সর্বশেষ খবর

   হাথুরুসিংহের পরিকল্পনা ভুলে গেছে বাংলাদেশ: মাশরাফি    নতুন সম্পর্কে জোলি!    মাটির লেয়ারের ভিন্নতায় পদ্মা সেতুর ১৪ পাইলের ডিজাইনে বিলম্ব    ব্যাংকিং খাতে জবাবদিহিতার জন্য পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে : অর্থমন্ত্রী    অবকাঠামো উন্নয়নে ৬০ মিলিয়ন ডলার দেবে ওএফআইডি    বাংলাদেশ যথেষ্ট সক্ষমতা অর্জন করেছে : বিশ্বব্যাংক    ৩৭ হজ এজেন্সিকে নোটিশ    বাজেটে এমপিও অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে সরকার সিদ্ধান্ত নিবে: প্রধানমন্ত্রী    ভোলাগঞ্জ ও কালাইরাগে ৩৬টি ‘বোমা মেশিন’ ধ্বংস    ফেঞ্চুগঞ্জে ছাত্রলীগের ৫ নেতা বহিষ্কার    আম্মার মতো আমিও হারিয়ে যাব : রাইমা    ‘সূর্যসেন’ নতুন মঞ্চনাটক    আমি মৃত্যুকে ভয় করি না: আইভী    আমি একাই যথেষ্ট: শামীম ওসমান    সিরিয়ার কুর্দিদের বিরুদ্ধে অভিযান চালাবেন এরদোয়ান    বড় ধরনের বিপদ থেকে বাচঁলেন শোয়েব!    কোহলির জরিমানা    নির্বাচন স্থগিত হওয়া ইসির চরম ব্যর্থতা: ফখরুল    ঢাকা উত্তরের মেয়র পদে উপনির্বাচন স্থগিত    রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু ২ বছরের মধ্যে


অর্থনীতি

ডিমের পর স্বয়ংসম্পূর্ণতার পথে সোনালি মুরগি

সিলেট বার্তা, ২০১৫-০৪-০৭ ১৫:০৯:৪৬

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর কর্তৃক নব্বইয়ের দশকে উদ্ভাবিত সোনালি মুরগিই বর্তমানে দেশে মুরগির মাংসের চাহিদা পূরণে ব্যাপক ভুমিকা রাখছে। দেশি মুরগির মতো দেখতে হলেও এটি বিদেশি ও দেশি মুরগির সংমিশ্রণে তৈরি নতুন জাতের মুরগি। রাজধানীর বাজারগুলো ছাড়াও দেশের জেলা শহরগুলোতে আসল দেশি মুরগির তুলনায় সোনালি মুরগির সংখ্যা অনেক বেশি। বিক্রিও অনেক বেশি। দামে তেমন পার্থক্য নেই। বিভিন্ন বাজার ঘুরে আমাদের সময় ডটকমের অনুসন্ধানে সোনালি মুরগির নানা তথ্য উঠে এসেছে।

রাজধানীর মোহাম্মদপুর টাউনহল মুরগির বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, খাঁচাভর্তি নানা রঙের মুরগির কলকাকলিতে মূখর হয়ে উঠেছে বাজারের চারপাশ। ব্যবসায়ীরা হেকে-ডেকে বিক্রি করছেন দেশি মুরগি। দাম হাতের নাগালে থাকাই ক্রেতারা কিনছেন খুশি মনে। আবার, অনেককে সারা মাসের মুরগির বাজার একবারে করতে দেখা গেছে। তবে প্রকৃত দেশি আর সোনালি মুরগির মধ্যে তেমন একটা পার্থক্য না থাকায় অনেককে মুরগি কেনার সময় গুলিয়ে ফেলতে দেখা গেছে। ব্যবসায়ীরাও একটু বেশি লাভের আশায় ক্রেতার কাছে সঠিক তথ্য না দিয়ে সোনালি মুরগিকে দেশি মুরগি বলে চালিয়ে দিচ্ছেন।

মুরগি ব্যবসায়ী রবিউল ইসলামের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি আমাদের সময় ডটকমকে বলেন, সোনালি মুরগি খেতে ঠিক দেশি মুরগির মতো। দামের পার্থক্য মাত্র পঞ্চাশ টাকা। ক্রেতারা এবিষয়ে কিছু জানতে না চাইলে দেশি মুরগির দামেই সোনালি মুরগি বিক্রি করা হয়। তাতে পঞ্চাশ টাকা বেশি লাভ হয়। এছাড়া নানা কারণে মুরগির মৃত্যু হওয়ার ফলে লোকসান পোষাতে এমন কাজ করা হয় বলেও স্বীকার করেন তিনি।

ব্যবসায়ী সেলিম বলেন, মুরগির ব্যবসা টিকিয়ে রেখেছে সোনালি মুরগি। দেশে এই মুরগির উৎপাদন না থাকলে ক্রেতাকে দেড়শ-দুইশ টাকার পরিবর্তে হাজার টাকায় মুরগি কিনতে হতো। পর্যাপ্ত উৎপাদন থাকার ফলে সাধারণ মানুষও সহজে মুরগির মাংস খেতে পারে।

তিনি বলেন, বাঙালিরা সবকিছু বিদেশি জিনিসপত্র পছন্দ করলেও মুরগি কেনার সময় দেশি মুরগি খোঁজেন। সোনালি মুরগিকে দেশি মুরগি বললেও অনেকেই পাকিস্তানি মুরগি বলে ভুল করেন। আসলে এটি পাকিস্তানি মুরগি নয়। দেশে উদ্ভাবিত উন্নত জাতের মুরগি। এই মুরগি বিক্রি করে লাভ অনেক বেশি বলে জানান তিনি।

মুরগি কিনতে আসা আব্দুর রহমান নামে এক গার্মেন্টস কর্মকর্তা বলেন, আমি প্রতি সপ্তাহের মুরগির বাজার একবারে করি। এই মুরগিকে পাকিস্তানি মুরগি মনে করলেও সোনালি মুরগির নাম প্রথম শুনলাম। তবে, দেশি মুরগির তুলনায় সোনালি মুরগির দাম একটু কম বলেও জানা তিনি।

বাড়ি-বাড়ি ফেরি করে একশ্রেণির হকারদের সোনালি মুরগিকে দেশি মুরগি বলে বিক্রি করতে দেখা যায়। হাতে ঝুলিয়ে তারা এই সোনালি মুরগি ফেরি করে বাসায়-বাসায় পৌঁছে দেয়। দামে সস্তা হওয়াই ক্রেতারাও এই মুরগি কিনতে হুমড়ি খেয়ে পড়ে।

সোনালি মুরগির বিষয়ে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের প্রাণি উৎপাদন বিভাগের সহকারি পরিচালক আজিজুর রহমানের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি আমাদের সময় ডটকমকে বলেন, সরকারি উদ্যোগে আশির দশকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মোরগ বিনিময় কর্মসূচি পালন করা হয়। একটি গ্রামের সব বাড়ি থেকে দেশি মোরগ উঠিয়ে নিয়ে সেখানে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের উদ্ভাবিত সোনালি মোরগ ছেড়ে দেওয়া হতো। এছাড়া খামারিদের প্রণোদনা দিয়ে সোনালি মুরগির চাষে উদ্বুদ্ধ করা হয়। এভাবে দেশের সবখানে সোনালি মুরগি ছড়িয়ে দেওয়া হয়।

তিনি বলেন, একসময় দেশের সাধারণ মানুষ মাসে একবার মাংস খাওয়ার সুযোগ না পেলেও বর্তমানে তারা ইচ্ছা করলে প্রতিদিন মুরগির মাংস খেতে পারে। সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে সোনালি মুরগির উৎপাদনে বিপ্লব ঘটানোর ফলে এমনটি সম্ভব হয়েছে বলে মনে করেন এই প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা।

শেয়ার করুন

Print Friendly and PDF

আপনার মতামত দিন