড়কের অবস্থা খুবই খারাপ। মোটর বাইকে বারেকটিলা খেয়াঘাট (টেকেরঘাট) পর্যন্ত প্রতিজনের ভাড়া পড়বে ১০০ টাকা করে। দামাদামি করলে কিছু কমেও পাওয়া সম্ভব!

খেয়াঘাট থেকে নৌকায় যাদুকাটা পার হতে হবে, ভাড়া পড়বে জনপ্রতি ৫ টাকা। নৌকা থেকে নেমে টিলার রাস্তা ধরে কিছুটা ওপরে উঠলেই একটি ছোট বাজার। চায়ের দোকান আছে কিছু। বাজারের বাম দিকে কাঁচা রাস্তা ধরে গেলেই পৌঁছে যাবেন অপরুপ সৌন্দর্যমণ্ডিত শিমুলের বাগানে।

এখানে থাকার সুবিধা তেমন নেই বললেই চলে। তবুও একান্তই থাকতে চাইলে বড়ছড়া বাজারে একটি রেস্ট হাউজ আছে যেখানে ২০০-৪০০ টাকায় থাকা যায়। বারেক টিলা পাড় হয়েই বড়ছড়া বাজার। চাইলে টেকেরঘাট থেকে হেঁটেও আসতে পারবেন বড়ছড়া বাজারে। এছাড়াও লেকের পাশে বন্ধ হয়ে যাওয়া একটি চুনাপাথরের কারখানা আছে তার গেস্ট হাউজেও থাকতে পারবেন।
বিস্তারিত

মায়াঝরনা পাংতুমাই

সিয়াম সারোয়ার জামিল : সুন্দর সবুজ রাস্তাঘাট। বড় বড় গাছের সারি তৈরি করেছে সবুজের সুড়ঙ্গ। ভরা রোদেও ঝিরি ঝিরি ঠান্ডা বাতাস গাছের পাতার ফাঁকে ফাঁকে। এমন অদ্ভুত শিহরণ জাগানো খাসিয়াপাড়ার ভেতর দিয়ে চলছে আমাদের ভ্যানগাড়ি। উদ্দেশ্য সিলেট জেলার নবীনতম ভ্রমণ গন্তব্য পাংতুমাই। সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার পশ্চিম জাফলং ইউনিয়নের সীমান্তঘেঁষা এই গ্রামটি এখন পর্যটকদের কাছে বেশ জনপ্রিয়। পাথর বিছানো বিস্তীর্ণ প্রান্তরের উপরে বয়ে চলা মেঘালয়ের পাহাড়ি ঝরনাধারা পাংতুমাইয়ের মূল আকর্ষণ।

পথ চলতে চলতে এক সময় চোখে পড়ে মেঘালয়ের আকাশছোঁয়া পাহাড়। সাদা পানির এক নতুন অপ্সরী, পাহাড়ি নদীর চোখ ধাঁধানো নৈসর্গিক সৌন্দর্য। মুগ্ধ হয়ে শিপন ভাই নাম দিল মায়াঝরনা। পর্যটকদের অজানা ও দুর্গম হওয়ায় এই রূপবতীর রূপ দর্শনে এখনও সেখানে তেমন ভিড় দেখা গেল না। বর্ষায় পিয়াইন নদী থাকে পানিতে কানায় কানায় পূর্ণ। তবে শীতে শুকিয়ে পানি তলায় ঠেকে। শুকনো পিয়াইন হেঁটেই পার হলাম। গতবার যখন এসেছিলাম, বর্ষায় ভরা পিয়াইন নদীতে চলতে চলতে এর দুই পাশের দৃশ্য দেখে বিমোহিত হয়েছিলাম।

পাংতুমাই গ্রামকে যদিও অনেকে `পাংথুমাই` ডাকে। সীমান্তঘেঁষা, পাহাড়ের কোলের আঁকাবাঁকা রাস্তাই পাংতুমাই গ্রামের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। সেই পাহাড়ি গুহা থেকে ছুটে চলেছে ঝরনার জলরাশি। মেলে ধরেছে তার রূপের মাধুরী। তবে ছোঁয়া যাবে না, ধরা যাবে না এ ঝরনা। কারণ ঝরনার জল বাংলাদেশে পড়লেও ঝরনাটা ভারত সীমানায়। যে কারণে সুন্দর করে একটি সাইনবোর্ড রাখা আছে সেখানে। লেখা-‘সাবধান! সামনে ভারত।’ নিরাপদ দূরত্ব রেখেই ঝরনার অপরূপ সৌন্দর্য্য অবলোকন করলাম অনেকক্ষণ।

পটাপট কয়েকটা ছবি তুলে ফেলল রুবেল। গোসল করার জন্য সে উসখুশ করলেও আমি সায় দিলাম না। ও সাঁতার জানে না। এই বিপদে ফেলা উচিত হবে না। আরো কিছুক্ষণ ঘুরোঘুরি আর ছবি তুলে সঙ্গে আনা খাবারের দিকে মনোযোগ দিলাম। ঘড়িতে তখন পাঁচটা। সন্ধ্যা ছুঁইছুঁই সময় কিছুক্ষণ পরেই। ফিরতি পথ ধরতে বলল শিপন ভাই। দেরি করলাম না। রাত হয়ে গেলে বিপদে পড়ে যাব। সিলেট শহরের উদ্দেশ্যে আমরা দ্রুত পা বাড়ালাম।
যেখানে থাকবেন : পাংতুমাইয়ে থাকার সুব্যবস্থা নেই। তবে স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাদের ঘরে থাকতে পারেন। সেজন্য ৩০০-৪০০ টাকা খরচ হতে পারে। তবে সীমান্তবর্তী গ্রাম হওয়ায় মাঝে মাঝেই বিজিবির রেইড পড়ে গ্রামে। পারতপক্ষে দিনে দিনে ফিরে আসাই ভালো।

যেভাবে যাবেন : সিলেটের আম্বরখানা পয়েন্ট থেকে সিএনজি অটোরিকশা নিয়ে চলে যাবেন গোয়াইনঘাট থানা সংলগ্ন বাজারে। ভাড়া ৪০০-৫০০ টাকা। সেখান থেকে আপনি আবার ট্যাক্সি নিতে পারেন, বলবেন পশ্চিম জাফলং ইউনিয়নের পাংতুমাই গ্রামে যাবেন। গুনতে হবে ৩৫০-৪০০ টাকা। পাকা পথ ধরে চলতে চলতে যখনই কাঁচা রাস্তায় উঠে পড়বেন, বুঝবেন ঢুকে পড়েছেন বাংলাদেশের সবচেয়ে সুন্দরতম গ্রাম পাংতুমাইয়ে!

 সাবধানতা : ভ্রমণে গিয়ে কোনো বর্জ্য জায়গাটিতে ফেলে আসবেন না।
বিস্তারিত

কক্সবাজারে দু’দিনের ট্যুরিজম সম্মেলন ২৪ নভেম্বর থেকে

‘পাটা নিউ ট্যুরিজম ফ্রন্টিয়ার্স ফোরাম’র আয়োজনে  আজ থেকে কক্সবাজারে দু’দিনের ট্যুরিজম সম্মেলন  শুরু হচ্ছে । এটি এশিয়া ট্রাভেল এসোসিয়েশন (পাটা)-এর অন্যতম বৃহৎ বাৎসরিক ইভেন্ট।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের তত্ত্ববধানে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের উদ্যোগে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।

রবিবার (২০ নভেম্বর) রাজধানীতে অবস্থিত বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড’র কনফারেন্স হলে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে ‘পাটা নিউ ট্যুরিজম ফ্রন্টিয়ার্স ফোরাম’ এর সার্বিক বিষয় তুলে ধরেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন এবং বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আখতারুজ জামান।

মন্ত্রী বলেন, ‘দেশের ট্যুরিজম খাতকে এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনার যাত্রাপথেই দুর্ঘটনা ঘটে। দুজন বিদেশি হত্যার পর, ১ জুলাইয়ের ঘটনা আমাদেরকে ম্যাপ থেকেই দুরে ঠেলে দিয়েছে।’

‘এখন আমরা ঘুরে দাঁড়িয়েছি। এই সম্মেলন আমাদের পর্যটন খাতকে অনেকদুর এগিয়ে নিবে। এ সম্মেলনে আমাদের দুটি লক্ষ্য। এক. পর্যটনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ একটি নিরাপদ দেশ। দুই. এ ধরণের সম্মেলন বাংলাদেশ করতে সক্ষম’ বলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে মেনন বলেন, ‘কক্সবাজার ও সুন্দরবন ছাড়াও আমাদের আরও পর্যটন ক্ষেত্র রয়েছে। যেগুলো আমরা সেল করতে পারছি না। এরমধ্যে বড় ৩টি পাহাড়ি অঞ্চল রয়েছে। ওই ৩টি পাহাড়ি অঞ্চলকে কেন্দ্র করে এ্যাডভেঞ্চার ট্যুরিজমের পরিকল্পনা করেছি আমরা ।

‘এর মধ্যে দুটি সমস্যা রয়েছে। এক. আইনশৃঙ্খলা সমস্যা। সেখানে আমাদের যেসব টুরিস্টরা যায় তারা বাধার সম্মুখীন হয়। এই অভিজ্ঞতা অনেকের কাছ শুভকর নয়। দুই. পার্বত্য শান্তিচুক্তিতে কথা ছিল পর্যটন খাতকে জেলা পরিষদ ও আঞ্চলিক পরিষদের হাতে দিয়ে দেওয়া। আমরা ইতিমধ্যে জেলা পরিষদের সঙ্গে চুক্তি করেছে। কিন্তু সেখানে কিছু সমস্যা রয়েছে’ বলেন মেনন।

বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, দুই দিনের সম্মেলনে বাংলাদেশসহ ১৬টি দেশ অংশগ্রহণ করবে। এতে বিভিন্ন দেশ থেকে নীতি নির্ধারক, পর্যটন বিশেষজ্ঞ, শিক্ষাবিদ, শিক্ষার্থী, পর্যটন সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডার, আন্তর্জাতিক সংস্থার পরিনিধি, নাগরিক সমাজ ও গণমাদ্যম কর্মীসহ প্রায় ২০০ জন অতিথি অংশগ্রহণ করবে।

তিনি জানান, প্রথমদিন ২৪ নভেম্বর টেকনিক্যাল ট্যুর ও ট্যুরিজম মার্কিটিং ট্রেজার হান্ট-এ অংশগ্রহণের মাধ্যমে অতিথিরা কক্সবাজারের আবিস্কৃত ও অনাবিস্কৃত পর্যটন আকর্ষণগুলো খুঁজে বের করবে। দ্বিতীয়দিন সম্মেলনে অংশগ্রহণ করে অতিথিরা টেকনিক্যাল ট্যুরের অভিজ্ঞতালব্ধ জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা একে অপরের সঙ্গে আদান-প্রদান করবেন।

আখতারুজ জামান বলেন, ‘বিশ্বদরবারে কক্সবাজারকে একটি টেকসই পর্যটন গন্তব্য হিসেবে উপস্থাপনের কৌশল নির্ধারণের লক্ষে এই সম্মেলনের আয়োজন। এমন একটি বহৎ আন্তর্জাতিক সম্মেলন বিদেশে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি বৃদ্ধি করবে নিংসন্দেহে। সম্মেলনটির সফল আয়োজন শেষে আগামীতে পাটা-এর সর্ববৃহৎ ইভেন্ট ‘পাটা ট্রাভেল মার্ট’ বাংলাদেশে আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।’
বিস্তারিত

পানিতে ডুবে ক্ষতিগ্রস্ত ঝুলন্ত সেতু, রাঙামাটিতে কমছে পর্যটকদের আনাগোনা

প্রান্ত রনি, রাঙামাটি

উজানের পানি বেড়ে যাওয়ায় দীর্ঘদিন যাবত ডুবে ছিল "সিম্বল অব রাঙামাটি" ঝুলন্ত সেতু। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা পর্যটকরা জানাচ্ছেন রাঙামাটির পর্যটন শিল্পের প্রতি অনীহা। ফলে ধস নামছে রাঙামাটির পর্যটন শিল্পে। কমে যাচ্ছে রাঙামাটিতে পর্যটকদের আনাগোনা।

জানা যায়, গত ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে কাপ্তাই হ্রদের পানি বেড়ে যাওয়ায় সেতুটির পাটাতন ডুবে গেলে পর্যটন কর্তৃপক্ষ সেতুটিতে পর্যটকদের চলাচল বন্ধ করে দেয়। প্রায় দুই মাস সেতুটি বন্ধ থাকায় দারুণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে রাঙামাটির পর্যটন শিল্প।

বগুড়া থেকে আসা পর্যটক শামিম আহমেদ বলেন, "আমি শীতকালীন ছুটিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘুরতে বের হয়েছি। কক্সবাজার, বান্দরবান ঘুরে রাঙামাটিতে বেড়াতে এসেছি। কিন্তু এখানে এসে দেখতে পাই ঝুলন্ত সেতু পানির নিচে ডুবে আছে।"

রাঙামাটি পর্যটন কমপ্লেক্সের ব্যবস্থাপক আলোক বিকাশ চাকমা জানান, গত ১৮ সেপ্টেম্বর ঝুলন্ত সেতু ডুবে যায়। সেতুটি দুই মাস পানিতে ডুবে থাকায় অনেক পর্যটক ফিরে গেছেন। ফলে আমাদের আয় কমে গেছে। সেতুটি ১৪ নভেম্বর থেকে উন্মুক্ত করা হয়েছে। এবার সেতুটি উন্মুক্ত হওয়ায় পর্যটকদের মধ্যে প্রাণ সঞ্চার হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

তিনি আরও জানান, হ্রদের পানি আরো কমলে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে সেতুটি সম্পূর্ণ মেরামত করা হবে। আপাতত পরীক্ষামূলকভাবে ডুবন্ত পাটাতনগুলো পরিবর্থন করা হচ্ছে।
বিস্তারিত

বিদেশি পর্যটকদের ব্যক্তিস্বাধীনতা

অপার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি বাংলাদেশ৷ এই দেশের রয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘ বালুময় সমুদ্র সৈকত, রয়েছে সুন্দরবন আর অসাধারণ সুন্দর পাহাড়ি এলাকা৷ আর অতিথিপরায়ন সাধারণ মানুষ৷ তা সত্ত্বেও বিদেশি পর্যটকদের বড় ঘাটতি কেন?

পর্যটনের প্রতি বাংলাদেশিদের আগ্রহ কতটা সেটা বোঝা যায় ছোট্ট একটা পরিসংখ্যানে৷ গত সেপ্টেম্বর মাসে ভারতে সর্বোচ্চ সংখ্যক বিদেশি পর্যটক কোন দেশ থেকে গিয়েছিল জানেন? বাংলাদেশ থেকে৷ হ্যাঁ, বাংলাদেশের মানুষ পর্যটক হিসেবে সবচেয়ে বেশি ভ্রমণ করছেন ভারতে৷ এতে করে আর্থিকভাবে ব্যাপক লাভবান হচ্ছে দেশটি, আর এই লাভ সব দেশই চায়৷

শুধু ভারত কেন, ভুটান, নেপাল, থাইল্যান্ড বা সিঙ্গাপুরের মতো দেশেও পর্যটক হিসেবে যাচ্ছেন বাংলাদেশীরা৷ এই সংখ্যা ক্রমশই বাড়ছে৷ তবে হতাশার দিকে হচ্ছে, বাংলাদেশে বিদেশিদের আগমন বাড়ছে না৷ বিশ্বব্যাংকের হিসেবে গত কয়েক বছরের মধ্যে ২০০৮ সালে সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ বিদেশি পর্যটক বাংলাদেশে গিয়েছিল৷

আর ২০১৪ সালে এই সংখ্যাটা ছিল এক লাখের কিছু বেশি৷ গত জুনে গুলশানে সন্ত্রাসী হামলায় বেশ কয়েকজন বিদেশি নিহতের ঘটনার পর সংখ্যাটি যে কমবে তাতে কোনো সন্দেহ নেই৷

তবে একটি হামলা একটি দেশের পর্যটন খাতকে পুরোপুরি ধসিয়ে দেবে এমনটা ভাবাও বোধহয় ঠিক নয়, কেননা, সন্ত্রাসী হামলা শুধু বাংলাদেশে হয় না, বিশ্বের অনেক ধনী রাষ্ট্রেও হচ্ছে৷ তাই নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটাতে পারলে এই হামলার ক্ষত নিরাময়ে খুব বেশিদিন লাগবে না বলে আমার বিশ্বাস৷

আসলে বিদেশি পর্যটকদের জন্য বাংলাদেশের যা নিশ্চিত করা উচিত, তা হচ্ছে ‘স্বাধীনতা'৷ পর্যটকরা নিজেদের পকেটের পয়সা খরচ করে যখন কোথাও বেড়াতে যান, তখন সেখানে নিজের স্বাধীনতাটুকু নিশ্চিত করতে চান৷

এর মধ্যে থাকতে পারে, কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে সঙ্গীকে নিয়ে মুক্তভাবে বিচরণের সুযোগ৷ সমুদ্রতটে একজন পশ্চিমা পর্যটক বিকিনি পরে ঘুরতে চাইবেন, যেটা খুবই স্বাভাবিক৷ অনেক মুসলিম অধ্যুষিত দেশেও সেটা স্বাভাবিকভাবেই নেয়া হয়৷ কিন্তু বাংলাদেশে বিষয়টি কি সেই পর্যায়ে পৌঁছেছে?

বিকিনি পরাটাও ব্যক্তি স্বাধীনতার একটি অংশ৷ কক্সবাজার এবং সেন্টমার্টিন এলাকায় বিদেশি পর্যটকদের পোশাকের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে পারলে পর্যটকের সংখ্যা অনেকটা বাড়তে পারে৷ এর সঙ্গে যোগ হতে পারে পর্যটন এলাকাগুলোতে রাতের বেলা তাদের মুক্তভাবে বিচরণের স্বাধীনতা নিশ্চিতের বিষয়টি৷ এক্ষেত্রে রাষ্ট্রের দায়িত্ব অনেক৷ যেসব এলাকায় বিদেশি পর্যটক যেতে পারেন, সেসব এলাকার মানুষকে পর্যটন কিভাবে আর্থিকভাবে তাদের লাভবান করতে পারে, সেই বিষয়ে সচেতন করা যেতে পারে৷ তখন স্থানীয়রাই চাইবেন, বিদেশি পর্যটক বেশি করে আসুক৷ আর নিরাপত্তা নিশ্চিতে পুলিশকেও আরো দায়িত্বশীল হতে হবে৷

পর্যটন খাতকে এগিয়ে নেয়ার আরেকটি বড় উপায় হচ্ছে বিজ্ঞাপন৷ ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে চমৎকার সব বিজ্ঞাপন প্রচার করে৷ এসব বিজ্ঞাপনের মধ্যেই একজন পর্যটক দেশটিতে কতটা স্বাধীনতা পাবেন সেটা বুঝিয়ে দেয়া হয়৷ আমার মনে হয়, বাংলাদেশ এই দিক দিয়ে বেশ পিছিয়ে আছে৷ বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে পারে, দেশটির এমন সব দিক বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলার প্রয়োজন রয়েছে৷ এক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমও বড় ধরনের ভূমিকা রাখতে পারে৷ ইংরেজি ভাষায় ভ্রমণ বিষয়ক বিভিন্ন ব্লগে যাতে বাংলাদেশ সম্পর্কে ইতিবাচক লেখালেখি করা হয়, সেই ব্যবস্থা করা প্রয়োজন৷ এক্ষেত্রে জনপ্রিয় নারী ব্লগার ও ভিলগারদের বাংলাদেশ ভ্রমণের আমন্ত্রণ জানানো যেতে পারে৷ তাদের লেখালেখি বাংলাদেশ ভ্রমণের প্রতি বিদেশিদের আগ্রহ বাড়াতে পারে৷ ডিডব্লিউ
বিস্তারিত

সেন্টমার্টিনে আটকা পড়েছেন দুই শতাধিক পর্যটক

বৈরি আবহাওয়া ও সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্কতা সংকেত থাকায় টেকানফ থেকে কোনও জাহাজ ছেড়ে আসতে পারেনি। ফলে কক্সবাজারের সেন্টমার্টিন দ্বীপে বেড়াতে আসা দুই শতাধিক পর্যটক আটকা পড়েছেন।

কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের এক কর্মকর্তা একে এম নাজমুল হক বলেন, মঙ্গলবার ভোর থেকে বৈরি আবহাওয়ার কারণে সাগর উত্তাল রয়েছে। তাই বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকা এবং সমুদ্রবন্দরের ওপর দিয়ে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কতা সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। আজ বুধবারও কক্সবাজার-টেকনাফে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি হতে পারে।

পর্যটকবাহী জাহাজ কেয়ারি সিন্দাবাদের ব্যবস্থাপক মোঃ শাহ আলম বলেন, সাগর উত্তাল ও বৈরি আবহাওয়ার জাহাজ চলাচল বন্ধ রয়েছে। ফলে ভ্রমণে আসা প্রায় দুই শতাধিক পর্যটক দ্বীপে রয়েছেন। তারা বিভিন্ন হোটেল-মোটেলে নিরাপদে আছেন। সাগর স্বাভাবিক হয়ে গেলে সেন্টমার্টিনে আটকে পড়া পর্যটকদের ফিরিয়ে আনা হবে।

সেন্টমার্টিন দ্বীপ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ নুর আহমেদ বলেন, সোমবার সকালে টেকনাফ-সেন্টমার্টিন রুটে চলাচলকারী তিনটি পর্যটকবাহী জাহাজ ও ট্রলারে প্রায় সাত শতাধিক পর্যটক সেন্টমার্টিনে বেড়াতে আসেন। পরে একই দিন দুপুরে ওইসব জাহাজে করে সাড়ে চার শতাধিক পর্যটক ফিরে গেলেও দুই শতাধিক পর্যটক দ্বীপে রাত যাপন করেন।

টেকনাফ মডেল থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল মজিদ বলেন, জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকার কারণে সেন্টমার্টিনে আটকে পড়া পর্যটকদের খোঁজ-খবর নেওয়ার জন্য দ্বীপের পুলিশ ফাঁড়িকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ. শফিউল আলম বলেন, সেন্টমার্টিনে আটকে পড়া পর্যটকদের খোঁজ-খবর নেওয়া হয়েছে। জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হলে তাদের ফিরিয়ে আনা হবে।
বিস্তারিত

মাধবকুণ্ডের সৌন্দর্য্যবর্ধক বাগান সৃজন, বনবিভাগের প্রশংসনীয় উদ্যোগ

দেশের প্রধান প্রাকৃতিক ঝর্ণা ও ইকোপার্ক তথা মৌলভীবাজারের বড়লেখায় অবস্থিত মাধবকুণ্ড জলপ্রপাতের প্রতি দেশি-বিদেশি পর্যটক আকৃষ্ট ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বনবিভাগ মাধবকুণ্ডের অভ্যন্তরীণ ০৮ কিলোমিটার রাস্তার উভয়পাশে নানা বিলুপ্ত প্রজাতির ৫ হাজার ফুলজাতীয় দেশীয় গাছের চারা রোপণ করেছে। সৌন্দর্য্যবর্ধক এ বাগান সৃজনে বনবিভাগের ব্যয় হয়েছে সাড়ে ৭ লাখ টাকা।

বনবিভাগ সূত্র জানায়, ২০১৪ সালে কাঁঠালতলী থেকে মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত পর্যন্ত ০৮ কিলোমিটার সরু ও ভাঙ্গাচুরা রাস্তার সম্প্রসারণ ও সংস্কার কাজ শেষ হওয়ার পর ভ্রমণপিপাসুদের যাতায়াতের ক্ষেত্রে দীর্ঘ প্রায় ৮ বছরের দুর্ভোগ লাঘব হয়। বড়লেখা উপজেলা নির্বাহী অফিসার এসএম আবদুল্লাহ আল মামুনের পরামর্শে রেঞ্জ কর্মকর্তা কামরুল মোজাহিদ পর্যটক আকৃষ্টকরণে ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় অভ্যন্তরীণ রাস্তার দু’ধারে সৌন্দর্য্যবর্ধক বাগান সৃজনের একটি প্রকল্প গ্রহণ করেন। ২০১৫-১৬ অর্থবছরের জুন মাসে এ প্রকল্পের আওতায় দেশীয় বিলুপ্ত প্রজাতির নাগেশ্বর, সোনালু, বকুল, কামিনী, কাঞ্চন, হৈমন্তী, পলাশ, মহুয়া, কৃষ্ণচুড়া জাতীয় ফুলের ৫ হাজার চারা রোপণ করা হয়।

এসব ফুল গাছের চারা খাচা অতিক্রম করে উপরদিকে উঁকি দিচ্ছে। এসব চারায় এলাকায় অন্যরকম পরিবেশ বিরাজ করছে। পর্যটকরাও আকৃষ্ট হচ্ছেন। এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত রেঞ্জ কর্মকর্তা শেখর রঞ্জন দাস জানান, মানুষজন ও পশুপাখির জন্য অত্যন্ত উপকারী অনেক দেশীয় ফুল গাছ ইতোমধ্যে বিলুপ্ত হয়ে গেছে। সৌন্দর্য্য ও পরিবেশের কথা বিবেচনা করে বনবিভাগ বাগান সৃজনের এ প্রকল্প হাতে নিয়ে বাস্তবায়ন করেছে। চারাগুলো বড়ো হলে এলাকায় সুগন্ধ ছড়াবে। মাধবকুণ্ডে আগত পর্যটকরা আরও বেশি মুগ্ধ ও বিমোহিত হবেন।
বিস্তারিত

বর্ণাঢ্য আয়োজনে রাঙ্গামাটিতে বিশ্ব পর্যটন দিবস পালিত

মোটর শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও পিঠা উৎসবের মধ্য দিয়ে রাঙামাটিতে বিশ্ব পর্যটন দিবস পালিত হয়েছে।

এ উপলক্ষে মঙ্গলবার সকাল এক বর্ণাঢ্য মোটর শোভাযাত্রা বের করা হয় রাঙামাটি শহরে। শোভাযাত্রাটি রাঙামাটি ক্ষুদ্র নৃ গোষ্ঠার সাংস্কৃতিক ইনিষ্টিটিউট থেকে শুরু হয়ে পুরো শহর প্রদক্ষিণ শেষে শহীদ মিনার গিয়ে শেষ হয়।

রাঙামাটির পর্যটন শিল্পের বিকাশ ও উন্নয়নে উদ্যোক্তাদের অনুপ্রাণিত করতে রাঙামাটি জেলা পরিষদ, স্থানীয় পর্যটন কর্পোরেশন এবং আবাসিক হোটেল মালিকদের যৌথ প্রয়াসে পালিত হয় দিবসটি। পরে জেলা পরিষদ সদস্য অমিত চাকমা রাজু’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বৃষ কেতু চাকমা।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম জাকির হোসেন,অতিরিক্ত পুলিশ সুপার চিত্ত রঞ্জন পাল ও রাঙামাটি পর্যটন ব্যবস্থাপক আলোক বিকাশ চাকমা, সিভিল সার্জন স্নেহ কান্তি চাকমা, রাঙামাটি আবাসিক হোটেল ব্যবসায়ি সমিতির যুগ্ন সম্পাদক ও হোটেল প্রিন্স এর স্বত্তাধিকারী নেসার আহম্মেদ প্রমুখ।

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাঙামাটি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বৃষকেতু চাকমা বলেন, সারা দেশের চাইতে এ জেলার বৈচিত্র্য এবং সংস্কৃতি ভিন্ন। যা পৃথিবীর অন্য কোথাও দেখা যায় না। এ জেলার সংস্কৃতি এবং প্রাকৃতিক বৈচিত্র দেখার জন্য প্রতিবছর হাজার মানুষ এ অঞ্চলে ভিড় জমায়। কিন্তু আগত এসব পর্যটকদের এ জেলার সংস্কৃতি এবং বৈচিত্র্য ভাল ভাবে উপভোগ করতে দেয়ার জন্য নানাবিধ পরিকল্পনা গ্রহণ করা উচিত।

তিনি বলেন, পর্যটকদের জন্য নিারাপত্তা, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি, থাকা-খাওয়ার সুবিধাদি এবং পর্যটন স্পটগুলো যদি আরো উন্নতি করা যায় তাহলে এ জেলায় পর্যটকের অভাব হবে না। এ জন্য সকলের সম্বলিত প্রচেষ্ঠা দরকার বলে তিনি জানান।

বিস্তারিত

রাঙামাটির ঝুলন্ত ব্রিজসহ স্পটে স্পটে নিষেধাজ্ঞা, হতাশ পর্যটকরা

পাহাড়ি জেলা রাঙামাটিতে বছরের এই সময়টি থেকে শুরু হয় ব্যাপক হারে পর্যটক সমাগম। অথচ হ্রদ পাহাড়ের জেলা রাঙামাটির প্রতি আগ্রহ কমে আসছে পর্যটকদের। যুগের সঙ্গে পাল্লা দিতে গিয়ে রাঙামাটি পেরে উঠছে না পাশের দুই জেলা বান্দরবান ও খাগড়াছড়ির সঙ্গে। তার মধ্যে এই ভরা মৌসুমেও রাঙামাটিতে নেই আশানুরূপ পর্যটকের আগমন। পার্বত্য রাঙামাটি এখন অনেক শান্ত ও স্থিতিশীল। তাই পর্যটন মৌসুমে প্রতিবছরই পর্যটকদের সরব উপস্থিতি থাকে লেক পাহাড়ের এ শহরে।

জানা গেছে, প্রতিদিন হাজারো পর্যটকের আগমনে পর্যটন স্পটগুলো মুখরিত থাকলেও বর্তমানে রাঙামাটিতে স্বতস্ফূর্তভাবে আগত পর্যটকগণ চরম হতাশা নিয়ে ফিরে যাচ্ছে। নানাবিদ সমস্যার সঙ্গে অন্যতম আকর্ষণ ঝুলন্ত সেতু পানির নীচে ডুবে থাকাসহ ঐতিহ্যবাহী রাজবন বিহারে পর্যটকদের আগমনে সংশ্লিষ্ট্য কর্তৃপক্ষের নিষেধাজ্ঞাসহ ভান্ডারী পাহাড়ে পর্যটক প্রবেশে নিষেধাজ্ঞায় এবার রাঙামাটি জেলায় আগত পর্যটকরা এখানে অনেক আগ্রহ নিয়ে আসলেও ফিরে যাচ্ছে হতাশ হয়ে। পর্যটক আগমন অনেকটা-ই কমে গেছে এবছর।

ফলে হোটেল মোটেল ও রেস্টুরেন্ট ব্যবসা এখন গুনছে লোকসান। এমনকি এর প্রভাব পড়েছে টুরিস্টের সাথে জড়িত নৌযান ব্যবসায়। বেকার সময় পার করছে হরেক ব্যবসার সাথে জড়িত শত-শত জনবল।

পাহাড়ের বৈচিত্রময় নৃতাত্বিক জনগোষ্ঠী ও তাদের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্যের জন্য রাঙামাটি শহর দেশি বিদেশি পর্যটকদের কাছে অনেক বেশি আকর্ষণীয় হলেও সাম্প্রতিক সময়ে পরিসংখ্যান বলে প্রতিবছরই কমছে রাঙামাটিতে পর্যটকদের সংখ্যা। তার মধ্যে বিদেশি পর্যটকদের সংখ্যা একেবারে তলানিতে। পর্যটন শহর রাঙামাটিকে ঘিরে বিভিন্ন সময় নানাবিধ সমস্যা তৈরি হওয়ায় পর্যটক কমছে বলে ধারনা স্থানীয়দের। এখানকার যানবাহন ব্যবস্থা একেবারে নাজুক। স্থানীয় মালিক সমিতির দৌরাত্বের কারণে আধুনিক বিলাস বহুল যানবাহনের সংখ্যা একেবারে হাতেগোনা। তবে রাঙামাটি-চট্টগ্রাম রুটে যে যানবাহনগুলো চলাচল করে সেগুলো নিয়ে যাত্রীদের নানান অভিযোগ রয়েছে। মান্ধাত্বার আমলে যানবাহন দিয়ে এ রুটে চলছে যাত্রী সেবা। প্রায় দুর্ঘটনায় পতিত হওয়া এসব যানবাহনগুলোর ফিটনেস নিয়েও অভিযোগ দীর্ঘদিনের। তাছাড়া, শহরে সিএনজি চালিত ভাড়া নিয়েও আপত্তি পর্যটকদের।

বেশির ভাগ পর্যটন জানান, এখানকার অভ্যন্তরীন সিএনজি ভাড়াটা বেশি। চট্টগ্রাম থেকে রাঙ্গামাটি আসতে যে পরিমান ভাড়া দিতে হতে হয়, মাত্র দুই থেকে তিন কিলোমিটার ঘুরতে সে তুলনায় দ্বিগুনের বেশি ভাড়া প্রদান করতে হয়।
 
সূদুর বগুড়া থেকে পর্যটক দম্পতির আক্ষেপ, রাঙামাটিতে এসে লাভ কি? ঝুলন্ত সেতু পানির নীচে, নেই শিশু পার্ক, টুরিস্ট স্পটগুলো যেমন তেমন, সিএনজির ভাড়া আকাশচুম্বি, হোটেলগুলোর মান ভাল না। সন্ধ্যার পর বিনোদনবিহীন শহর। যানবাহনে যে সার্ভিস, ভয়ে বুক কাঁপে। এই পর্যটকের মতই হিসাব-নিকাশ করতে গিয়ে হ্রদ পাহাড়ের জেলা রাঙামাটির প্রতি আগ্রহ কমে আসছে পর্যটকদের। শহরে কিছু কিছু ভাল হোটেল, রেস্টুরেন্ট গড়ে উঠলেও বেশিরভাগ হোটেল রেস্টুরেন্টের মান এখনো সেকেলে। হোটেলগুলোকে ঘিরে গত কয়েকবছরে পর্যটকদের সাথে কিছু অপ্রীতিকর ঘটনা সৃষ্টি হওয়ায় কমছে পর্যটকদের সংখ্যা। তাছাড়া পর্যটন এলাকায় কয়েকটি হত্যাকান্ড ভীতি ও নেতিবাচক প্রভাবও পড়েছে পর্যটকদের মধ্যে। প্রতিবছর বিশ্ব পর্যটন দিবসে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো পর্যটন উন্নয়নে নানা উদ্যোগের কথা বলে আসলেও তার বাস্তবায়নের ছিটেফোঁটাও লক্ষ্য করা যায়নি। বিভিন্ন স্তরে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এবার পাহাড়ি জেলা রাঙামাটিতে পর্যটকদের আগমন আশানুরূপ ঘটেনি। রাঙামাটির অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ঝুলন্ত সেতুটি পানির নীচে ডুবন্ত অবস্থায় থাকাসহ ঐতিহ্যবাহি রাজবন বিহার এলাকায় পর্যটকদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করায় রাঙামাটিতে আগত হাজারো পর্যটক প্রতিদিনই হতাশা নিয়ে ফিরে যাচ্ছে অন্যত্র। এদিকে পর্যটকরা ফিরে যাওয়ায় আর্থিক ক্ষতির সম্মুখিন হচ্ছে এখানকার ব্যবসায়িরা। প্রতিদিনই সংশ্লিষ্ট্যদের এই ক্ষতির পরিমাণ বেড়েই চলেছে।
 
সংশ্লিষ্ট্য ব্যবসায়িদের অভিযোগ, বিগত কয়েক বছর ধরেই রাঙামাটির ব্রান্ড ঝুলন্ত সেতুটি কাপ্তাই হ্রদের অব্যাহত পানি বৃদ্ধির কারনে ডুবে যায়। এই সমস্যার কারনে এখানে আসা পর্যটকগণ সেতুতে উঠতে পারেনা এবং এর সৌন্দর্য্য উপভোগ করতে পারে না। পর্যটকরা এখানে না আসার কারনে পর্যটক ঘাটে নিয়োজিত থাকা অন্তত শতাধিক দেশীয় ইঞ্জিন বোট চালক বেকার হয়ে পড়েছে।

এদিকে রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদের পানি না কমানোয় এই ধরনের সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছেন পর্যটন কর্তৃপক্ষ।

রাঙামাটি পর্যটন কর্পোরেশন এর ম্যানেজার আলোক বিকাশ চাকমা জানিয়েছেন, ঝুলন্ত সেতুটি দেখতে প্রতিদিনই হাজারো পর্যটকের আগমন ঘটে পর্যটন এলাকায়। এ থেকে বিপুল পরিমাণ রাজস্বও আয় হয়। কিন্তু বিগত এক সপ্তাহ থেকে অদ্যবধি ঝুলন্ত সেতু পানির নীচে নিমজ্জিত অবস্থায় রয়েছে। তাই বর্তমানে পর্যটকদের আগমন একদম কমে গেছে, মোটেলেও বুকিং নেই, এখানের ব্যবসায়ীরাও বর্তমানে এক্কেবারে বেকার সময় কাটাচ্ছে।

তিনি জানান, আমরা উদ্বর্তন কর্তৃপক্ষকে পানি কমানোর বিষয়টি লিখিত আকারে জানিয়েছি। এছাড়াও ঝুলন্ত সেতুটি সংস্কার করে আরো একটু উপরের দিকে কিভাবে স্থাপন করা যায় সে ব্যাপারেও উদ্বর্তন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

রাঙামাটি শহরের অন্যতম আবাসিক হোটেল প্রিন্স এর স্বত্তাধিকারী ও আবাসিক হোটেল মালিক সমিতির নেতা নেসার উদ্দিন জানিয়েছেন, বর্তমান সময়ে আমাদের রাঙামাটিতে আশানুরূপ পর্যটকের আগমন ঘটেনি। এই সময়ে কিছু কিছু পর্যটকের আগমন ঘটলেও রাঙামাটির ব্রান্ড ঝুলন্ত সেতু পানির নীচে ডুবে থাকাসহ রাজবন বিহার এলাকায় পর্যটকদের ভ্রমনে নিষেধাজ্ঞা দেয়ায় পর্যটকরা হতাশ হয়ে এখানে থাকার আগ্রহ হারিয়ে দিনে এসে দিনেই চলে যাচ্ছে। এতে করে বিপুল অংকের ক্ষতির সম্মুখিন হতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের। এই সময় সময়ে কাপ্তাই হ্রদের পানি ছেড়ে দিয়ে ঝুলন্ত সেতুটি সংস্কার করার দাবিও জানিয়েছেন।
বিস্তারিত

ভোলাগঞ্জের মায়াবী রূপ কাছে টানছে পর্যটকদের

ভোলাগঞ্জের সাদা পাথর, স্বচ্ছ জলরাশি, সবুজ পাহাড় ও নির্জনতা কাছে টানছে পর্যটকদের। দিন দিন বাড়ছে এখানে পর্যটকের সংখ্যা। পর্যটকরাও মুগ্ধ, ভোলাগঞ্জের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখে। সীমান্তে হাঁটুপানির নদীতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা পাথর, দেখলে মনে হবে যেন ছবির মত সুন্দর। মুখ থেকে বেরিয়ে আসবে একটিই শব্দ ‘অসাধারণ’। দুরের পাহাড়গুলোর উপর মেঘের ছড়াছড়ি, সাথে একটা দুটো ঝর্না। নদীর টলমলে হাটু পানির তলায় বালুর গালিচা। চিকমিক বালু আর ছোট বড় পাথর মিলে এখানে যেন তৈরি হয়েছে পাথরের রাজ্য। শহরের যান্ত্রিক কোলাহল ছেড়ে কিংবা ব্যস্ত জীবনের ক্লান্তি-অবসাদ দূর করতে অনেকেই এখন ছুটছেন ভোলাগঞ্জে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লোকজন আসছেন ভোলাগঞ্জে। অন্যদের কাছে শুনে অথবা ফেসবুকে ছবি দেখে বেশিরভাগ পর্যটক এখানে আসেন। স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটির ছাত্র ফাহিম জানান, ইউনিভার্সিটির বড় ভাইদের কাছে শুনে তিনি এসেছেন। এর আগে কয়েকবার জাফলং ঘুরে গেলেও এই প্রথম ভোলাগঞ্জের সৌন্দর্য তাকে বিমোহিত করেছে বলে জানালেন ফাহিম।

অপরদিকে, সুনামগঞ্জের ভ্রমন পিয়াসী তাজুল, নাহিন, আফজল ও সজিব এসেছে ফেসবুকে ছবি দেখে। তাদের ধারণা মতে, যোগাযোগ ব্যবস্থা ভাল হলে এখানে পর্যটকদের ঢল নামবে। স্থানীয় অটোচালক রুবেল মিয়া বলেন, ভোলাগঞ্জ মানুষকে আনন্দ দিতে পারে বলে তারা খুশি। তবে, ভোলাগঞ্জের যাতায়াত সুবিধা নিয়ে অনুযোগ আছে পর্যটকদের। এই সমস্যা দূর হলে এলাকাটিতে বেড়ানো আরো উপভোগ্য হবে বলে মনে করেন তারা।

ভোলাগঞ্জে পাথর উত্তোলনের দৃশ্য পর্যটকরা বেশ উপভোগ করেন। জানা গেছে, পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত থেকে বন্যার তোড়ে নদী ও ছড়া দিয়ে প্রচুর পাথর ভোলাগঞ্জ পাথর কোয়ারিতে জমা হয়। যা সারা বছর উত্তোলন করে থাকেন শ্রমিকরা। ভোলাগঞ্জের এই পাথুরে রাজ্য চমৎকার। শুষ্ক মওসুমে প্রধানত গর্ত খূঁড়ে পাথর উত্তোলন করা হয়। এ পদ্ধতিতে শ্রমিকরা প্রথমে কোয়ারীর ওপরের বালি অপসারণ করে। পর্যায়ক্রমে গর্ত খুঁড়ে নিচের দিকে যেতে থাকে। ৭/৮ ফুট নিচু গর্ত খোড়ার পর কোয়ারিতে পানি উঠে যায়।

এসময় শ্যালো মেশিন দিয়ে কোয়ারীর পানি অপসারণ করে শ্রমিকরা পাথর উত্তোলন করে। এর বাইরে শিবের নৌকা পদ্ধতিতে পাথর উত্তোলন করা হয়। এ পদ্ধতিতে পাথর উত্তোলনের উপায় হচ্ছে একটি খালি নৌকায় শ্যালো মেশিনের ইঞ্জিন লাগানো হয়। ইঞ্জিনের পাখা পানির নীচে ঘুরতে থাকে। পাখা অনবরত ঘুরতে ঘুরতে মাটি নরম হয়ে পাথর বেরোতে থাকে। এ পদ্ধতিতে পাথর উত্তোলনের দৃশ্যও খুব উপভোগ্য।

ভোলাগঞ্জের আর একটি উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থান হলো ভোলাগঞ্জ রোপওয়ে। পাথর কোয়ারী, পাহাড়ী মনোলোভা  দৃশ্য অবলোকনের পাশাপাশি ভোলাগঞ্জ রোপওয়ে এলাকা ঘুরে দেখতে প্রতিদিনই আগমন ঘটে পর্যটকদের।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ১৮৬৪ সালে সোয়া দুই কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয় ভোলাগঞ্জ রোপওয়ে প্রকল্প। বৃটিশ রোপওয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানী প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করে। প্রকল্পের আওতায় ভোলাগঞ্জ থেকে ছাতক পর্যন্ত সোয়া ১১ মাইল দীর্ঘ রোপওয়ের জন্য নির্মাণ করা হয় ১২০টি টাওয়ার এক্সক্যাভেশন প্ল্যান্ট। মধ্যখানে চারটি সাব স্টেশন। এক্সক্যাভেশন প্ল্যান্টের সাহায্যে ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত স্বয়ংক্রিয়ভাবে পাথর উত্তোলন করা হয়। তবে বর্তমানে এ পদ্ধতিতে পাথর উত্তোলন বন্ধ রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, পর্যাপ্ত লোকবলের অভাব ও বিকল ইঞ্জিনের কারণে এক্সক্যাভেশন মেশিন বন্ধ রয়েছে। আগে উত্তোলিত পাথর ভাঙ্গা, ধোয়া ও টুকরোর আকার অনুসারে বালু, স্টোন চিপস ও ট্রাক ব্যালাস্ট ইত্যাদি শ্রেণীতে ভাগ করা হতো। শ্রেণী অনুসারে সেগুলো পৃথক পৃথকভাবে বের হয়ে রোপওয়েতে ঝুলানো চারকোনা বিশিষ্ট ষ্টীলের বাকেটে জমা হতো। পাথর ভর্তি বাকেট পাঠানো হতো ছাতকে।

মজার ব্যাপার হলো, এলাকাটি দেখতে অনেকটা ব-দ্বীপের মতো। ধলাই নদী বাংলাদেশ অংশে প্রবেশ করে দু’ভাগে বিভক্ত হয়ে প্ল্যান্টের চারপাশ ঘুরে আবার একীভূত হয়েছে। রোপওয়ের এরিয়া প্রায় একশ’ একর। আর এ কারণেই স্থানটি পর্যটকদের কাছে এত আকর্ষণীয়।

এদিকে, পৃথিবীর সর্বাধিক বৃষ্টিবহুল এলাকা চেরাপুঞ্জির অবস্থান ভারতের পাহাড়ী রাজ্য মেঘালয়ে। ধলাই নদীর উজানে এ রাজ্যের অবস্থান। খাসিয়া জৈন্তিয়া পাহাড় ঘেরা এ রাজ্যের দৃশ্য বড়ই মনোরম। ভোলাগঞ্জ রোপওয়ে এলাকায় অবস্থান করে পাহাড় টিলার মনোরম দৃশ্যাবলি অবলোকন করা যায়। স্থানীয়দের মতে, রোপওয়ে এলাকায় একটি ‘পয়েন্ট ভিউ’ নির্মাণ করা গেলে পর্যটকরা মুগ্ধ হয়ে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবেন।

অন্যদিকে, ভোলাগঞ্জে রয়েছে একটি ল্যান্ড কাস্টমস স্টেশন। এ স্টেশন দিয়ে আমদানি রপ্তানি কার্যক্রম চলে। এ স্টেশন দিয়ে বাংলাদেশী ব্যবসায়ীরা প্রধানত চুনাপাথর ও কয়লা আমদানী করে থাকেন। চুনাপাথর নিয়ে প্রতিদিন শত শত ট্রাক বাংলাদেশে প্রবেশ করে। সীমান্তের জিরো লাইনে এ কাস্টমস স্টেশনের অবস্থান। চুনাপাথর আমদানির দৃশ্য অবলোকনের বিষয়টিও পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয়।

সংশ্লিষ্ট অনেকের মতে, দিন যত যাচ্ছে পাল্টে যাচ্ছে ভোলাগঞ্জের মানচিত্র। দানবীয় তান্ডবে বিগড়ে যাচ্ছে প্রকৃতি। তাই এখনই সময় প্রাকৃতিক উৎসকে সম্পদে পরিণত করার কার্যকর উদ্যোগ।

স্থানীয়রা মনে করেন, আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার জন্য যেসব রূপ বৈচিত্র ও বৈশিষ্ট্য থাকা দরকার তার সব ক’টিই আছে ভোলাগঞ্জে। তাদের মতে, সরকার চাইলে এখানে পর্যটন শিল্পের কাঙ্খিত বিকাশ ও প্রকাশ ঘটানো সম্ভব। তখন ভোলাগঞ্জ হয়ে উঠতে পারে দেশের অন্যতম আকর্ষণীয়, দৃষ্টিনন্দন ও উৎকর্ষময়ী পর্যটন স্পট। যা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে সক্ষম হবে।

বিস্তারিত

বিশ্ব পর্যটন দিবস মঙ্গলবার

বিশ্ব পর্যটন দিবস মঙ্গলবার। জাতিসংঘের বিশ্ব পর্যটন সংস্থার (ইউএনডাব্লিউটিও) উদ্যোগে ১৯৮০ সাল থেকে প্রতিবছর ২৭ সেপ্টেম্বর দিবসটি বিশ্বে পালিত হয়ে আসছে। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য হচ্ছে ‘সকলের জন্য পর্যটন: সার্বজনীন পর্যটনের অভিগম্যতা’।

বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন।

পর্যটন সক্ষমতা-সংক্রান্ত ২০১৩ সালের আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে ১৪০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১২৩। ২০১২ সালে ১৪৪টি দেশের মধ্যে ১১৮ এবং ২০১১ সালে ১৩৯টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১২৯। এই তালিকার শীর্ষে আছে সুইজারল্যান্ড, জার্মানি, যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশ। এশিয়ার সিঙ্গাপুর, জাপানও আছে এই তালিকায়।

প্রতিবছরের মতো এবারও বাংলাদেশ পর্যটন সংস্থা দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। আন্তর্জাতিক পর্যটন দিবসের প্রধান উদ্দেশ্য- বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভ্রমণকারীদের সঙ্গে পর্যটন কেন্দ্রের সেতুবন্ধন গড়ে তোলা। এছাড়া, পর্যটনের ভূমিকা সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধিসহ সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক উপযোগিতাকে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দেয়া এ দিবসের লক্ষ্য।

১৯৭০ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর সংস্থাটির বার্ষিক সম্মেলনে এর নাম, লক্ষ্য, উদ্দেশ্য পুনর্মূল্যায়ণ করা হয়। তখন থেকে এর নাম ‘বিশ্ব পর্যটন সংস্থা’ করার বিষয়ে সদস্যদের মধ্যে ঐক্যমত প্রতিষ্ঠিত হয়। নতুন নামে ১৯৭৪ সাল থেকে কার্যক্রম শুরু করে সংস্থাটি। ১৯৮০ সালের বার্ষিক সম্মেলনে এই সংস্থা গঠন হওয়ার দিবসে অর্থাৎ ২৭ সেপ্টেম্বর বিশ্বব্যাপী পর্যটন দিবস পালনের বিষয়ে ঐক্যমত প্রতিষ্ঠিত হয়। বাসস
বিস্তারিত

মুছাপুর সৈকতে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

কাজী মুস্তাফিজ
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে নতুন ‘পর্যটনকেন্দ্র’ হিসেবে সদ্য পরিচিতি পাওয়া ‘মুছাপুর সি-বিচ’-এ পর্যাপ্ত নিরাপত্তা চান দর্শনার্থীরা। মূলত আগে থেকেই এই এলাকার বাসিন্দারা সন্ত্রাসীদের ভয়ে আতঙ্কিত। গত শুক্রবার আগত দর্শনার্থী ও এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে। শনিবার সেখানে দর্শনার্থী তরুণীকে গণধর্ষণের ঘটনায় আতঙ্ক আরো বেড়েছে।

স্থানীয় প্রশাসন থেকে নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখার দাবি করা হলেও বাস্তবে নিরাপত্তাব্যবস্থা খুবই নাজুক বলে অভিযোগ দর্শনার্থীদের।
 
অন্যদিকে এলাকাবাসী বলছেন, অপার সম্ভবনাময় এই জায়গায় পর্যাপ্ত নিরাপত্তাসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হলে এ অঞ্চল যেমন পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয় হবে, তেমনি সরকারের রাজস্ব আয়ও বাড়বে। এখানে উন্নয়ন হলে তার সুফলও পাবেন এলাকাবাসী।
 
কী আছে মুছাপুর সৈকতে
কোম্পানীগঞ্জের মুছাপুর ক্লোজার এলাকা সম্প্রতি ‘মুছাপুর সি-বিচ’ নামে পরিচিতি লাভ করতে শুরু করেছে। বিশেষ করে গত বছরের রমজানের ঈদ থেকে এখানে প্রচুর দর্শনার্থীর আগমন শুরু হয়। ছুটির দিনগুলোতে ২৪ ঘণ্টায় প্রায় পাঁচ হাজার দর্শনার্থী সেখানে যান।

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ সীমানায় বঙ্গোপসাগরের একেবারে কোল ঘেঁষে এই মুছাপুর ক্লোজার ও ছোট ফেনী নদীর অবস্থান। এখানে সবুজ প্রকৃতি, বণ্যপ্রাণি, পাখির ঝাঁক, ফরেস্ট বাগান, ফেনী নদীর মাঝে ক্লোজার, ২৩ ভেন্ট রেগুলেটর, জেলেদের উচ্ছ্বাস আর সাগরের বিস্তীর্ণ জলরাশি মিলে নয়াভিরাম এক সৌন্দর্যের জগৎ। 
 
সাগরে যখন জোয়ারের পানি উতলে উঠে তখন অনন্য এক সৌন্দর্য বিকশিত হয় মুছাপুর ক্লোজরের ছোট ফেনী নদীতে। তটরেখায় আছড়ে পড়ে ছোট-বড় ঢেউ। প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য এবং তিন কিলোমিটার প্রস্থের সমুদ্র সৈকতের যেকোনো জায়গায় দাঁড়িয়ে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখার সুযোগ রয়েছে।

বর্তমানে এখানে নোয়াখালী ও পাশ্ববর্তী ফেনী জেলাসহ বিভিন্ন জায়গা থেকে প্রকৃতি প্রেমিদের উপছে পড়া ভিড় দেখা যায়। সকাল হলেই দর্শনার্থীরা মোটরসাইকেল, সিএনজি অটোরিকশা, প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাস, পিকআপ নিয়ে চলে আসেন মুছাপুর ক্লোজারের ছোট ফেনী নদীর তীরে। বিভিন্ন কলেজ ও বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার্থীরা বনভোজনের জন্য মাইক, স্পিকার নিয়ে আসে। নব দম্পতিরা নদীর পাড়ে ও ফরেস্ট বাগানে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জগতে হারিয়ে যায়।
 
মুছাপুর ক্লোজারটি পর্যটন কেন্দ্র করার জন্য উপজেলার বনবিভাগ কর্মকর্তা (রেঞ্জ) প্রধান বন সংরক্ষক বরাবরে ২০১৫ সালে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। তবে এখনো এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। 



নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ
গত শুক্রবার পরিবারের ছোট-বড় ১০ জন সদস্য নিয়ে মুছাপুর সি-বিচে ভ্রমণে যান ঢাকার রেস্তোঁরা ব্যবসায়ী মো. নূর নবী। বিকেলে এ প্রতিবেদকের সঙ্গে তিনি বলছিলেন, “আমি এবারই এখানে প্রথম এলাম। ভালোই লাগছে। ভবিষ্যতেও আসার ইচ্ছে আছে।”

“আমার বাড়ি ফেনীতে। আমি বেলা ১২টার দিকে এসেছি। এখন সময় বিকাল ৫টা। ঘোরাঘুরির সময় পুরো এলাকায় দুয়েকজন পুলিশ সদস্য দেখেছি। তাও তাদের কাছে কোনো অস্ত্র দেখিনি। এতগুলো মানুষ এখানে আসছে। হঠাৎ কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে কে দেখবে? কাকে ডাকব আমরা?”- বলছিলেন নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে উদ্বিগ্ন দর্শনার্থী নূর নবী।

আরেকজন দর্শনার্থী সৌদি প্রবাসী আব্দুর রহিম। তিনি বলেন, “এখানে এসে ভালই লাগছে। সূর্যাস্তের আগ মুহূর্তে রক্তিম আভায় যে দারুণ দৃশ্য পাওয়া যায়, তখন ছবি তুলব। সেজন্য অপেক্ষায় আছি। কিন্তু নিরাপত্তা নিয়ে একটু ভয়ে আছি। এখানে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর কোনো তৎপরতা দেখছি না। বিদ্যুৎ নেই। তাই সন্ধ্যা হওয়ার আগেই ফিরে যেতে হয় কি না সেটিই ভাবছি…।”

মুছাপুর আদর্শ গ্রাম সমাজ কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. ইউসুফ। বেশ কয়েকবার তিনি সন্ত্রাসীদের হামলার শিকারও হয়েছেন। তার অভিযোগ, পাশের এলাকা ফেনীর সোনাগাজীতে সন্ত্রাসীদের আখড়া। সেখানকার সন্ত্রাসীরা মুছাপুর এলাকায় এসে মানুষকে নির্যাতন করত। সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, মালামাল লুট এসব তাদের নিয়মিত কাজ ছিল। তবে এখন তাদের ‘উৎপাত’ কমলেও ‘দাপট’ কমেনি।

এলাকাবাসী এবং আগত দর্শনার্থীদের নিরাপত্তার জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নিতে স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি দাবি জানান ইউসুফ।
 
‘সাধ্যমতো’ নিরাপত্তাব্যবস্থা পুলিশের
শুক্রবার মুছাপুর এলাকার ঘুরে এসে এ প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা হয় কোম্পানীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সৈয়দ মো. ফজলে রাব্বীর। তিনি বলেন, “সাধ্যমতো আমরা নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছি। গত প্রায় ১৫ দিন ধরে সেখানে পুলিশের একজন সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই), একজন নায়েক ও ১০ জন কনস্টেবল অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্পে দায়িত্ব পালন করছেন।”

ওসি জানান, ছুটির দিনগুলোতে প্রতি ২৪ ঘণ্টায় প্রায় পাঁচ হাজার দর্শনার্থী মুছাপুর সি-বিচে যাচ্ছেন। কিছু দিন আগে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের বিষয়ে এলাকাবাসীর স্বাক্ষরিত একটি আবেদন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। সেটির আলোকে হয়তো ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে এটির জন্য সময় লাগতে পারে।  

শনিবারের গণধর্ষণের ঘটনা সম্পর্কে রোববার দুপুরে ওসি জানান, মুছাপুর পুলিশ ক্যাম্পে আরো একজন উপপরিদর্শক (এসআই) সংযুক্ত করা হয়েছে। ধর্ষণের ঘটনায় দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্যদেরও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
 
রোববার বেলা সাড়ে ১২টায় এই প্রতিবেদকের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা হয় কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদলের। চেয়ারম্যান বলেন, “এইমাত্র মুছাপুরের নিরাপত্তা বিষয়ে ডিসি অফিসে আমরা আলোচনা করছিলাম। এ ছাড়াও মাদক, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, কারেন্ট জাল, অবৈধ দখল উচ্ছেদসহ নানা বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।”

এতো বেশি সংখ্যক দর্শনার্থী আসছেন, সেখানে ১২/১৩ জন পুলিশ সদস্য দিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয় উল্লেখ করে চেয়ারম্যান বাদল জানান, আরো আগে থেকেই নিরাপত্তার বিষয়ে তারা কাজ করছেন। সেখানে পুলিশের একটি তদন্ত কেন্দ্র প্রয়োজন। এটি স্থাপনের জন্য জায়গাও ঠিক করা হয়েছে। এটি দ্রুত স্থাপনের জন্য রোববারের সভায় প্রস্তাব করা হয়েছে।


বিস্তারিত

মৌলভীবাজারের নজরকাড়া রাঙাউটি রিসোর্ট

মৌলভীবাজার জেলা শহর থেকে মাত্র ২ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত মনু ব্যারেজের পাশে নির্মিত রাঙাউটি রিসোর্টটি এবারের ঈদুল আজহায় যেনো নতুন সাজে সেজেছে। পুরো এলাকায় করা হয়েছে আলোকসজ্জা। নতুন করে রং লাগিয়ে রিসোর্টকে করা হয়েছে আরও আকর্ষণীয়। গ্রামীণ ডিজাইনে নির্মাণ করা হয়েছে ৪টি নতুন কটেজ।
সম্পূর্ণ গ্রামীণ পরিবেশে সাজানো এ রিসোর্টে রয়েছে আধুনিক সকল সুযোগ-সুবিধা। রির্সোটের অন্যতম আকর্ষণ হলো ভাসমান কটেজ। এখানে ৪ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ১৫ হাজার টাকায় এসি,নন-এসি রুম বুকিং করা যায়। পর্যটকদের সুবিধার্থে রিসোর্টের ভেতরে তৈরি করা হয়েছে একটি রেস্টুরেন্ট।
এবারের ঈদের ছুটি কাটাতে রাজধানী ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটসহ দেশের অনান্য এলাকা থেকে অসংখ্য ভ্রমণপিপাসুরা ঈদের আগে থেকেই রির্সোটে অগ্রিম বুকিং দিয়ে রাখেন।

প্রতি বছরের মতো এবারও ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে বাংলাদেশের অন্যতম পর্যটন জেলা চায়ের রাজধানীখ্যাত মৌলভীবাজার পর্যটকদের পদভারে মুখরিত হয়ে উঠেছে। ঈদের আগেই জেলার বিভিন্ন আবাসিক হোটেল, টি রিসোর্ট, ইকো-কটেজ, বিটিআরআই রেস্ট হাউজ, গ্র্যান্ড সুলতান টি রির্সোট এণ্ড গলফ, দুসাই রিসোর্ট, টি হ্যাভেন রিসোর্ট, শ্রীমঙ্গল ইন, লাউয়াছড়া বাঙলো ও স্কাই পার্কসহ অন্যান্য রেস্টহাউজগুলোর অধিকাংশই অগ্রিম বুকিং হয়ে যায়। এজন্য এবার হাজার হাজার পর্যটকের আগমন ঘটে জেলার বিভিন্ন পিকনিক স্পটে।

বাংলাদেশে পর্যটনের অপার সম্ভাবনাময় মৌলভীবাজার জেলা হচ্ছে প্রকৃতির অসীম সৌন্দর্য্যের আঁধার। পাহাড়, নদী, অরণ্য, হাওর আর সবুজ চা বাগানঘেরা এই জেলায় আছে আদিবাসীদের বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি।
এখানে আছে দিগন্ত জোড়া হাকালুকি ও হাইল হাওর। সারি সারি চায়ের বাগান। মাধবকুণ্ড ও হামহাম জলপ্রপাত। নতুনভাবে আবিষ্কৃত বড়লেখার আরও একাধিক ঝরণা। আছে পাখি ও মাছের অভয়ারণ্য বাইক্কা বিল। পশু, পাখি ও গাছপালার রাজ্য লাউয়াছড়া উদ্যান।

মৌলভীবাজারের এসব সৌন্দর্য্যের সাথে মিতালী গড়তে প্রতিবারের মতো এবারও ঈদ মৌসুমে পর্যটকেরা এসেছেন। কিন্তু সুন্দরকে উপভোগ করতে হলে সুন্দর জায়গায় থাকা দরকার। আর তাই রাঙাউটি রিসোর্ট যেনো পর্যটকদের প্রথম পছন্দ। কারণ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আর মনু ব্যারেজের লেকের তীরে গড়ে উঠেছে রাঙাউটি রিসোর্ট,যা ভ্রমণপিপাসু ও রুচিশীল সকলের বিশ্রামের পরম ঠিকানা।

রির্সোট এর ব্যবস্থাপক মনির আহমেদ জানান, এখানে যারা একবার এসে আনন্দ পেয়েছেন তারা বারবার আসেন। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য দেখতে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ প্রতিনিয়তই মৌলভীবাজারে আসেন এবং অনেকেই আমাদের রিসোর্টে থাকেন। আমাদের রিসোর্টে থাকতে হলে ০১৭২২-৯৪৩১০১ মোবাইল নাম্বারে বুকিং দেয়া যায়।
রাঙাউটি রির্সোট এর পরিচালক সৈয়দ মুনিম আহমেদ রিমন জানান,এবারের ঈদে প্রচুর পর্যটক মৌলভীবাজারে এসেছেন। এবারের ঈদে রিসোর্টের অধিকাংশ রুমই পারিবারিক বুকিং ছিলো। আমরা সবসময়ই পর্যটকদের সেবায় খুবই যত্নবান এবং বন্ধুসুলভ।
বিস্তারিত

পর্যটন শিল্পে জঙ্গি আতঙ্ক

২০১৬ সালকে পর্যটন বর্ষ ঘোষণার পর এ খাতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির আশা ছিল। কিন্তু কোন অগ্রগতি হয়নি। বরং একের পর এক জঙ্গি হামলায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে দেশের পর্যটন খাত। বিশেষ করে গুলশান ও শোলাকিয়ায় হামলার পর পাল্টে গেছে পর্যটন শিল্পের চিত্র। পর্যটকের অভাবে নিয়মিতভাবে লোকসান গুনছে হোটেল-মোটেলসহ ছোটখাট ব্যবসায়ীরাও। ছয় হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগের এ খাত বড় ধরনের হুমকির মুখে পড়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
বিস্তারিত

  • ‘ভয়ংকর পরিস্থিতি তৈরি করতে চাচ্ছে ঢাবি প্রশাসন’
  • প্যারিসে সবুজ বাংলা বুশারি শপের উদ্ভোধন
  • সাংবাদিক কামরুলের উপর হামলাকারীদের গেপ্তারের দাবীতে সিলেটে মানববন্ধন
  • করমর্দন না করায় নাগরিকত্ব আবেদন বাতিল
  • ক্যাসিও’র পানিরোধক স্মার্ট ঘড়ি
  • জাতিসংঘের ৩ সংস্থার নির্বাচনে বাংলাদেশের বিজয়
  • গুঞ্জন উড়ালেন কিয়ারা
  • ‘অসহায় শিল্পীদের পাশে দাঁড়াতেই কনসার্টে অংশ নিচ্ছি’
  • পরের ম্যাচ জিতলেই চ্যাম্পিয়ন বার্সা
  • বোলিংয়ে বিবর্ণ সাকিবের ব্যাটে ঝড়, হায়দরাবাদের প্রথম হার
  • দুই সিটিতে ২০ দলীয় জোটের চার কমিটি
  • বিচ্ছিন্ন নয়, সামগ্রিক আন্দোলন চান ফখরুল
  • বিএনপির ঐক‌্য সরকারকে পীড়া দিচ্ছে : রিজভী
  • শাবিতে বিভাগীয় প্রধান কর্তৃক শিক্ষক লাঞ্ছনার অভিযোগ
  • টাইম ম্যাগাজিনের ১০০ প্রভাবশালীর তালিকায় শেখ হাসিনা
  • জাতীয় বাজেট সামনে রেখে ব্যবসায়ীদের সাথে সিলেট চেম্বারের মতবিনিময়
  • সুনামগঞ্জ ছাত্রলীগের সভাপতি ও সম্পাদক পদে লড়ছেন ১০ জন
  • ফেঞ্চুগঞ্জে পাচারকালে ৬৬ বস্তা রিলিফের চাল জব্দ
  • ধর্ম অবমাননার অভিযোগে তসলিমা-সুপ্রীতিদের বিরুদ্ধে মামলা
  • শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রশংসা করলেন ট্রুডো
  • মুসলমানরাই সবচেয়ে বেশি সন্ত্রাসের শিকার: বান কি মুন   ৫০৬৯৮
  • ছলনাময়ী নারীদের চেনার উপায়   ১৪৮৬৭
  • মেয়র কালামের পায়ের নিচে ওসি আতাউর শার্ট খুলে লিনডাউন,তারপর জুতো পেটার প্রস্তাব   ১৪৭৯৬
  • জুমার নামাজ ছুটে গেলে কী করবেন?   ১৩৪২৩
  • ​চিনা কোম্পানিকে কাজ দিতে প্রতিমন্ত্রী তারানার স্বাক্ষর জাল   ৯৪২৫
  • জেনে নিন ছুলি দূর করতে কিছু ঘরোয়া উপায়   ৯৩০০
  • মুসাফির কাকে বলে? মুসাফিরের রোযা ভঙ্গ করলে   ৮৯১৭
  • ডিমের পর স্বয়ংসম্পূর্ণতার পথে সোনালি মুরগি   ৮৭৬১
  • গরুর দুধের অসাধারণ কয়েকটি গুণ   ৮৪৬৯
  • ঋণখেলাপি নই-হুন্ডি ব্যবসায়িও নই,সম্পত্তি নিলামের খবর অপপ্রচার-নাসির   ৮৪৬০
  • খতমে ইউনুস নামে সামাজে চলে আসা জালিয়াতী   ৭৮৫৮
  • মুঘল সম্রাটদের দিনযাপন   ৭০১০
  • হযরত শাহ্‌ জালাল ইয়েমেনী (রাঃ)-এঁর সংক্ষিপ্ত জীবনী   ৬৪৫৩
  • চিত্রনায়িকা সাহারার সেক্স ভিডিও ফাঁস!   ৬৪১৩
  • ম,আ,মুক্তাদিরের ছেলে রাহাত লন্ডনে এক সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছে   ৬৪০৯
  • শিশুর কানে আজান দেবে কে?   ৬২৭২
  • কামরূপ-কামাখ্যা : নারী শাসিত যাদুর ভূ-খন্ড   ৫৭২৫
  • প্রশ্নব্যাংকে প্রশ্ন, স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাছাই হয়ে পরীক্ষা   ৫৭২৪
  • ফুলবাড়ির বশর চেীধুরী আজ ইন্তেকাল করেছেন   ৫৬৪৯
  • চিকিৎসায় দ্রুত সরকারি সহযোগিতা চান খাদিজার বাবা মাসুক মিয়া   ৫৪১৬
  • সাম্প্রতিক আরো খবর

  • পিয়াইন নদীতে নিখোঁজ পর্যটকের লাশ উদ্ধার
  • ‘রাতারগুলে পর্যটক নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নিচ্ছে বনবিভাগ’
  • পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়া হচ্ছে মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত
  • টাঙ্গুয়ার হাওরের আকর্ষণ বাড়াবে টুরিস্ট কটেজ গাইড
  • শিশু পার্কে শিশুদের বিনোদন
  • সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে পর্যটকদের ভিড়
  • ঈদে পর্যটকদের জন্য প্রস্তুত কুয়াকাটা
  • পর্যটকদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ দেশের তালিকায় বাংলাদেশ: ডব্লিউইএফ
  • জাফলং ‘বল্লাপুঞ্জী রাজবাড়ী’
  • অপরূপ সৌন্দর্যের রাতারগুল
  • ঘুরে আসুন ‘চায়ের রাজধানী’ শ্রীমঙ্গল
  • ফাগুনের আগুন লেগেছে যেখানে তাহিরপুরের শিমুল বাগান
  • মায়াঝরনা পাংতুমাই
  • কক্সবাজারে দু’দিনের ট্যুরিজম সম্মেলন ২৪ নভেম্বর থেকে
  • পানিতে ডুবে ক্ষতিগ্রস্ত ঝুলন্ত সেতু, রাঙামাটিতে কমছে পর্যটকদের আনাগোনা
  • বিদেশি পর্যটকদের ব্যক্তিস্বাধীনতা
  • সেন্টমার্টিনে আটকা পড়েছেন দুই শতাধিক পর্যটক
  • মাধবকুণ্ডের সৌন্দর্য্যবর্ধক বাগান সৃজন, বনবিভাগের প্রশংসনীয় উদ্যোগ
  • বর্ণাঢ্য আয়োজনে রাঙ্গামাটিতে বিশ্ব পর্যটন দিবস পালিত
  • রাঙামাটির ঝুলন্ত ব্রিজসহ স্পটে স্পটে নিষেধাজ্ঞা, হতাশ পর্যটকরা
  • ভোলাগঞ্জের মায়াবী রূপ কাছে টানছে পর্যটকদের
  • বিশ্ব পর্যটন দিবস মঙ্গলবার
  • মুছাপুর সৈকতে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ
  • মৌলভীবাজারের নজরকাড়া রাঙাউটি রিসোর্ট
  • পর্যটন শিল্পে জঙ্গি আতঙ্ক