সর্বশেষ খবর

   হাথুরুসিংহের পরিকল্পনা ভুলে গেছে বাংলাদেশ: মাশরাফি    নতুন সম্পর্কে জোলি!    মাটির লেয়ারের ভিন্নতায় পদ্মা সেতুর ১৪ পাইলের ডিজাইনে বিলম্ব    ব্যাংকিং খাতে জবাবদিহিতার জন্য পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে : অর্থমন্ত্রী    অবকাঠামো উন্নয়নে ৬০ মিলিয়ন ডলার দেবে ওএফআইডি    বাংলাদেশ যথেষ্ট সক্ষমতা অর্জন করেছে : বিশ্বব্যাংক    ৩৭ হজ এজেন্সিকে নোটিশ    বাজেটে এমপিও অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে সরকার সিদ্ধান্ত নিবে: প্রধানমন্ত্রী    ভোলাগঞ্জ ও কালাইরাগে ৩৬টি ‘বোমা মেশিন’ ধ্বংস    ফেঞ্চুগঞ্জে ছাত্রলীগের ৫ নেতা বহিষ্কার    আম্মার মতো আমিও হারিয়ে যাব : রাইমা    ‘সূর্যসেন’ নতুন মঞ্চনাটক    আমি মৃত্যুকে ভয় করি না: আইভী    আমি একাই যথেষ্ট: শামীম ওসমান    সিরিয়ার কুর্দিদের বিরুদ্ধে অভিযান চালাবেন এরদোয়ান    বড় ধরনের বিপদ থেকে বাচঁলেন শোয়েব!    কোহলির জরিমানা    নির্বাচন স্থগিত হওয়া ইসির চরম ব্যর্থতা: ফখরুল    ঢাকা উত্তরের মেয়র পদে উপনির্বাচন স্থগিত    রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু ২ বছরের মধ্যে


আন্তর্জাতিক

ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক, চীন-পাকিস্তান সমীকরণ

সিলেট বার্তা, ২০১৫-০২-১৭ ১৪:১৬:১৪




স্নায়ুযুদ্ধকালীন পৃথিবীর ক্ষমতার ভারসাম্য যেভাবে রক্ষিত হয়েছে ১৯৯০ সালে, কমিউনিস্ট রাশিয়ার ভরাডুবি ও ভাঙনের পর ক্ষমতার নিক্তি ঝুঁকেছে যুক্তরাষ্ট্রের দিকে। সে আবির্ভূত হয়েছে মধ্যগগনে একক শক্তি হিসেবে। এ পরাক্রম ক্ষমতাধর দেশটির স্বেচ্ছাচারিতায় ধসে গেছে পৃথিবীর চিরচেনা ভূ-রাজনীতি।

শান্তি ও গণতন্ত্রের উর্দির নিচে মারণাস্ত্রের একচেটিয়া ব্যবসার ফাঁদে দুনিয়ায় ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে সন্ত্রাসী তৎপরতা। তার মূল শিকার মুসলিমবিশ্ব তথা মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো। ইরাক, লিবিয়া, সিরিয়া, ইরান, জর্ডান, লেবানন, মিসর, সুদান, সোমালিয়া, তিউনিসিয়াসহ সৌদি আরব আজ সন্ত্রাসের কালো ছোবলে আক্রান্ত ও আতঙ্কিত। এটা হয়েছে মূলত রাশিয়ার অর্থনৈতিক মন্দার কারণে।

স্নায়ুযুদ্ধকালীন পৃথিবী যেমন দুইটি শিবিরে বিভক্ত ছিল, তেমনি ক্ষমতার লড়াইয়ে অস্ত্র বিক্রি প্রতিযোগিতায় নিজেদের থিঙ্ক ট্যাঙ্ক চালানোর কলাকৌশলে গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধির মাধ্যমে ক্ষুদ্র দেশগুলোকে নিজস্ব বলয়ে এনে শক্তি বৃদ্ধিকরণ রাশিয়া-অমেরিকার কূটনীতির অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

আমাদের দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোও তা থেকে রেহাই পায়নি। মজার ব্যাপার হলো, বিশ্ব রাজনীতির দোলাচলে তখন দেখা গেছে, প্রতিবেশী বিবদমান দেশগুলোর একটি যদি আমেরিকার সাপোর্টে গিয়েছে তো অন্য দেশটি আশ্রয় নিয়েছে রাশিয়ার আঁচলতলে। ক্ষমতাধর রাষ্ট্র দুইটিও অপেক্ষার প্রহর গুনত তীর্থের কাকের মতো নিজের বলয়ে ক্ষুদ্র দেশগুলোকে পাওয়ার জন্য। কিন্তু রাশিয়া-অমেরিকা কারও উদ্দেশ্যই শুভ ছিল না; তাদের শকুনির দৃষ্টি থেকেছে আক্রান্ত দেশটির ভূ-সম্পত্তি বা ভৌগোলিক অবস্থানজনিত সুবিধা গ্রহণ। সর্বোপরি নিজস্ব অস্ত্র বিক্রির বাজার সৃষ্টি করার দিকে।

আমাদের উপমহাদেশের রাজনীতিও তা থেকে বঞ্চিত হয়নি। ভারত-পাকিস্তানের বৈরী রাজনীতির আবর্তনে রাশিয়া-অমেরিকার ভূমিকা এ এলাকায় ব্যাপক। বলা যায়, ভারত-রাশিয়া মধুর সম্পর্কের কারণেই পাকিস্তানকে ঠেলে দিয়েছে আমেরিকার বস্নকে।

চীন-ভারতের বৈরিতার সুযোগে পাকিস্তান সখ্য গড়েছে চীনের সঙ্গে; যদিও চীন তখন কমিউনিস্ট রাষ্ট্র আর পাকিস্তান ইসলামী প্রজাতন্ত্র। রাজনীতির খেলায় যে নীতি-আদর্শের বালাই নেই, তার প্রমাণই হচ্ছে চীন-পাকিস্তান সম্পর্ক। এখানে উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র-পাকিস্তান সম্পর্কের রস যখন ঝরছে, তখন চীন-পাকিস্তান সম্পর্ক অটুট ও মজবুত।

পক্ষান্তরে ভারত-রাশিয়া সম্পর্ক এখন ধোঁয়াশার চাদরে আবৃত। কথাটি লিখছি এ কারণে, রাজনীতি বা কূটনীতির ক্ষেত্রে কখন যে কার সম্পর্ক গড়ে আর কার সম্পর্কে চির ধরে বলা কঠিন।

১৯৭১ সালে পাকিস্তান যখন তার অন্যতম প্রদেশ পূর্ব পাকিস্তানকে দমনের জন্য ‘পোড়া মাটি নীতি’ অবলম্বন করে গণহত্যা চালিয়েছে, তখনও আমেরিকা পাকিস্তানকে বস্নাইন্ড সাপোর্ট দিয়ে এসেছে। আমেরিকা ও চীনা অস্ত্র দিয়েই এ অপকর্মগুলো করেছে। তখন ভারত-রাশিয়া বন্ধুত্বের হাত নিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে ত্বরান্বিত করেছিল। যুক্তরাষ্ট্র-ভারত সম্পর্ক ছিল ওই সময়ের কল্পনাতীত। কিন্তু সময় ও প্রয়োজন সব অসম্ভবকে সম্ভব করে তোলে।

পাকিস্তান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে চির ধরতে শুরু করে মূলত পাকিস্তানের পারমাণবিক শক্তি অর্জনের পর থেকে। কিন্তু তা আরও প্রকট হয় আমেরিকার তথাকথিত চরম শত্রু ওসামা বিন লাদেন তথা আফগানিস্তানের তালেবানকে কেন্দ্র করে। আমেরিকার শত্রু ওসামা বিন লাদেনকে পাকিস্তান রাষ্ট্রের ভেতরে পাকিস্তানের অগোচরে হত্যা করা নিয়ে পাকিস্তান-আমেরিকার সম্পর্কে বরফ গলতে শুরু করে। তাছাড়া আমেরিকার ড্রোন হামলা পাকিস্তানের নাখোশ হওয়ার কারণ। একক পরাশক্তি আমেরিকা দক্ষিণ এশিয়ার বন্ধুশূন্য হয়ে পড়ার আশঙ্কা, বিশেষ করে এশিয়ার পরাশক্তি চীনের অর্থনৈতিক-সামরিক ও প্রযুক্তিগত উন্নতি আমেরিকার গাত্রদাহের কারণ হয়ে পড়ে। যদিও রাজনৈতিক শিষ্টাচার প্রদর্শনের জন্য আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ওবামা চীন সফর করেন। কিন্তু অবিশ্বাসের পাহাড়ে সে সফর ফাটল ধরাতে পারেনি। বরং ভুটানের জাতীয়তাবাদী নেতা দালাই লামাকে আশ্রয়-প্রশ্রয়, তাইওয়ানকে আমেরিকার সাপোর্ট, সর্বোপরি সাম্প্রতিক হংকংয়ের নির্বাচনকে ঘিরে ছাত্র আন্দোলনের পক্ষে আমেরিকার অবস্থান চীন স্বাভাবিকভাবে নেয়নি। এছাড়া এ এলাকায় পারমাণবিক শক্তি অর্জনকারী দেশ ভারতের উত্থানও চীনের জন্য স্বস্তিদায়ক নয়। কাশ্মীরকে কেন্দ্র করে ভারত ও পাকিস্তান পারমাণবিক শক্তি অর্জনে বাধ্য হয়। উভয়ই বর্তমানে পারমাণবিক শক্তিধর দেশ।

রাশিয়ার বলয়ের ভারতের সঙ্গে আমেরিকার সম্পর্ক একসময় কল্পনাতীত ছিল। কিন্তু সময়ের প্রয়োজনে আমেরিকা ভারতের বন্ধুত্ব গ্রহণ করেছে। সে বন্ধুত্ব এখন বাইরে থেকে হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছে। ভারতের এককালীন বিতর্কিত রাজনৈতিক নেতা যিনি সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার দায়ে অভিযুক্ত হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা থেকে বঞ্চিত ছিলেন সেই নরেন্দ্র মোদি যখন ভোট কারিশমা দেখিয়ে রাষ্ট্রক্ষমতায় অভিষিক্ত হলেন, আমেরিকা তখন তাকে স্বাগত জানাল এবং পরপর দুইবার আমেরিকার বর্তমান প্রেসিডেন্ট ভারত সফর করলেন। শুধু তাই নয়, ভারতের পারমাণবিক শক্তি উন্নয়নের সহযোগী রাষ্ট্র হিসেবে ভারত-আমেরিকা চুক্তিতে আবদ্ধ হলো।

বিগত জানুয়ারিতে ওবামার ভারত সফরের ঘনঘটা দুই দেশের অতীত তিক্ততা ঝেড়ে ফেলেছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন। পাকিস্তানের সঙ্গে আমেরিকার সম্পর্কের টানাপড়েনই তাকে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে বাধ্য করেছে। অপরদিকে বন্ধুশূন্য পাকিস্তান তার গৃহদাহের ক্ষত নিয়ে ভারতের বিপরীতমুখে অবস্থানের দেশ চীনের সঙ্গে তার অতীত তথা পরীক্ষিত বন্ধুত্বকে আরও নিবিড় করতে চলেছে। তাই পাকিস্তান ভারত-আমেরিকাকে আঙুল দেখানোর জন্য জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের অন্যতম স্থায়ী সদস্য ভেটো ক্ষমতা প্রদানকারী দেশ চীনের প্রেসিডেন্টকে তার জাতীয় দিবসে প্রধান অতিথি হিসেবে সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছে বলে পত্রিকায় খবর বেরিয়েছে। এ কলাম যখন লিখছি তখন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে ভারতের স্থায়ী সদস্য হওয়াকে কখনও মেনে নেবে না বলে আমেরিকাকে সাফ জানিয়ে দিয়েছে বলে টেলিভিশনে খবর প্রচারিত হচ্ছে।

এশিয়ায় চীন ও পাকিস্তানের সহমিলন ভারত-পাকিস্তানের গাত্রদাহের কারণ হবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। চীন তার নিজস্ব নীতিতে অটল থেকে বিশ্বশান্তি প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে থাকে। তাই সঙ্গত কারণে অপেক্ষাকৃত ক্ষুদ্রতম রাষ্ট্র তথা পা

শেয়ার করুন

Print Friendly and PDF

আপনার মতামত দিন